সারা দেশের সব জায়গাতেই সবকিছু নিয়েই এই দুষ্ট চক্রের আবর্তে বন্দি আমরা সবাই। সবাই রিলে রেসের মত অপরাধের কাঠিটা আরেকজনের কাছে পাস করার জন্য অত্যন্ত সচেতন এবং তথ্য-সমৃদ্ধ। ভাবখানা এরকম - আমি এক মহা সাধু; অন্য মানুষের জন্য আমাকে নিতান্ত বাধ্য হয়েই অপরাধ করতে হচ্ছে।
একটা উদাহরণ দিচ্ছি। বাকি সব জায়গাতেই সেই একই অবস্থা। সিএনজি স্কুটার সেবার দিকে যদি আমরা তাকাই তো কি দেখতে পাবেন? ধরুন আপনি একজন ফেরেশতা [নাস্তিকগণ রোবট ধরে নেন]; কারন এই গ্রহের মানুষ হলে তো আপনি আবার নিরপেক্ষ জরিপ করতে পারবেন না।
জনগণ ও স্কুটার ড্রাইভারের ভিতর কথোপকথন:
জন: ভাই গুলশান যাবেন? [যদিও মেট্রোপলিটনের ভিতর আপনি কোথায় যাবেন তা না বললেও চলে, খালি থাকলে আপনি স্কুটারে উঠেই জায়গার নাম বলতে পারেন]
স্কু.ড্রা: হ, যামু [উনি দয়াপরবশ হয়ে হ্যাঁ বলেছেন]
জন: চলেন।
স্কু.ড্রা: দেড়শ টাকা।
জন: এইটা তো ভাই ডাবল ভাড়া। মিটারে ৮০/৮৫ টাকার বেশী না।
স্কু.ড্রা: শোনেন আমাদেরও ৩৫০ টাকার ডেইলী জমার পরিবর্তে ৭৫০ টাকা জমা দেই মালিকদেরকে।
সুতরাং দেখা গেল ডাবল ভাড়া নেয়ার পরও দোষটা স্কুটার ড্রাইভারের না। দোষ স্কুটার মালিকের।
স্কুটার ড্রাইভার ও স্কুটার মালিকের ভিতর কথোপকথন:
স্কু.ড্রা: ডেইলী এত টেকা [৭৫০] দিতে পারুম না; আপনে ডাবল টেকা নেন।
স্কু.মা: ঐ .. .. .. পুত! দেড় লাখ টাকার গাড়ীটা যে আমি শো-রুম থিকা পাঁচ লাখ টেকায় নিছি হেইডা জানস? আমি তিনগুন টেকায় গাড়ী কিনতে পারলে তুই দ্বিগন টাকা দিতে পারবি না ক্যান?
সুতরাং দেখা গেল ডেইলি ডাবল ভাড়া নেয়ার পরও দোষটা স্কুটার মালিকের না। দোষ গাড়ীর শো-রুমের মালিকের।
স্কুটার মালিক ও গাড়ীর শো-রুমের মালিকের ভিতর কথোপকথন:স্কু.মা: দেড় লাখ টাকার গাড়ি আপনি পাঁচ লাখ টাকা নিতে পারেন না।
শো.মা: জী ভাই, আমি কি করতে পারি আমাকে তো প্রতি গাড়ির পেছন বেশ কিছু টাকা সিস্টেমে [?!] দিতে হয়।
সুতরাং দেখা গেল তিনগুন দামে স্কুটার বিক্রি করার পরও দোষটা শো-রুমের মালিকের না। দোষ সিস্টেমের।
আচ্ছা, এই সিস্টেমটা কি বা কে? ঘটনা জটিলের দিকে যাচ্ছে। ভয়ও লাগছে - ক্রমশ অন্ধকারের দিকে ফেরেশতা / রোবট যাচ্ছে। ধরে নিলাম এই সিস্টেম হচ্ছে সরকার বা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী। আমরা কল্পনায় শো-রুমের মালিক আর মন্ত্রীর ভিতর কথোপকথন দেখতে পারি [দুঃসাহস আরকি?!]
গাড়ীর শো-রুমের মালিক ও মন্ত্রীর ভিতর কাল্পনিক কথোপকথন:
শো.মা: স্যার, এই একস্ট্রা টাকাটা না নিলেই কি নয়? কম দামে গাড়ী বিক্রি করতে পারতাম; তাহলে মালিকরা ড্রাইভারের ডেইলী ভারা কমাতে পারত; আর ড্রাইভাররাও মিটার অনুযায়ী জনগণের কাছ থেকে ভাড়া নিতে পারত। জনগণের উপকার হইত।
জনগণের কথা বলার সাথে সাথে মন্ত্রী মহোদয়ের চেহারাতে এক জটিল অভিব্যক্তি ফুটে উঠল। তিনি খুব বিনয়ের সাথে বললেন - ভোটের সময় যে আমি জনগণের উপর কোটি কোটি টাকা ঢাললাম সেটা কিভাবে উঠাব বলেন?
সুতারাং দেখা গেল দোষ আসলে কারোরই না; দোষটা হচ্ছে জনগণের। কি আর করা জনগণ ভোটের সময় নিজেকে বিক্রি করে যা পেল সেই খেসারতই দিচ্ছে।
ফেরেশতা / রোবট ভাবছে ব্যাপারটা যদি গোল না হয়ে সোজা হত তাহলে হয়ত অপরাধের কাঠিটা এক জায়গায় গিয়ে শেষ হয়ে যেতো। কিন্তু যখন ভুক্তভোগী নিজেই দোষীতে পরিনত হল তাই এটা একটা চক্রের আকার ধারন করেছে যা খোলার সাধ্য ফেরেশতা / রোবটের নাই।
দুষ্ট চক্রটা এরকম:

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




