সদ্য একাকিনী শিলা অতৃপ্ত উত্তাপ নিয়ে ভাবে -
এই ছোট্ট, স্থির, কিন্তু ভিতরে তুমুল ঝড় বয়ে চলা শরীরটাসহ শিলা আজ ৩৬ টা বছর পার করে দিল। ও ভাবে -
শিলা আর শরীর।
শরীর আর ঝড়।
ঝড় আর অভাব।
অভাব আর বিকল্প।
বিকল্প আর উত্তেজনা।
উত্তেজনা আর আনন্দ।
আনন্দ আর ঝড় থেমে যাওয়া।
সপ্তাহে অন্তত তিন/চার বার এই ঝড় ওঠে।
ঝড় থামেও।
বিয়েটাকে বাতুলতা ভেবে যতই উদাসিনতা দেখাক না কেন, ভিতরে ভিতরে সে যে এত বিয়ে-কাঙাল হয়েছিল সেটা এক সিথি ছাড়া আর কেউ জানে না।
অবশ্য জানে আরেকজন, শিলার বর্তমান রুম-মেট মাহমুদা। অনেকে বলে শিলার কুইন।
সিথি তার শিলা আপুকে সেই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দেখে এসেছে। তারা এক রুমেই চার বান্ধবী থাকত।
শিউলী-আঁখি-সিথি-শিলা।
শিলা অবশ্য বাকি তিন জনের চেয়ে দু'বছরের বড়।
ওকে সুন্দরী ঠিক বলা যায় না; তবে ছো্ট্ট শরীরটাতে এক ধারাল ভাব আছে।
নাকি প্রয়োজনে এই ধারাল ভাবটা তৈরী করতে হয়েছে তা তো আর কারো বিচারের বিষয় না; ছেলেদের মনে-চোখে-শরীরে চাহিদা তৈরি করতে পারাটাই একটা যোগ্যতা।
সিথি শিলা আপুর ভিতর সেই যোগ্যতাটা সেই সে সময় থেকেই লক্ষ্য করে আসছে।
ভাব ধরতে ধরতে শিলা অনেকটা টাইপ হয়ে গেছে; পরিবর্তন করতে চাইলেও আর পারছে না।
ছোটভাই আগুন খানিকটা অপদার্থ টাইপের। আর সেজন্য মা-বাবা'র সেই আফসোসটা শিলা দেখে এসেছে আবাল্য।
তখন থেকে লালন করা স্বপ্ন -
পড়াশোনা করবে, চাকরী করবে, প্রতিষ্ঠিত হবে, মা-বাবাকে সাপোর্ট দেবে, সয়ংসম্পুর্না হবে, নিজ টাকায় নিজ পছন্দে বিয়ে করে সংসার লিড করবে।
কিন্তু মেরুদন্ডহীন কেউ ছাড়া যে এরকম স্বামী হবার নয়, তা তার বুঝতে একটা বিয়ে পর্যন্ত করতে হয়েছে।
ভালবাসা চাই, কিন্তু ছড়িও ঘোরাতেই হবে।
সংসার করব, কম্প্রোমাইজ চলবে না।
অনাবিল আনন্দ চাই, রুচির খুঁতখুঁতে স্বভাব অপরিববর্তন থাকবে।
ব্যক্তিত্ববান স্বামী চাই, বসংবদকে বিয়ে করব।
শরবত খেতে চাই, কিন্তু চিনি গোলানো যাবে না।
শিলার হয়েছে এই দশা।
শিলা সিথির সংসারের সুখ দেখে, কিন্তু সিথির স্যাকরিফাইস দেখে না।
সিথির প্রতি শ্রাবনের ভালবাসার রুপ দেখে, কিন্তু এটার জন্য সিথির কম্প্রোমাইজটা হিসাবটা আনে না।
শ্বশুর বাড়িতে সিথির সম্মানটা দেখে শিলার লোভ হয়, কিন্তু সিথি যে বেষ্টনিতে নিজেকে আবদ্ধ করেছে সেটার ব্যাপারে উদাসিন থাকে।
শিলার অবস্থা হয়েছে -
সন্তানের নরম তুলতুলে আহলাদে ভাব খুউব পেতে চায়, কিন্তু নিজেকে আস্ত রেখে।
চলবে........

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

