"সুখ দুঃখ হাসি কান্না নিয়ে আমাদের এইসব দিনরাত্রি"
ছোট যখন ছিলাম তখন "এইসব দিনরাত্রি" নামে ধারাবাহিক একটি নাটক নিয়মিত দেখতাম। সে নাটকের শুরুতে এই কথা গুলো সব সময় থাকত। নাটকটি যে সাধারন জীবনের কিছু চিত্রমাত্র তাই দর্শকদের মনে করিয়ে দেয়া হত এই বাক্যটি দিয়ে।
জীবনের সুখ দুঃখের টুকরো ঘটনা নিয়ে নাটক অভিনীত হয় কিন্তু নাটক যখন প্রদর্শিত হয় তখন তার উদ্দেশ্য দর্শকদের আনন্দ দান কিংবা সাময়িক দুঃখবোধে দর্শকদের মনকে অভিভূত করা। নাটকের বিষয়বস্তু জীবন থেকে নেয়া হতে পারে কিন্তু উদ্দেশ্য তো দর্শকদের ক্ষনিকের জন্য অভিভূত করে রাখা। নাটকের অভিনেতাদের দুঃখ তাই খুব সহজে আমাদের স্পর্শ করে। অথচ বাস্তব জীবনের ক্ষেত্রে সেই একই ঘটনা কিন্তু সেরকম ভাবে আমাদের স্পর্শ করে না। কি অদ্ভূত কান্ড!! একই ঘটনা প্রবাহ। অথচ বাস্তব জীবনে আমাদের প্রতিক্রিয়া আলাদা।
একবার আমার এক পোস্টে আমি দাবী করেছিলাম, "দুঃখকে আমি আমার গায়ে লাগতে দেই না।" আজ মনে হচ্ছে দাবীটি কিছুটা অতিরন্জ্ঞিত। আমিও দুঃখ বোধে কাতর হই। খুব বেশী হয়ত হই না, কিন্তু একেবারে যে হই না তা নয়। মাঝে মাঝে এমন কিছু ক্ষন আসে যা জীবনের সব সৌন্দর্যকে ম্লান করে দেয়। শুধু তিক্ত বিষময় হয়ে উঠে সবকিছু।
আজ আমার সেরকম একটি ক্ষন। দুঃখ গুলো যেন বসে গেছে বুকের ভেতর। হতাশা গ্রাস করেছে মনকে। লুকোতে চাই সবার কাছ থেকে। কিন্তু ব্যর্থ। এমন কি কিশোর পুত্রে চোখেও ধরা পড়ে গেছি।
"আম্মু, আর ইউ আনহ্যাপি?"
"না বাবা। শরীরটা ক্লান্ত লাগছে।" অবলীলায় মিথ্যা বলে দেই।
কিন্তু নিজের কাছে তো মিথ্যা বলা যায় না।
সময়। শুধু সর্বগ্রাসী সময়ই পারে আমার এই হতাশা আর দুঃখকে ম্লান করে দিতে।
করুনাময়, তোমার করুনাধারায় আমাকে সিক্ত কর। আমি যাতে দুঃখকে জয় করতে পারি। তোমার উপর অপার বিশ্বাসে যে কোন হতাশাকে দূরে ঠেলে দিতে পারি।
(লেখাটই প্রবাল গ্রুপের জন্য। তবে মূল পাতায়ও দিচ্ছি। প্রবাল গ্রুপের সবাইকে আলোচনায় আহ্বান জানাই।)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


