আসাদুল করিম আমার কলিগ। বয়স ৩৫ পেরিয়ে ৩৬ এর কাছাকাছি। এখনো কুমার [!]। বিয়েকে উনি এক বিরাট মহান দায়িত্ব হিসাবে নিয়েছেন এবং ওনার সেই ২৬ বছর বয়স থেকে এখন অবধি প্রস্তুতি নিয়েই চলেছেন সেই দায়িত্বের উপযুক্ত হওয়ার জন্য। উনি আমার চেয়ে ২/৩ বছরের ছোট হলেও অফিসিয়াল স্ট্যাটাসে সমান। বর্তমান বাজার অনুযায়ী বেতনও একদম খারাপ না। কিন্তু ওনার প্রস্তুতি আর শেষ হচ্ছে না। ওনার প্রস্তুতিগুলো এরুপ -
১. অন্তত ১২ ভরি সোনার অলংকার ছাড়া কনের কাছে যাই কিভাবে? - এটা উনি যোগাড় করে ফেলেছেন।
২. ৫০০ মানুষের কম তিনি তার বিয়েতে যদি এন্টারটেইন না করতে পারেন তো তার সম্মানে লাগবে। এটাও উনি সামর্থবান হয়েছেন।
৩. বউকে নিয়ে বাবার বাসায় [যদিও সেখানে জায়গার কোন সমস্যা নেই] থাকাটা আত্নসম্মানে লাগে; তাই ১৩৫০ ব.ফু এর একটা ফ্ল্যাটের বুকিং দিয়েছেন। ২০১১ এর শেষের দিকে ওটাতে উঠে যেতে পারবেন।
৪. পাবলিক বাসে তো প্রশ্নই আসে না, বউকে নিয়ে রাস্তায় স্কুটারের জন্য দাড়িয়ে থাকা এক চরম অপমানের। তাই আগামী বছর ইংক্রিমেন্টের হলে ব্যাংক লোনে গাড়ি কিনবেন।
৫. সমস্ত খরচ বাদ দিয়ে বউয়ের হাতে হাজার পাঁচেক টাকা হাত খরচ না দিতে পারলে ইজ্জত থাকবে না। এটা ২০১৩ এর আগে হওয়ার সম্ভাবনা কম।
৬. হানিমুনে ইউরোপ-আমেরিকা না হোক অন্তুত ব্যাংকক-সিঙ্গাপুর যেতে না পারলে তো বিয়ে করাই উচিৎ না।
৭. এরপর সন্তানের জন্ম; এপোলো-স্কয়ার-ইউনাইটেড না হোক অন্তত ল্যাবএইড বা সেন্ট্রাল না হলে মেডিক্যাল সার্ভিস কি এনশিউর করা যায় !!
৮. তারপর সন্তান বড় হবে তার জন্য মাসিক অন্তত ১০ হাজার না হোক, অন্তত হাজার পাঁচ-ছয়েক না হলে বাচ্চা নেয়াটাকেই সে যুক্তিযুক্ত মনে করে না।
৯. তারপর স্কুলের খরচাপাতি। ঠিক আছে স্কলাস্টিকা বা আমেরিকান স্কুলে না পড়ালেও ম্যাপেল-লিপ বা মাস্টারমাইন্ডের বাজেট তো রাখতে হবে, নাকি?
১০. তার পর আছে সার্বক্ষণিক কাজের লোকের ব্যবস্থা, সপ্তাহে অন্তত একবার রেস্টুরেন্টে খাওয়া, বছরে একবার কোথাও থেকে ঘুরে আসা, নিজের বাড়ি বা শ্বশুর বাড়ির আত্মীয়-স্বজনদের নানান সামাজিক-পারিবারিক অনুষ্ঠানাদিতে যোদদান এবং সম্মনজনক [!] উপহার দেয়া, ইত্যাদি, ইত্যাদি।
এসমস্ত বিচার বিশ্লেসন করে আমাদের দায়িত্ববান আসাদুল করিম ২০১৫ সালে তার বয়স যখন ৪১ অতিক্রম করতে থাকবে তখন বিয়ের সিদ্ধান্ত মোটামুটি ফাইনাল।
আসাদুল করিম পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন, নিজেকে নিয়ন্ত্রনের জন্য প্রতি সপ্তাহে দুই দিন রোজা রাখেন, কিন্তু ওনাকে কেউ আনস্মার্ট বলুক এটাও উনি চান না, তাই কর্পোরেট দুনিয়ার ফ্রী মিক্সিং কালচারেও তিনি প্রায় অভ্যস্ত, দু'টো ব্যালান্স করতে গিয়ে মানসিকভাবে ভালই লোড নেন।
আমরা সবাই ওনার দায়িত্বজ্ঞানের প্রতি শ্রদ্ধাভাবানত। ওনার দায়িত্ব সাধনায় সফলতার মঙ্গল কামনা করছি।
** লেখাটি কাল্পনিক এবং সহব্লগার "নাজনীন১" কে উৎসর্গ করলাম।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


