১ : মৃত্যুর মতই ব্যভিচারের কোন প্রতিকার নাই (হুমায়ুন আজাদ)
জাপানিজ টিভিতে প্রচুর আউলফাউল অনুষ্ঠান হয় । মাঝে মধ্যে মনমেজাজ ভালো থাকলে দেখতে খারাপ লাগে না । একবার একটা দেখতাছিলাম, টিভির বেশ কয়েকজন তারকা জড়ো হৈয়া , গত একমাসে তাদের জীবনে ঘটে যাওয়া উদ্ভট ঘটনা নিয়া আলোচনা । এক অভিনেতার কাহিনী এইরকম : নাটকের শুটিং করতে সে গেছিলো দেশের পরে । সপ্তাখানেক পরে ফিরা আইসা অ্যাপার্টমেন্টে ঢুকতে গিয়া দেখে ভিতরে লোক আছে । গার্লফ্রেন্ডের কাছে চাবি আছে, তাই ভাবলো আগে আগে বুঝি অভ্যর্থনা জানানির লাইগা বৈসা আছে । কিন্তু লিভিং রুমে ঢুইকা দেখে বেডরুমের দরজা লাগানো, আর ঐখানে লোক একজন না , দুইজন । গার্লফ্রেন্ডের সাথে একটা মধ্যবয়স্ক পুরুষও আছে । ঘন্টাখানেক অপেক্ষা কৈরা তাগো কামকাজ শেষ হওনের পরে বাইর হৈয়া মুখামুখি হৈলে, মাফ চাইয়া , দুইজন ভাগে ।
কোনরকমের পুরুষতান্ত্রিক হেজিপেজিতে না গিয়া , আসলে ঘটনা কি ঘটছে বৈলা দেয়া যায় । মধ্যবয়স্ক লম্পটটা জোরপূর্বক মেয়েটারে ধৈরা তার ব্যাগ থাইকা বয়ফ্রেন্ডের এপার্টমেন্টের চাবি নিয়া সেইখানে আসছিলো আকাম করতে ।
গ্যালনখানেক বিয়ার পেটে ঢুকার পরে এক সিনিয়র ভাই তার ম্যাসাজ পার্লারের (আধুনিক পতিতাতলয়) কাহিনী বয়ান করছিলেন । কাহিনী এইরকম : শিবুইয়াতে (টোকিওর সবচে জনবহুল জায়গা) একবার এক ঘন্টার জন্য ম্যাসাজ পার্লারে গেছিলেন । কামের ফাঁকে ম্যাসেজকন্যার সাথে টুকটাক কথা হৈলো । ম্যাসাজকন্যা জানায় , তার বয়ফ্রেন্ড শিবুইয়াতেই একটা জুয়ার দোকানে জুয়ার মগ্ন । তারে ঐখানে রাইখাই সে একঘন্টার এই কুইক পার্টটাইম জবে আসছে ।
গার্লফ্রেন্ডের সাথে ডেটে আইসা যেই পুলা জুয়ায় মগ্ন হৈয়া যায় , তার সাথে অতি অবশ্যই এইরকম চিট করাই দরকার । কুন সন্দেহ নাই ।
২ : আ-- ফরনিকেটর্স । মাই গড ! দেয়ার আর লট অফ ইউ ! কুড আই প্লিজ স্প্লিট ইউ আপ ইনট্যু এডাল্টারার্স এন্ড দ্য রেস্ট । মেইল এডাল্টারার্স, কুড ইউ প্লিজ ফর্ম অ্যা লাইন ইন ফ্রন্ট অফ দ্যাট স্মল গিলেটিন ওভার দ্যাট কর্নার ? (মিস্টার বিন, ইনোগরেশন এট হেল)
নৈতিকতা সংক্রান্ত ক্যাচালে এক মুল্লা দুস্ত প্রশ্ন কৈরা বসলো, তুই বিবাহপূর্ব সেক্স সমর্থণ করিস কিনা । বল্লাম অবশ্যই করি, পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে দুইজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিগতভাবে কি করলো না করলো সেইখানে আমার বা আইনের কিছু করার অধিকার নাই । দুস্ত কয়, তাইলে বিবাহের পরের বিবাহবহির্ভুত সেক্স সমর্থণ করিস কিনা । বল্লাম, না করি না । দুস্ত কয়, বিয়ার আগে যদি সমস্যা না থাকে তাইলে বিয়ার পরে কি সমস্যা । এইটা কি ধরণের নৈতিকতা । রকহেডরে যতই বুঝাই, বিয়া একখান চুক্তি, চুক্তির ইমপ্লিসিট শর্ত হৈলো, একজন আরেকজনের প্রতি সেক্সুচালি বিশ্বস্ত থাকবে । এইখানে বিবাহবহির্ভুত কিছু করা মানেই আইনত করা চুক্তি ভঙ্গ করা, এইখানে আইনের অবশ্যই নাক গলানি জায়েজ হৈবে । রকহেড কিছুতেই বুঝে না ।
অবশ্য সচেতনমহল মাত্রই জানেন যে, পুরুষের বিবাহবহির্ভুত এফেয়ার যেখানে তার নির্জলা লালসার বহিপ্রকাশ, সেইখানে নারীর এফেয়ার কেবলমাত্র পুরুষতান্ত্রিকতার চাপিয়ে দেয়া একঘেয়েমির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ মাত্র । অথবা পুরুষের অবহেলা, অমনোযোগই একমাত্র কারণ । লালসার প্রশ্নই আসেনা ।
৩ : হি ওয়াজ নট মাই লাভার ! আই জাস্ট ইউজড টু ফাক হিম (শ্যারন স্টোন- বেসিক ইনস্টিংক্ট)
বছর তিনেক আগে পত্রিকার একটা ছোট খবর পড়ছিলাম । আমেরিকা প্রবাসী এক বাঙ্গালী মধ্যবয়স্ক পুরুষ ট্রেনের সামনে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন আত্নহত্যার জন্য । অবশ্য চালকের দক্ষতায় তার উদ্দেশ্য সফল হয় নাই । স্ত্রীর বয়ফ্রেন্ডকে গাড়ি চাপা দিয়ে হত্যাপ্রচেষ্টার মামলায় , মেয়ের সাথে আদালতে হাজিরা দিতে যাবার পথে, এই ঘটনা । ছয়সাত বছর আগে ঐলোক আমেরিকা এসেছিলেন ভাগ্যান্বষণে । চারপাঁচ বছর টাকা পয়সা জমিয়ে বউকে নিয়ে এসেছিলেন । নিয়ে আসার কয়েকমাসের মাথায় জার্মান এক বয়ফ্রেন্ডের সাথে বের হয়ে যায় বউ । ডিভোর্সের আবেদন করে । এই প্রক্রিয়ার এক পর্যায়ে ঐলোক গাড়ি চাপা দিতে চেয়েছিলেন জার্মান বয়ফ্রেন্ডকে ।
পুরুষ নারীর স্বাধীনতাকে স্বীকার তো করবেই না , উল্টা তার প্রিয়দের উপর পর্যন্ত হামলা চালাবে । কি জঘণ্য !
৪ : ইন আমেইরিকা, ফারস্ট ইউ গেট দ্য শুগার, দেন ইউ'ল গেট দ্য পাওয়ার, দেন ইউ'ল গেট দ্য ওম্যান । (হোমার সিম্পসন - দি সিম্পসনস)
নারীকে সম্পদ ভাবার পুরুষতান্ত্রিক আদিপাপ আদতে পুরুষ-নারী দুইজনেরই ইয়ে মেরে দিচ্ছে অনবরত । এইটা থেকে মুক্তি না পেলে পুরুষও কখনো নারীর সত্যিকারে ভালোবাসা পাবে না ।
৫ : ব্যভিচারের দায় কেবল একপক্ষের উপর চাপানোর মধ্যে, ধর্ষণের দায় দুইপক্ষের উপর চাপানোর সমপরিমান চুতিয়ামি নিহিত । (মাওলানা দুরের পাখি )
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই ডিসেম্বর, ২০১০ দুপুর ১:৪৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


