somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রতি দিগ্বলয়ে নতুন দিন -১

২৬ শে মার্চ, ২০০৯ রাত ১২:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

চৌদ্দগেরাম বাজারের চিপায় চাপায় পলিথিন বেইচা দিন চলে আমার । এদ্দুরা জীবনেই বহুত প্যাঁচ-গোচ চিপাচাপা শিখলাম । আইনেও, মাইনষের জীবনেও , মাইয়াগের কতা না হয় নাই কৈলাম । পিচ্চি পুলা । মাইয়া মানুষ নিয়া গেয়ানী কতা বলা ঠিক হৈব না । আইনে আর বেআইনে জিনিসের কোন হেরফের হয় না তেমন, খালি চেন্জ হৈয়া যায় বেচাকিনির সময় আর কারা বেচে সেই লোকগুলা । পন্ডিত জ্যাঠাত ভাইডা থাকলে কৈত, পণ্যের দামের লগে ঝুঁকির দাম যোগ হৈয়া মুনাফা বাড়ে । হ, মুনাফা তো বাড়েই, আবার সেই মুনাফাই সময়ে সময়ে লাল সুতা হৈয়া হোগা দিরা বাইর অয় । অবশ্য সেইসব ঘটনায় দুইন্যাদারিতে কুন ভাটা পড়ে না । যাগো হোগা দিয়া সেইগুলা বাইরায় তাগো হোগা দিয়া এমনেও ভালা কিছু বাইরায় না । হেল্লাইগাই আইনে আর বেআইনে বেচাকিনার মাইনষের বদল অয় । দুইটা ঢাউস তরমুজের মত দুধালি আন্নির মার জামাই তাই এই ব্যবসা ছাইড়া ফলের ব্যবসায় নামে । রিস্ক জুগ কৈরা দুইদিন পরে রাস্তার ধারে পইড়া থাকলে ফুলের মত ফুটফুইট্যা আন্নিরে কুলে নিয়া টিভি দেখবো কিডা পরদিন । হেল্লাইগাই ফাঁসির বটগাছ রাস্তার মাথায় ভাজিবুট বেচনের ব্যবসা ছাইড়া আমি পলিথিনের লগে ঝুঁকির দাম নেওনের লাইগা নাচতে নাচতে এই ব্যবসায় চৈলা আসি । হাজার ট্যাকা নিয়া যাই আর লাল সূতা নিয়া যাই আমার রাইতে শুইতে হৈব সেই পুরির দোকানে মইত্যার লগে কাঠের বেঞ্চেই ।

দার্শনিক না হৈয়াও জীবনে দৌড়াইতে দৌড়াইতে শিখলাম অনেক কিছুই । সবচে বড় যেইটা শিখছি সেইটা হৈল দৌড় একবার শুরু হৈলে আর থামেনা । কারু কারু হয়ত থামে । যাগো দৌড় শখের দৌড় । মাগার পিছে পাগলা কুত্তার লুল নিয়া যারা দৌড়ায় তাগো দৌড়ানি থামেনা । অবশ্য দৌড়াইতে যে আমার হৈবই সেইটা বোধহয় জন্ম নেওনের আগ থাইকাই ঠিক হৈয়া আছিল আমার লাইগা । আধা-বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী বাপ আর মামলা কৈরা ঘরের ভিটাডা বাকি রাইখা বাকি সব বেইচা দেয়া দাদার ঘরে জন্ম নিলে দৌড়ের উপ্রে যে থাকতে হৈব সেইটা বুঝার লাইগাতো আর গুণিন হওন লাগে না । তবু বাপ থাকতে থাকতে যে কয়দিন জীবনের, যেইগুলার কতা এখন আর মনেই নাই, এমনকি বাপের মুখও মনেই নাই , সেই দিনগুলানে ধৈরা নেওন যায় দৌড় তখনো শুরুই হয় নাই । শীতের একদিন সক্কালে দত্তসার দীঘিপাড়ে ঢাকা-চিটাগাং হাইওয়েতে টেরাকের বাইরে বাড়াইয়া থাকা লোহার পাইপের লগে বাড়ি খাইয়া আধা-বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী বাপ কান দিয়া রক্ত ছাইড়া মইরা গেলেই শুরু হয় আমার দৌড় । অবশ্য দিনক্ষণের হিসাবে যারা একটু খুতখুইত্যা তারা হয়ত বাপের চল্লিশা পর্যন্ত দৌড় হিসাবে ধরতে চাইব না । চল্লিশার পরেই না চাইরপাশে নদী দিয়া ঘিরা আকদিয়ার জামেয়া উলুমিয়া ইসলামিয়া এতিমখানার হেফজখানায় আমার পিঠ দিয়া পাহাড় ঠেলনির চাকরি শুরু হয় ।

নদীর মাইঝখানে একটুখানি জঙ্গলের মত আকদিয়া গেরামখান । আমার নিজের গেরামে এত ঘন ছায়া , এতখানি শ্যামল পানি দেখি নাই । ভালাই হয়ত লাগে কয়েকদিন । কিন্তু প্যাচাইন্যা প্যাচাইন্যা আরবি হরফগুলা গুলাইয়া আসে কয়েকদিনেই । ঠিকমত লুঙি পরতে না পারইন্যা মকবুল মকছুদ যেমন তরতর কৈরা পারার পর পারা মুখস্ত কৈরা যায় , আমি তেমন পারি না । একটা রুকু শেষ করতেই আমার মাসের পর মাস পার হৈয়া যায় । বাপ থাকতে দুই বচ্চর ইশকুলেও গেছিলাম । তখনো মনারে মনা কুতায় যাস মনে আছে । আর বিশেষ কিছু অবশ্য মনে নাই । বিলের ধারে মনে হয় যায়, কিন্তু গিয়া কি করে সেইটা আর মনে নাই । নাম লেখতে গিয়া একদিন ভুল কৈরা অন্তস্থ্য য এর ফুটা না দেওনে ফুফাত বৈন আমারে চেতায় এযাছিন ডাইকা । অক্ষরে অক্ষরে এত প্যাঁচ, কয়টা মনে রাখমু আমি । পড়া আগায় না ।

ফুফার বাড়ি গেরামে হওনে খাওনের কষ্ট হয় না । গেরামের পুকুরর পানির চাইতেও পাতলা ডাইল দিয়া লোহার মত শক্ত রুটি খাওনের দরকার নাই । ফুফুর কাছে চৈলা যাই প্রতিবেলা । শুধু আরবি হরফের প্যাঁচ ছাড়া দিনগুলা হয়ত ভালাই চলতাছিল । অন্তত জামাইর তৃতীয় বা চতুর্থ বিয়ার বিরোধিতা কৈরা ধোলাই খাইয়া , বড় ফুফাত বইনের বাপের বাড়ি ফিরা আসনের আগ পর্যন্ত । সাথে আসে তার চ্যাঙড়া বড় পুলা আর কলমিলতার মত, ঘনকালা মুখের শারমিন তার দুই চাইরডা গ্যাদাগুদা । বয়সের হিসাব রাখনের মত বিলাসি আমার অবস্থা না । খালি মনে আছে তিনকোনা জায়গাডাতে কিছু পশম একটু বেশি কালা হৈয়া উঠতাছিল ।

কলমিলতার মত ঘনকালা মুখের শারমিন আমার ভাগনি । বান্দরডা তবু আমারে মামা না কৈয়া এযাছিন কৈয়াই ডাকে । আগে কুনদিন দেখি নাই ওরে । চিটাগাঙ থাইকা ওরা কখনো আইছে বৈলাও শুনি নাই । কিন্তু এখন ফুফাত বইনের মুখে এযাছিন ডাক শুনলে মিজাজ গরম হৈলেও শারমিনের মুখ থাইকা শুনতে ভালাই লাগে । চ্যতার ভাব ধরলেও , কিরে কালা বান্দর বৈলা জবাব দিলেও ভিতরে আমার ভালাই লাগে । মাঝে মইধ্যে টিভিতে দেখা দুই একখান সিনেমার মত কৈরা ছুডকালে খেলার সাথীর মত মনে হৈতে থাকে ওরে আমার কয়েকদিনেই । জলার দেশের কলমিলতার মতই ছিপছিপা লম্বা শারমিন । ওর মাথাডা আমার মাথার আধহাত উপ্রে হৈলেও চুরি কৈরা ঘর থাইকা পাঁচ ট্যাকার নুটটা আইনা আমারেই দেয় টিপ কিন্যা আইনা দেওনের লাইগা গুণবতি বাজার থাইকা । দুই ট্যাকা আমার খরচা সেইটাও বৈলা দেয় । নৌকায় কৈরা আনতা বসাইতে যাওনের সময় আমারে নিয়া যায় । জ্যাঠাত ভাইয়ের খালাত ভাইয়ের চাচাত বইন বিউটির শ্বশুর বাড়ির ঘাট দিয়া যাওনের সময় , কিরে এয়াছিন আনতা কয়ডা বসাইতাছস কৈয়া টিটকারি করলে , আমি নিজে কিছু না বুঝলেও শারমিনের ঘনকালা মুখেও হাল্কা লাল রঙ দেখা যায় ।

তার কয়দিন পর থাইকাই হেফজতে আমার অগ্রগতি নিয়া ফুফু হঠাৎ কৈরাই খুব চিন্তিত হৈয়া যান । খাইতে গেলে খাওন শেষ হওনের পরপরই খেদাইয়া দিতে থাকেন । যা যা, মাদরাছাত যা । পুলাপাইন সব হাফেজ হৈয়া গেলো তুই অহনো দুই পারাত পইড়া আছস, এইসব বৈলা আমারে পাঠাইয়া দেয়া হৈতে থাকে । শারমিনরেও আশেপাশে দেখা যায় না । ঘনশ্যাম আকদিয়ার ছায়া আমার আর ঠান্ডা লাগে না । গনগইন্যা রইদের মত জীবনে রইদ খালি বাড়তেই থাকে । হেফজখানার ঠান্ডা মাটিত ভিজা খেতার মত শুইয়া থাকতে থাকতে ঘোড়ায় চইড়া শারমিনরে পিছনে বসাইয়া নদি ধূলাউড়া মাঠ পাড়ি দেওনের স্বপ্ন দেখতে দেখতে খালি জীবন নিয়া বিতৃষ্ণাই বাড়ে আমার । নদীর অন্য পাড় থাইকা আসা দুস্ত একবালের বাড়িত গিয়া একদিন সকালে দুইদিনের লাইগা সাইকেলডা চাইয়া নিয়া আমি বাইর হৈয়া পড়ি । বইলা যাই মারে দেখতে যাইতাছি । তাত্তারি যাইতে হৈব তাই সাইকেল । নিজে জানি আর কুনদিন ফিরা আসবো না ।

সেই সাইকেল পরদিনই এগারশো ট্যাকায় সুলেমান মিস্ত্রির কাছে বেইচ্যা শুরু হয় আমার দৌড় । মাইঝখানে অনেক দৌড়াইয়া এখন আমি চৌদ্দগেরাম বাজারের চিপায় চাপায় দিনের বেলার আন্ধারে পলিথিনের ব্যাগ সাপ্লাই দেই । পলিথিনের দামের লগে ঝুঁকির দাম মিশাইয়া লাভ বেশি করি । কিন্তু সেই ঝুঁকির দামও মাঝে মইধ্যে দিতে হয় । আচমকা পুলিশ আসে কুনদিন । মাসভর্তি জমা হওয়া ঝুঁকির দাম একদিনে শোধ করতে কষ্ট লাগলেও , বুটের লাত্থির কষ্টের তুলনায় সেইডা কিছু লাগে না ।

পাইকারি কিনতে যাওনের লাইগা যেই চৌদ্দশ ট্যাকা নিয়া আইছিলাম সেইগুলা দিয়া লাত্থি থামাইলেও হাজতে যাওন থামানি যায় না । চাচা জ্যাঠা খালু ফুফা খালাত ভাই খালাত ভাইয়ের চাচাত ভাইগো নাম কৈয়া আরো লাঠির বাড় ঠেকানি যায় । নামগুলা বৈলা আমি ভালা পুলা বা আমার পরিচয় আছে এইটা বুঝানি না । বুঝানি হৈল আমি আরো ট্যাকা দিতে পারমু জোগাড় কৈরা এইটা বুঝানি । কচুরিফেনার মত যারা তারাই খালি এই ব্যবসায় আইলেও দুইএকখান শিকড় না থাইকলে ঝুকির দামের ট্যাকার লগে জানডাও যায় । যেমন এইবার যাইব বৈলা মনে হয় মাইনুদ্দিনের । হালার লগেও ট্যাকাও কম আইজকা , কারো নামও নিতে পারে নাই বৈল তারে আর হাজতে আইনা কষ্ট করে না পুলিশ । মাথায় ব্যাটনের বাড়ি পেটে বুটের লাত্থি মাইরা বাজারে শেষপাশে ডেরেনের লগে যেই কলঘরে হালায় রাইতে শুইত সেইখানেই ফালাইয়া যায় তারা ।

তিনদিন পরে জ্যাঠাত ভাইয়ের খালাত ভাইয়ের চাচা চিওড়ার গেরামের মেম্বার রফিক ছাব আমারে ছাড়াইয়া নিয়া গেলে যাওনের সময় দেখি মাছি ধরা মইনুদ্দিনের লাশ পইড়া আছে সেই কলঘরের লগেই । সেইটারে পুলিশের গাড়িতে কৈরা কুমিল্লা নিয়া যাওয়া হয় । তারও তিনমাস পরে জ্যাঠাত ভাইয়ের মামাত বৈন, কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রি রুমা আফা সেই মাইনুদ্দিনের ফুলা ধনডা হাতে নিয়া টিচারের কাছে পেনিসের আইটেম পরীক্ষা দেন ।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই ডিসেম্বর, ২০১০ দুপুর ১:৩৬
৬টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাখি মন

লিখেছেন সামিয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:১০



রাত গভীর হলে পাখিটা বারান্দায় এসে বসে। দূরের আকাশে তখনও কিছু আলো জ্বলজ্বল করে, কিন্তু পৃথিবীর কোলাহল ধীরে ধীরে স্তব্ধ হয়ে আসে। সেই নীরবতার মধ্যে বসে পাখিটার মনে হয়, মানুষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×