অর্ফিয়াস এর একটা ব্লগ পড়তে গিয়ে এই ধারনা হল।
মেয়েরা কি সবসময়ই অনুকরনকারিনীই থেকে যাবে; নিজস্ব বৈশিষ্টকে তারা কি কখনো শ্রদ্ধা করতে পারবে না?
আমি একসময় ব্রেসলেট পরতাম। নষ্ট হয়ে যাওয়ায় আর ঐ ডিজাইনটা পাচ্ছি না বলে এখন আর পরি না। তখন আমার এক মহিলা কলিগ আমাকে টিজ করে মন্তব্য করল, "আরে! ইকবাল ভাই আপনি দেখি মেয়েদের মত চুড়ি পরেন।" ভাবখানা এরকম চুড়ি পরা খুব অপমানের। তিনি তার চুড়ি [বৈশিষ্ট] পরাকে শ্রদ্ধা করেন না। আমি খুব মোলায়েম স্বরে সেটার প্রতিবাদ না করে বললাম, "কেন, মেয়েরা কি খারাপ?"
এর কিছুদিন পর আমাদের অফিসে একজন মহিলা সার্ভিস ইঞ্জিনিয়ার যোগদান করলেন। সে বা হাতে বড় ডায়ালের ঘড়ি পরে, অন্যহাত খালি, শার্ট ইন করে ট্রাউজার পরে এবং অফিসিয়াল পার্টিতে আমাদের মত পুরো স্যুটেড থাকে। আমরা সবাই তার প্রশংসা করতাম - স্মাট গার্ল। কারন ছেলেরা তার পোষাক [বৈশিষ্ট]'কে শ্রদ্ধা করে।
ছেলেরা ফুটবল খেলে; সুতরাং মেয়েদের নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করার জন্য তাদেরও ফুটবল খেলতে হবে। একজন পুরুষ যখন ফুটবলার হয় তখন তার ভিতর পুরুষালীভাব আরো মজবুত হয়; কিন্তু একজন নারী যখন ফুটবলার হয় তখন তার ভিতর নারীভাব কমতে থাকে, পুরুষ ভাব আসতে থাকে চলায়-আচরণে-ভাবে।
কেন?
আমি নারী এমন খেলা আমি বাছাই করি যাতে আমার ভিতর আরো বেশী নারীসুলব ভাব আসে। পুরুষ যেমন আরো বেশী পুরুষ হতে ভালবাসে; নারীরও উচিৎ আরো বেশী নারী কিভাবে হওয়া যায় তার চেষ্টা করা।
কোন ছেলে সন্তানকে তার মা-বাবা যখন বলে "তুই এরকম আচরন করছিস যেন তুই একটা মেয়ে।" ছেলেটা তখন অপমানে একদম ন্যুয়ে পড়ে। কারন তার পুরুষ অবস্থানে থাকা শ্রদ্ধার "মেয়ের সাথে তুলনা তার জন্য অপমানের।" একজন মেয়ে সন্তানকে যখন তার বাবা-মা বলে, "তুই যেন আমাদের মেয়ে না, একজন ছেলের মত কাজ করেছিস।" মেয়েটা গর্ভে খুশিতে আন্দোলিত হতে থাকে। কারন মেয়ে হয়ে থাকা তার জন্য অপমানের।
এরকম অযুত-নিযুত উদাহরণ দেয়া যাবে। আমি আর সেগুলো বাড়াচ্ছি না। লেখাটির উদ্দেশ্যটা বলে ফেলি -
পুরুষের নিজস্ব বৈশিষ্টের মত নারীরও নিজস্ব বৈশিষ্ট রয়েছে। তারপ্রতি নারী যতদিন শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতে না পারবে, ততদিন ধান্দাবাজ কিছু পুরুষের ক্রিড়নক কিছু 'তসলিমা'ই তৈরী হবে - প্রকৃত নারীমুক্তি হবে না।
কোথায় পড়েছি মনে পড়ছে না। কথাটা এরকম, "একজন পুরুষের তাবৎ পালোয়ানী শক্তি দিয়ে যাকে পরাস্ত করতে পারেনি; এক নারীর এলো চুলের কয়েক গোছা সৌন্দর্যই তাকে পরাস্ত করে ফেলেছে।" তো একজন নারী যদি শারিরীক শক্তিশালী হতে চায় তো মাসল ফুলিয়ে রেসলার না হয়ে তার শারিরীক সৌন্দর্যদে মনোযোগ দিতে পারে। এতে সে আরো শক্তিশালী হবে।
রবিন্দ্রনাথের উক্তিটা হুবহু মনে নাই; তবে কথাটা এরকম - পুরুষ শক্তি দিয়ে বাঁধে তা কষ্ট হলেও খোলা যায়। আর নারী মায়া দিয়ে বাঁধে তা খোলা অসম্ভব হয়ে পড়ে। তো নারী পুরুষের মত না হয়ে তার নিজস্ব শক্তির দিকে মনোনিবেশ করলে আরো বেশী শক্তিশালি হবে।
আর আমার নিজস্ব কথা হচ্ছে যে নারীর মাতৃত্ব। একজন প্রকৃত মা যে কত শক্তিশালি তা আমার মা'কে দেখলেই আমি টের পাই। আমার তো মনে হয় একজন নারীর মাতৃত্বের যে যোগ্যতা-ত্যাগ-কষ্ট তাবৎ পুরুষের আজীবন উপার্জন সেটার কাছে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র।
পুরুষ আজ উপার্জনের যে বড়াই করে সেটা একজন নারী চেষ্টা করলে পারে; কিন্তু মাতৃত্বের যোগ্যতা একজন পরুষ কখনোই অর্জন করতে পারবে না।
তর্ক করা যাদের বিনোদন, তারা হয়ত বলবেন - পুরুষের অর্ধেক আর নারীর অর্ধেক নিয়েই একজন নারীর মাতৃত্ব তৈরী হয়। আমার কথা হলে মাতৃত্বের আগে যে আনন্দ তা নারী-পুরুষ দু'জনই উপভোগ করল; কিন্তু মাতৃত্বের কষ্ট একা নারীই ভোগ করল। তো এক মাতৃত্বের কষ্টের বিনিময়ই তো হবে না পুরুষের তাবৎ পুরুষালি কর্মকান্ড।
তাই নারী, আমি তোমার নিজস্ব বৈশিষ্টে প্রতি শ্রদ্ধাভাবনত;
নারী, তুমি নিজেও তোমার এই নিজস্ব বৈশিষ্টের প্রতি শ্রদ্ধা দেখাও।
এবং আরো বেশী করে নারী হও।
পুরুষের অনুকরনকারিনী হয়ো না।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে জুলাই, ২০১০ রাত ১:১৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


