somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ধর্ম নিয়া চুলকানি

০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার ধর্ম নিয়া ব্যাপক চুলকানি আছে । যদিও বেশিরভাগ সময়ই সেটা লুকাইয়া রাখার চেষ্টা করি, জানের ভয়ে বা শান্তির জন্য, তবুও অনলাইন প্লাটফর্মের মত খোলা এবং বেনামি মিডিয়াতে অথবা কোথাও সুবিধাজনক পজিশনে সেটা বেরিয়ে আসে । আজকাল অবশ্য এইসব চুলকানিগুলাও জয় করার চেষ্টায় আছি, তবু পেরে উঠছি না । প্রায়ই মুখ ফসকে দুচার লাইন বেরিয়ে যায় ।

নিজে একসময় ব্যাপক ধার্মিক ছিলাম বইলা হয়ত মিজাজ গরম হয় আরো বেশি । প্রায় চার বচ্চরখানেক নিয়মিত চার/পাঁচ অক্ত নামায মসজিদে জামাতে পড়া টাইপের মুল্লা ছিলাম । একদিক থেকে দিনগুলা খারাপও ছিল না । নিজেরে একটু নুরানি নুরানি মনে হৈত । সক্কালে ঘুম থেকে নিয়মিত উঠা হৈত । অনেক বেনিফিট ছিল ।

ধর্ম নিয়া চুলকানি শুরু হয় আমার অবজেকটিভ মানবতা সংক্রান্ত চিন্তাভাবনা শুরু করার পর থেকেই । নারী-পুরুষ নির্বিশেষে যদি একই মানব-প্রজাতি হয়, তাইলে ব্যাবসায়িক প্রয়োজন ছাড়া, সক্ষমতা-অক্ষমতার বিভক্তি ছাড়া শুধু লৈঙ্গিক কারণে দুই গুরুপের মইধ্যে চাকর মনিব সম্পর্ক এমনকি দায়িত্ব-কর্তব্যবোধের ডিক্রি দেয়াটাও একটা বিরাট আবালামি ছাড়া আর কি হৈব । এমন না যে দুই গুরুপের মধ্যে কোনরকম সহযোগিতার সম্পর্কের বিপক্ষে আমি, মাগার সেটা কোথাকার কোনো মাতব্বরের ইচ্ছায় হবে এইটা মানা যায় না ।

ধর্মগুলার একটা বিশাল অংশ জুড়ে আছে জীবন বিধান । কি করতে হবে, কি করা যাবে না, কোনদিকে ফিরা শুইতে হবে কোনদিকে ফিরা মুততে হবে , কি খাওয়া যাবে কি যাবে না এইজাতীয় হাবিজাবি । কিন্তু বেশিরভাগ ধর্মই হাজার বছরের বেশি পুরাতন বলে লয়া যুগের লয়া হাওয়ার সাথে তাল মিলাইতে গিয়া যুগে যুগে কাঁচির আঘাত যায় নাই এমন ধর্ম নাই । সে খুদার কথা হোক আর খুদার মেসেন্জারের কতা হোক প্রয়োজনে মানুষ কাঁচি চালিয়েছে সবকিছুর উপরই ।

তবে ব্যাপারটাতে কিঞ্চিৎ ঘাপলা থাইকা যায় । ঘাপলাটা এক্কেবারে ধর্মের অস্তিত্বের যৌক্তিকতা নিয়া । এক বৌদ্ধ ধর্মের কয়েকটা ডেনোমিনেশন বাদ দিলে, মোটামুটি সব ধর্মই মূলত প্রবল-পরাক্রমী ঈশ্বরের দালাল দাবীকারির মাধ্যমে শুরু । ছুটখাট রাজা-রাজড়ার দালাল হৈলে না হয় দুএকটা বিচ্যুতিকে স্বাভাবিক ধরে নিয়া মূল কথায় আসা যায় । কিন্তু এক্কেবারে দোজাহানের মালিকের দালাল হৈয়া মালিকের সাহায্য নিয়া যে আইন নিয়া আসা, তাকে যদি যুগের প্রয়োজনে মেরামত করতে হয় তাইলে ঐটা আবার কিসের বালের দোজাহানের মালিক, এই টিপ্পনি তো তিন বছরের বাচ্চাও কাটতে পারে ।

তয় মানুষের উদ্ভট ক্ষেমতা আছে মাথার যৌক্তিক অংশটাকে ইচ্ছাকৃতভাবে বন্ধ কইরা দিয়া হুর পরীগো সাথে আকাম করনের স্বপ্নে বিভোর থাকার । মাগনা বা নামমাত্র মূল্যে পাওয়ার আশা থাইক্লে কেইবা ছাড়তে চায় ।

স্বামী-সহ অস্ট্রেলিয়া বসবাসরত বান্ধবীর সাথে কতা হৈতেছিল । আমি শুয়রের মাংস খাই এই কথা শুনে আঁতকে উঠল । ইয়াল্লা লিটন, ছিছি , এইটা তো ঠিক না । আমি নিজেও এক্কেবারে পারফেক্টলি সব মাইনা চলতে পারতাছি না ঠিকাছে, কিন্তু দোস এত নিতে নাইমা যাওয়াতো ঠিক না । কালকেও এইগুলা নিয়া কথা হইতাছিল হাসানের সাথে । হাসানরে চিনসসতো ? ঐযে সিটি কলেজের পুলাটা , বেস্ট কোচিং এর ।ওতো এখন সিডনিতেই আছে । আমাগো পাশের বিল্ডিং এ । ওর চাইনিজ গার্লফ্রেন্ড এর সাথে । কি শয়তান আছিল না পুলাডা । এখন বেশ ধার্মিক হৈয়া গ্যাছে । তাবলিগেও যায় মাঝে মইধ্যে । তো কালকে আমার প্রায় পনের ষোল জন মিলা বারে গেছিলাম । শান্তর বন্ধুবান্ধব, হাসান, আমার কয়েটা বান্ধবীসহ । প্রতি সপ্তাহেই একবার দুইবার যাওয়া হয় । মজাই হয় । শান্ত অবশ্য হার্ড কিছু খায় না । সবসময়ই বিয়ার । আমি কালকে টেকিলা ট্রাই কইরা দেখলাম । জটিল জিনিস না ? খাইছিস কখনো ? যাই হোক হাসান কালকে কইতেছিল, এইসব বিধর্মীদের দেশে থাকতে থাকতে আমাগো ঈমান আসলে দুর্বল হৈয়া গ্যাছে । এরা ভোগবাদী, বেহায়া, দুনিয়াবাদী । কিন্তু এইভাবেতো চলবো না । আল্লার কাছেতো জবাবদিহি করন লাগবো । মরার কথা তো চিন্তা করন লাগবো । ওর কথাগুলা শুইনা ভাবলাম , ঠিকইতো । দোস আর খাইসনা পর্ক টর্ক ঐসব ।

তিনমাসের আগের কথা হিসাবে স্মৃতিভ্রষ্টতার অংশগুলা বাদ দিলে মোটামুটি এইরকম কথোপকথনই হৈছিল । এত বেশি কিলিয়ার যে নিজের মন্তব্য দেয়ার তেমন কোনো প্রয়োজন দেখিনা । সব ধর্মপুত্রই একটা না একটা লেভেলে সেই ভন্ডই । কোরানে কি আছে সেটা কেউ দেখে না, তার কি দরকার ঘুরাইয়া প্যাঁচাইয়া কোরান থেকে সেটা বাইর করার চেষ্টাতেই সবাই রত ।

ভন্ড ধার্মিকদের অবশ্য আমার ভালই লাগে । এরা মূলত বড় কোনো ধরণের থ্রেট পোজ করে করে না । বরং প্রকৃত ধার্মিকদের নিয়াই সমস্যা । তারা মূর্তি ভাঙতে যায়, সিনেমাহল উড়াইয়া দিতে যায়, বেশরিয়তী আদালত মানতে চায় না । এদের নিয়া আবার ভন্ড ধার্মিকদেরও সমস্যা । তাদের অপ্রিয় জায়গাটা বারবার এরা লাইমলাইটে নিয়া আসে ।

মানুষের যে অন্তর্গত অন্ধকার, সেখানে অসহায় হয়ে , বৃহৎ প্রশ্নের মুখোমুখি কেউ অস্তিত্বের উদ্দেশ্য নিয়া কোন সদুত্তর না পেয়ে শেষে যেনতেন একটা হুরের দালালের পিছনে লাইন দিয়া লুল ফালানোতে মত্ত হইলে সেটা নিয়া হাসাহাসি করলেও , মৌলিক কোনো সমস্যা তাতে দেখি না । লুল ফালানোর অধিকার ছেলে-বুড়া কালো-সাদা সবারই সমান । কিন্তু আসেন তিনদিন লাগাইয়া আসি জাতীয় কথাবার্তা শুনলে .....।

বৈদেশে অস্তিত্বের সংকট থেকে মূল-সন্ধানী অনেককেও দেখি টাক্কু মাথায় টুপি দিয়া নুরানি হৈতে । পশ্চিমা দুনিয়ার মাইনষের ট্যাক্সের টাকায় বৃত্তি নিয়া নিজে প্লাস পরিবারের সবার খরচ চল্লেও, তাদের বেলেল্লাপনা ধর্মহীনতা নিয়া তাদের দেশেই মসজিদে মসজিদে লেকচার চলে । এরা আবার নিজস্ব এছলামি দেশের সমালোচনা করতেও ছাড়ে না । কিন্তু পশ্চিমা বিশ্বের সামাজিক বিশৃঙ্খলার দায় যেখানে তাদের ধর্মহীনতা , সেখানে তাদের নিজ দেশের সামাজিক বিশৃঙ্খলার দায় কিন্তু ধর্মসংক্রান্ত কিছুর না ।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই ডিসেম্বর, ২০১০ দুপুর ১:৪৫
২৭টি মন্তব্য ২৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×