somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দ্য ওরিজিন এন্ড ডেভেলপমেন্ট অফ পিছলামি (বিস্তারিত ভার্শন : উৎসর্গ নাজনীন খালা এবং মাসুদুল হক) -২

২২ শে ডিসেম্বর, ২০১০ দুপুর ১২:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পর্ব ১
Click This Link

এক নাম্বার পর্বে দেখলাম যে , বাইবেল যে কালে কালে শত শত লোকের হাতে সম্পাদিত হইছে এই একাডেমিক সত্য জানার পরে , একদল ধর্মতত্তের ছাত্র আর নিজেদের বিশ্বাস রাখতে পারে না । অর্থাৎ ঈশ্বরের অজয় অক্ষয় অব্যয় বাণী এই বিশ্বাস তখন অর্থহীন । এবং যৌক্তিকভাবেই তাই ।

কিন্তু আরেক দল এই সত্য জানার পরেও ধর্মযাজক/প্রচারক হওয়ার পথ থেকে সরে দাঁড়ায় না । কিন্তু যেহেতু বাইবেলের সংকলণের ইতিহাস আবার একাডেমিক সত্য , অতএব তাদের দরকার হয় এমন কিছু একটা যেটা দিয়ে এই দুই বিপরীতমুখী জিনিসের মধ্যে সমন্বয় করা যায় । এন্ড ভোয়ালা, হিয়ার কামস পিছলামি । নতুন ছাত্রদের বেশ ধৈর্য্যর সাথে শিক্ষা দেয়া হয় যে, একাডেমিক সত্যকে অস্বীকার না করেও কিভাবে এমনভাবে উপস্থাপণ করা যায় যাতে বিশ্বাসও টিকে থাকে । অর্থাৎ সত্যকে প্যাঁচানোর বিদ্যা ।

আসলে সত্যকে প্যাঁচানির নিয়মাবলী বিষয়ক কোন সাবজেক্ট নাই এইটা ঠিক । তবে
আদতে ধর্মতত্ত বিষয়টা গভীরভাবে দেখলে বুঝা যায় আসলে ধর্মতত্তের একটা শাখার নাম পিছলামি না বলে, পুরা বিষয়টাই একটা বড়সড় পিছলামি বিদ্যা বলা চলে । কিন্তু এই বিদ্যা তারপরও টিকে থাকে ক্যামনে এইটা নিয়া প্রশ্ন জাগতে পারে । উত্তর হইলো এর বাজার আছে এইজন্যই । অঞ্চলে অঞ্চলে চার্চে চার্চে সাধারণ জনগণের মধ্যে ধর্ম বিষয়ে যেসব প্রশ্ন জন্মে সেইগুলার সমাধান দেয়ার জন্যই ।

মজার ব্যাপার হইলো, সাধারণ মানুষের মধ্যে যেসব প্রশ্ন জন্মে তার বেশিরভাগই উত্তরবিহীন এবং কেবলমাত্র সঠিক সমাধান হইতে পারে যে ধর্ম জিনিসটা সম্পূর্নরুপে মানুষের বানানো একটা ঘোড়ার ডিম । এর মধ্যে কোন অলৌকিকতা নাই , নাই কোন পরম জ্ঞানের সাথের যোগাযোগও । এইজন্যই বিভিন্ন বিষয় এইরকম দুর্বলভাবে জোড়া লাগানো । এইজন্য এত ফাঁকফোকর । এত উদ্ভট জিনিস ।

কিন্তু সরাসরি এইসব বললেতো ধর্মের আর কোন সাবস্ক্রাইবার থাকবে না । ফলে লোকাল চার্চের ফাদার/প্রিচার এরা নির্ভর করে ধর্মতাত্তিকদের উপরে । এবং বিপরীতে তারা সরবরাহ করে গোল্ডেন পিছলামিসমূহ ।

একটা ভালো পিছলামির মোটামুটি ৪ টি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করা যায়

১ : সরাসরি মিথ্যা হইতে পারবে না ।
অর্থাৎ বাইবেলের সংকলনের ইতিহাস সব ষড়যন্ত্র, এইগুলাতে কোন সত্য নাই এইটা সরাসরি বলা বিপদজনক । কারণ একাডেমিয়াতে সবকিছুর সলিড প্রমাণ সংরক্ষণ করা আছে । তাই সরাসরি মিথ্যা বললে আবার পরে ধরা খাইতে হবে । বরং এমন কিছু বলা যায় যে, বাইবেল যে-ই, যখন-ই লিখে থাকুক এটা তার ঈশ্বরের দ্বারা অনুপ্রাণীত হয়েই লেখছে ।

২ : কনফিডেন্স নিয়া বলতে পারতে হবে
এইটারে গুরুত্বপূর্ণ মনে না হইতে পারে প্রথমে, কিন্তু আসলে এর গুরুত্বও অসীম । আমতা আমতা করে যদি বলা হয়, বাইবেল সংকলণের ইতিহাস যেরকমই হোক এইগুলা ঈশ্বরের কথা তাতে কোন ভুল নাই, তাহলে বক্তার কনফিডেন্স লেভেল দেখে লোকের অবিশ্বাস আরো দৃঢ় হইতে পারে ।

৩ : নতুন কোন আগ্রহ না উস্কাইয়া পুরাতন সন্দেহকে মুছতে পারার মত হইবে ।
এটার মূল কথা হইলো নতুন তথ্য যথাসম্ভব এড়াইয়া চলতে হইবে । নতুন কারো নাম, নতুন কোন সন্দেহবাদীর বই, যেইটার নাম সন্দেহকারী অলরেডি জানে না , সেইটা উল্লেখ না কার উচিৎ । অর্থাৎ সন্দেহ যেখান থেকে করা হইছে ঐটা মুছার জন্য অন্য আরেকজনের উদাহরণ দিতে গেলে নতুন কিছু আবার বের হয়ে যেতে পারে ।

৪ : এইটা শুনতে মনে হবে গভীর এবং বিশাল কিছু (প্রোফাউন্ড)
৯টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×