বি এন পির সংলাপে অংশ নেয়া উচিত
২১ শে জানুয়ারি, ২০০৮ সকাল ৮:৩৫
আওয়ামী লীগ এবং জামাত নির্বাচন কমিশনের সাথে সংলাপে যাচ্ছে - এটা মোটামুটি নিশ্চিত। কিন্তু বি এন পি এখনও নিশ্চিত হতে পারছে না সংলাপে যাওয়া উচিত হবে কি না। বি এন পি মহাসচিব দেলোয়ার চেয়ারপার্সনের মুক্তির শর্ত এর সাথে জুড়ে দিতে চাইছেন। কিন্তু চেয়ারপার্সন যে সহসাই মুক্তি পাচ্ছেন না তা মোটামুটি অবধারিত। তা হলে বি এন পির এ ব্যপারে করনীয় কি হতে পারে?
আমার মনে হয় অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর মত বিএন পির উচিত হবে সংলাপে অংশ নেয়া। এর প্রধান কারন, দেশের এখন যে অবস্থা তাতে কোন আন্দোলনে যাওয়া শুধু ঝুকিপূর্ন নয় বরং জনসাধারনের বিরক্তির উদ্রেককারী বলে গন্য হবে। এখনও ভয়াল লগি বৈঠার স্মৃতি মানুষের মনে জাগরূক। আর বি এন পিও সে সময়টা ইলেকশন ইন্জিনিয়ারের চেষ্টা করেছে বলে তাদেরকেও দায় নিতে হয়েছে। ১/১১ এর আগে সংঘাতপূর্ন রাজনীতি আর ১/১১ এর পর দুর্নীতির যে বিভৎস কুৎসিত দৃশ্য দেখা গেছে তাতে রাজনীতিবিদদের উপর সাধারন মানুষের কোনো শ্রদ্ধা অবশিষ্ট নেই। সুতরাং এই পরিবেশে কারো মুক্তির জন্য আন্দোলন করে তাতে সাধারনের সমর্থন আশা করা চূড়ান্ত বোকামী ছাড়া আর কিছু নয়।
অন্যদিকে এখন দেশে প্রায় দুর্ভিক্ষের মত একটি পরিস্থিতি তৈরী হয়েছে। এর ফলে এই সরকারের কোন কর্মকান্ডে মানুষ আর আস্থা রাখতে পারছে না। দুর্নীতি বিরোধী অভিযানও এখন আর ততটা সাড়া জাগাচ্ছে না। পড়ন্ত একটি সরকারের বিরুদ্ধে এমন কোন কর্মপদ্ধতি নেয়া উচিত নয় যাতে এই সরকারের জনপ্রিয়তা আরো বেড়ে যায়।
এমতাবস্থায় নির্বাচনে অংশ নেয়ার পরিস্থিতি তৈরী হলে তাতে অংশ নেয়াটাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। এক্ষেত্রে চেয়ারপার্সন জেলবন্দী থাকলেও নির্বাচনে বিজয়ের মাধ্যমে তাকে মুক্ত করার চ্যালেন্জ্ঞ নেয়া যেতে পারে। জিয়া পরিবারের প্রতি যে অমানবিক আচরন চলছে তাতে বিএনপির দুর্নীতির স্মৃতি অনেকটাই ম্লান হয়ে যাচ্ছে। বর্তমান অর্থনীতির প্রেক্ষিতে বি এন পির সময়ের সচল অর্থনীতিও মানুষকে আবার বি এন পি প্রতি সহানুভূতিশীল করে তুলবে বলে আমার বিশ্বাস।
সাম্প্রতিক সময়ের নেতৃত্বের পরিবর্তনের মাধ্যমে বি এন পির ভেতরের ষড়যন্ত্র রোধ করা গেছে। এখন বি এন পি কে সামনে এগিয়ে নিতে চাই সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত। '৮০ এর দশকের ছাত্রনেতারা যেভাবে দলকে এগিয়ে নিচ্ছেন তা সন্তোষজনক। আগামী নির্বাচনে সম্পূর্ন নূতন মুখ নিয়ে বিএনপিকে দেখতে চাই অন্য আংগিকে, অন্য রূপে যাতে ভয়ংকর দুর্নীতির ক্লেদ অনেকটাই ঝেড়ে ফেলা সম্ভব হয়।
ছন্নছাড়া বলেছেন:
ভাল পোষ্ট, তবে দেলোয়ার রে ডাকলেতো সংলাপে যাইব? বিএনপির সুবিধাপন্থিরা এক পাও বাড়াইয়া রাখছে সংলাপের জন্য।
লেখক বলেছেন: সেটা তো আছেই। কিন্তু যদি পরিবেশ অনুকুলে থাকে তবে কারো মুক্তির প্রতীক্ষায় না থেকে নির্বাচনে অংশ নেয়াটাই উচিত।
ষড়যন্ত্রকারীদের জম বলেছেন:
দলের বদল করে নির্বাচন করলেও খালেদা সমর্থিত দল জিতবে বলে আমার মনে হয় ,থাকসিন সমর্থিত দলের মত ।
ষড়যন্ত্রকারীদের জম বলেছেন:
দলের নাম,প্রতীক বদল করে নির্বাচন করলেও খালেদা সমর্থিত দল জিতবে বলে আমার মনে হয় ,থাকসিন সমর্থিত দলের মত ।
লেখক বলেছেন: তবে প্রতীক বদলের ব্যপারটি আলাদা। আমার মনে হয় না ওখানে আপোষ করাটা উচিত হবে। অন্যায়ের সাথে আপোষের আমি বিরোধী। এতে বি এন পিকে প্রতিপক্ষ দুর্বল ভাববে। বি এন পি পানিতে পড়ে যায় নি। কই মান্নান ভুইয়ারা তো পারলেন না বি এনপি থেকে খালেদাকে মাইনাস করতে।
দেখা যাক আগামী দিংুলোতে কি আছে।
ষড়যন্ত্রকারীদের জম বলেছেন:
সংলাপ মূখ্য নয়,নির্বাচনই মূখ্য
লেখক বলেছেন: নির্বাচনের পরিবেশ ঠিক বোঝা যাচ্ছে না। এমন যদি হয় কোন নির্বাচনের ফল আগে থেকেই ঠিক করা থাকে তবে সে নির্বাচনে যাওয়ার মানে হয় না। সংলাপে অংশ নেয়ার অর্থ নিজেদের আন্তরিকতা প্রমান করা।
পান্জেরী বলেছেন:
একমত।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ চতুরভূজ। নির্বাচন কমিশনই প্রমান করুক তারা নির্বাচন নায় কিনা?
+
বিএনপির সংলাপে যাওয়া উচিত। অবশ্য এ ক্ষেত্রে তাদের উচিত বিভক্তি কাটিয়ে ওঠা। বিভক্তিটা নিজেদের ক্ষতি করবে।
লেখক বলেছেন: বিভক্তি তো মনে হচ্ছে বাইরে থেকে চাপিয়ে দেয়া। নতুবা যে জরুরী আইন ভাংগার জন্য শিক্ষক ছাত্রদের জেল হল, সেই জরুরী আইন কি করে মান্নান ভুইয়া দিনের পর দিন ভাংগলেন।
এম.এ.হামিদ বলেছেন:
ইনসপায়ারড বাই সারওয়ার চৌধুরী
মান্নান ভূঁইয়ার ব্যাপারটা পারসনাল রিলেশনের কারণেও হতে পারে। আর বিভক্তির কারণটা কিন্তু পুরোনো কোন্দলের জের। তবে যাই হোক এই ক্রান্তিকালে তাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়াটা তাদের জন্য সুফল আনবে মনে করি।
লেখক বলেছেন: রাজনৈতিক দলে পক্ষ বিপক্ষ থাকেই। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে যখন ক্ষীনধারাকে মূলধারার পরিবর্তে উস্কে দেয়া হয় - সমস্যা হয় সেখানেই। ঐক্যবদ্ধ হলেও পুরোনো সম্মানজনক দলীয় পদ কাউকে ফিরিয়ে দেয়া উচিত হবে না। মনে রাখা প্রয়োজন দলের ক্রান্তিকালে সংস্কারপন্থীদের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত সন্দেহজনক।
তাদের উচিত হবে নিঃশর্ত ভাবে দলে ফেরত আসা।
হুমম, দেখা যাক কি হয়। সংস্কারপন্থীরাও তো তাদের অবস্থানের পক্ষে যুক্তি দলিল দেখাচ্ছে।
লেখক বলেছেন: তাদের সাথে তো আর কর্মীরা নেই। তাদেরকেই নিঃশর্ত ভাবে ফিরে আসতে হবে বর্তমান নেতৃত্বের কাছে।
এম.এ.হামিদ বলেছেন:
সারওয়ার ভাইয়ের উচিত সিলেট থেকে সংসদ নির্বাচনে দাড়ানো
ত্রিভুজ বলেছেন:
.আমি কি চাই জানেন? রাজনৈতিক দলগুলো আন্দোলনে যাক এবং এই সরকার সেই আন্দোলন দমিয়ে আরো ৫বছরের জন্য জাঁকিয়ে বসুক! সবচেয়ে ভাল হতো যদি আগামী ১০ বছর কোন করাপ্টেড রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় না আসতে পারতো.. আপাতত তাই এই সরকার ছাড়া আর কোন চয়েস খুঁজে পাচ্ছি না...
মনে হয় অর্বাচিনের মত একটা মন্তব্য হয়েছে। কিন্তু আমি সত্যিই চাই দেশটাকে পুরোপুরি ঠিক না করা পর্যন্ত কোন রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় আসুক।
লেখক বলেছেন: কোন মন্তব্যই অর্বাচীন নয় যদি মন্তব্যকারীর সিরিয়াসনেস থেকে থাকে। যারা আজে বাজে মন্তব্য করে তারা জেনে বুঝেই করে।
আপনাকে ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য। তবে ১৪ কোটি মানুষের এই দেশকে ঠিক করতে আরো প্রচুর সময় লাগবে। আর ঠিক হতে পারে একমাত্র নির্বাচিত সরকারের মাধ্যমে। রাজনীতিকে উপেক্ষা করে পাকিস্তান কোন তলায় গিয়ে ঠেকেছে। মানচিত্র পর্যন্ত পাল্টে গেছে। আর এই রাজনীতিকে সম্বল করে ভারত উঠে গেছে তর তর করে। অথচ পাকিস্তান আর ভারত একসাথেই স্বাধীন হয়েছিলো।
বাংলাদেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে রাজনৈতিক দলের বিকল্প নেই।
অপচিকিৎসার কারনে কি মেডিক্যাল সাইন্স উঠে যাবে?
ত্রিভুজ বলেছেন:
.উপরের মন্তব্যটা কিছুটা অফটপিক ছিলো... টপিক রিলেটে মন্তব্য করতে হলে বলবো আপনার সাথে একমত। "বিএনপির সংলাপে যাওয়া উচিত বলেই মনে করি'।
+
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
উম্মু আবদুল্লাহ বলেছেন:
মন্তব্যকারীদের সবাইকে ধন্যবাদ। কাল পত্রিকায় দেখলাম নির্বাচন কমিশনার আবার দুই গ্রুপকে এক হতে বলছেন এবং এটাও বলছেন যে মান্নান ভুইয়ার বহিষ্কার তার কাছে সঠিক মনে হয় নি।ভুইয়ার বহিষ্কার যদি সঠিক না হয়, তবে তিনি চিঠি মান্নান ভুইয়ার কাছে পাঠাতে পারতেন। সেটা না করে সাইফুর হাফিজদের কাছে পাঠালেন কেন? এটাই তো বড় স্ববিরোধিতা।
তিনি তো চেয়ারে বসে বিএনপির আভ্যন্তরীন রাজনীতি নিয়ন্ত্রন করেন না। তিনি যা করছেন তা হল বি এন পির বিভাজনে উস্কানী।
আর মান্নান ভুইয়াকে ব হিষ্কার করা না হলে দলীয় কর্মীরা তা মেনে নিত না। চেয়ারপার্সন কর্মীদের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটিয়েছেন মাত্র।
বাতিঘর বলেছেন:
our invitation option do not work properly. please click "Join" option. Delete this off topic comment after seen.
লেখক বলেছেন: করলাম।
আপনি পোস্ট পছন্দ যদি নাও করেন তবু কোন মন্তব্য করলে খুশী হব।
ত্রিভুজ বলেছেন:
আচ্ছা একটা জিনিষ বুঝি না... যতদুর জানি "মান্নান ভুইয়া" একজন দূর্নীতিবাজ অসৎ নেতা ছিলেন। তাকে সরকার দুদকের নোটিশ না পাঠিয়ে উলটো তেন কেন মারছে?
বিষয়টা পরিষ্কার না আমার কাছে...
লেখক বলেছেন: স্যরি ত্রিভুজ দেরীতে জবাব দেবার জন্য। আসলে মান্নান ভুইয়ার মনে হয় কোন যাদুকরী ক্ষমতা আছে। না হলে সরকার কেন তাকে এত তেলাচ্ছে? এটা আমার কাছেও বিষ্ময়।
হাশেম পোদ্দার বলেছেন:
+
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ পোস্ট টি পড়ার জন্য ও ভাল লাগার জন্য।
মুনশী বলেছেন:
হ মন্নান বেডায় কি তেলেসমাতি দেহাইতাছে আগে দিয়া কে জানে!!
যাউগ্গা পুস্টু ভালা লাগছে। অগো আলুচনায় যাওন দরকার।
আবদুল্লার মা আছেন কিমুন? সেলাম দিয়া যাইগা। আপনে বাড়িত নাই অহনে!!!
লেখক বলেছেন: আপনাকে ধন্যবাদ। বাড়ীতে না থাকলেও আপনার মেসেজ এই তো পেলাম।
আমার ব্লগের ভার্চুয়াল গোয়েন্দারা দলিলসহ রিপোর্ট দিলো আপনি চুপিচুপি লাস্ট পোস্টে প্লাস ক্লিক করে এসেছেন। তাই ধন্যবাদ জানাতে এলাম
লেখক বলেছেন: আপনাকেও আমার বাড়ীতে আসার ধন্যবাদ।
আহমেদ মুসা বলেছেন:
নেপথ্যের কাহিনি আমরা কেউই জানি না৷ এদেশে ইসলামি জাতিয়তাবাদকে নিশ্চিহ্ন করার চক্রান্ত অনেক পুরোনো৷ ইনশাল্লাহ এসব কোন সমস্যা হবে না৷ আপনি নিয়মিত লিখছেন না কেন?
লেখক বলেছেন: এই তো লিখছি। ইসলামী জাতীয়তাবাদী শক্তিকে আগামী কয়েক বছর যাতে দেখা না যায় তার চক্রান্ত আবারো চলছে।
শীমুলতা বলেছেন:
পিলাস দিলাম আফামনি, ভালা আছুইন?
লেখক বলেছেন: শীমুলতা, পোস্ট পড়ার জন্য ধন্যবাদ। আপনাদের দোয়ায় আল্লাহ ভাল রেখেছেন।
আপনিও ভাল থাকুন। আল্লাহর কাছে এই দোয়া করি।
চতুরভূজ বলেছেন:
নতুন পোষ্ট কই ????
লেখক বলেছেন: একটু দেরী হতে পারে। ব্যস্ততা।
উম্মু আবদুল্লাহ বলেছেন:
বি এন পির ঐক্য প্রক্রিয়াকে স্বাগত জানাই।


















