আমার প্রিয় পোস্ট
- লাইভ বাংলাদেশী টিভি দেখুন। কোনো সফটওয়্যার/ব্রাউজার ছাড়াই! - রাজুরনি
- অকুপাই ওয়ালস্ট্রিট আন্দোলনের প্রেক্ষাপট: মার্কিন পুজিবাদের সাম্প্রতিক সংকট - দিনমজুর
- ধর্ম ও ইশ্বর বিশ্বাসে অপযুক্তি( Fallacy of religion and God) - বীরেনদ্র
- এই লজ্জা রাখি কোথায়? (প্রসংঙ্গঃ ইন্টার্নী ডাক্তারদের গ্রামে এক বছর ইন্টার্নী করতে হবে) - ডাঃ নিয়াজ
- উগড়ে দিলাম কিছু কবিতা - মিরাশদার১০
- জাতিসংঘে কিভাবে চাকরি পাবেন বা করবেন? মাসে ৫,০০০-১৫,০০০ ডলার বেতন! - ডিসকো বান্দর
- বাংলা সার্চের সুবিধা সম্বলিত অর্থসহ আল কুরআন, বুখারী, মুসলিম, আবু দাঊদ শরীফ সহ কিছু ইসলামীক বইয়ের ডাউনলোড লিঙ্ক - আইইউটিয়ান
- আহা! দুধের শহরে মেলামাইন - ঘোর
- কিছু পুরানো রেডিও সম্প্রচার শুনুন (অডিও ফাইল) - প্রদীপ মিত্র
- হযরত উসমানের রাঃ(*) হত্যার প্রকৃ্ত ঘটনা প্রকাশ করে আমিরুল মু’মিনিন হযরত আলী(আঃ)বলেন(নাহাজুল বালাগাহ থেকে খোৎবা নং-৩০ - রাফেযী
- নিশ্চুপ নিরাল নিঝুমদ্বীপে [তথ্য + ছবি ব্লগ] নিঝুমদ্বীপ বিষয়ক মেগা পোস্ট - টেকি মামুন
- রোড টু স্কলারশিপ - ১ - ফাজিল
- | অস্পৃশ্য ও ব্রাহ্মণ্যবাদ এবং একজন বাবাসাহেব | পর্ব: ২/৮ | - রণদীপম বসু
- Technology in Y3K - ফাহাদ বাপ্পী
- লাক্স এর চামড়া ব্যবসা , দর্শকের দেহ কামনা আর ব্লগে ধর্ষকামী ভূতের আছর- শেষ পর্ব - রাগ ইমন
- লাক্স এর চামড়া ব্যবসা , দর্শকের দেহ কামনা আর ব্লগে ধর্ষকামী ভূতের আছর - ৩য় পর্ব - রাগ ইমন
- লাক্স এর চামড়া ব্যবসা , দর্শকের দেহ কামনা আর ব্লগে ধর্ষকামী ভূতের আছর - ২য় পর্ব - রাগ ইমন
- লাক্স এর চামড়া ব্যবসা , দর্শকের দেহ কামনা আর ব্লগে ধর্ষকামী ভূতের আছর - ১ম পর্ব - রাগ ইমন
- কেন আমি একজন আস্তিক নই ? কেন আমি একজন নাস্তিক নই? - ২ - পারভেজ আলম
- যে বাজারে প্রতিদিন কোটি টাকার সবজি বিক্রি হয়.. - সোহান বাশার
- একজন প্রবাসীর আত্মজৈবনিক কথন - আবু মকসুদ
- বদলে যাও, বদলে দাও! -- একটি অরুচিকর গপ্পের খসড়া - খারেজি
- কিছুদিন আগে চমৎকার একটা সফটওয়ারের সন্ধান পেয়েছি। - নুর3ডিইডি
- রাপিডশেয়ার এর প্রিমিয়াম একাউন্ট বিনা পয়সায় - ডট কম ০০৯
- তিব্বতের আকাশ লাল হৈলেই বৃষ্টির রঙ বদলায়া যাবে এমন কেন নয় কিংব চীনা বাদামের খোশার ভিতর সাম্যবাদের বিচি ভাজলেও নষ্ট হবে না, ভাবলে ক্ষতির কিছু আছে!!!!!! - ফ্যাতাড়ুর বোম্বাচাক
- প্রিমিয়াম লিঙ্ক জেনারেটর (আপডেটেড - ১৭ই ডিসেম্বর ২০১০)
- অরণ্যচারী
- একটি গল্প - অপরিচিত_আবির
- দিলজাহান - প্রণব আচার্য্য
- ক্রোধে অন্ধ ঝড় - ঊশৃংখল ঝড়কন্যা
- ধন্যবাদ টেড কেনেডি, একটি ভয়াবহ ষড়যন্ত্র থেকে বাঙালীকে রক্ষা করেছিলেন আপনি - অমি রহমান পিয়াল
- গরু/ খাসীর কুইক রেসিপি- ফ্রম ব্যাচেলরস কিচেন - শ।মসীর
- স্পিকারের সাউন্ড রেকর্ড করুন - মহসিন০৮
- মুক্তিযুদ্ধে অন্তর্ঘাত পর্ব : খন্দকার মোশতাক আহমদ-১ - অমি রহমান পিয়াল
- ফায়ারফক্স স্পিড আপ - রাকিব
- ডিভোর্স - আলঝেইমার ক্রিস্টোসান
- ZCE হবেন? পিএইচপি শিখুন! - 'লেনিন'
- কিভাবে আপনার কম্পিউটারে কোন ওয়েবসাইট ব্লক করবেন? - শামীমস
- দালাল বুদ্ধিজীবি বিষয়ক একটি উদ্দেশ্যমূলক পোস্টের জবাবে - অমি রহমান পিয়াল
- কষ্টদিনের রুশ হিউমার - মার্চেন্ট অফ ড্রিম
- পূণ্যময় রজনীর পরে - লড়াকু
- একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা(পুরো সামহোয়্যর ইন ব্লগের দৃষ্টি আকর্ষন করছি) - েমেহদী হাসান
- Task Manager ডিজাবল হয়ে গেলে তা ফিরিয়ে আনবেন কিভাবে? - আলোকিত পৃথিবী
- কলিগ খালি এডাল্ট সাইট ভিজিট করে - ডট কম ০০৯
- আইনস্তাইন বললেই হল! সমাজতন্ত্রের মরা ভূত আর জাগবে না (উৎসর্গ ব্লগার ভ্রুক্ষেপিত জ্ঞান) - ভালো-মানুষ
- মেহভুপ রেহমান কানের সওয়াল, কাগুর জভাভ - আলিফ দেওয়ান
- 'চক্ষু তো এই দুইখান, আর কতো দেখাইবা...' - আহমাদ মোস্তফা কামাল
- রূপকথা নিয়ে কিছু কথা হতে পারে! - খারেজি
- রসমালাই বানানো খুব সোজা - বায়েজীদ
- দুরের পাখীকে - রাসেল ( ........)
- চলুন সেন্টমার্টিন্স ঘুরে আসি... (এবার যাওয়ার আগে অনেক খুঁজেও কোন তথ্য পাইনি নেটে। সেই হতাশা থেকেই লেখা।) - ক-খ-গ
- কখনও জীবন ভুলে থাকার অভিনয় - রাসেল ( ........)
- আস্তিক-নাস্তিক-সংশয়ী এবং তাদের ঈশ্বর - আহমাদ মোস্তফা কামাল
- ইস্নিপস থেকে ডাউনলোডের নয়া সিস্টেম! - রাশেদ
- ই-বুক কালেকশনঃ পর্ব-৬ [শুধুমাত্র ১৮+ দের জন্য] - বিডি আইডল
- প্রমিত বাংলা বানান রীতিঃ সচরাচর সমস্যা করে এমন শব্দের একটি সম্ভার! - ম্যাভেরিক
- রাজনীতি, সংঘাত ও আর কর্পোরেট ক্রাইম নিয়ে পছন্দের কিছু ছবি - শওকত হোসেন মাসুম
- দবিরের মনোভ্রমনিক হাইডশো - কৌশিক
- এসেছে Google Earth 5 - ঘুরে আসুন সাগর তলদেশ, মঙ্গল গ্রহ আর অতীত থেকে - নাফিস ইফতেখার
- ফ্রিল্যান্সঃ ডাটা এন্ট্রির কাজ (লিখেছেনঃ মো: জাকারিয়া চৌধুরী (আপডেটেড) - কমপিউটার জগৎ
- প্রমিত বাংলা বানান রীতি (২): ষত্ব বিধান! - ম্যাভেরিক
- প্রমিত বাংলা বানান রীতি (৩): অনুস্বার (ং) এবং উঁয়ো (ঙ)! - ম্যাভেরিক
- প্রমিত বাংলা বানান রীতি (১): ণত্ব বিধান! - ম্যাভেরিক
- পৌরাণিক ছাগুরাম - মুখফোড়
- বিভিন্ন ওয়েবসাইটে বাংলা লেখা সুন্দর এবং সঠিকভাবে দেখার জন্য আপনার করণীয় - jewelosman
- যেউ না রাইছু ... রাইছুকে ধরি রাকিভার ঠপঠেন উপাই - আলিফ দেওয়ান
- আইডিএম নিয়ে ঝামেলা? আর না আর না - রূপক
- নায়িকাদের রাজিনৈতিক ভাবে অপহরন, ধর্ষন,ভিডিও দেখিয়ে ব্লাকমেইলিং বন্ধ করুন - মেহদী
- আরও বলে যাওয়া কথাগুলো-যা আধুনিক মুসলমানদের সকল সমস্যা দূর করবে - মেহদী
- যারা স্কেচ শিখতে চান আসুন তবে স্কেচ শিখি। (তিন) - জেমিনি
- মডেল হওয়ার কটিন টিপস - আলিফ দেওয়ান
- কবিতা নিয়া চুলকানি - রাসেল ( ........)
- বুড়া লোল-পুরুষদের জন্য গ্রুপ- সকলে অতি স্বত্বর যোগাযোগ করুন - নিধিরাম সর্দার
- নারীর লিপস্টিক চর্চা: নাসিমূল আহসানের পোস্ট এবং আমার বক্তব্য - মানুষের পৃথিবী
- উইন্ডোজ এর প্রয়োজনিয় কিছু শর্টকাট - নীলবরষা
মাতারি (গল্প)
০৪ ঠা এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৪:৩৮
আজব এক নেশায় পাইয়া যায় আমারে । ঠিক কোনদিন কোনক্ষণ থাইকা শুরু মনে নাই । এই শহরের আশি ভাগেরও বেশি মানুষ থাকে এই শহরতলিগুলাতে । পিপড়ার দলের মত গিজগিজ কৈরা । ছোটকাল থাইকা চিনা মোড়ও হঠাৎ কৈরা একসময় অচেনা লাগা শুরু করে । রাস্তায় মানুষের স্রোতের আকার বাড়ে, গতি বাড়ে আর বাড়ে বৈচিত্র । একসময় সাতসকালের পথচারীগুলা সব চিনাজানা ছিল । হয় লেকতের বুড়া বাপ নাইলে রানার দাদা নাইলে হানিফের দাদা । আর কোনকোনদিন নেহাত সূর্য পশ্চিম দিকে উঠলে মিথিলার বাপরেও দেখা যাইত আধোয়া গোলটুপি মাথায় দিয়া মসজিদ থাইকা ঘরে ফিরতাছে । হলুদ ফ্রক পইরা ইশকুলে যাওয়া পিচ্চিগো ভিতরে নোয়াখাইল্যা সুমইন্যার দুই বইন নাইলে ভোটকা হাসানের বান্দর বইনডা, নীল ফ্রকে ।
এখন সাতসকাল আসে কম । তাও যে কয়দিন আসে, সেইগুলাও অচেনা লাগে । হলুদ ফ্রক নীল ফ্রকের মিছিল যায় , তাও একটা না , কয়েকটা । বেশিরভাগই অচেনা । মিছিলে আরেকটা নতুন দল যোগ হৈছে । গ্রিলের দোকানদার কালাম ইন্জিনিয়ার বাড়ি বেইচ্যা যাওনের পর সেই বিশাল জলায় এখন একটা ছোটখাট গেরাম চৈলা আসছে । সাতসকালে সেইখান থাইকা বাইর হয় ময়লা ছিঁড়া শাড়ি পরা একটা দল । বাসায় বাসায় যাইয়া আটা বেলা আর ঘর ঝাড়ু দেওনের কামে যায় মাতারিরা । তাগো মধ্য থাইকা এই বিশেষ মাইয়ার উপর কোন কারনে হঠাৎ আমার চোখ যায় এখন ভুইলা গেছি । হইতে পারে মাথায় গুনগুন কৈরা সুরা আল শামস ভাজতেছি এমন সময় তার কোলের পিচ্চির বিতিকিচ্ছিরি চিক্কুরে মনোযোগ ছুইটা যাওনে, অথবা খোলা রাস্তায় আঁচলের তলে লুকাইয়া পিচ্চিরে দুধ খাওয়াইতে খাওয়াইতে উধ্বর্শাসে ছুটতাছে একটা অল্পবয়স্কা মাইয়া এই দৃশ্য সচরাচর দেখা যায়না বৈলা । না খাওনের লাঙলচষা মুখের মধ্যেও অল্পবয়সের ছাপ এখনও যায় নাই । ইশকুলে পড়া আমার ছোট বইনের সমবয়সীই হৈব বৈলা মনে হওয়াতে নজর গেছে তা না, কিন্তু সেইকারনে পরের সাতসকালেও তারে খেয়াল কৈরা থাকতে পারি ।
একবার চোখে পড়ার পর অনেক জায়গায় অনেক সময় মাইয়াটারে, মাতারিটারে আমি দেখতে পাই । কালামের প্রাক্তনবাড়ির পাশে বিকালে ছোট পোলাপান বড় পোলাপান মিল্যা ফুটবল খেলনের সময় দেখি তার নিত্য সংসারের বিভিন্ন ছোটখাট ঘটনা । কি কারনে রাগ কৈরা ওর মুখে এলুমিনিয়ামের বদনা ছুইড়া মারে ওর স্বামী, এমন নিত্যনৈমিত্তিকও যেমন দেখা যায় আবার জামাই বউ বড় পোলা কোলের পোলা মিল্যা মুরগি জবাই করনের বার চান্দে একবার ঘটা ঘটনাও দেখা যায় । কোন প্রাইভেসি নাই । খেলায় মনোযোগ ছুইটা যাওনে, খালি ঠ্যাঙটা লাগাইলেই যেই গোল সেই গোল মিস করায় ইলিয়াসের ঝারি খাইতে হৈলেও থাইকা থাইকা আমার মনোযোগ ছুইটা যায় কল চাপা মাইয়ার দিকে । ছোটখাট মাইয়া পুরা শইল্যের ভার দিয়া ভালোমত পানি বাইর করতে পারেনা । একদিন চাপকলের ডান্ডাটা স্প্রিং এর মত ছুইটা থুতনিতে , ঠোঁটে বাড়ি খাইলে তার পরের কয়েকদিন সাতসকালে তারে দেখি ঘা নিয়াই পুলার মুখে চুমা দিতে দিতে কামের বাড়ির দিকে দৌড়াইতে ।
রাইতে খাওনের পরে বিড়ি টাননের অভ্যাস নিয়া সমস্যায় পড়ছিলাম । ঘরে বৈসাতো আর টানন যায় না । এদ্দিন টাননের যায়গা আছিল চুন্নুর দোকানের লগের আন্ধার গল্লিতে । এখন এই নতুন আগ্রহ নিয়া চুলকানি বাড়লে সেই জায়গা ট্রান্সফার হয় কালামের বস্তির পাশে । কালাম ব্যাটা জমি বেইচাও মইরা যায় না । এই বস্তির নামই হৈয়া গ্যাছে এখন কালামের বস্তি । কোন এক স্বর্গীয় কোয়েনসিডেন্সে এই মাইয়ার ঘরটা রাস্তার লাগোয়া । বিকালে বা সাতসকালে যেইখানে চোখের দেখায় আমি টুকরা টুকরা ঘটনা দেখতাম এখন সেইগুলা আমি নিজের মাথায় বানাই টুকরা টুকরা শব্দে । সর মাগি বৈলা ওর জামাই খ্যাকাইয়া উঠলে আমি বুঝি বিছনার জায়গা তাগো পর্যাপ্ত না । অথবা তারস্বরে চিল্লাইয়া উঠা পিচ্চির কান্দন হঠাৎ কৈরা থাইমা গেলে বুঝি বদমেজাজি জামাইর মাইর থাইকা বাঁচানির লাইগা পোলার মুখ চাইপা ধরছে সে । তারপর কয়েক রাইত কোনরকমের বড় আওয়াজ বা মাগি ডাক না শুনায় বুঝি জামাই তার ঘরে নাই । এরপর আরো কয়েক সপ্তায় বুঝি ঘরের বাসিন্দা পাল্টাইছে । দিনে আমি এইখানে থাকি না বৈলা কিভাবে কি হৈল দেখি নাই । কিন্তু এই মাতারির বিষয় নিয়া ইলিয়াস কিংবা নোয়াখাইল্যা সুমনরে জিগাইতেও পারি না । এই জিনিস নিয়া জিগাইয়া নিজেরে বিকৃত দেখানির মানে হয় না ।
কয়েকদিন নিজের মাথার মইধ্যেই ভাবতে থাকি । কি হৈল মাইয়াটার । তার জামাই কই গেলো । মাইয়া নিজেই বা কই গেলো । বড় পুলাডা গেলো কই । ঢাউস পেটের পিচ্চিই বা গেলো কই । সাতসকালের মাতারিগো মিছিলেও তারে আর দেখা যায় না । সকাল আর বিকাল ছাড়া আমার এলাকায় থাকা হয় না । সপ্তাখানেকের মধ্যেই আবার দেখি তারে। খালপাড়ে পিচ্চি পুলা আর একখান প্লেট নিয়া বৈসা আছে ভিক্ষার অপেক্ষায় । পাঁচ ট্যাকার একটা কয়েন দিয়া দুই ট্যাকা ফিরত দিতে কওনের ফাঁকে বারবার মনে হৈতাছিল জিগাই , কি হৈছে তোমার, বাসা থাইকা খেদাইয়া দিছে নাকি ? যেই বাড়িতে কাম করতা ঐখানে কি হৈছিল ? জিগানি হয় না । নোয়াখাইল্যা সুমন অধৈর্য্য হৈয়া পড়ছে । ভিক্ষা দেওনে এত সময় লাগাটা যৌক্তিক না । নিজের মনে মনে এইজন্য প্রশ্নোত্তর পর্ব বানাই । কি হৈছে তোমার ? জামাই পিটানি দিয়া চৈলা গ্যাছে, কোন খবর নাই । বাসা থাইকা খেদাইয়া দিছে নাকি ? দুইমাসের ভাড়া দেয়া হয় নাই বৈলা হান্ডিপাতিল রাইখা বাইর কৈরা দিছে । গা হাতপা ময়লা বৈলা বাসার পুলাপানের অভিযোগের লাইগা মাতারির কামেও যাইতে মানা কৈরা দিছে তারা । জানিনা এইগুলাই কি আসলে তার উত্তর হৈত কিনা । কিন্তু সন্ধ্যার দিকে খালের পানিতে বিয়াবাড়ির আলো দেখতে দেখতে আমার ক্যান জানি মনে হয় , প্রশ্নগুলা জিগাইতে পারলে ঠিক এইরকমই হৈত উত্তরগুলা ।
জীবন একটু কঠিন হৈয়া পড়লে চাইরপাশে ঘটনা ডাগর চোখ মেইলা দেখার সময়ে ঘাটতি পড়ে আমার । দুই সপ্তার বেশি চৈলা যায় নিত্য বিকালে পাঁচ ট্যাকা দিয়া দুই ট্যাকা ফেরত নেয়া , এবং তার ফাঁকে ফাঁকে মাইয়াটার হাল্কা ময়লা শরীরের আর ঘাওয়ালা মুখের ক্রমাবনতি দেখা ছাড়াই । সতের দিন পরে বিকালে খালপাড়ে যাইয়া দেখি সেইখানে সে নাই । দৃশ্যত উদ্দেশ্যবিহীনভাবে হাঁটা শুরু কৈরা, সতর্ক চোখে রাস্তা, খালের এই মাথা থাইকা অন্য মাথায় খুইজাও পাই না আমি তারে কোথাও । কালামের বস্তির শেষ মাথায় খালের এক্কেবারে লাগোয়া ভাঙা টং দোকানের লগে তার নীল পলিথিনের খুপড়িটাতেও প্রাণের স্পর্শ নাই বেশ কয়েকদিন । দেইখা এমনই মনে হৈল । বিকালে হাঁটায় মনোযোগ নাই আমার । পায়ের উপর দিয়া রিকশাও চৈলা যায় একবার । তাও বিভিন্ন মোড়ে সতর্ক চোখ দিয়া আমি তারে খুঁজি ।
বিশ্বরোডের পাশে তারে দেখি আমি পরনে আধা শাড়ি আর মাথার চাইরপাশে খড়ের মত্ চুল নিয়া পা ছড়াইয়া বসা অবস্থায় । কোলে পিচ্চিডা নাই । এখন তারে গিয়া কিছু জিজ্ঞাস করা যায় । লোকের চোখের ভয় নাই এখন । তাও সেদিন না জিগাইয়া তার পরদিন ইলিয়াস বা নোয়াখাইল্যা সুমন কাউরে না নিয়াই সন্ধ্যার দিকে একটা পাউরুটি আর এক হালি কলা নিয়া আমি তার সামনে যাই । খাওয়া শুরু করার আগেই জিগাই তোমার পুলা কৈ । মুখভর্তি খাওন নিয়াই হাউমাউ কৈরা উঠে পাগলি । যদ্দুর বুঝি পোলা তার খালের পানিতে পইড়া মরছে । আর কোন কিছুর জবাব উদ্ধার করা যায় না । আয়েসি ট্রাজেডি দেইখা ভারাক্রান্ত মন নিয়া ফিরি আমি । লালাভ আকাশ দেইখাও ভাব জাগে । ইশকুলের একমাত্র বট গাছে বাতাস দেইখাও ভাব জাগে । হেমিংওয়ের উপন্যাসে রবার্ট পেন ওয়ারেনের ভূমিকাতে, যে পৃথিবীতে মানুষের অবস্থা ক্যাম্পফায়ারের জলন্ত কাঠের গুড়িতে এদিক-ওদিক ছুটে মরা পিপড়ার মত , এই কথাও মনে আসে । কি কারনে জানি না রবার্টরে খানকির পোলা বইলা গালিও দিই মনে মনে ।
সবার মোটামুটি অজান্তে মাসখানেক তারে আমি অনেকটা চোখে চোখে রাখি । প্রতি বিকালে ইলিয়াস আর নোয়াখাইল্যা সুমনরে না জানাইয়া একবার বিশ্বরোডের পাশ থাইকা ঘুইরা আসি । জিগাই , খাবি নাকি । খাওন কিন্যা দিই । সকালে বাসে উঠার সময় দেইখা যাই । পরনের শাড়িতে তার ছিদ্র বাড়ে । মুখের ঘা বড় হয় । মাথার চুলের রঙ বদলায় । আর হয়ত অন্য কেউ খেয়াল করেনা যেইটা, হয়ত আমিই কেবল খেয়াল করি যেইটা, চোখের নীচে কালি বাড়ে তার । সপ্তায় একদিন দুইদিন কলা পাউরুটি কিন্যা দেওয়াতে কারো চোখে না পড়লেও একখান শাড়ি কিন্যা আইনা দেওনের মত সাহস জোগাড় করা হয় না আমার । নিজেরে বুঝাই আধল্যাঙটা হৈয়াও, আমার মত এই উল্টাপাল্টা বয়সের পোলার মধ্যেও যে কখনো দুঃস্বপ্নেও যৌনানুভুতি উদ্রেক করতে পারেনা তার হয়ত ভয় নাই ।
একদিন শুক্রবার সাতসকালে বাসস্ট্যান্ডে দুর থাইকা একটা ভীড় দেখা যায় ।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই ডিসেম্বর, ২০১০ দুপুর ১:৩৭ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
ফারহানা আহমেদ বলেছেন:
শামসুন্নাহার হলের পাশে এক পাগলীকে দেখতাম, আপন মনে ঘুরে বেড়াতো। একদিন হঠাৎ হলভর্তি মেয়েরা সবাই অবাক বিস্ময়ে আবিষ্কার করলাম পুরুষের নোংরা থাবার থেকে সেও মুক্তি পায়নি। এই লেখাটা পড়ে আমার সেই পাগল মেয়েটার কথা মনে পড়ে গেলো।
লেখক বলেছেন: আমি আসলে সেই ভীড়ে যাইনাই । জানিনা আসলে কি হৈছিল ।
কাকশালিখচড়াইগাঙচিল বলেছেন:
সবজায়গাতেই এই অবস্থা।
ফারহানা আহমেদ এর কমেন্ট পড়ে আমারও এমন বেশ কয়েকটা কথা মনে পড়ল। তারমধ্যে দুইটা আমাকে নিস্ফল আক্রোশে মরে যেতে বলেছিল, কিন্তু আমি সেটাও পারি না।
লেখক বলেছেন: হালার দুইন্যাডাই একটা কুত্তার বাচ্চা ।
তনুজা বলেছেন:
নিয়ে গেলাম পর্যতে পরে পড়ব
লেখক বলেছেন: ওক্কে ।
অলস ছেলে বলেছেন:
+++
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ ।
আিমওআমরা বলেছেন:
+
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ ।
মনির হাসান বলেছেন:
পাখি ভাই ওরফে ফারুক ভাই ওরফে ইকরাম ভাই ... আপনে একটা জিনিষরে ভাই ।অ সা ধা র ন নামাইছেন ।
প্রথম প্যারা পইরা মাথা ঘুইরা আইলো সেই ৮৫/৮৬ র ঢাকা শহর ... খালি গায়ে সারা শহর ঘুরতাম ... রিং চালাইতে চালাইতে ।
রিং কি জিনিষ চালাইছেন নিশ্চয়ই ? একটা রিং , হাতে একটা মোটা গুনা দিয়া বানানো স্টেয়ারিং ... ব্যাস্ টো টো কইরা সারা ।
বস্তিবুস্তি নিয়া বহুত স্মৃতি আছিল । অবশ্য তখনকার বস্তি গুলায় একটা মোটামুটি ধরনের কালচার ছিলো ... যেইটা এখন আর কল্পনাও করিনা ..
যাউক গা ... আপনের ইন্টার মেট্টিক কবে ?
আর "iqramrtn" মানে কি ?
লেখক বলেছেন: হাহাহা । আমি ছুডকালে একটু ম্যান্দা টাইপের আছিলাম । রিং চালাইতো মিথিলা, আমি ওর লগে লগে দৌড়াইতাম । মাঝে মইধ্য একটু দয়া কৈরা আমারে দিতো ।
মেট্রিক ২০০০, ইন্টার ২০০২
iqram হৈল আমার নাম আর rtn হৈল আমার বান্দরনির নামের সংক্ষিপ্ত রুপ ।
.. বস্তিতে ..রাস্তায় এমন অনেক অভিজ্ঞতা হইসে
আমার অবশ্য মহৎ অনুভূতি হয় নাই কখনো ..
খারাপ লাগলেও চিন্তা করি নাই বেশীক্ষন
মাছের চোখেই দেখছি সবকিছু
++
লেখক বলেছেন: হুমম ।
লেখক বলেছেন: থ্যান্কু
লেখক বলেছেন: উস্তাদ দেশে গেলে আফনার লগেও দেখা করতাম ছাই । একদিন আড্ডা দিমুনে ।
দারুণ.....
শুভ্রমিয়া, খালি লেখকরে দারুণ বললে চলবেনা। গুরুর খোঁজ দিছিলাম আমারে দাওয়াত দিবা কখন বলো।
লেখক বলেছেন: গল্প নিয়া কিছু কন মিয়া । শোকেসে নিছেন দেখছি । তয় মতামতডাও জানা দরকারি । আফনে আমার সবচে নিষ্ঠাবান পাঠক ।
লেখক বলেছেন: ওক্কে । থ্যান্কু ।
লেখক বলেছেন: আমিতো বাচ্চা পুলাই । একটু পাকনামি করি আরকি ।
লেখক বলেছেন: ভাবেন তাইলে ।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ ।
এক কথায় অসাধারন লিখছেন। ফিনিশিং টাচ টা অসাধারন। এই রকম লিখা আরো লিখেন।
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ ।
ভালো থাকুন ।
তনুজা বলেছেন:
রিতোন
পাকনামি তো ভালই হয়
তবে আমি তো ভাষাটার সাথে তত পরিচিত নই, দুএকবার খেই হারায় যায়
সাথে প্রাসংগিক অনেক কথাও মনে আসে নিজের দেখার আদলে
একটা কথা ভাবলে অবাক লাগে এতদিন দেশে নেই, মনে সবকিছু কত স্পষ্ট ধরে রাখা যে এভাবে লেখা আসে
লেখক বলেছেন: ভাষার সাথে পরিচয় হৈয়া যাবে, আমার সবগুলা গল্প পড়লে । হিহিহি ।
থ্যান্কু ।
এই রচণাটা অন্যরকম লাগছে। এভাবে একটা মানুষরে, পুরা পরিস্থিতিরে, একটা সময়রে লক্ষ্য কইরা কইরা মনের মইধ্যে খেলাধূলা করা কথাগুলাকে তুইলাধরা সহজ না মোটেই। তার উপর আপ্নে পাঠকরে পুরো কাহিনীর মধ্যে একদম নিবিষ্ঠভাবে আটকাইয়া রাখছেন যা এই রচণার সবচে' আকর্ষণীয় দিক। ঘটনা বানানো হলেও অসুবিধা ছিলনা কিন্তু যেহেতু বোঝা গেছে সত্য ঘটনা তাই আরও ভাল লাগছে।
বাসায় বইসা বইসা, খাইয়া, ঘুমাইয়াও আমরা অন্য কোন একটা সামাজিক চিত্র পুরা অবলোকন কইরা যাইতে পারি এটাও দেখলাম। দেখার চোখ থাকলে কত কিছুই দেখা যায়। এই দুইন্যাইদারি আসলেই জায়গা বটে।
লেখক বলেছেন: হুমম, দেখার চোখই লেখকের সবচে বড় সম্পদ ।
ভালা থাকেন । আরও বিস্তারিত আলাপ হবে পরে ।
মাহমুদ৬৯ বলেছেন:
অনেকদিন পরে এসে আপনার লেখাগুলো পড়া শুরু করলাম, ভালোই লাগছে। আপনার লেখাগুলো সত্যিই অন্যরকম।
অ প্রাঃ নোয়াখালী কোথায় আপনার বাড়ি?
লেখক বলেছেন: ধইন্যাপাতা ।
আমার বাড়ি নোয়াখালী না । কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে । এক্কেবারে ফেনীর লগে ।
লেখক বলেছেন: ওক্কে ।
ফারজানা৯৯ বলেছেন:
অনেকদিন পরে ব্লগে কারো লেখা পড়ে খুব ভোলো লাগলো।
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ ।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...

















