পর্ব ১
Click This Link
এক নাম্বার পর্বে দেখলাম যে , বাইবেল যে কালে কালে শত শত লোকের হাতে সম্পাদিত হইছে এই একাডেমিক সত্য জানার পরে , একদল ধর্মতত্তের ছাত্র আর নিজেদের বিশ্বাস রাখতে পারে না । অর্থাৎ ঈশ্বরের অজয় অক্ষয় অব্যয় বাণী এই বিশ্বাস তখন অর্থহীন । এবং যৌক্তিকভাবেই তাই ।
কিন্তু আরেক দল এই সত্য জানার পরেও ধর্মযাজক/প্রচারক হওয়ার পথ থেকে সরে দাঁড়ায় না । কিন্তু যেহেতু বাইবেলের সংকলণের ইতিহাস আবার একাডেমিক সত্য , অতএব তাদের দরকার হয় এমন কিছু একটা যেটা দিয়ে এই দুই বিপরীতমুখী জিনিসের মধ্যে সমন্বয় করা যায় । এন্ড ভোয়ালা, হিয়ার কামস পিছলামি । নতুন ছাত্রদের বেশ ধৈর্য্যর সাথে শিক্ষা দেয়া হয় যে, একাডেমিক সত্যকে অস্বীকার না করেও কিভাবে এমনভাবে উপস্থাপণ করা যায় যাতে বিশ্বাসও টিকে থাকে । অর্থাৎ সত্যকে প্যাঁচানোর বিদ্যা ।
আসলে সত্যকে প্যাঁচানির নিয়মাবলী বিষয়ক কোন সাবজেক্ট নাই এইটা ঠিক । তবে
আদতে ধর্মতত্ত বিষয়টা গভীরভাবে দেখলে বুঝা যায় আসলে ধর্মতত্তের একটা শাখার নাম পিছলামি না বলে, পুরা বিষয়টাই একটা বড়সড় পিছলামি বিদ্যা বলা চলে । কিন্তু এই বিদ্যা তারপরও টিকে থাকে ক্যামনে এইটা নিয়া প্রশ্ন জাগতে পারে । উত্তর হইলো এর বাজার আছে এইজন্যই । অঞ্চলে অঞ্চলে চার্চে চার্চে সাধারণ জনগণের মধ্যে ধর্ম বিষয়ে যেসব প্রশ্ন জন্মে সেইগুলার সমাধান দেয়ার জন্যই ।
মজার ব্যাপার হইলো, সাধারণ মানুষের মধ্যে যেসব প্রশ্ন জন্মে তার বেশিরভাগই উত্তরবিহীন এবং কেবলমাত্র সঠিক সমাধান হইতে পারে যে ধর্ম জিনিসটা সম্পূর্নরুপে মানুষের বানানো একটা ঘোড়ার ডিম । এর মধ্যে কোন অলৌকিকতা নাই , নাই কোন পরম জ্ঞানের সাথের যোগাযোগও । এইজন্যই বিভিন্ন বিষয় এইরকম দুর্বলভাবে জোড়া লাগানো । এইজন্য এত ফাঁকফোকর । এত উদ্ভট জিনিস ।
কিন্তু সরাসরি এইসব বললেতো ধর্মের আর কোন সাবস্ক্রাইবার থাকবে না । ফলে লোকাল চার্চের ফাদার/প্রিচার এরা নির্ভর করে ধর্মতাত্তিকদের উপরে । এবং বিপরীতে তারা সরবরাহ করে গোল্ডেন পিছলামিসমূহ ।
একটা ভালো পিছলামির মোটামুটি ৪ টি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করা যায়
১ : সরাসরি মিথ্যা হইতে পারবে না ।
অর্থাৎ বাইবেলের সংকলনের ইতিহাস সব ষড়যন্ত্র, এইগুলাতে কোন সত্য নাই এইটা সরাসরি বলা বিপদজনক । কারণ একাডেমিয়াতে সবকিছুর সলিড প্রমাণ সংরক্ষণ করা আছে । তাই সরাসরি মিথ্যা বললে আবার পরে ধরা খাইতে হবে । বরং এমন কিছু বলা যায় যে, বাইবেল যে-ই, যখন-ই লিখে থাকুক এটা তার ঈশ্বরের দ্বারা অনুপ্রাণীত হয়েই লেখছে ।
২ : কনফিডেন্স নিয়া বলতে পারতে হবে
এইটারে গুরুত্বপূর্ণ মনে না হইতে পারে প্রথমে, কিন্তু আসলে এর গুরুত্বও অসীম । আমতা আমতা করে যদি বলা হয়, বাইবেল সংকলণের ইতিহাস যেরকমই হোক এইগুলা ঈশ্বরের কথা তাতে কোন ভুল নাই, তাহলে বক্তার কনফিডেন্স লেভেল দেখে লোকের অবিশ্বাস আরো দৃঢ় হইতে পারে ।
৩ : নতুন কোন আগ্রহ না উস্কাইয়া পুরাতন সন্দেহকে মুছতে পারার মত হইবে ।
এটার মূল কথা হইলো নতুন তথ্য যথাসম্ভব এড়াইয়া চলতে হইবে । নতুন কারো নাম, নতুন কোন সন্দেহবাদীর বই, যেইটার নাম সন্দেহকারী অলরেডি জানে না , সেইটা উল্লেখ না কার উচিৎ । অর্থাৎ সন্দেহ যেখান থেকে করা হইছে ঐটা মুছার জন্য অন্য আরেকজনের উদাহরণ দিতে গেলে নতুন কিছু আবার বের হয়ে যেতে পারে ।
৪ : এইটা শুনতে মনে হবে গভীর এবং বিশাল কিছু (প্রোফাউন্ড)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


