আমার প্রিয় পোস্ট

আস সালাম - আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক

চোরাবালি

০৯ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ১২:০৩

শেয়ারঃ
0 0 0

বিরক্ত হয়ে সামনের লজিক এনালাইজারটার দিকে চেয়ে আছে লিলি। সেই কখন বিকাল থেকে নব টেপাটেপি করছে কিন্তু কাজের কাজ কিচ্ছু হচ্ছে না। এদিকে ল্যাব কো-অর্ডিনেটরের সামনে কাল সকালে পুরো এক্সপেরিমেন্ট প্রেজেন্ট করতে হবে মনে করতেই রীতিমত আতংক যেন গ্রাস করে লিলিকে। হতাশ হয়ে দেয়ালে ঝোলানো ঘন্টাওয়ালা ঘড়িটার দিকে একবার চেয়ে দেখল। রাত প্রায় বারটা। দীর্ঘ এক নিঃশ্বাস বেরিয়ে এল বুক চিরে। আস্তে আস্তে বিশ্বাস হতে শুরু করল, বিরক্তিকর মিশরীয় ল্যাব কোঅর্ডিনেটর সবার সামনে তাকে একচোট দেখে নেবার সুযোগ মোটেই হাতছাড়া করবে না।

লিলি চলতি সেমিস্টারে বোম্বে থেকে এই ইউনিতে এসেছে মাস্টার্স করতে। ফ্রেশম্যান ডিজিটাল ল্যাবের টিএ করছে। বলা চলে সবচেয়ে সহজ কোর্সের একটি । তবে প্রথম বার বলে অনেক জায়গায় সে আটকে যাচ্ছে। এছাড়া নিজের কোর্সের চাপ তো রয়েছেই। এদিকে ল্যাব কোঅর্ডিনেটর এক কিম্ভূতকিমার্কার মিশরীয় ছাত্র, যে গত দশ বছর ধরে কিনা ধাক্কিয়ে ধাক্কিয়ে পিএইচডি করছে। তার চন্ডাল মার্কা মেজাজের সামনে সমস্ত টিএরা অসহায়। এত বছর ধরে কারো পিএইচ ডি করতে পারার কথা নয় - সে কাকে কাকে ধরে যেন প্রতি বছর এক্সটেন্ড করছে। এক অদ্ভূত চিড়িয়া!!

কি মনে করে পাশে বসা জনের দিকে ফিরল লিলি। জন সিনিয়র লেভেল ল্যাব টিএ। নিজের ল্যাবের কাজ নিয়ে মগ্ন।

"জন, তুমি কি কখনও ফ্রেশম্যান টিএ ছিলে?"

"দুই বছর আগে ছিলাম। ওটা দিয়েই তো সবাই টিএ জীবন শুরু করে।"

"আমি তো আটকে গেছি। তোমার কি কিছু মনে আছে?"

"কই দেখি কি সমস্যা।" - এগিয়ে এল জন। লজিক এনালাইজার আর ল্যাব বুকের দিকে তার পুরো মনোযোগ।

খুব বেশীক্ষন লাগল না প্রত্যাশিত রেজাল্ট পেতে। হাফ ছেড়ে বাচল লিলি। এভাবে অপ্রত্যাশিত সাহায্যের দ্বারা যে সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে তা ভাবনাতে মোটেও আসেনি।

"কি যে উপকার করলে জন।"

মুচকি হাসল জন "এখন কি বাসায় যাবে?"

"হ্যা" জবাব দিল লিলি।

"চল, নামিয়ে দেই। ডরমেই তো থাকছ।"

"হ্যা। বাসা এখনও পাই নি।"

"এদিকে একটা বাসা খালি হয়েছে। চলে আসতে পারো। ডরমের চেয়ে অনেক সস্তা হবে। গ্রোসারীও বেশ কাছে।" গাড়ী চালাতে চালাতে জন বলে।

"তাই নাকি? কোথায়? আমি তো ড্রাইভ করি না। দূরে যেতে পারব না।"

"না দূরে নয়। ক্যাম্পাসের কাছেই। টমকে চেন? ওর আগের রুমমেট চলে গিয়েছে গ্রাজুয়েট করে। নূতন রুমমেট খুজছে।"

"ওহ, আমার জন্য একজন গার্ল রুমমেট লাগবে।" আগ্রহ মিইয়ে গেল লিলির।

"কেন?" বিষ্ময়ে জানতে চায় জন।

"ওটাই আমাদের কালচার।"

"কই, তোমাদের আশরাফ তো কয়েকজন চাইনিজ মেয়ের সাথে বাসা নিল।"

"আশরাফের কথা আলাদা। আমি আসলে চাইছি মেয়েদের সাথে বাসা নিতে।" লিলির গলার ফুটে ওঠা ঝাঝ জন বুঝে চুপ মেরে যায়।

অনেক ক্ষন চলে শুনশান নীরবতা। অবশেষে জন নীরবতা ভেংগে বলে, "এই তো মনে হয় তোমার বাসার গলি।"

"ওহ, চলে এসেছি আমরা। চল, আমার বাসা দেখবে।"

"ধূর। এখন বরং নিজের বাসায় গিয়ে ঘুম দেব। কাল সকালেই তো ফাউল মিশরীটার চেহারা দেখতে হবে।"

"একটা কথা জিজ্ঞেস করলে কিছু মনে করবে?" লিলি জিজ্ঞেস করে।

"নাহ, মনে করাকরি আমার মধ্যে একদম নেই। কি বলবে বল।"

"তোমার হাতে রিং দেখছি। ব্যপার খানা কি।"

"ও এটা। আমার একজন পার্টনার রয়েছে।" জনের জবাব।

"পার্টনার! বিয়ে করছ না কেন?"

"লিগাল হলেই বিয়ে করব। মনে হয় শীঘ্রই লিগাল হবে।"

ধ্বক করে বুকের মধ্যে একটা ধাক্কা খেল লিলি। লিগাল হবার কথা কি বলছে জন এসব। ভাল করে জনের চেহারার দিকে তাকিয়ে দেখল লিলি। জনের চেহারার অস্বাভাবিকতা তার লব্ধিকে গ্রাস করল। সেই ফ্যাকাশে মুখ, যেন কবর থেকে উঠে আসা। যা বিভিন্ন সময় ছবিতে বিশেষ কিছু মানুষের মুখের সাথে মিলে যায়। মুহুর্তে মনে পড়ল লিলির "পার্টনার" শব্দটি একটি বিশেষ সম্পর্কের ক্ষেত্রে বহুল ব্যবহৃত।

সমকামী! জন একজন গে!! হতভম্ব হয়ে ভাবতে লাগল লিলি। এত ভদ্র আর পরোপকারী জন পর্যন্ত।

হঠাৎ মনে পড়ল লিলির গত সপ্তাহে তার নিজের দেশ ভারতের কথা। নিউজ পেপারের শিরোনাম জুড়ে ছিল, "উচ্চ আদালত কর্তৃক সমকামী বিয়ে বৈধ হবার ঘোষনা।" ব্যংগের হাসি চলে এল লিলির মনে, আসল বিয়ের প্রতি মানুষের অনীহা চলে এসেছে। তাই বুঝি ভিন্ন রকম বিয়ের স্বাদ নিতে চাইছে মানুষ।

জন চলে গিয়েছে অনেকক্ষন হল। লিলির ঘোর যেন আর কাটে না। ছোট বেলায় ভাই বোনদের সাথে কাটানো শৈশব, মায়ের হাতের ফিরনী সব কিছুই মাথায় ঘুরতে লাগল। আগামী পৃথিবীর শিশুরা কি মায়ের আদর, বাবার স্নেহ হারাবে? সে জীবন কি পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়ে ফসিল হতে বসেছে!!

এ কোন চোরাবালিতে ডুবছি আমরা।




 

সর্বশেষ এডিট : ২১ শে আগস্ট, ২০০৯ রাত ৮:১৫ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ০৯ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ১২:১১
ছন্নছাড়ার পেন্সিল বলেছেন: রেসিস্ট পোস্ট। সমকামীরাও বিষমকামীদের মতই সাধারণ মানুষ। তাদেরকে শুধুমাত্র তাদের সেক্সুয়াল প্রেফারেন্স দিয়ে বিচার করাটা চরম রেসিস্ট আচরণ।
০৯ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ১২:১৪

লেখক বলেছেন: এটা একটা গল্প মাত্র। একজনের অনুভূতি নিয়ে। যে মেয়েটি আপনার কিংবা আপনার মত আর দশজনের যুক্তিতে প্রভাবিত নয়, তার অনুভূতির গল্প।

২. ০৯ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ১২:৪৩
ছন্নছাড়ার পেন্সিল বলেছেন: কিন্তু গল্পটি শুধুমাত্র গল্পেই শেষ নয়। এটা একটা মানুষের চিন্তাকে প্রকাশ করছে। সেটা এমন অনুভূতিকে সামনে আনছে যেটা একসময়ে কালোদের ব্যাপারে আমেরিকার সাদারা দেখাইতো, শিউরে উঠতো। বা ভারতবর্ষে নিম্নজাত-পাতদের দেখানো হইতো। সেটাকে উপস্থাপন করাটাকে আপনি কিভাবে জাস্টিফাই করতেছেন?

কারণ লেখক হিসেবে আপনার দায়বদ্ধতা "অনুভূতি প্রকাশ"-পর্যন্ত এসে শেষ হয় না।
০৯ ই আগস্ট, ২০০৯ ভোর ৫:১৪

লেখক বলেছেন: গল্পটি দুই পক্ষের মানসিকতাকেই প্রকাশ করছে। এক পক্ষ একটি বিষয়কে স্বাভাবিক ভাবছে, অন্য পক্ষ সেই একই বিষয়কে অস্বাভাবিক ভাবছে।

অন্য পক্ষের মানসিকতা উপস্থাপনে আমি তো দোষনীয় কিছু দেখছি না।

০৯ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ৩:০৬

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

৪. ০৯ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ১২:৫৩
ধূসর মানচিত্র বলেছেন: পৃথিবীতে কেউ অস্বাভাবিক চরিত্রের অধিকারি হয়ে আসে না। সমাজ তথাকথিত সভ্যতা তাকে বাধ্য করে সমাজের চোখেযা অস্বাভাবিক সেটা অনুসরণ করতে। যদি গালি দিতে হয় সমাজকে দিতে হবে, সমাজের মোড়লদের দিতে হবে।
আর যাদেরকে অস্বাভাবিক বলা হয় তারা আসলে একধরনের ভুক্তভোগি।
৫. ০৯ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ১:০০
শাহেনশাহ বলেছেন: একটু বিস্তারিত বলি আবদুল্লাহ আপনাকে :)

আপনার লেখার সাবলীলতা রয়েছে। বেশ আগ্রহ নিয়েই পড়ছিলাম। শেষে এসে ধাক্কা খেলাম। পাঠক হিসাবে এটা আমার জন্য চরম ধাক্কাই বটে।

আমি ব্যক্তিজীবনে স্ট্রেইট। তাই বলে কী আমি সমকামীদের ঘৃণার চোখে দেখব? তবে তো আমাকে হিজড়াদেরকেও ঘৃণার চোখে দেখতে হয়!

জন্মসূত্রে আমি স্ট্রেইট এবং স্বাভাবিক। এটা আমাকে হোমোসেক্সুয়াল এবং হিজড়াদের প্রতি ঘৃণা করার কোন সুযোগ দেয়নি। আপনার শেষ কয়েক প্যারা অন্যরকম হওয়া উচিৎ ছিল বলে ছন্নছাড়ার পেন্সিলের মত আমিও মনে কী। একজন মানুষ শুধুমাত্র 'সেক্সুয়াল প্রেফারেন্স' দ্বারা বিচার্য হতে পারেন না, এটা আমি বিশ্বাস করি।

আশা করি আমার এ মন্তব্যে আপনি আঘাতপ্রাপ্ত হবেন না।
০৯ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ১:৫৫

লেখক বলেছেন: দেখুন, এই গল্পের মূল চরিত্র লিলি কিন্তু কারো প্রতি ঘৃনা প্রকাশ করেনি।

সে বিয়ের যে কনসেপ্টে বিশ্বাস করে তা পৃথিবী থেকে উঠে যাচ্ছে বলে আপসেট। এটা তার দৃষ্টিভংগি, যে দৃষ্টিভংগি এখনকার পৃথিবীতে লিলির মত হয়ত অনেকেই বিশ্বাস করে।

৬. ০৯ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ১:১৭
উম্মু আবদুল্লাহ বলেছেন:

আপনাদের মতামতকে স্বাগতম। আমি সময় পেলে আপনাদের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে আমার মন্তব্য দেবার চেষ্টা করব।

সবাইকে ধন্যবাদ।
৭. ০৯ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ১:৪৪
রাজর্ষী বলেছেন: আমরা জানিনা আসলেই কোনটা ভুল আর ঠিক তবে এটা জানি ঘৃনা বা অবহেলা কোন ভালো জবাব নয়।
০৯ ই আগস্ট, ২০০৯ সকাল ১০:৩০

লেখক বলেছেন: মানুষকে ঘৃনা করে কোন ভাল কিছু হয় না।

৮. ০৯ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ২:৩৪
আমি বাংলার গান গাই বলেছেন: কোন মানুষকে ঘৃণা করা উচিত নয়। তবে কোন মানুষ যদি কোন বিকৃত কাজে অভ্যস্ত থাকে তবে সেই বিকৃত কাজকে অবশ্যই আমাদের ঘৃণা করা উচিত হবে। একে "নিগ্রোদের ঘৃণা করা"র সাথে তুলনা করাটা অন্যায়। কেননা সমকামীতা একটি বড় ধরণের বিকৃতি। তবে হ্যা কোন সমকামী যদি নিজেকে বিকৃতি থেকে বাচাতে চায় তাহলে তাকে প্রফেশনাল হেল্প নেবার পরামর্শ দেয়া যেতে পারে। সমাজ তাকে বিকৃতি থেকে বের হয়ে আসার ক্ষেত্রে সহায়তা দিতে পারে।

দুনিয়াতে কিছু লোক বিকৃত মানসিকতার অধিকারী হতে পারে। তাই বলে একটি বিকৃতিকে "স্বাভাবিক" বলে জাস্টিফাই করার প্রচেষ্টা আরেকটি বিকৃতি ছাড়া আর কিছুই নয়।
০৯ ই আগস্ট, ২০০৯ ভোর ৫:১৫

লেখক বলেছেন: আপনার মতামতের জন্য ধন্যবাদ।

৯. ০৯ ই আগস্ট, ২০০৯ ভোর ৫:৫২
সাঈফ শেরিফ বলেছেন: মাইয়া মাইনষের ভুংভাং বর্ণচোরা আচার, আল্লাদ আর যন্ত্রণাকর হেয়ালীপনার কারুণে পুলারা দিন দিন গে হইয়া যাইতাছে।মাইয়ারা একন আর ভাব মাইরা পুলা গোর আকর্ষণ কর্বার পারতাছেনা, সেই দুঃখে পুলারা গে হৈতাছে। ব্যর্থতা মাইয়াগোর।এগুলান দেইখা মাইয়ারা যদি এট্টু সিধা হয়, খাম খেয়ালি কমায়, কসম,পুলা গুলা আর পুলা খুজবোনা।
০৯ ই আগস্ট, ২০০৯ সকাল ৭:৩৩

লেখক বলেছেন: ভাল বলেছেন!!!!!!!!!!

১০. ০৯ ই আগস্ট, ২০০৯ সকাল ৮:০৮
পারভেজ বলেছেন: ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি, সকল প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের তার নিজের চাহিদা অনুযায়ী সঙ্গী নির্বাচনের স্বাধীনতা রয়েছে। এবং এই চাহিদার পার্থক্যের জন্য আমি তার প্রতি সমাজের বা রাষ্ট্রের বৈষম্য দেখানো সমর্থন করিনা।
কিন্তু আমি অবশ্যই কোন শিশুকে সমকামী পরিবারে বড় হতে দেখতে চাই না। সেটা আমার চোখে অবশ্যই অপরাধ। কারণ, শিশুর জন্ম কোন সমকামী জুটি স্বাভাবিক ভাবে দিতে পারেনা। তারা পিতা বা মাতা হবার মতো যোগ্যতা হারিয়ে ফেলেছে। শুধু মাত্র শারিরীক মিলনে শিশুর জন্ম হয় না; ভালোবাসাতেই জন্ম হয়।
ধন্যবাদ আপনাকে।
০৯ ই আগস্ট, ২০০৯ সকাল ৮:৩২

লেখক বলেছেন: আমরা যারা এ সম্পর্ককে অস্বাভাবিক ভাবি, তাদের এই ভাবনার পেছনে অনেক বেশী যুক্তি রয়েছে।

১১. ০৯ ই আগস্ট, ২০০৯ সকাল ৯:৩০
সাঈফ শেরিফ বলেছেন: ব্যক্তি স্বাধীনতাকে শ্রদ্ধা করার জন্য সমকামী সঙ্গী নির্বাচন যদি সমর্থিত কিছু হয়, তাহলে পুরুষের দুই বা দুইয়ের বেশি চারটি সঙ্গিনী বিয়ে করার বিষয়টিও অত্যন্ত সহজ, স্বাভাবিক ও শ্রদ্ধার সাথে দেখা উচিত। কিন্তু ধর্মকে ঠেঙ্গানোর জন্য বাড়তি যৌনতাকামীরাই এর বিরুদ্ধাচারণ করবেন, মানবাধিকার লঙ্ঘনের কথা বলে।
১২. ০৯ ই আগস্ট, ২০০৯ সকাল ১০:৩২
ছন্নছাড়ার পেন্সিল বলেছেন: লেখক বলেছেন: গল্পটি দুই পক্ষের মানসিকতাকেই প্রকাশ করছে। এক পক্ষ একটি বিষয়কে স্বাভাবিক ভাবছে, অন্য পক্ষ সেই একই বিষয়কে অস্বাভাবিক ভাবছে।

জ্বি না, আপনি গল্পটি সমকামীর দৃষ্টি থেকে দেখেন নাই। তাকে এই গল্পে একজন এলিয়েন, বিকৃত, শিউরে ওঠা মানুষ হিসেবেই রিপ্রেজেন্ট করা হয়েছে। সেখানেই ভালো না-লাগার জন্ম।
============
@ পারভেজ ভাই, শিশুর জন্ম দেয়ার ব্যাপারটি জৈবিক হওয়া সত্ত্বেও প্রচুট শিশু ডিভোর্সড পরিবারের ফসল, প্রচুর শিশু ভালোবাসাহীন পরিবারে বাবা-মায়ের ঝগড়াঝাটি, মারামারির মধ্যে বড়ো হয় (এই বাংলাদেশেই)। সেখানে একটি সমকামি যুগল যদি অনাথ/দত্তক শিশুকে ভালোবাসা ও সামাজিক প্রতিষ্ঠা দিতে এগিয়ে আসেন, সেটাকে আপনি কি খারাপ বলতে পারেন?

শুধুমাত্র শারীরিক মিলনই একটা শিশুর জন্ম দেয়, তাকে বড়ো করে তুলতে ভালোবাসা ও সংবেদনশীলতা প্রয়োজন। যেটা অনেক বিষমকামী মাতাপিতার চেয়ে অভিভাবক হতে ইচ্ছুক সন্তানহীন ও সমকামী যুগলের মধ্যেই বেশি।

বিষয়টাকে এভাবে দেখেন, একটা পুরুষের কাছে পড়াশোনা শেষ করে চাকরি করাটা কত সহজ বিষয়, কিন্তু একজন নারীকে সেটা করতে পরিবার/সমাজের বাধা ঠেলেই করতে হয়। চাকরিক্ষেত্রে তার একাগ্রতা পুরুষের চেয়ে অনেক বেশি হবে।

আর যদি নৈতিকতার চর্চা বলেন, শিক্ষকের ছেলেও তো মাদকাসক্ত হয়। আবার অপরাধীর ছেলেও হাই-প্রোফাইল নাগরিক হয়। এটা তো প্রমাণিত যে সমকামী পরিবারে বড়ো হলেই কেউ সমকামী হয়ে যাবে না (ভাইস ভার্সা)।
০৯ ই আগস্ট, ২০০৯ সকাল ১০:৩৮

লেখক বলেছেন: "জ্বি না, আপনি গল্পটি সমকামীর দৃষ্টি থেকে দেখেন নাই।"

আপনি নিজের বিশ্বাস থেকে এটা বলছেন। কিন্তু আমার বিশ্বাস আলাদা। আমি জনকে একজন নৈতিকতা বিশিষ্ট মানুষ হিসেবে উপস্থাপন করেছি। সমকামীর প্রতি কোন রকম বিদ্বেষ এই গল্পে নেই। হ্যা, সমকামিতাকে লিলি সমালোচনা করেছে তার আজন্ম লালিত বিশ্বাস থেকে। একটি শিশুর স্বাভাবিক অধিকারের প্রতি সম্মান বোধই তার উৎস।

১৩. ০৯ ই আগস্ট, ২০০৯ সকাল ১০:৩৬
পারভেজ বলেছেন: আপনার জবাবের রেশ ধরেই বলছি; নারী ও পুরুষের শারিরীক গঠনই বলে দেয় একে অপরের পরিপূরক কিনা! এটা নিয়ে বিতর্কের কোন অবকাশই নেই। প্রকৃতির স্বাভাবিকতা এটাই। প্রশ্ন হলো মানুষ তার নিজ ভালোলাগা বা রিপু যেটাই বলেন না কেন সেটার জন্য প্রকৃতির নিয়মের ব্যত্যয় ঘটাতে পারে কিনা? আমি মনে করি। সৃষ্টি কর্তা মানুষের ইচ্ছাকে তার নিজ নিয়ন্ত্রনাধিন করেছেন, জবাবদিহি কেবল তার কাছেই করতে হবে; তাই ব্যক্তি বা রাষ্ট্র হিসাবে আমি তাদের এই স্বাধীনতাটুকু দিতে দায়বদ্ধ। কিন্তু সেটা কেবল প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য, যারা এই উপলব্ধিটুকু করতে পারবেন যে, প্রকৃতি এভাবে গড়ে উঠেনি। কিন্তু শিশুদেরকে আমরা প্রকৃতির সরল নিয়ম শেখাতে দায়বদ্ধ, তার জন্ম যে দুজন মানুষের কারণে হয়েছে, তাদের উপর দায় বর্তায় তাকে পৃথিবী চেনানোর।
১৪. ০৯ ই আগস্ট, ২০০৯ সকাল ১০:৪৪
পারভেজ বলেছেন: @ছন্নছাড়ার পেন্সিল :)
জানতাম তোমাকে আলোচনায় পাবো।
শিশুর জন্মদান কেবল জৈবিক নয়! আমরা এটাকে জৈবিক বানিয়েছি!
একটা ব্যর্থতা ঠেকাতে কি আরেকটি ব্যর্থতা জন্ম নিতে পারে?
অবশ্যই সমকামী মানুষরা আর দশটা মানুষের মতোই সব গুণাবলির অধিকারী, কোন সন্দেহ নেই। কেবল মাত্র তার শারীরবৃত্তিয় ও মানসিক নৈকট্যের নির্ভরতা ছাড়া টার সাথে আর দশটা মানুষের কোন পার্থক্য নেই। সে সৎ, অসৎ, লোভী, দয়ালু, নিষ্ঠুর, মহান- সব হতে পারে।
তাই তারা কিন্তু বিকল্প কোন সামাজিক প্রতিষ্ঠান নয়; সমাজেরই অংশ।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, তারা কি কোন শিশুর লালন পালনের ভার নিতে পারেনা? অবশ্যই পারে। কিন্তু ঐ শিশুটিকে পৃথিবীতে যারা এনেছে তারা কেন পারলো না? আর যদি নাই পারে, তারা তাকে আনার আগেই কি আমাদের সেই পথ রুদ্ধ করা উচিত ছিলনা?
শিশু জন্ম হয় মায়ের উদর থেকে, পিতার শুক্রানু থেকে- এই সত্য কি তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়? নাকি এটা বেশী গুরুত্বের যে- তোমাকে যারা এনেছে তারা পারেনা, তাই তুমি আমডের কাছে আছো! কোনটা আমরা চাই?( বাকিটা পরে লিখছি)
১৫. ০৯ ই আগস্ট, ২০০৯ সকাল ১০:৪৭
ছন্নছাড়ার পেন্সিল বলেছেন: আমি তো আপনাকে চিনি না যে বিশ্বাস অবিশ্বাসের প্রশ্ন আসবে। আপনি আপনার গল্পের দুয়েকটি লাইন বা প্যারা নির্দেশ করতে পারেন সমকামিতার দৃস্টিভঙ্গি যেখানে ফুটেছে?

শিশুর স্বাভাবিক অধিকার বিষমকামিরা কতটা দেয়?

আর শিশুর অধিকারের প্রতি সম্মানবোধ থাকলেই তার এমন কি অধিকার আছে একজন সমকামীর অনুভব বা অধিকার নিয়ে কটাক্ষ করার?
০৯ ই আগস্ট, ২০০৯ সকাল ১১:০৩

লেখক বলেছেন: লেখক বলেছেন: "আপনি আপনার গল্পের দুয়েকটি লাইন বা প্যারা নির্দেশ করতে পারেন সমকামিতার দৃস্টিভঙ্গি যেখানে ফুটেছে?"

নাহ। তবে সমকামীর প্রতি রয়েছে। যেখানে মূল নায়ক একজন অতি ভদ্র নৈতিকতা সম্পন্ন ব্যক্তি।


"আর শিশুর স্বাভাবিক অধিকার বিষমকামিরা কতটা দেয়? "

শিশুর স্বাভাবিক অধিকার একজন না দিলে অন্যজনেরও যে দিতে হবে না, এটা ঠিক মানতে পারলাম না।

"আর শিশুর অধিকারের প্রতি সম্মানবোধ থাকলেই তার এমন কি অধিকার আছে একজন সমকামীর অনুভব বা অধিকার নিয়ে কটাক্ষ করার?"

এই গল্পে লিলি তার অনুভূতি ব্যক্ত করেছে। অনুভূতি মানুষের নিজস্ব। সমকামীদের যেমন নিজেকে ডিফেন্ড করে কথা বলার অধিকার রয়েছে, তেমনি লিলিরও তার অনুভূতিকে প্রকাশ করার অধিকার রয়েছে।


১৬. ০৯ ই আগস্ট, ২০০৯ সকাল ১০:৫৫
মুনিয়া বলেছেন: আপু, গল্পটা অনেক সুন্দর। পারভেজ ভাইয়ের লজিক ও ঠিক আছে। কিন্তু একটা ব্যাপার। গে কিংবা লেসবিয়ান যারা হয়, এমনি এমনি হয় না। অনেক সিচুয়েশান মানুষকে ঐদিকে ঠেলে দেয়। বিপরীতের কাছ থেকে সহানুভূতি আর ভালবাসার বদলে যখন নির্যাতন কিংবা প্রতারণা আসে তখন মানুষ এই পথে স্বস্তি পেতে চাইতে পারে। অস্বাভাবিক যৌন জীবন কোন অস্বাভাবিক ব্যাপার না। চারপাশে অনেক আছে। সমকামীদের স্বীকৃতি দেয়াতে বিষয়টা হয়তো চোখের সামনে আসছে।

ব্লগ বলে অনেক কিছুই বলতে পারলাম না। আপনি হয়তো বাইরে থেকে তাদের দেখছেন। তাদের কাছে গিয়ে তাদের ফিলিংসটা দেখলে হয়তো তাদের সহমর্মী হতেন।
০৯ ই আগস্ট, ২০০৯ সকাল ১১:০২

লেখক বলেছেন: আমি তাদের প্রতি সহমর্মী নই, এটা কে বলল। সহমর্মী না হলে আমি কি মূল নায়ককে পজিটিভ ভাবে উপস্থাপন করতাম? আমি প্রতিটি মানুষের প্রতিই সহানুভূতিশীল।

এই যে তুমি বললে "অস্বাভাবিক যৌন জীবন" - এটা অনেকে মানতে নারাজ। এই বিষয়ে তুমি বলবে?

১৭. ০৯ ই আগস্ট, ২০০৯ সকাল ১০:৫৫
ছন্নছাড়ার পেন্সিল বলেছেন: পারভেজ ভাই, আলোচনা চলতে পারে। তবে কতটুকু সিদ্ধান্তে আসা যাবে সেটা নিয়ে সংশয়ে আছি। :)

একটা ব্যর্থতা যদি বিষমকামীদের হয়ে থাকে, তার দায়ভার কেন সমকামীদের ঘাড়ে চাপবে? একটি শিশুকে পৃথিবীতে আনা পিতামাতারা যথেষ্ট অবিবেচক বিধায় কি সেই শিশুর অধিকার নাই আরেকটি সুস্থ, স্বাভাবিক (এইটা খুব সমস্যাজনক শব্দ, স্বাভাবিকের সংজ্ঞা কি? এককালে তো সতীদাহও স্বাভাবিক ছিল। রামমোহন চোখে আঙ্গুল দিয়ে না দেখাইলে এইটার নারকীয়তা কেউ বুঝতো না!) অভিভাবকের কাছে বড়ো হওয়ার?
কোন শিশুর পিতামাতা মারা গেলে সেটা দুঃখজনক। তাকে গ্রহণ করার কেউ না থাকলে কোন সন্তানহীন বিষমকামী যুগল এগিয়ে আসতে পারেন। সেটা কিন্তু সমপরিমাণ ব্যর্থ হওয়ার সম্ভাবনা ধারণ করে। আপনি হলফ করে বলতে পারবেন না একটি বিষমকামি যুগল শুধুমাত্র বিষমকামি বলেই সমকামি যুগলের চেয়ে ভালো অভিভাবক হবে।

আমার বক্তব্য একটাইঃ শুধুমাত্র সমকামি বলে এই যে ডিসক্রিমিনেশান এটা খুবই মানবতাহীন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী সিদ্ধান্ত। মানুষ হিসেবে আর সবার মত সম্মান ও অধিকার একজন সমকামিও ডিজার্ভ করেন।
০৯ ই আগস্ট, ২০০৯ দুপুর ১২:১১

লেখক বলেছেন: "শুধুমাত্র সমকামি বলে এই যে ডিসক্রিমিনেশান এটা খুবই মানবতাহীন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী সিদ্ধান্ত। মানুষ হিসেবে আর সবার মত সম্মান ও অধিকার একজন সমকামিও ডিজার্ভ করেন। "

একমত, যেখানে যৌন স্বাধীনতা স্বীকৃতি পেয়েছে।

তবে সমকামিতার বিরুদ্ধে জনমত তৈরী করা কি নেতিবাচক কোন বিষয়? সমকামিতার বিরুদ্ধে যারা বলে তাদের কি কোন যুক্তি নেই।

আর মুক্ত বিশ্বে যারা বিরোধিতা করছেন, তারা কিন্তু বিয়ের বিষয়টি নিয়েই বিরোধিতা করেন। এমনিতে ডিসক্রিমিনেশনের বিরুদ্ধে তারাও।

১৮. ০৯ ই আগস্ট, ২০০৯ সকাল ১১:০৪
পারভেজ বলেছেন: @ছন্নছাড়ার পেন্সিল
"শুধুমাত্র শারীরিক মিলনই একটা শিশুর জন্ম দেয়, তাকে বড়ো করে তুলতে ভালোবাসা ও সংবেদনশীলতা প্রয়োজন। যেটা অনেক বিষমকামী মাতাপিতার চেয়ে অভিভাবক হতে ইচ্ছুক সন্তানহীন ও সমকামী যুগলের মধ্যেই বেশি।"
এখানটায় আমার আপত্তি :)
শিশুর জন্ম দেয়ার চাইতে পরিকল্পনাটা কি বেশী জরুরী নয়? আমি সাধারণ মানুষের ট্রেন্ড এর কথা বলছি না। আমি বলছি সেই স্বপ্নের কথা যা, দুজন মানুষ তাদের নৈকট্যে আসার পর দেখে।
পৃথিবীর সবচেয়ে কাছের সম্পর্কটা হলো স্বামী ও স্ত্রী, যাদের ভেতর রক্তের বন্ধন নেই! সন্তানই তাদের সেই সম্পর্কে স্বপ্ন হয়ে দাড়ায়।
একটা স্টাডিতে দেখেছিলাম, বিয়ের কিছু বছর পর থেকে স্বামী স্ত্রীর চেহারায় একে অপরের ছাঁপ খুঁজে পাওয়া যায়, এর কারনও বিশ্লেষণ করেছেন কেউ কেউ। সন্তান হলো সেই প্রজন্ম যার ভেতরে দুজন মানুষের স্বপ্ন লালিত হবে। হয়তো স্বার্থপরতা আছে এতে অনেক, নিজ রক্ত, নিজ বীজ, আমার জীন, একটা আমিত্ব তো আছেই। কিন্তু এটাই কি সহজাত নয়? যে পারছে না, যারা পারছে না; শিক্ষকের সন্তানের বখে যাওয়া কি স্বাভাবিক ঘটনার মধ্যে পড়বে?
পুরুষের দাপটে নারীরা চাকরীতে অসহায়ত্বের স্বীকার হচ্ছে, এটা সমাজের অস্বাভাবিকতা; নারীর একাগ্রতার কারণ হলেও সেটা কাম্য নয়। আমাদের চাওয়া হওয়া উচিত, নারীরা বাঁধাহীন ভাবে একাগ্র হোক। কোন চাপে পড়ে নয়। সামাজিক চাওয়াটা- ব্যক্তিগত চাওয়ার উর্ধে থাকা উচিত। সঙ্গী বেছে নেওয়ার স্বাধীনতাটুকু ব্যক্তিগত বলেই আমি মনে করি।
১৯. ০৯ ই আগস্ট, ২০০৯ সকাল ১১:১১
ছন্নছাড়ার পেন্সিল বলেছেন: @লেখক, এই মন্তব্যটা পারভেজ ভাইয়ের উদ্দেশ্যে ছিল, গল্পের কনটেক্সট থেকে বাইরে। এজন্যেই আলাদা করে দেয়া, গল্পে তো শিশুকে নিয়ে খুব বেশি কথা নাই।

১. আপনার গল্পে সমকামি ভদ্র, তারপরেও 'লিলি' শিউরে উঠেছে। এই শিউরে ওঠা কি ঘৃণাজাত? বিস্ময়জাত? অচ্ছ্যুৎ-এর প্রতি অনুভূতিজাত?
একটা মানুষের দিকে তার নেচারের জন্য শিউরে ওঠা মনোভাব পোষণ করাটাকে কি আপনি হেয় করার অনুভূতি বলে মানেন না?

২. গল্পের বাইরে গিয়েই বলিঃ "শিশুর স্বাভাবিক অধিকার একজন না দিলে অন্যজনেরও যে দিতে হবে না, এটা ঠিক মানতে পারলাম না।"--এটা দিয়ে কী বুঝালেন?
আমি বলেছিলাম আমরা বিষমকামীরা প্রতিনিয়ত লাখ লাখ শিশুর অধিকার হরণ করছি। এই বাংলাদেশেই শিশু গৃহ-পরিচারকের সংখ্যা অগুনতি। ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স আমাদের দেশে পরিচিত টার্ম নয়, তাই সে সম্বন্ধে কোন উপাত্তই নাই!! আর বাবা-মা'র পচে নষ্ট হয়ে যাওয়া সম্পর্কের তো অভাব নাই! ব্রোকেন ফ্যামিলিও আদমশুমারি করে গুনতে হবে।

এ সবই কি একটা ফেইলড সিস্টেমের পরিচয় ধারণ করে না?
বিষমকামি ফেইল করলে সমকামিও ফেইল করিবে--এই অনুমান করা যায় কি?
০৯ ই আগস্ট, ২০০৯ সকাল ১১:১৭

লেখক বলেছেন: "আপনার গল্পে সমকামি ভদ্র, তারপরেও 'লিলি' শিউরে উঠেছে। এই শিউরে ওঠা কি ঘৃণাজাত? বিস্ময়জাত? অচ্ছ্যুৎ-এর প্রতি অনুভূতিজাত?"


লিলি "শিউরে" উঠেনি, "হতভম্ব" হয়েছে। কারন সে এটা দেখে অভ্যস্ত নয়।



"আমি বলেছিলাম আমরা বিষমকামীরা প্রতিনিয়ত লাখ লাখ শিশুর অধিকার হরণ করছি। এই বাংলাদেশেই শিশু গৃহ-পরিচারকের সংখ্যা অগুনতি। ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স আমাদের দেশে পরিচিত টার্ম নয়, তাই সে সম্বন্ধে কোন উপাত্তই নাই!! আর বাবা-মা'র পচে নষ্ট হয়ে যাওয়া সম্পর্কের তো অভাব নাই! ব্রোকেন ফ্যামিলিও আদমশুমারি করে গুনতে হবে।"

অবশ্যই। তাই বলে এসব সমর্থন যোগ্য নয়। অপকর্ম প্রচলিত হলেই সেটা জাস্টিফাইড হয়ে যায় না।

২০. ০৯ ই আগস্ট, ২০০৯ সকাল ১১:১৬
পারভেজ বলেছেন: @মুনিয়া- গে বা লেসবিয়ান এমনি এমনি হয়না এটাও আসলে বলা মুশকিল। প্রকৃতিগত ভাবেও অনেককে এরকম পছন্দে যেতে দেখা গেছে। এটা জেনেটিক কিছু থাকার সম্ভাবনা আছে, অনেকটা বামহাতী ব্যক্তিদের মতন। রিসার্চ চলছে অনেক। আমার অনেক কবুতরের ভেতর, একজোড়া কবুতর অনেক দিন ধরে বাচ্চা দিচ্ছিলোনা, পরে দেখা গেলো দুইটাই ছেলে!
@ছন্নছাড়ার পেন্সিল, দত্তক নেয়াটাই তো আমার কাছে অস্বাভাবিক মনে হয়! প্রকৃতিতে পিতামাতাহীন ঘটনা কি স্বাভাবিক? অবশ্যই একটা মেয়ে বা ছেলে সঙ্গী ছাড়াই/ বিয়ে ছাড়াই পিতা বা মায়ের দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করতে পারে। কিন্তু সেটা হলো বিকল্প, তাই না?
ক্লোনের মাধ্যমে সন্তান এককোষী ( হয় পুরুষ নয় রমণী থেকে সৃষ্ট) হয়ে জন্ম নিলে সেটা ভিন্ন। ( এটাকেও স্বাভাবিক বলা যাবেনা তখনও :|)
এর আগ পর্যন্ত আমি সন্তানের জন্য তার জন্মদাতা পিতা মাতাকেই স্বাভাবিক বলে জানি :)
তবে তোমার সাথেও আমি একমত, সমকামীরা অনেক স্ট্রেইট দম্পতির চাইতে সুখের সংসার, নীড় গড়ে তুলতে পারে। তবে সেখানে শিশু কিভাবে আসচে সেটা বিবেচ্য। ব্যাপারটা বানিজ্যিক পণ্যের মতো। আমাদের সংসারে পূর্ণতার জন্য শিশু চাই। তাই স্পার্ম ব্যাংক বা ওভারী ব্যাংক থেকে ধার নেয়া, এটা কেন যেন মেনে নিতে পারবো না :(
২১. ০৯ ই আগস্ট, ২০০৯ সকাল ১১:১৯
ছন্নছাড়ার পেন্সিল বলেছেন: পারভেজ ভাই, শিশুর পরিকল্পনার কথাগুলো খুব সুন্দর। আপনি কীভাবে ধরে নিলেন একটি সমকামি যুগল যখন দত্তক নিতে যায়, তখন তারা সেই পরিকল্পনা করে না? সকল সমকামি যুগল কিন্তু শিশু লালনপালনের মত বিরাট ঝক্কির কাজটা নিতে যাচ্ছে না, আগ্রহী শুধুমাত্র তারাই যারা বিষয়টির ভালমন্দ, ঝুঁকি, উপকার চিন্তা করেই এগিয়েছে। নিজেদের কামনা-বাসনার চেয়ে একটি শিশুর নিরাপদ ও সুন্দর ভবিষ্যৎ তাদের কাছে বেশি জরুরি।
এই দেশে যেহেতু সমকামি যুগল নেই, আমি বিদেশের কনটেক্সটেই বলিঃ প্রচুর টিনএজ প্রেগনেন্সি ঘটে। গর্ভপাতের উচ্চহার সত্ত্বেও ক্রিশ্চিয়ান বিশ্বাসমতে তা পাপ বলে অনেকেই সেপথে যায় না। বাচ্চাটির জন্মের পরে তার ১৬ বছর বয়েসী মায়ের চাইতে একটি মধ্যবয়স্ক, পরিণত, বাচ্চা দত্তকে আগ্রহী যুগল কি বেশি মনঃপুত অপশন নয়? যদি হয়ে থাকে তাহলে তো সেটাই করা উচিত।
====
২২. ০৯ ই আগস্ট, ২০০৯ সকাল ১১:২২
পারভেজ বলেছেন: @উম্মু আবদুল্লাহ-
"সমকামিতার বিরুদ্ধে জনমত তৈরী করা" - এটা হয়তো ঠিক নয়-
প্রকৃতির নিয়মের পক্ষে জনমতকে গড়ে তোলা। বলা উচিত, ব্যক্তিগত সঙ্গী পছন্দে তোমার স্বাধীনতা আছে, কিন্তু তোমার জন্ম হয়েছে একজন পিতা ও একজন মাতার দ্বারা। বাকিটা ব্যক্তির উপর ছেড়ে দেয়া উচিত।
প্রকৃতি নিজেই তার স্বাভাবিকতার ধারা রক্ষা করে ও করবে :)
০৯ ই আগস্ট, ২০০৯ সকাল ১১:২৫

লেখক বলেছেন: অন্ততপক্ষে স্বাস্থ্যগত বিষয় গুলোতো তুলে ধরতে হবে। সমকামিতাকে যদি আমরা অস্বাভাবিক বলে বিশ্বাস করি, তবে সেটা কেন করি তার ব্যাখা তো দিতে হবে।

২৩. ০৯ ই আগস্ট, ২০০৯ সকাল ১১:২৭
ছন্নছাড়ার পেন্সিল বলেছেন: @লেখক, স্বাভাবিকভাবে আমরা যেই শিশুদের নিরাপত্তা দিতে পারছি না, তাদের এটা বড়োগলায় বলা সাজে না যে কোন সমকামির শিশুপালনের অধিকার নাই। অপকর্ম আমরা করছি, অথচ একটি "স্বাভাবিক", "সুস্থ" সমকামী যুগল বাচ্চা নিতে চাইলে বাধা দিচ্ছি। এটাকেই আমি ডিসক্রমিনেশন বলে মানি।

আপনার গল্পের ব্যাপারে, অনভ্যস্ত লিলি'র আচরণে আমার আপত্তি নাই। একজন সমকামীর সাথে পরিচিত হলে আমিও তার ব্যাপারে সীমাছাড়ানো আগ্রহী হবো। তবে 'লিলি' পরের যে চিন্তাগুলো করলোঃ
"সমকামী! জন একজন গে!! হতভম্ব হয়ে ভাবতে লাগল লিলি। এত ভদ্র আর পরোপকারী জন পর্যন্ত।"
অর্থাৎ একজন পরোপকারী ব্যক্তি কী করে সমকামী হলো! সমকামিতার সাথেই একটা নেতি জুড়ে দেয়া যেন এটির চর্চা করা মানুষগুলোই আগাগোড়া খারাপ।

(পুরো বিষয়টি নিয়ে গল্পের বাইরে প্রচুর কথা বলছি। কারো সেটা অনভিপ্রেত মনে হলে দুঃখিত। আপনি বললে অফ যাব।)
০৯ ই আগস্ট, ২০০৯ দুপুর ১২:৫১

লেখক বলেছেন: "তবে 'লিলি' পরের যে চিন্তাগুলো করলোঃ
"সমকামী! জন একজন গে!! হতভম্ব হয়ে ভাবতে লাগল লিলি। এত ভদ্র আর পরোপকারী জন পর্যন্ত।"
অর্থাৎ একজন পরোপকারী ব্যক্তি কী করে সমকামী হলো! সমকামিতার সাথেই একটা নেতি জুড়ে দেয়া যেন এটির চর্চা করা মানুষগুলোই আগাগোড়া খারাপ।"

একজন নৈতিক ব্যক্তির সমকামী হওয়াতে লিলির আশংকা হল: এরকম ভাবে সমকামিতা ছড়িয়ে পড়লে, আগামী পৃথিবীর শিশুদের কি হবে? সমকামিতাকে সে শিশুর স্বাভাবিক শৈশবের পথে বাধা হিসেবে দেখছে।

২৪. ০৯ ই আগস্ট, ২০০৯ সকাল ১১:৩৫
পারভেজ বলেছেন: মাঝে মাঝে মনে হয় পাশ্চাত্যে পেট এনিম্যাল আর শিশু দত্তক নেয়াটা প্রায় কাছাকাছি কন্‌সেপ্টের :| কথাটা রুঢ় শুনাচ্ছে জানি।
আমি টিনেজ মেয়ের অনাকাংখিত গর্ভধারণকেই প্রকৃতি বিরোধী মনে করি। তাই নয় কি?
তাই এর পরবর্তী কনসিকোয়েন্স তো ঠিক স্বাভাবিকতার পর্যায়ে পড়ে না। হয়তো ভাবনায় ইউটোপিয়ান হয়ে পড়ছি।
কিন্তু একটা ইউটোপিয়ান সমাজের স্বপ্ন দেখাটাই তো আমাদের সামনে এগিয়ে নিবে? যেখানে সব শিশুই পিতা মাতার ভালোবাসায় জন্ম নিবে আর বড় হবে। ব্যতিক্রম যেটা হয় বা হচ্ছে সেটা নাহয় ব্যতিক্রম হিসাবেই দেখলাম; তাদের কে দত্তক নেয়ার বা ব্যাংকে যাবার অধিকার কেড়ে নেবার পক্ষপাতী আমি নই; কিন্তু তার আগ পর্যন্ত একটা শিশুকে আমি ইউটোপিয়ান পৃথিবীর স্বপ্ন দেখাতে চাই।
২৫. ০৯ ই আগস্ট, ২০০৯ সকাল ১১:৪৪
পারভেজ বলেছেন: @লেখক।
স্বাস্থগত বিষয়ে আসলে অস্বাভাবিকতা নেই বলা চলে। শারিরীক ও মানসিক তৃপ্তির জন্য কেউ যদি সমলিঙ্গের আশ্রয় নেয়, তার জন্য সেটাই স্বাভাবিক। এখানে তার চাওয়াটাই মুখ্য। এখানে আপত্তি করার কিছু নেই।
কিন্তু, নারী ও পুরুষের জুটি কেবল মাত্র শারিরীক তৃপ্তির জন্য নয়! সন্তান জন্মদানের ক্ষণটাকে আকর্ষণীয় করার জন্যই প্রকৃতি এখানে তৃপ্তির সূচনা করেছে। যাতে প্রজন্মের ধারা রক্ষিত হয়। (এবং সন্তান মায়ের গর্ভে থাকাকালিন পিতার সাহচার্যটাও প্রসূতির জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ! এটা চিকিৎকসা শাস্ত্রে পরীক্ষিত।)
এটাই আমার কাছে স্বাভাবিকতা মনে হয়। এই টুকুই হওয়া উচিত বিপরীত কামীদের শ্লোগান।
০৯ ই আগস্ট, ২০০৯ সকাল ১১:৫৬

লেখক বলেছেন: আপনার সাথে কিছুটা একমত। তবে প্রচলিত বিশ্বাস যে সমকামীরা ঝুকির মধ্যে থাকে। লিংক দুটো দেখুন। সমকামীরাও স্বীকার করতে শুরু করেছে এইডসের কথা। সুতরাং এই বিষয়টিও তো গুরুত্ব পায়।



Click This Link

Click This Link


০৯ ই আগস্ট, ২০০৯ দুপুর ১২:০২

লেখক বলেছেন: "এখানে তার চাওয়াটাই মুখ্য। এখানে আপত্তি করার কিছু নেই।"

সব কিছুতে এরকম অবাধ স্বাধীনতা সব সমাজ দিতে নারাজ। কারন কেউ বিষ খেতে চাইলেই তাকে আমরা বিষ খেতে দেই না। আইন গত ভাবে তা নিষিদ্ধ। রক্ষনশীল সমাজে এ ধরনের সম্পর্ক স্বীকৃত নয় - যার পেছনে তাদের যথেষ্ট যুক্তি রয়েছে।

তবে যে সমাজে যৌন স্বাধীনতা স্বীকৃত সেখানে হয়ত বা আপনার কথাগুলো সঠিক।

২৬. ০৯ ই আগস্ট, ২০০৯ দুপুর ১২:১০
মুনিয়া বলেছেন: আপু, অস্বাভাবিকতা এজন্য বলছি যে এটা একটা অসুখ। মানুষের অনেক রকম সাইকো- সেক্সুয়াল ডিসঅর্ডারস থাকতে পারে। তারমধ্যে একটা হল হোমো- সেক্সুয়ালিটি। যারা এই বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন তারা আরো ভাল বলতে পারবেন।
মানুষের অনেক অসুখ হয়- শরীরের, মনের কিংবা দুটো একসাথেই অ্যাফেক্টেড হয় এরকম অসুখ। চিকিৎসা করলে কিছু হয়তো পুরো সেরে যায়। কিছু সাবডিউড হয়ে থাকে।

আপনার সাথে পারসোনালি কথা হলে আরো ডিটেইলে বলতে পারতাম। ব্লগ বলে সব কিছু ফ্রিলি বলতে পারছি না।
তবে শিশুর জন্য বাবা মা দুইয়ের যে কত দরকার- এটা বোঝা যায় সিঙ্গল প‌্যারেন্ট ফ্যামিলি থেকে। প্রকৃতি নারী আর পুরুষকে এমনভাবেই তৈরি করেছে, যে দুইয়ে মিলেই কেবল পূর্ণাঙ্গ অ্যাসোসিয়েশান হতে পারে। নারী আর পুরুষ শুধু শারীরিক গঠনে নয়, সব দিক থেকেই এত আলাদা যে একটা শিশুকে এক অংশ থেকে বঞ্চিত করা মানে তাকে ওয়ান সাইডেড করে বড় করা।

ভাঙ্গা পেন্সিল এর একটা কথা চোখে পড়ল-
"অর্থাৎ একজন পরোপকারী ব্যক্তি কী করে সমকামী হলো! সমকামিতার সাথেই একটা নেতি জুড়ে দেয়া যেন এটির চর্চা করা মানুষগুলোই আগাগোড়া খারাপ।"

আসলে সমকামিতা একটা মনোদৈহিক রোগ। আমরা মানসিক রোগী বলতে প্রায় এমন রোগীদের বুঝি যারা তাদের প্রাত্যহিক সব আচরণেই অসুস্থতার প্রকাশ করে চলে। কিন্তু অনেকে আছে যারা একটা বিশেষ ক্ষেত্রে সুস্থ মানসিকতার অধিকারী না হলেও সম্পূর্ণ স্বাভাবিক আচরণ করতে পারে। গল্পের চরিত্র অ্যাভারেজ মানুষের মতই ভেবেছে- যে এই রকম একজনও এতটা উদার! কিন্তু অসুখের প্রকৃতি অনুযায়ী ঐটা কোন কোন ফিল্ডকে অ্যাফেক্ট করছে এটা ডিটারমিনড হয়। এজন্য একটা ক্ষেত্রে অসুস্থ মানসিকতা নিয়েও অন্য ক্ষেত্রে মানুষ সুস্থ থাকতে পারে।
২৭. ০৯ ই আগস্ট, ২০০৯ দুপুর ১২:২৬
সোহায়লা রিদওয়ান বলেছেন: ওদের আই মিন অবিশ্বাসী দের এথিক্স , বিশ্বাস ... বা রুলস ওদের হয়তো এরকম অস্বাভাবিক জীবন যাপনে কোন নিষেধাজ্ঞা জারি করেনি ,কিন্তু আমাদের আছে , শুদ্ধতার চর্চা আমাদের করতেই হয়। এজন্যই যে কোন অস্বাভাবিকতাকে প্রশ্রয় দেয়া যাবেনা। আমরা আমাদের মধ্যে এটাকে স্থান দিতে পারিনা।
২৮. ০৯ ই আগস্ট, ২০০৯ বিকাল ৩:০৪
ছন্নছাড়ার পেন্সিল বলেছেন: আচ্ছা, তার মানে সমকামিতার সাথে একটা নৈতিক প্রশ্নকেও জড়িয়ে ফেলা হচ্ছে!

আমার খুবই হাস্যকর লাগে যখন দেখি একজন ঘুষখোর সমাজে সম্মানীয় জায়গা পায়। বা একজন রেপিস্ট সদর্পে মুক্ত ঘুরে বেড়ায়। একজন রাজাকারকে আমরা মন্ত্রী করি, যার হাতেই একটাসময়ে স্বাধীনতাকামী মানুষেরা জবাই, তাদের স্ত্রী-কন্যারা ধর্ষিত হয়েছিল।

উপরের ঘটনাগুলো আমাদের সমাজের সাধারণ চিত্র। এগুলো তুলে আনলাম, তার কারণ এমন ভাববেন না যে তাদের অপকর্ম দিয়ে সমকামিতাকে জাস্টিফাই করছি।

সমকামিতা এগুলোর সাথে এক কাতারেও পড়ে না। আপনি বললেন নৈতিকতার কথা, তাই বললাম যে অসহনীয় নৈতিকতার মৃত্যু আমরা খুব সহজেই সয়ে নেই। অথচ এখানেই একজন সমকামিতাকে "সাইকো- সেক্সুয়াল ডিসঅর্ডারস" বলে দিলেন কোনরকমের তথ্য প্রমাণ ছাড়াই। আমি অনেকগুলো প্রমাণ দেখাতে পারবো যে হোমোসেক্সুয়ালিটি প্রাকৃতিক, স্বাভাবিকভাবেই প্রচুর প্রাণীর মাঝে বিদ্যমান। মানুষের মাঝেও আদি থেকেই এর চিহ্ন ছিল, এখন হয়তো তারা সাহস করে সামনে আসতে পারছে। মুক্ত হতে পারছে। আগে ধর্ম, সমাজ আর শাস্তির ভয়ে বেরিয়ে আসতে পারতেন না। তাদের জন্য বিবমিষামূলক বিষমকামে বাধ্য হতেন!
২৯. ০৯ ই আগস্ট, ২০০৯ বিকাল ৩:১২
মুনিয়া বলেছেন: ছন্নছাড়ার পেন্সিল, আমি ডক্টরের কথা বলেছি। মেডিক্যাল সায়েন্স এটাই বলে। আমি ব্যাপারটা ডক্টরের সাথে পার্সোনালি কথা বলে জেনেছি। এজন্য আপনাকে কোন সোর্স বলতে পারছি না স্পেসিফিকলি। আমার মনে হয় সার্চ করলে পাবেন কিছু কিছু রিডিং ম্যাটেরিয়ালস।
আদি থেকেই মানুষের অনেক অসুখ হয়েছে বলেই কি ওগুলো অসুখ না? আর সমকামীদের প্রতি আমার কোন ক্ষোভ নেই, সহমর্মিতা আছে।
৩০. ০৯ ই আগস্ট, ২০০৯ বিকাল ৫:৪৮
ছন্নছাড়ার পেন্সিল বলেছেন: মুনিয়া, আপনি যে ডক্টরের কথা বলেছেন, তিনি সম্ভবত সমকামীদের ব্যাপারে আপনার মতই ধ্যানধারণা পোষণ করেন। এবং মেডিক্যাল সায়েন্সের বরাত দিয়ে নিজস্ব মতামত চাপিয়ে দিতে পারেন। সমকামীদের নিয়ে ভীতির পাশাপাশি, অজ্ঞতাপ্রসূত এমন অনেক চালু গুজব আছে। যেগুলোকে ব্যাক করার মত নির্ভরযোগ্য রেফারেন্স কেউ দেখাতে পারেন না। আমি বরং গবেষণার কথা বলি।

সিমন লিভের শরীরবৃত্তীয় গবেষণা থেকে জানা গেছে মানুষের মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালমাসের interstitial nucleus of the anterior hypothalamus, বা সংক্ষেপে INAH3 অংশটি সমাকামিদের ক্ষেত্রে আকারে অনেক ভিন্ন হয়। আরেকটি ইঙ্গিত পাওয়া গেছে ডিন হ্যামারের সাম্প্রতিক গবেষণা থেকে। ডিন হ্যামার তার গবেষণায় আমাদের ক্রোমোজমের যে অংশটি (Xq28) সমকামিতা ত্বরান্বিত করে তা শনাক্ত করতে সমর্থ হয়েছেন। এছাড়াও আরো বিভিন্ন গবেষণায় মনস্তাত্বিক নানা অবস্থার সাথে পিটুইটরি, থাইরয়েড, প্যারা-থাইরয়েড, থাইমাস, এড্রিনাল সহ বিভিন্ন গ্রন্থির সম্পর্ক আবিস্কৃত হয়। বইটির নামঃ Simon Levay and Dean H. Hamer, Evidence for a Biological Influence in Male Homosexuality, Scientific American, May 1994.

এখানেই বুঝা যাচ্ছে, সম্পূর্ণ জেনেটিক কারণেই সমকামিতার উৎপত্তি। এটাকে সাইকো-সেক্সুয়াল সমস্যা বলা যায় না। প্রকৃতির বিচিত্র বায়োডাইভার্সিটি, জেনেটিক ডাইভার্সিটি থেকেই এর উৎপত্তি।
====
যে অসুখগুলোর কথা আপনি উহ্য রেখে নির্দেশ করেছেন, সেগুলো সাধারণত অনিরাপদ মিলনের মাধ্যমে ছড়ায়। এবং জরিপ বা গবেষণা থেকে সেগুলো বিষমকাম ও সমকাম অনুশীলনকারী দুইদলের মাঝেই পাওয়া যায়। শুধুমাত্র সমকামিতার বৈশিষ্ট্যের এর সাথে কোন সম্পর্ক নাই।
====
নারীদের প্রতিও এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজ "সহানুভূতিশীল", "মায়া-মমতা"ও দেখাই (!) আমরা। সমকামীরা কোনদিক দিয়েই মানুষ হিসেবে আপনার আমার চেয়ে কম নয় যে তাদেরকে "আহা! বেচারা!" বলে সহানুভূতি দেখাতে হবে। বরং তাদের ব্যাপারে সম-মর্যাদা, সম-অধিকার ও সংবেদনশীলতাই কাম্য।
০৯ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ৯:৫৪

লেখক বলেছেন: সমাকমিতার অসুখ বিষয়ে আপনি উপরের লিংকে ক্লিক করুন।

অবশ্যই সমকামী ও অন্যান্য যৌনাচারী মানুষদের অধিকার রয়েছে পুরোই। এটিকে কেউ অস্বীকার করে নি।

কিন্তু রক্ষনশীল সমাজ সমকামিতা ও অন্যান্য অনেক ধরনের যৌনাচারকে সামাজিক স্বীকৃতি দেয় নি পরিবার প্রথাকে সম্মান জানানোর মানসিকতায়। যেসব দেশ ব্যক্তি স্বাধীনতাকে সম্মান জানায়, তারা দিয়েছে। ফলে সেসব দেশে পরিবার প্রথা শিথিল। বিষয়টি অনেকটি পরিবার বনাম ব্যক্তি স্বাধীনতায় এসে ঠেকেছে।

গল্পের নায়িকা লিলি পরিবার প্রথায় বিশ্বাসী। সেজন্য এই বিষয়টিকে মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছে। এর জন্য লিলিকে রেসিষ্ট মনে করাটাই বরং রেসিজমের পরিচয়। লেখকের দায় বদ্ধতা নৈতিকতা বা আদর্শের প্রচার নয়, ওটার জন্য নবী রাসুল মহামানবরা রয়েছেন। লেখকের দায়বদ্ধতা সমাজকে তুলে ধরা, যার ফলে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের মন মানসিকতা সাহিত্যে প্রতিফলিত হয়।

৩১. ০৯ ই আগস্ট, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৩২
নাবিক বলেছেন: গল্পটি চমৎকার। লেখককে ধন্যবাদ।

"মানুষ জন্মগত ভাবে স্বাধীন, কিন্তু শৃংখলিত" স্বাধীনতা মানেই যা খুশি তা করা নয়, মানুষকে শৃংখলা মেনে চলতে হয়। যে জীবন সশৃংখল নয়, তা আদতে জীবনই নয়। আমার ইচ্ছে করে বলেই, আমি স্বাধীন বলেই, মাঝ রাস্তায় গিয়ে আমি দাঁড়িয়ে থাকতে পারিনা। নিয়ম মেনে আমাকে ফুটপাথ দিয়েই চলতে হয়। আমার ইচ্ছে করে না বলেই, আমি স্বাধীন বলেই, আমি যখন হাসপাতালে যাই, হাতটা ক্লীন না করে কেবিনে ঢুকতে পারিনা। হাত পরিস্কার না করেই রোগী দেখতে যাওয়া আমার ইচ্ছে হতে পারে, কিন্তু নিয়ম মেনে আমাকে হাত পরিস্কার করেই কেবিনে ঢুকতে হয়।

আমরা যাঁর সৃষ্টি, তিনিই আমাদেরকে সুপ্রবৃত্তি-কুপ্রবৃত্তির সমন্বয়ে গড়েছেন। মানবজীবনের আসল পরীক্ষা এখানেই। কুপ্রবৃত্তির বিরূদ্ধে সংগ্রাম করা, আর সুপ্রবৃত্তিকে লালন করার নামই মানুষের মানুষ হয়ে উঠার সংগ্রাম।এটা না হলে, মানুষ আর পশুতে তফাত থাকেনা।

চুরি যে করে, ডাকাতি যে করে, ড্রাগ যে নেয়, পতিতা যে হয়, পতিতার কাছে যে যায়, রাগ সংবরণ করতে না পেরে যে অন্যকে কষ্ট দেয়, খুন করে.... এ সবেরই একটা অতীত থাকে, একটা প্রেক্ষিত থাকে। আর প্রেক্ষিত থাকে বলেই, কিংবা ঘটকের স্বাধীনতার দোহাই দিয়ে আমরা চুরি, ডাকাতি, পতিতাগমণ ইত্যাদি কুপ্রবৃত্তিকে সুপ্রবৃত্তি বলিনা। তবে হ্যাঁ, আমাদের চেতনায় এটা পরিষ্কার থাকতে হবে "পাপকে ঘৃণা কর, পাপীকে নয়" ।

খারাপ কাজের প্রতি আকর্ষণ বোধ করি বলেই যেমন কোন খারাপ কাজ ভাল হয়ে যায় না, সমকামিতা তার চেয়ে ব্যাতিক্রম বলে আমি মনে করিনা। এটা একটা বিকৃত চাহিদা। আইন করে একে হ্য়তো আকৃতি দেয়া যাবে, কিন্তু এ চাহিদা ও আইন ভবিষ্যত প্রজন্মকে বিপন্ন করবে।
১০ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ১২:২০

লেখক বলেছেন: আপনাকেও ধন্যবাদ।

৩২. ০৯ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ১১:০৭
আমি বাংলার গান গাই বলেছেন: মুনিয়া এবং নাবিকের সাথে একমত।

আবারও বলি:

সমকামিতা মানুষের স্বাভাবিক প্রকৃতিবিরুদ্ধ এবং সমাজ ও পরিবারের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকারক হওয়ায় কখনও আমরা তাকে সমর্থন করতে পারিনা।

তবে সমকামীদের প্রতি সহানুভূতির বিপক্ষে নই। যদি তারা তাদের বিকৃতি থেকে বের হয়ে আসতে চায় সমাজের উচিত তাদের সহায়তা করা। তাই দেশে দেশে সমকামিতা স্বীকৃতির ব্যবস্থা না করে বরং উচিত তাদের পুনর্বাসন ও বিকৃতিমুক্তির জন্য মনোচিকিৎসার আধুনিক সুবিধাদির ব্যবস্থা করা। সেটা তাদের জন্যও ভাল হবে, সমাজের জন্যও ভাল হবে। কিছু লোকের বিকৃত ইচ্ছাকে একোমোডেট করতে যেয়ে আমরাতো সমাজে একটি বিষফোড়া লালন পালন করতে পারিনা। বরং তাদের "বিকৃত ইচ্ছা"র সঠিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করাই সঠিক বলে মনে করি।

"বিষমকামী" শব্দটার ব্যবহার খুব কৌতুক উদ্রেক করল। সমকামিতাকে একোমোডেট করতে যেয়ে এমন কত কিছুই আমাদের করতে হবে তাই ভাবছি: যেমন বিভিন্ন ফর্মে লিখা থাকবে - আপনি কি সমকামী পরিবারে বড় হয়েছেন নাকি বিষমকামী পরিবারে? বিষমকামী পরিবারে বড় হলে আপনার পিতামাতার নাম লিখুন আর সমকামী পরিবারে বড় হলে নাম লিখুন:
অভিভাবক ১:
অভিভাবক ২:
....

স্বামী/স্ত্রী/পার্টনার:

...

ও বলতে ভুলে গিয়েছিলাম গল্পের নামটা সুন্দর হয়েছে। চোরাবালি। সমাজদেহকে আমাদের এই চোরাবালি থেকে উদ্ধার করতেই হবে...
০৯ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ১১:১৯

লেখক বলেছেন: প্রকৃতি খেয়ালে যে প্রতিবন্ধিতার সৃষ্টি হয়, তাকে তো আমরা চিকিৎসা করছি। প্রকৃতির খেয়ালে যদি কেউ সমকামিতার প্রতি আসক্তি বোধ করে, তবে তার প্রতিও সবার সহযোগিতার হাত বাড়ানো উচিত।

১২ ই আগস্ট, ২০০৯ সকাল ১০:২৫

লেখক বলেছেন: পোস্ট তো নেই।

৩৪. ১০ ই আগস্ট, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:০২
ছন্নছাড়ার পেন্সিল বলেছেন: লেখক বলেছেন: সমাকমিতার অসুখ বিষয়ে আপনি উপরের লিংকে ক্লিক করুন।

আপনি যেটাকে সমকামিতার অসুখ বলছেন সেটা এসটিডি। যে কোন প্রকার অনিরাপদ মিলনেই সেটা ছড়াবে। সেজন্য একতরফা সমকামীদের দোষ দেয়া যায় না। ক্যাথলিক বিশ্বাসের গোঁড়ামিভরা একটা সাইটকে রেফারেন্স করলে তো সমস্যা।

বাইদ্যওয়ে, আমি যে বইটার উল্লেখ করলাম, তা আপনার পড়া আছে বলে মনে হয় না। তাহলে হয়তো আপনার মন্তব্য ও মনোভাব আরেকটু অন্যরকম হতো।
=====
@বাংলাদেশ জিন্দাবাদ, হেটারোসেক্সুয়াল--শব্দটার বাংলা জানালে বাধিত হবো। একমাত্র মূর্খেরাই না বুঝে হাসে, কৌতুকবোধ করে। যে বিষয়ে আপনার জ্ঞান এই পর্যায়ে, সেটা নিয়ে কথা না বললেই কি নয়?
১২ ই আগস্ট, ২০০৯ ভোর ৬:৫৯

লেখক বলেছেন: "কোন প্রকার অনিরাপদ মিলনেই সেটা ছড়াবে। "

California Homosexual Organization Admits HIV/AIDS is "Gay Disease" এর অর্থ কি এটা নয় যে সমকামীরা এসটিডিতে বেশী ঝুকির মধ্যে থাকে? যেমন করে, মেদস্বর্বস্ব মানুষ ডায়াবেটিসের বেশী ঝুকিতে থাকে?

৩৫. ১০ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ৮:৪৪
সনাতন বলেছেন: গল্পটা সময়চিতো। অসাধারন!!

আর মন্তব্যে খুজে পাওয়া গেলো কারা এর বিপক্ষে আর কারা এর পক্ষে।
আচ্ছা আমি শুধু একটা প্রশ্ন করি?

আপনি কি আপনার সন্তানকে একজন সমকামী হিসাবে দেখে মহানন্দে নাচবেন?
নাকি তার ব্যক্তি স্বাধীনতাকে প্রশ্রয় দিয়ে গোপনে অশ্রু ফেলবেন?
অথবা শক্ত হাতে দমন করবেন?

অথবা যারা পক্ষে আছেন তাদেরকেই বলছি... আপনার বাবার এমন কোনো ঘটনা যদি আপনার সামনে প্রকাশিত হয় যে......

যদি নাচেন তাহলে তো হলোই...

আর যদি না নাচেন তাহলে চিরায়াত মানব সিষ্টেমের ব্যাপারে এতো মহা জ্ঞানী জ্ঞানী কথা বলার অধিকার আপনাদেরকে কে দিলো?

আমি তাদেরকে মানুষ হিসাবে সহানুভুতি প্রদর্শনের পক্ষে... কিন্তু হোমো হিসাবে সহানুভুতি করার অন্যররথ হলো আমি পেন্সিলের মতোই এই ভয়ংকর মানুষিক ব্যাধীকেও স্বাভাবিক এবং মেনে নেয়ার মত ভালো কাজ বলে সমর্থন কুরলাম।

যাও বাবা... যা করছিলে করে যাও... এই প্রজন্ম কোনো রকমে সাফার করবে... এর পর আগামীতে তো কোনো প্রজন্মই আসবেনা সুতরাং সাফার করার ও কেউ থাকবেনা। পরিবার প্রথার স্বাভাবিক পদ্ধতি ঐ আফ্রিকার জংগলেই থাকুক সভ্যরা সব হোমো হয়ে যাবে।
১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ২:০২

লেখক বলেছেন: সাধারন কমন সেন্সই বলে দেয় কোনটা স্বাভাবিক আর কোনটা অস্বাভাবিক। যে সম্পর্ক পরিবারকে লালন করতে অক্ষম, তা কি করে স্বাভাবিক হয়? আইন করে একে বৈধতা দেয়া যায় ব্যক্তি স্বাধীনতাকে স্বীকৃত করতে, কিন্তু তাই বলে তা স্বাভাবিকত্বের অধিকারী হয় না।

৩৬. ১০ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ৯:০০
ছন্নছাড়ার পেন্সিল বলেছেন: সনাতন,
১.ঈশ্বরচন্দ্র যখন বিধবা বিবাহ প্রবর্তনের জন্য আইন পাশ করিয়েছিলেন, তখন অনেকেই আপনার মত গজগজ করেছেন। কিন্তু ব্রিটিশরাজের বিরুদ্ধে যাবার সাহস ছিলো না বলেই তারা চুপ করে ছিলেন।
২.একই ঘটনা রাজা রামমোহন রায়ের বেলাতেও ঘটেছে।
৩.পাশ্চাত্যে 'নিগ্রো', 'নিগার' বলে দাস বানিয়ে রাখা মানুষগুলোর রক্ত ও ঘাম ও কান্না দিয়ে একসময়ে তারা মুক্তি পেয়েছে। সেটাও রাষ্ট্রীয় আইন করেই করা হয়েছে। তখন অনেক সাদাচামড়ার মানুষই হায় হায় করেছিলেন একজন কালোকে সিনেমাহলে তাদের সমান কাতারে বসতে দেখে, বাসে তাদের একসীটে বসতে দেখে।

যুগে যুগে এভাবে মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য রাষ্ট্রকে আইন করতে হয়েছে। বিরুদ্ধবাদীদের বিচার-বিবেচনার উপরে ভরসা করলে মেয়েদের এখনও পুড়িয়ে মারা হতো, আর কালোরা এখনও দাস হয়েই থাকতো।

আপনি যতই এটাকে বিকৃতি বলেন, বাস্তব হলো সমকামিতা ধীরে ধীরে আইন করেই বৈধ করা হচ্ছে। আপনার মতো মানুষেরা যুক্তি তর্কে হেরে গিয়েই এই সব আইন মেনে নিচ্ছেন (না হলে আদৌ তা পাশ হতো না)। এবং মজার ব্যাপার, ভবিষ্যতের আশংকাগুলো যেভাবে উক্ত ঘটনাগুলোতে মিথ্যা হয়েছে, তেমনিভাবে এখানেও মিথ্যা হয়ে যাবে।

আর ব্যক্তিগত হওনের কিছু নাই। আপনার কথাগুলো যে যুক্তি শেষ হয়ে যাওয়া মানুষের কথা সেটা বুঝি। :)
৩৭. ১১ ই আগস্ট, ২০০৯ বিকাল ৩:৩৮
জেমসবন্ড বলেছেন: ..................

ব্যক্তি স্বাধীনতাকে শ্রদ্ধা করার জন্য সমকামী সঙ্গী নির্বাচন যদি সমর্থিত কিছু হয়, তাহলে পুরুষের দুই বা দুইয়ের বেশি চারটি সঙ্গিনী বিয়ে করার বিষয়টিও অত্যন্ত সহজ, স্বাভাবিক ও শ্রদ্ধার সাথে দেখা উচিত। কিন্তু ধর্মকে ঠেঙ্গানোর জন্য বাড়তি যৌনতাকামীরাই এর বিরুদ্ধাচারণ করবেন, মানবাধিকার লঙ্ঘনের কথা বলে।
০১ লা মে, ২০১০ সকাল ৮:৫৪

লেখক বলেছেন: পুরুষ/নারীর একাধিক সঙ্গী থাকা, কিংবা সমলিঙ্গিক সম্পর্ক - এ সব কিছুই স্বাভাবিক পরিবার প্রথার সাথে সাংঘর্ষিক। এদের মধ্যে শুধু পুরুষের বহুগামিতা ধর্ম কর্তৃক স্বীকৃত বলে তার প্রচলন প্রাচ্যের দেশগুলোতে গৌরবের সাথে টিকে আছে। যদি বাস্তবতার খাতিরে পুরুষের বহুগামী মানসিকতাকে স্বীকৃতি দিতেই হয়, তবে অন্ততপক্ষে তার প্রসার সমাজে সীমিত থাকা চাই। নতুবা তা রাষ্ট্র ও সমাজের জন্য বিপজ্জনক।

৩৮. ১২ ই আগস্ট, ২০০৯ দুপুর ২:৫৮
ছন্নছাড়ার পেন্সিল বলেছেন: "California Homosexual Organization Admits HIV/AIDS is "Gay Disease" এর অর্থ কি এটা নয় যে সমকামীরা এসটিডিতে বেশী ঝুকির মধ্যে থাকে?"

--এই অ্যাসোসিয়েশন কী কারণে এটা স্বীকার করেছে তা আপনার পাঠানো লিঙ্কে পেলাম না। তা ছাড়াও তারা আদৌ এটা স্বীকার করেছে কী না সেটাও জানি না।

এমনকি এই অ্যাসোসিয়েশন ছাড়া আর কোন পত্রপত্রিকা বা মিডিয়ায় দেখলাম না এসটিডি-কে গে ডিজিজ বলছে! আপনার প্রশ্নের জবাবেই বলি, ডায়াবেটিস রোগ মেদস্বর্বস্ব মানুষের মধ্যে বেশি ঘটে বলে আপনি সকল স্থূল মানুষের চরিত্র নিয়ে নৈতিকতা নিয়ে নিন্দা করতে পারবেন না। কোন ভিত্তিতেই, এসটিডি আর ডায়াবেটিসকে এক কাতারে ফেলা যায় না।
২১ শে আগস্ট, ২০০৯ রাত ৮:১৪

লেখক বলেছেন: "ডায়াবেটিস রোগ মেদস্বর্বস্ব মানুষের মধ্যে বেশি ঘটে বলে আপনি সকল স্থূল মানুষের চরিত্র নিয়ে নৈতিকতা নিয়ে নিন্দা করতে পারবেন না।"

স্থূলতার (কিংবা সমকামিতার) সমস্যা গুলো তুলে ধরছি, মানুষের চরিত্র/নৈতিকতা নিয়ে কিছু বলছি না। আপনি এই পয়েন্ট ধরতে পারছেন না।


"কোন ভিত্তিতেই, এসটিডি আর ডায়াবেটিসকে এক কাতারে ফেলা যায় না।"

ঠিক। দুটো দুই রকম রোগ।


"এমনকি এই অ্যাসোসিয়েশন ছাড়া আর কোন পত্রপত্রিকা বা মিডিয়ায় দেখলাম না এসটিডি-কে গে ডিজিজ বলছে! "

আমি তো দেখছি ভর্তি।

আরেকটা লিংক দিচ্ছি।

"Folks, with 70 percent of the people in this country living with HIV being gay or bi(sexual), we cannot deny that HIV is a gay disease. We have to own that and face up to that.

—Matt Foreman, executive director of the National Gay and Lesbian Task Force"

Click This Link


৩৯. ১৪ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ১:৫৬
সনাতন বলেছেন: আমার আগে অনেকেই সুম্মানিত মানুষদেরকে যুক্তি দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করে ব্যার্থ হয়েছেন দেখে আমি ভেবেছিলাম আমার এই কথায় বুঝি কিছুটা হলেও আমি সফল হবো... কিন্তু নির্মম বাস্তবতা হচ্ছে এই যে এখানে যেসব বিষয় নিয়ে তুলনা দেয়া হলো যেমন...

*সতীদাহ

*দাস প্রথা

এগুলো সবই মানবতা বিরোধী কাজ ছিলো।
আর সমকামীতাও এর বিপরিত কিছু নয় এমনটাই উন্নত নৈতিকতা বোধ সম্পন্ন মানুষেরা বলে থাকে, যারা প্রকৃতির শ্রেষ্ঠ সিষ্টেমের রক্ষক।

মনে হচ্ছে ঈশ্বর চন্দ্রের অসমাপ্ত কাজ আমাদেরকেই করতে হবে।
৪০. ১৮ ই আগস্ট, ২০০৯ বিকাল ৩:২৯
আশাবাদী মানুষ বলেছেন: মন্তব্যের কারনে বিষয়টা আরো বেশি উপাদেয় হয়।

এটাই ব্লগের সফলতা
২৩ শে আগস্ট, ২০০৯ রাত ৯:২১

লেখক বলেছেন: আমার ব্লগে আপনার মন্তব্য পেয়ে ভাল লাগল। ধন্যবাদ।

৪১. ২১ শে আগস্ট, ২০০৯ রাত ১০:১০
ছন্নছাড়ার পেন্সিল বলেছেন: @সনাতন, আমি কী বললাম, আর আপনি কী বুঝলেন। আমার উদাহরণটা পুরাই টুইস্ট করে ফেললেন দেখি। এভাবে তালগাছ চাইলে অবশ্য আর কিছু বলার থাকে না।


======

@লেখক, যাক। অন্তত আপনার ডায়াবেটিসের উদাহরণটা যে ভুল তা স্বীকার করলেন। আপনার দেয়া লিঙ্কটাও পড়লাম। "হু" একটা টাস্ক ফোর্স বানিয়েছে, যেটার কাজ হলো সমকামীদের ধরে ধরে এনালাইজ করা, ঠিক করা যে তারা কতটা জীবাণু বহন করছে। তাদের কী কী সমস্যা হচ্ছে। তারা কতটা ক্ষতিকর! এই হেটারোসেক্সুয়াল বুর্জোয়া মনোভাব, এই একপেশে ঘৃণাতে ইন্টারনেটের অনেক সাইটই ভর্তি পাবেন! সেটাই স্বাভাবিক।

আরেকটা প্রশ্ন মাথায় এলো, ফিমেল হোমোসেক্সুয়াল বা লেসবিয়ানদের ব্যাপারে আপনার মনোভাব কী? এখানে খালি গে'দেরকে নিয়েই কেন আলোচনা হচ্ছে?

সাইটে এমন কথাও দেখলাম, সমাজের অথরিটি বারবার বলছে "তাদের"কে যে এটা "খারাপ" (আপনি যেভাবে বলতে চাইছেন)। এইটা যুগ যুগ ধরে চলে আসা আত্মম্ভরী কর্তৃপক্ষের চরিত্র। কে কার সাথে কি করতেছে সেটার মাঝে নাক গলানো। অযথাই ক্ষমতার অপপ্রয়োগ করে বুঝিয়ে দেয়া যে রাষ্ট্র বা সমাজের যে কোন সময়েই আমাদের অধিকার কেড়ে নেয়াটা খুব সহজ তাদের জন্য।
২২ শে আগস্ট, ২০০৯ সকাল ১০:০১

লেখক বলেছেন: এই পোস্ট মূলত একটি গল্প। এখানে একজন গে চরিত্র থাকায় এই বিষয় নিয়ে কিছু মন্তব্য করলাম।

আপাতত আর এ নিয়ে কথা বাড়াচ্ছি না।

২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:০৭

লেখক বলেছেন: ঈদ মোবারক।

 

মোট সময় লেগেছে ১.০৭৬২ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
তোমরা মুসলিম হয়ে আমাকে ধন্য করেছ, তা মনে করো না।
বরং আল্লাহ ঈমানের পথে পরিচালিত করে তোমাদের ধন্য করেছেন। (হুজুরাত:১৭)
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ