জলিল মিয়া এমন কোন লিজেন্ডারি মানুষ ছিলো না এবং ভরা বর্ষায়ও তার ঠোঁটে পানিশূণ্যতাজনিত শুকনা সাদা চামড়ার গুঁড়া থাকতো । প্রথম দেখায় সেটা অপুষ্টির ফল বলে মনে হলেও তার দারিদ্র অতটা সর্বগ্রাসী ছিলোনা এমনকি তার দ্বিতীয় বউ প্রায়ই গরুর মাংসের ঝাল তরকারী রান্না করতো এবং তারা ওয়াসার পানি সাপ্লাই আছে এমন একটি বাড়িতেই থাকতো । তাই দীর্ঘদিন গোসল না করার ফল তার শুকনা ঠোঁট এইজাতীয় উপসংহারেও আমরা ঠিক স্থির হতে পারি নাই । অবশ্য মহল্লার উঠতি মেয়েরা তার ঠোঁট নিয়ে চিন্তাভাবনা করে এইধরণের হাইপোথিসিস ছড়াবে এমন সুদর্শন বা নিদেনপক্ষে সেই বয়সের মানুষ সে ছিলো না । আমরা তার শুকনা ঠোঁট নিজ উদ্যোগেও খেয়াল করি নাই । তার যেহেতু কোন সমবয়সী বন্ধুবান্ধব ছিলো না, তাই সে সুযোগ পেলেই আমাকে এবং শাহীনকে তার জীবনের উপকথাগুলি শুনাতে চেষ্টা করতো । হয়তো ভাঙ্গা নিচু কণ্ঠস্বরের জন্য অথবা তার অভ্যাসের জন্যই অথবা পাশ দিয়ে চলে যাওয়া লোকজনকে শুনাতে চাইতো বা বলেই সে কথা বলতো শ্রোতার একেবারে মুখের কাছে মুখ এনে, নীচুস্বরে । ফলে তার শুকনো ঠোঁটের কথা খেয়াল না করে আমাদের উপায় ছিলো না ।
তবে এমন না যে জলিল মিয়া সংক্রান্ত সমস্ত উপকথা আমরা তার নিজ মুখেই শুনেছি । এই উপকথাগুলির কিছু আমরা তার মুখে শুনি , কিছু তার আমাদের বয়েসী ভাইয়ের মুখে আর কিছু শুনি আমরা আমাদের মায়েদের ঘরোয়া গুজব থেকে । এমনও অবশ্য হয়েছে যে আমরা একই উপকথার অনেকরকমের ভার্শন শুনেছি বিভিন্ন উৎস থেকে । তবে এই নিয়ে আমরা কোনদিন তাকে জেরা করি নাই । সে ভগ্নমানুষ বলে তাকে আর দুঃখ দিতে চাইনি বলেই যে তা আবার নয় । মূলত আমরা কখনোই তাকে অত গুরুত্বপূর্ণ কিছু ভাবি নাই এবং সে আসলেও তেমন গুরুত্বপূর্ণ কিছু ছিলো না । তার ফ্লেক্সিলোডের দোকান ছিলো খালপাড়ে আমাদের বিকালিক আড্ডার চায়ের দোকানের ঠিক উল্টাপাশেই এবং সেখানে তার বসার চেয়ারের পাশে কয়েকটি খালি চেয়ার দিনের বেশিরভাগ সময় খালি পড়ে থাকতো । আমি ও শাহীন যদিও সেখানে হাঁটতে হাঁটতে বা কথা বলতে বলতে ক্লান্ত হয়ে গেলেই কেবল বসার জন্য যেতাম, কিন্তু আমাদের ভিতরকার দুষ্টরা যাদেরকে আমরা লুইচ্যা বলে ডাকতাম তারা যেতো জলিল মিয়ার ফ্লেক্সিলোডের দোকানে দশবিশ টাকা লোড করতে আসা ইশকুল কলেজের মেয়েদের মোবাইল নাম্বার কৌশলে দেখে নেয়ার জন্য ।
জলিল মিয়া দীর্ঘদিন মালেশিয়া ছিলো পাম বাগানে শ্রমিক হিসাবে, সেই কথা আমরা ছোটকালেই যখন সে সত্যিকার অর্থে মালেশিয়া ছিলো তখনই জানতাম । মাঝে হয়ত দুএকবার সে ছুটিতে এসেও থাকবে । কিন্তু আমরা যেহেতু তখন নিতান্ত ছোট ছিলাম এবং সে যেহেতু তখনও অতটা ভগ্ন হয়ে যায়নি সেহেতু আমরা তার অস্তিত্ব বা আগমন-গমনের বিষয়ে অতটা সচেতন ছিলাম না । কেবল বছর দুয়েক আগে সে যখন চিরতরে ফিরে আসে এবং তার প্রথম বউ নিয়ে কিছু পারিবারিক ঝামেলা তৈরী হয় এবং সেইসব ঝামেলায় শাহীন মধ্যস্থতা করে, তখন থেকেই আমরা তার সম্পর্কে টুকটাক থেকে শুরু করে বেশিবেশিও জানা শুরু করি । তার কিছুদিন পর থেকেই সে শাহীন ও আমার কাছে তার গল্পের ঝাঁপি মেলে ধরা শুরু করে । তার ভিতরে প্রথমদিকে বেশ কিছুদিন ছিলো তার প্রথম বিমানযাত্রা এবং আকাশ থেকে অনিন্দ্যসুন্দর ব্যাংকক শহর দেখার বর্ণনা । প্রথম কয়েকদিন আগ্রহ নিয়ে শুনলেও আমাদের আগ্রহ কমে যায় যখন আমরা তার মালেশিয়াযাত্রার অন্য এক ভার্শন শুনি আমাদের মায়েদের ঘরোয়া গুজব থেকে । আমার মা বলেন জলিল মিয়া মূলত কোনদিনই ব্যাংককে যায়নি বা তার আকাশে উড়েনি । দালালের ব্যবস্থাপনায় তারা দশজন প্রথমে বার্মার উপকূলবর্তী কোন এক অজানা নামের শহরে যায়, এবং সেইখান থেকে ভারত মহাসাগর ভেঙে ভেঙে পাড়ি দিয়ে মালেশিয়ার সারাবাক পৌঁছানোর পথে বার্মার নৌবাহিনীর হাতে ধরা খায় । বার্মার সেই অজানা নামের উপকূলবর্তী শহরের নোংরা ও নির্মম জেলখানায় তিনমাস কাটানোর পরে নৌবাহিনী যখন তাদের আবার সাগরে ভাসিয়ে দেয় তখন অসম্ভব রকমের ভালোমানুষ দালালের সহায়তায় তারা আবার বিভিন্ন পথ পাড়ি দিয়ে সারাবাক পৌঁছায় । যেহেতু জলিল মিয়ার মা নিজমুখেই এই কাহিনী মায়ের কাছে বলে গিয়েছে বলে আম্মা দাবী করেন সেহেতু এই কাহিনীই আমাদের কাছে বিশ্বাসযোগ্য বেশি মনে হয় । এছাড়া জলিল মিয়ার আমাদের বয়েসী ছোটভাইয়ের মুখে আমরা শুনতে পাই যে মালেশিয়া যাওয়ার পর থেকে চার মাস পর্যন্ত জলিল মিয়া একবারের জন্যও কোন খবর পাঠায়নি বা ফোন করেনি । এই কথা শুনার পরে আমরা দুয়ে দুয়ে চার হিসাব করে মূল ঘটনার আন্দাজ করে ফেলি । কিন্তু আমরা কখনো তাকে ব্যাংককের এয়ারপোর্টের নাম কি অথবা আপনি কেনো যাবার পরে প্রথম চার মাস কোন খবর দেননি জাতীয় প্রশ্ন করে বিব্রত করি নাই । তার ব্যাংকক কিংবা বিমানযাত্রার গল্পে আমাদের আগ্রহের ঘাটতি দেখে সে নিজে থেকেই অন্যসব গল্প শুরু করে আমাদের সাথে ।
জলিল মিয়া মালেশিয়া যাবার কিছু বছরের মাথায় তার ছোট আরো দুইভাইকেও বিভিন্ন ব্যবস্থা করে নিয়ে গিয়েছিলো সেই খবর আমরা আরো আগে থেকেই আবছা আবছা জানতাম । আমাদের কাছে গল্পের ঝাঁপি খুলে বসার বা বসতে চাওয়ার চেষ্টা শুরু করার পর থেকে আমরা সেসম্পর্কে আরো বিস্তারিত অনেক কিছুই জানতে পাই । জলিল মিয়া বলে সে থাকতো কুয়ালালামপুরের শহরতলীতে কিন্তু তার ভাইয়েরা থাকতো আরো গ্রাম্য অঞ্চলের দিকে । মালেশিয়ায় যেহেতু খোদ এয়ারপোর্টের ভিতরেও পাম গাছের ছড়াছড়ি সেহেতু কুয়ালামাপুর শহরতলীতেও অনেক পাম বাগান ছিলো যেখানে অনেক শ্রমিকের দরকার পড়তো । কিন্তু জলিল মিয়া যেখানে কাজ করত সেখানকার বাগানমালিক অত্যন্ত নীচ মানুষ ছিলো এবং সে জলিল মিয়ার পাসপোর্ট ও অন্যান্য দরকারী কাগজপত্র আটকে রেখেছিলো । ফলে সে অন্যকিছু করতে পারে নাই , এবং কখনোই অত বেশি টাকা কামাই করতে পারে নাই । তার অনেক বেশি টাকা যে নাই সেটা তাকে এবং তার পরিবারের যেটুকু অবশিষ্ট আছে সেটুকু দেখেই বুঝা যেত । কিন্তু আমরা কেবল নিশ্চিন্ত হতে পারতাম না, আসলে ঠিক কোন কারণে দীর্ঘ তের বছর মালেশিয়া থেকে, কাজ করেও সে তেমন কোন টাকা নিয়ে ফিরে আসতে পারে নাই বা যখন ছিলো তখনো কেনোই বা খুব বেশি অর্থনৈতিক সাহায্য পাঠাতে পারে নাই । জলিল মিয়ার মা এবং তার মুখ ঘুরে আমাদের মায়েদের ঘরোয়া গুজব থেকে আমরা জানতে পারি জলিল মিয়া এবং তার ইমিডিয়েট ছোট ভাই , তারা দুজন মালেশিয়ার মোটর-সাইকেল ভ্রমণ গ্রুপে যোগ দিয়েছিলো এবং রোবাস্ট মটর-সাইকেল ও মদের পিছনেই তারা অর্জিত টাকার বেশিরভাগ অংশ খরচ করতো । জলিল মিয়ার মাও দীর্ঘ অনেক বছর এই ঘটনা জানতো না এবং তার তৃতীয় ছেলে মালেশিয়া যাবার পরেই তার মুখে এইসব ঘটনা তারা শুনতে পায় । এইগুলো মায়ের কাছে বলে দেয়া নিয়ে তৃতীয় ভাইয়ের সাথে প্রথম দুইজনের ঝগড়া হয় এবং তারা মালেশিয়া থাককালীন আর কখনোই একজন অন্য দুইজনের মুখ দেখে নাই । এইসব নিয়ে আমার তেমন কোন আগ্রহ না থাকলেও পৃথিবীর মানচিত্রের মালেশিয়া অংশটির দিকে গভীর মনোযোগে চেয়ে থাকার সময়ে আমি ছোট করে বাদামী হরফে লেখা সারাবাক শব্দটি দেখে একটি চমক আবিষ্কার করে ফেলি । সারাবাক যে মালেশিয়ার যে পাশে কুয়ালালামপুর তার থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন একটি অংশ, এবং একইসাথে সারাবাকে আবার কুয়ালালামপুরের শহরতলীতে থাকা সম্ভব নয় এই জিনিসটি শাহীনকে বুঝাতে কিছু সময় লাগলেও পরে বুঝেও সে তেমন কোন আগ্রহ দেখায় না । আমারও ইচ্ছা মরে যায় । জলিল মিয়া আমাদের বুঝিয়েছিলো , সারাবাক হলো প্রদেশের নাম আর সারাবাক প্রদেশেরই একটি জেলা কুয়ালালামপুর ।
জলিল মিয়ার তৃতীয় ভাই মালেশিয়া যাবার তিনবছরের মাথায় ফিরে আসে এবং এসেই কিছুদিনের মাথায় মহল্লায় বাজে মেয়ে বলে পরিচিত পান্নাকে বিয়ে করে এবং ঘরজামাই হয়ে সেইখানে চলে যায় । এইসব ঘটনার মাস ছয়েক পরে তাদের দ্বিতীয় ভাইয়র লাশ এয়ারপোর্ট থেকে ট্রাকে করে আমি শাহীন ও জলিল মিয়ার আমাদের বয়েসী ছোট ভাই আরো কয়েকজন মিলে ফরিদপুর নিয়ে যাই । ট্রলারে করে ভয়ঙ্করভাবে পদ্মার কয়েকটি খাল ধরে বন্যাক্রান্ত জলিল মিয়াদের গ্রামের জংলা কবরস্থানে লাশ দাফন করে পরদিন ঢাকা ফিরে এসে আমি ঘরে এইসব অভিজ্ঞতার কথা বলার সাহস করি না । জলিল মিয়ার মা এবং তার আমাদের বয়েসী ছোট ভাইয়ের মুখে আমরা শুনি প্রতিদিনের মত সাইকেলে করে সকাল বেলা কাজে যাবার পথে ট্রাকের সাথে ধাক্কা খেয়ে জলিল মিয়ার দ্বিতীয় ভাই ঘটনাস্থলেই মারা যায় । কেবল তারও কিছুদিন পরে তৃতীয় ভাইয়ের মুখে আমরা শুনি মটর-সাইকেল চুরি সংক্রান্ত মামলায় পুলিশের দ্বারা গ্রেফতার এবং তার পরের মালেশিয় পুলিশের নির্যাতনেই দ্বিতীয় ভাইটি মারা গিয়েছিলো এবং এই খবর মালেশিয়ায় থাকা তার এক বন্ধুর কাছ থেকেই শুনেছে সে । অবশ্য এই খবর আমরা শোকসন্তপ্ত পরিবারটির অন্যদের কাছে কোনদিনও প্রকাশ করি নাই । জলিল মিয়ার সাথে আমাদের অদ্ভুত একতরফা বন্ধুত্বের যদিও তখনও শুরু হয় নাই, কিন্তু অর্থহীন সত্য প্রকাশ করে লোকের মনোকষ্ট বাড়ানোর দরকার নাই এইজাতীয় সত্যগুলো উপলব্ধি করার বয়স তদ্দিনে আমাদের হয়েছিলো ।
দ্বিতীয় ভাইয়ের লাশ আসার এগার মাসের মাথাতেই জলিল মিয়া মালেশিয়ার পাট চুকিয়ে ফিরে এসেছিলো এবং সপ্তাহের মধ্যেই ফরিদপুরের তাদের নিজ ইউনিয়নের এক নবম শ্রেণী পড়ুয়া মেয়েকে বিয়ে করে ঘরে এনেছিলো । তার সেই প্রথম বিয়েতে আমি আর শাহীনও গিয়েছি এবং দুর্গম সব পথ পাড়ি দিয়ে আবার দিনে দিনেই ফিরে এসেছিলাম এবং দাফন করতে যাওয়ার বারের মতই পথের কথা কাউকে বলি নাই ।
জলিল মিয়ার ম্লান চেহারার প্রথম বউটিকে আমাদের এখনো মনে পড়ে এবং এখনো এই ম্লান চেহারার মেয়েটির ভিতরের শয়তানীর কথা মনে করে আমরা মাঝে মাঝে বিহ্বল হয়ে পড়ি । যদিও জলিল মিয়ার একান্ত পারিবারিক সমস্যা সমাধানে সক্রিয় হওয়াটাকে আমি এড়িয়ে গিয়েছি সযত্নে তবু ভিতরের ঘটনার মোটামুটি পুরোটাই আমি জানতাম শাহীনের কাছ থেকে । শাহীন সক্রিয় ভাবে দ্বিপক্ষীয় মধ্যস্ততার কাজটি মোটামুটি সফলভাবেই শেষ করেছিলো । বিয়ের প্রথম রাতেই জলিল মিয়ার প্রথম বউটি বেশ কান্নাকাটি করেছিলো জামাইকে তার পছন্দ হয়নি বলে । প্রাথমিক এই ডিজএপয়েন্টমেন্ট ধীরে ধীরে কেটে যাবে বলে জলিল মিয়া বা তার মা বা তার আমাদের বয়েসী ছোট ভাইটি এই ঘটনাকে তেমন কোন গুরুত্ব দিয়ে ভাবেনি । কিন্তু দীর্ঘ একমাস যখন রাতে জলিল মিয়া ফেরার সময় হলেই দুইঘর একবারান্দার বাসাটির রাস্তার লাগোয়া বারান্দার কোনে বসে মেয়েটি খুনখুন কান্না শুরু করতো এবং দিনভর মোবাইলে হেসে হেসে কারো সাথে কথা বলতো ঘরের কাজকর্ম না করে তখন জলিল মিয়ার আমাদের বয়েসী ছোট ভাইটি বেশ অধৈর্য্য হয়ে উঠে ভাবীর এইসব আচরণে । জলিল মিয়ার মা ঝামেলাহীন এবং নিরীহ জীবন পছন্দ করতো এবং ছেলের বউকে কিছু বলে ছেলের কাছে দোষী হওয়াটাকে এড়াতে চাইতো বলে তেমন কিছু কখনোই বলে নাই । কিন্তু জলিল মিয়ার আমাদের বয়েসী ছোট ভাইটি একদিন ভাবীর মোবাইলটি কেড়ে নিয়েছিলো এবং বেশ কিছুক্ষণ কর্কশ ও কাঁচা গালিগালজ করেছিলো ভাবীকে । দুদিনের মধ্যেই মেয়ের বাবাচাচারা এসে জলিল মিয়া ও তার পরিবারকে নারী নির্যাতনের দায়ে অভিযুক্ত করার হুমকি দিলে শাহীন তখন মহল্লার কিছু উঠতি বয়সের ছেলেদের নিয়ে গিয়ে কোনপ্রকার মামলা-মোকদ্দমা ছাড়া সসম্মানে দুই-পক্ষের ছাড়াছাড়ি হয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলো । সেই ম্লানমুখী মেয়েটির যে গ্রামে প্রেমিক ছিলো এবং তারা সংখ্যায় একাধিক ছিলো এবং তাদের সাথেই যে সে দিনভর কথা বলতো এইসব জলিল মিয়ার আমাদের বয়েসী ছোটভাইটিই একদিন আমাদের বলেছিলো আত্নপক্ষ-সমর্থণ করতে গিয়ে । আমরা তার কথা অবিশ্বাস করার মত কোনকিছু কখনো খুঁজে পেতাম না বলে মেয়েটির ম্লানমুখ এবং অন্তর্গত শয়তানী নিয়ে হেঁয়ালীটি আমাদের ভিতরে স্থায়ী বসবাস গড়েছিলো ।
প্রথম ব্যর্থ বিয়ের এক মাস পরেই জলিল মিয়া আরো অল্পবয়স্কা এবং আরো ম্লানমুখী একটি মেয়েকে বিয়ে করলেও এবং কাঠালার লুইচ্যা পোলা বিভিন্ন কান ঘুরে পাওয়া জলিল মিয়ার যৌনতৃপ্তিদানে অক্ষমতা সংক্রান্ত কারণেই যে প্রথম বউটি তাকে ছেড়ে চলে গিয়েছিলো এই খবর দিলেও , সে লুইচ্যা বলে তার কথা আমি বা শাহীন কেউই সচেতনে বিশ্বাস করি নাই ।
ভরদুপুরের খালি দোকানে আমাদের মেয়েসংক্রান্ত আগ্রহের মুখে জলিল মিয়া যখন তার শুকনো সাদা ঠোঁট উল্টে বলতো সেক্সে আসলে কোন মজা নাই, তখন ঠাঠা রৌদ্রের দিকে তাকিয়ে আমরা উদাস হয়ে যেতাম ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

