আমার বাড়ি উপকূল থেকে একটু ভিতরে । একানব্বই এর ২৯শে এপ্রিল ঘুর্নিঝড় ঝলোচ্ছাসের স্মৃতি এখনো অনেকটাই তাজা । আমাদের ঘরের চাল উড়ে গিয়ে পড়লো পিছনের পুকুরে । সেই গভীর রাইতে একদিন বয়েসি ছোট বোন আর গ্যাদাপান্ডা নিয়া আম্মা উঠলেন জ্যাঠিমার ঘরে ।
ঘূর্ণিঝড়ের কয়েকদিন পর থেকে কবলিত অঞ্চল থেকে আট-দশ বছরের শিশু, বাচ্চা কোলে নারীরা আমাদের গ্রামে আসতে থাকে ভিক্ষার জন্য । অর্ধেক খোলা আকাশের নীচে আমাদের লান্চে অতিথি যোগ হতে থাকে প্রতিদিনই দু'একজন করে । খাওয়াদাওয়ার পরে চাচী জ্যাঠিমারা মিলে শুনতে বসতেন ঘূর্নিঝড়ের কাহিনী । শুনতে শুনতে একেকজনে চোখের পানি নাকের পানি একাকার । অনেকেই বলতো, পরিবারের অন্যরা কোথায় গিয়ে মরছে জানেনা, লাশ খোঁজার জন্য অপেক্ষা করে লাভ নাই । পেটে খাওনা নাই , তাই বের হয়ে গিয়েছে ।
খালেদা ম্যাঠাম তখন দেশের প্রধানমন্ত্রী । দুই লাখ লোকের মৃত্যু আর বেঁচে থাকা কয়েক মিলিয়ন লোকের জন্য উনার এক ফোঁটা চোখের পানি সম্ভবত পড়ে নাই । পড়লে সেই ছবিগুলা পরের নির্বাচনের প্রচারণায় নিশ্চয়ই ব্যবহার হৈতো ।
ম্যাঠামের চোখের পানির বাঁধ ভাঙছে গেছে মাগনা বাসা থেকে *এক* কাপড়ে বের করে দেয়ার দুঃখে ।
আমাদের রাজনীতিতে দেশ-জাতি সংক্রান্ত ইস্যুর চাইতে দুই ম্যাডামের জমিজমা ইস্যু অনেক বাড়া । তারেকের মাজা ভাঙার বেদনায় তাই যুবদলের যুবতীরা চোখের জলে বুক ভিজায় ।
ল্যাদা ম্যাঠাম সরকারের নেয়া আরো অনেক দেশঘাতী আত্নঘাতী স্বিদ্ধান্তের প্রতিবাদে হরতাল, মিছিল করতে পারেন নাই । মিছিল লংমার্চ করতে গেছে কয়েকডজন বাম আর খেলাফতের স্বপ্নদোষাক্রান্ত কিছু হিজচুত ।
তবে ম্যাঠামের দুঃখে পরাণ ফেটে যাওয়া লোকজন দেখে বুঝা যায়, বাঙালি এখনো এইসব খায় । এমনকি তৃণভোজী তিনকোণার কথা বাদ দিলেও ।
আমি খারাপ মানুষ । আমার মনে খালি কুচিন্তা আসে । আমার মনে হইতেছে, *এক* কাপড়ের এক সংখ্যাটা এত কান্নার কারণ হৈছে, অন্য কারণে । সংখ্যাটা শূণ্য হৈলেই ম্যাঠাম খুশি হৈতেন । সেই ছবি দিয়া পোস্টার টানায়া দেশ ভরে ফেলা যাইতো । সরকার পতন আন্দোলন করা যাইতো ।
খালেদার জায়গায় হাসিনা বসাইলেও ঘটনার তেমন কোন গুণগত পরিবর্তন হইতো না ।
(লেখাটা প্রথম পাতা থাইকা সইরা গেছিলো । কোন নোটিশ যেহেতু পাই নাই , সেহেতু ধৈরা নিছিলাম কোন বাগের কারণে হৈছে , তাই আবার দিলাম )

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

