আমার প্রিয় পোস্ট

আস সালাম - আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক

প্রাচীন রসায়নের জনক জাবির হাইয়ান ও তার অবদান এবং ইসলাম বিদ্বেষী ফেইথ ফ্রিডম

১৯ শে নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ৯:২২

শেয়ারঃ
0 0 0

কিমিয়া থেকে কেমিস্ট্রি:

গুপ্তবিদ্যার প্রতি আগ্রহ মানুষের চিরন্তন। "আল কেমি" হচ্ছে সেই রকম গুপ্তবিদ্যা, যার দ্বারা মানুষ "এলিক্সির" নামে এমন একটি যাদুকরী বস্তু তৈরী করতে পারবে। সে এলিক্সিরের ছোয়ায় লোহা হয়ে যাবে সোনা, তামা হয়ে যাবে রূপা, আর মানুষের আয়ু যাবে বহুগুন বেড়ে!! লোহা থেকে সোনা বানানো কিংবা জীবনকে দীর্ঘায়িত করার বাসনাই ছিল আল কেমী বিদ্যার মূল উদ্দেশ্য।

"আল কেমি" শব্দটি এসেছে আরবী আল কিমিয়া থেকে। "আল" হচ্ছে "the" এর আরবী এবং "কিমিয়া" এসেছে "কেম" থেকে, যার অর্থ "কালো মাটি"। মিশরের নীল নদের তীরের মাটি কালো হওয়ায় এ নাম, কেননা "আল কেমী"র ব্যপক চর্চা মূলত হয়েছে মিশরে। তবে এ নিয়ে বিভিন্ন মত রয়েছে। কেউ কেউ বলেন, গ্রীক "কায়মা" থেকেও "কেমী" শব্দটি আসতে পারে। "কেমী" শব্দের এটিমোলোজি যাই হোক না কেন, "আল কেমি"র ব্যপক চর্চা তৎকালীন মুসলিম সমাজে হবার ফলে, "আল কেমী" শব্দটির আরবীতে আত্তীকরন হয়ে যায়।

আল কেমী বহু আগে থেকে চলে আসা একটি সাবজেক্ট, পৃথিবীর মানুষ লোহা থেকে সোনা বানানোর অসম্ভব চেষ্টা প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকেই করছে। এরিস্টটলের দর্শন অনুযায়ী, সমস্ত বস্তুই আসলে একই জাতীয় সাবস্ট্যান্স দিয়ে তৈরী - শুধু অনুপাত ভিন্ন। অনুপাতের ভিন্নতার ফলেই একটি পদার্থ হয় লোহা, আর অন্যটি হয় সোনা। আরব বিজ্ঞানী জাবেরও ছিলেন একজন আলকেমিস্ট যিনি এরিস্টটলের এই দর্শনের দ্বারা প্রভাবান্বিত ছিলেন। আর আল কেমী বিদ্যাটি কিছুটা সুপ্ত হওয়ায় জাবেরের বইগুলোও অনেকটা রূপক ভংগিতে লেখা। আল কেমির উপরে লেখা তার বই "কিতাব আল জোহরা"তে তিনি লিখেছেন,
"আল্লাহ যাদের ভালবাসেন তারা ব্যাতীত বাকীদের হতভম্ব করা এবং ভুল পথে নেয়াই এর উদ্দেশ্য। " অন্য জায়গায় জাবের লিখেছেন, "আমার "মাস্টার" আমাকে শাসাচ্ছেন, যাতে এসব বিদ্যা কোন অবিবেচকের হাতে না পড়ে। " আলকেমীর বিদ্যা গুপ্ত রাখার মানসিকতায় বইগুলো লিখেন কঠিন ভাষায় এবং সাধারনের বোধগম্যের বাইরে।

আল কেমীর চর্চা থেকেই জাবের একসময় আবিষ্কার করে ফেললেন অনেক কিছু। আবিষ্কার করেন কি করে তরলের মিশ্রন থেকে একটি তরলকে আলাদা করা যায়, যা ডিস্টিলেশন নামে পরিচিত, আবিষ্কার করেন একুয়া রেজিয়া নামে একটি মিশ্রন যা সোনাকে গলিয়ে দিতে পারে এবং উদ্ভাবন করেন অগুনতি কেমিক্যাল সাবসট্যান্স - যা মরিচা প্রতিরোধ, স্বর্নের কারুকাজ, পোশাকের ওয়াটারপ্রুফ সহ বিভিন্ন শিল্প কারখানায় ব্যবহৃত হয়। আল কেমী থেকে তিনি সিস্টেমেটিক এক্সপেরিমেন্টেশনের দ্বারা শুরু করেন আরেকটি সাবজেক্ট, যা পরিচিতি পায় কেমেস্ট্রি হিসেবে। এ প্রসংগে তিনি বলেন, "কেমিস্ট্রির প্রাথমিক কর্তব্য হল, তুমি প্রাকটিক্যাল কাজ করবে এবং এক্সপেরিমেন্ট চালাবে। যারা প্রাকটিক্যাল কাজ করে না এবং এক্সপেরিমেন্ট চালায় না, তারা এ বিষয়ে কোন রকমের দক্ষতা অর্জন করতে পারে না।"

জাবের ইবনুল হাইয়ানের পরিচয় ও তার সংক্ষিপ্ত জীবনী:


৬৩৮ খ্রীষ্টাব্দে খলিফা উমর ইউফ্রেটিসের পশ্চীম তীরে কুফা শহর প্রতিষ্ঠা করেন। চারিদিক থেকে ইমিগ্রান্ট এসে কুফায় বসতি শুরু করে, একসময় কুফার জনসংখ্যা ২০০০০০ ছাড়িয়ে যায়। পরবর্তীতে কুফা উমাইয়াদের প্রধান শহরে পরিনত হয়। এই কুফা শহরেই আজদী নামের এক গোত্রের একজন ছিলেন হাইয়ান, যার নেশাগ্রস্ততা শহরে বেশ পরিচিত ছিল। তিনি গোপনে উমাইয়া খলিফাদের বিরুদ্ধে যে চক্রান্ত চলছিলো, তাতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন। ৭১২ শতকে উমাইয়া রাজবংশের জনপ্রিয়তায় এক বিশাল ধ্বস নামে। এছাড়া ব্যপক হারে অমুসলিমদের মুসলিম হওয়ার ফলে উমাইয়া রাজ্য অর্থনৈতিক মন্দার সম্মূখীন হয়। অমুসলিমদের কাছ থেকে আদায়কৃত জিজিয়া ট্যাক্সের পরিমান কমে যায়, যা রিভিনিউতে মারাত্মক ধ্বস নামায়। মুসলিমরা যাকাত দিলেও সে যাকাতের খাত নির্দিষ্ট, সর্বমোট আটটি। ফলে উমাইয়াদের পক্ষে অর্থনৈতিক ধ্বস সামলানো কঠিন হয়ে যায়।

ইমাম মুহাম্মদ ইবনে আলীর নেতৃত্বে আব্বাসীয় নেতৃত্ব আসে ক্ষমতায়, যাদেরকে সক্রিয় সহযোগিতা করে শিয়া সম্প্রদায়। জাবেরের পিতা হাইয়ান, যিনি ছিলেন একজন শিয়া, এই আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। হাইয়ান এক পর্যায়ে উমাইয়াদের হাতে ধরা পড়ে যান এবং নিহত হন। ফলশ্রুতিতে ৭২১ খ্রীষ্টাব্দে জন্ম শিশু জাবের বড় হন পিতাকে ছাড়াই। কৈশোরে তিনি কোরান, গনিত সহ বেশ কিছু বিষয়ে পারংগমতা অর্জন করেন। আব্বাসীয় রাজবংশ অবশেষে প্রতিষ্ঠা পায়। কথিত আছে আব্বাসীয় জেনারেল আবদুল্লাহ একবার ৮০ জন উমাইয়া নেতাকে দাওয়াত করেন। উমাইয়া নেতারা যখন খেতে ব্যস্ত, তখন আবদুল্লাহ আদেশ দেন এদের হত্যা করার জন্যে। শুধু একজন জানালা দিয়ে লাফিয়ে পড়ে বেচে যান, যিনি পরে ইউফ্রেটিস পার হয়ে স্পেনে পৌছান। মোট কথা, ৭৫০ শতকের এর মধ্যেই উমাইয়াদের হঠিয়ে আব্বাসীয়রা ক্ষমতা সুদৃঢ় করে নেয়।


আব্বাসীয়রা ক্ষমতায় আসার পরে জাবির এক সময় আব্বাসীয় উজির বার্মিকীর নেক নজর লাভ করেন, যার মাধ্যমে খলিফার সাথে দেখা করতে সমর্থ হন। ইয়াহিয়া বার্মিকীর একজন অতীব সুন্দরী দাসী অসুস্থ হয়ে গেলে জাবের তাকে এলিক্সির খাইয়ে পুরো সুস্থ করে দেন (যা ছিল এক ধরনের দ্রবন)। আব্বাসীয়দের কাছে হাইয়ানের সন্তান হিসেবে তিনি স্বীকৃতি পান দুভাবে: খলিফা হারুন অর রশিদের দরবারে তিনি আল কেমিস্ট হিসেবে নিয়োগ পান এবং অন্যদিকে বিখ্যাত শিয়া আলেম জাফর ইবনে আবি তালিব তাকে শিষ্য হিসেবে গ্রহন করেন। শিয়াদের কাছে আল কেমী সবসময়েই আদৃত একটি বিদ্যা ছিল। আলী (রা) বলেন, "আল কেমী হচ্ছে প্রফেসীর বোন।" খলিফার দরবারে তিনি অনেকদিন কাজ করেন। খলিফা হারুন অর রশিদ পরবর্তীতে বার্মিকীদের আচরনে মহা বিরক্ত হয়ে একজনের প্রানদন্ড ও বাকীদের বরখাস্ত করেন। তখন জাবের কুফাতে ফিরে আসেন। বার্মিকীদের সাথে সুসম্পর্ক থাকার মাশুল গুনতে হয় হাউজ এরেস্ট হয়ে। অবশেষে ৮১৫ সালে এ অবস্থাতেই তিনি মৃত্যু বরন করেন।


জাবেরের কিছু গুরুত্ববহ অবদান:

ডিস্টিলেশন হচ্ছে দুটি দ্রবনকে তাদের ভিন্ন স্ফুটনাংকের মাধ্যমে আলাদা করা। জাবির ইবনুল হাইয়ানের এই আবিষ্কার আলকেমী থেকে কেমিস্ট্রির পথে ছিল মাইলস্টোন উত্তরন। বিজ্ঞানী জাবির এক্সপেরিমেন্টেশনের উপর গুরুত্ব দেন এবং আল কেমীকে সাইন্স রূপ দিয়ে কেমিস্ট্রি হিসেবে দাড় করান। তিনি সালফিউরিক এসিড, হাইড্রোক্লোরিক এসিড, নাইট্রিক এসিড, ডিস্টিলেশন, ক্রিস্টালাইজেশন, লিকুইফ্যাকশন, অক্সিডাইজেশন, ইভাপোরেশন, ফিলট্রেশন সহ বেশ কিছু কেমিক্যাল এবং তার প্রসেস ব্যখা করে যান, যা আজকের কেমিস্ট্রির ভিত্তিমূল।

বিজ্ঞানী জাবের হাইড্রোক্লোরিক এসিড এবং নাইট্রিক এসিড আবিষ্কার করে তার মিশ্রন থেকে আবার "একুয়া রেজিয়া" আবিষ্কার করেন যা সোনাকে দ্রবীভূত করে। যার ফলে সোনার বিশুদ্ধিকরন এবং আহরন সহজ হয়ে যায়। এছাড়া তিনি সাইট্রিক এসিড, এসিটিক এসিড এবং টারটারিক এসিড আবিষ্কার করেন। জাবেরের এই রসায়নের জ্ঞান বিভিন্ন শিল্প কারখানায় সফলভাবে প্রয়োগ করা হয় এবং তার ফলে অনেক ধরনের ম্যানুফ্যাকচারিং প্রসেস উন্নত হয়। যাদের মধ্যে রয়েছে, স্টীল প্রস্তুতকরন, মরিচা প্রতিরোধকরন, স্বর্ন খোদাইকরন, পোশাকের ডাই তৈরী এবং চামড়ার ট্যানিং। তিনি গ্লাস তৈরীতে ম্যাংগানিজ ডাই অক্সাইড ব্যবহার বিধি দেখান, যা আজকের দিনেও ব্যবহৃত হয়। তার এসব আবিষ্কার আজকের কেমিস্ট্রি এবং কেমিক্যাল ইন্জিনিয়ারিং এর ভিত্তিমূল।


জাবেরিয়ান করপাস:

জাবেরের গ্রন্থের পরিমান এত বেশী যে ধারনা করা হয় একা জাবেরের পক্ষে এতগুলো বই লেখা অসম্ভব। জাবেরের পরবর্তি কালে জাবেরের নামে ইসমাইলিয়া সম্প্রদায় এসব বইয়ের কিছু অংশ লিখতে পারে বলে মনে করা হয়। জাবেরের গ্রন্থ সমগ্রকে চার ভাগে ভাগ করা যায়:

১। আত্মিক আলকেমি: এ বিষয়ে প্রায় ১১২ টি বই রয়েছে যা বার্মিকি উজিরদের উৎসর্গ করে লেখা।

২। দর্শন : ১০ টি বই রয়েছে পিথাগোরাস, সক্রেটিস, এরিস্টটল ও প্লেটোর দর্শনকে ব্যাখা করে। জাবের তার লেখায় গ্রীক ও মিশরীয় আলকেমিস্টদের প্রতি শ্রদ্ধা ব্যক্ত করেছেন।

৩। ৭০টি বই রয়েছে বিভিন্ন বিষয়ের উপরে।

৪। আরো কিছু বই রয়েছে "ব্যালেন্স অব ন্যাচারের" উপরে।


কারো পক্ষে এত বই লেখা কি করে সম্ভব? তাই, ধারনা করা হয়, জাবেরের অনুসারীরা হয়তবা তার নামে কিছু বই লিখে রেখেছে। এ নিয়ে এখনো গবেষনা চলছে।

আগেই বলেছি, জাবেরের অনেক বই আল কেমির প্রথা অনুযায়ী খুব রহস্যের ভংগিতে লেখা। জাবেরের স্ক্রীপ্টের এই গুপ্ত ভাব থেকে ইংরেজীতে "gibberish" শব্দটি এসেছে। যার অর্থ "যা বোধগম্য নয়।"


জাবের প্রসংগে ফেইথ ফ্রিডমের ভন্ডামি:

ফেইথ ফ্রিডম সাইটের কথা আপনারা শুনেছেন কিনা জানিনা। ইসলামের উপর তিতা বিরক্ত হয়ে যারা ইসলাম পরিত্যাগ করেছেন, তাদের মিলন মেলা হল এই সাইট। কে ইসলাম ত্যাগ করল, এটা আমার কাছে খুব বড় কোন ইস্যু নয়। ইসলাম একই সাথে বিশ্বাস এবং আচার সমৃদ্ধ একটি ধর্ম। এই বিশ্বাসকে অস্বীকার করে কেউ ইসলাম ত্যাগ করতে চাইলে সে অধিকারটুকু তার থাকা উচিত। মানুষের বিশ্বাসের স্বাধীনতার এই বিষয়টি মুসলিমদের স্বীকার করে নেয়া উচিত। এতে ক্ষতির কিছু নেই, বিশেষত যেখানে পৃথিবীতে ইসলাম গ্রহনের হার তুলনামূলক ভাবে অনেক বেশী। এছাড়া পবিত্র কোরানেও বিশ্বাসের স্বাধীনতার বিষয়টি অনেকবার এসেছে।

তবে ফেইথ ফ্রীডমের ক্ষেত্রে কথা হল: যতটা না সত্য, তার চেয়ে বেশী বিদ্বেষ দিয়ে পরিচালিত এই সাইট। এই বিদ্বেষ শুধু সাধারন ভাবে ইসলামের বিশ্বাস এবং আচারের বিরুদ্ধে নয়, বরং মুসলিমদের গৌরবময় ঐতিহ্য বিচারের ক্ষেত্রেও। আমি রসায়নবিদ জাবিরকে নিয়ে লেখার সময় গুগলে একটা সার্চ দেই। অনেক সাইটের মধ্যে ফেইথ ফ্রিডম ছিল একটি, যেখানে জাবের প্রসংগে নীচের কথাগুলো রয়েছে:

"Muslim apologists claim that Jabir Ibn Haiyan was the father of chemistry though Chemistry was practiced from ancient ages. Egyptians used distillation process in 3000 years BC and the Greeks in 1000 BC. Zosimus of Panopolis wrote "The Divine Art of Making Gold and Silver", in the 4th century. Jabir Ibn Haiyan should not be called the founder of Chemistry, which is nothing but the usual deceiving technique of Muslim apologists."


মোদ্দা কথা, জাবেরকে কেন প্রাচীন রসায়নের জনক বলা হবে, সেটাই তাদের কাছে বিষ্ময়। এটা নাকি মুসলিমদের ভন্ডামির আরেকটি পরিচয়!!!!

আমি এ বিষয়ে প্রথমে বলতে চাই যে, জনক শব্দটি কিছুটা আপেক্ষিক। জ্ঞান বিজ্ঞানের অগ্রগতির বিষয়টি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। এই ধারাবাহিক প্রক্রিয়াতে কেউ হয়ত কোন আইডিয়া প্রথমে দেন, আবার কেউ বা তার উপর ব্যপক কাজ করে পৃথিবীর কাছে তা পরিচিত করেন। ফলশ্রুতিতে অনেক সময় দেখা যায়, যার কাজের মাধ্যমে পৃথিবী পরিচিত হয় একটি নূতন বিষয়ে, তাকেই "জনক" উপাধি দেয়া হয়। যার ফলে "জনক" শব্দটি নিয়ে রয়েছে ব্যপক বিতর্ক। তবে ফেইথ ফ্রিডম যে দাবীটা করেছে যে, জাবিরকে রসায়নের জনক বানানোটা মুসলিমদের আরেকটা ভন্ডামি - সেটা সম্পূর্ন অসত্য। জাবির তার অবদানের মাধ্যমেই পৃথিবীর সবার কাছে গ্রহনযোগ্য হয়েছেন। উইকিপিডিয়াতে (Click This Link) তাকে প্রাচীন রসায়নের জনক বলা হয়েছে তার কাজকে মূল্যায়ন করেই। জাবেরকে রসায়নের জনক স্বীকৃতি দিয়ে এরকম শত সহস্র লেখা পাওয়া যাবে যার উপর মুসলিমদের কোন প্রভাব নেই। সুতরাং ফেইথ ফ্রিডমের এসব কথা শুধুই বিদ্বেষ প্রসূত, মনের জ্বালা মেটানোর ব্যর্থ প্রয়াস মাত্র।


জাবিরের অবদান অবশ্য ফেইথ ফ্রিডম অস্বীকার করেনি। কিন্তু জাবিরকে তারা নন-প্রাকটিসিং মুসলিম বলে দাবী করে, প্রশ্ন উঠিয়েছে, "জাবেরের ধর্মীয় চেতনার সাথে একমত না হওয়া সত্ত্বেও মুসলিমরা কেন জাবেরকে নিয়ে গৌরব বোধ করে এবং তাকে মুসলিম বিজ্ঞানী হিসেবে দাবী করে?"

জাবেরকে নিয়ে মুসলিমরা গৌরব বোধ করার মূল কারন রসায়ন শাস্ত্রে জাবেরের অবদান। আর শুধু মুসলিমরাই গর্ব বোধ করেছেন, এই দাবীও পুরো সত্য নয়। যা হোক, মূল প্রসংগ হচ্ছে: ফেইথ ফ্রিডমের দাবী জাবের আসলে মূলধারার মুসলিম ছিলেন না - এটা কতটুকু সত্য?

জাবের ৮০০ শতকের একজন বিজ্ঞানী। খুব স্বাভাবিক ভাবেই তার সম্পর্কে খুব নিশ্চিত করে কিছু জানা যায় না। জাবেরের বিষয়ে যে বিষয়টি ইতিহাসবিদদেরকে সন্দিহান করে তুলেছিল তা হল জাবেরের রেখে যাওয়া বিশাল গ্রন্থভান্ডার। এত গ্রন্থ একজনের পক্ষে লেখা কি আদৌ সম্ভব - এই প্রশ্ন থেকেই জাবের হয়ে থাকেন এক রহস্যাবৃত ব্যক্তি। ধীরে ধীরে নিরন্তর গবেষনার ফলে জাবের সম্পর্কিত রহস্যের জট খুলতে থাকে। জাবেরের গ্রন্থের পাশাপাশি ল্যাবরেটারী এবং সেখানে রাখা মর্টার পাওয়া যায়। ইতিহাসবিদরা এসব নিদর্শন থেকে ঘটনাপ্রবাহের সূতো গাথতে থাকেন। কিন্তু সে ইতিহাস কখনই অনিশ্চয়তার ছাপমুক্ত ছিল না। যতটুকু জানা যায় তাতে জাবেরের মূলধারার ইসলামের প্রতি আসক্তি ও বিশ্বাস বেশ ভাল ভাবেই ছিল বলে প্রতীয়মান হয়। জাবের ছিলেন প্রখ্যাত শিয়া ফকীহ এবং ইমাম জাফর সাদিকের শিষ্য (http://en.wikipedia.org/wiki/Ja'far_al-Sadiq)। জাবেরের লেখা গ্রন্থে ইমাম জাফর সাদিককে "মাস্টার" বলে সম্বোধন করা হয়েছে। জাফর সাদিক শিয়া হলেও সুন্নীদের মাঝে গ্রহনযোগ্য ইসলামী ব্যক্তিত্ব। জাফর সাদিকের শিষ্যের মধ্যে রয়েছেন ইমাম আবু হানিফা, যিনি সুন্নীদের হানাফী মাজহাবের প্রতিষ্ঠাতা, মালিক ইবনুল আনাস, যিনি মালিকি মাজহাবের প্রতিষ্ঠাতা এবং ওয়াসিল ইবনুল আতা, যিনি মুতাজিলা মতবাদের জনক। ইমাম জাফর সাদিক মতবাদের উপরে সর্বস্তরের কাছে গ্রহনযোগ্য একজন ব্যক্তিত্ব। সেজন্য শিয়া মতবাদের হওয়ার জন্য কেন জাবের ইবনুল হাইয়ানকে সাধারন মুসলিমদের থেকে ভিন্ন মতাদর্শের হতে হবে, তা বোধগম্য নয়। শিয়াদের বিভিন্ন বইতে জাবেরকে ইমামের একজন ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে দেখানো হয়েছে। একজন নন-প্রাকটিসিং মুসলিম কেনই বা ইমাম জাফর সাদিকের মত একজন উচুস্তরের ইসলামী ব্যক্তিত্বের ঘনিষ্ঠ ও স্থায়ী সাহচর্য পাবে, সেটা মোটেও বোধগম্য নয়। সুতরাং ফেইথ ফ্রিডম কিসের উপর ভিত্তি করে জাবেরকে ভিন্ন চেতনাধারী দাবী করছে, তা বোঝা গেল না।

একটা ব্যাখা হতে পারে ইসমাইলিয়া সম্প্রদায়ের দ্বারা জাবের ব্যবহৃত হয়েছেন। জাবেরের নাম করে ইসমাইলিয়ারা নিজেদের লেখা চালিয়েছে। সেজন্য মনে হতে পারে জাবের বুঝি ইসমাইলিয়া সম্প্রদায়ের একজন। কিন্তু সেটা তো অসম্ভব, কারন ইসমাইলিয়া মতবাদের জন্ম হয়েছে জাবেরের পরবর্তী কালে। এছাড়া যেসব বই জাবেরের লেখা বলে ধারনা করা হয়, তাতে কোথাও ইসমাইলিয়া বা সে জাতীয় মতবাদের প্রভাব দেখা যায় না। জাবের শিয়া ছিলেন, যিনি ইমাম জাফর সাদিকের ঘনিষ্ঠ সহচর - ইতিহাস সেদিকেই জোরালো ইংগিত দেয়। কিছুটা সুফী ভাব জাবেরের মধ্যে ছিল, তবে এটাও সম্ভবত ইমাম জাফর সাদিকের প্রভাবে প্রভাবিত হবার জন্যে। তবে জাবেরের ধর্ম দর্শন নয়, ইসলামী জ্ঞানচর্চা নয়, বরং মূল অবদান রসায়ন শাস্ত্রে - সেটা অনস্বীকার্য।

=========================================
রেফারেন্সগুলো:


Click This Link


Click This Link ibn hayyan&f=false

Click This Link


Click This Link

Click This Link
http://en.wikipedia.org/wiki/Geber

http://www.statemaster.com/encyclopedia/Geber
http://www.absoluteastronomy.com/topics/Geber

Click This Link

Click This Link

Click This Link

 

সর্বশেষ এডিট : ২০ শে নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ৮:৪৪ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ১৯ শে নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ৯:৫৬
নাজিম উদদীন বলেছেন: "আল কেমী বহু আগে থেকে চলে আসা একটি সাবজেক্ট, পৃথিবীর মানুষ লোহা থেকে সোনা বানানোর অসম্ভব চেষ্টা প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকেই করছে। "

কি বুঝাইতে চাইলেন বুঝলাম না। ডিস্টিলেশানের মত জিনিস মানুষ বহু আগে থেকে জানে। ৮০০ সালের জাবের কিভাবে আপনার কথামত প্রাগৈতিহাসিক কালথেকে চালু বিষয়ের জনক হয়?

আপনার কথামত জাবের সম্বন্ধে তেমন বেশি জানা যায় না, "জাবের হয়ে থাকেন এক রহস্যাবৃত ব্যক্তি।" জাবের নিজেকে মুসলিম মনে করত কি না সেটাই যখন নিশ্চিত না তখন তারে মুসলিম বানানোর চেষ্টা করে বিজ্ঞানের কি লাভ, মুসলিমদেরই বা কি লাভ? আর কত অতীতে বাস করবেন, বর্তমানে মুসলমানরা কি 'কিমিয়া কিতাব' রচনা করতেছে?
১৯ শে নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ১০:০৬

লেখক বলেছেন: আল কেমী বহু আগে থেকে চলে আসছে। জাবের আল কেমী থেকে সিস্টেমেটিক উপায়ে এক্সপেরিমেন্টেশনের মাধ্যমে "কেমিস্ট্রি"কে দাড় করান।

ইতিসাহ বিদরা অনেক দিন নিরন্তর গবেষনা করে জাবেরের বিষয়ে তথ্য দাড় করান। জট খুলবার আগে পর্যন্ত অনিশ্চয়তা ছিল।

আমার লেখা সংক্ষিপ্ত। রেফারেন্স গুলো পড়ে দেখতে পারেন। ওখানে বিস্তারিত রয়েছে। আমি মূলত সেখান থেকেই নিয়েছি।

ডিস্টিলিশনের এক্সপেরিমেন্টেশন জাবের করে দেখান।

১৪ ই মার্চ, ২০১০ রাত ১:৫৪

লেখক বলেছেন: জাবের প্রসংগে উইকিপিডিয়ার কমেন্টটা এককথায় বেশ চমৎকার।

"Introduced the experimental method in alchemy"


"জাবের নিজেকে মুসলিম মনে করত কি না সেটাই যখন নিশ্চিত না তখন তারে মুসলিম বানানোর চেষ্টা করে বিজ্ঞানের কি লাভ, মুসলিমদেরই বা কি লাভ?"

প্রথমত: প্রশ্নটা ফেইথ ফ্রিডমকে করা প্রয়োজন। কেন তারা জাবেরের ধর্মাচরন নিয়ে এসব লিখছে। আমি শুধু তাদের বক্তব্যের যুক্তিহীনতা ও অসারতা তুলে ধরেছি।

দ্বিতীয়ত: লাভ ক্ষতি বিচার করে ইতিহাস লেখা হয় না। ইমামের প্রতি জাবেরের শ্রদ্ধা নিবেদন, একমাত্র আল্লাহভক্তদের জন্য আলকেমীর দুয়ার খোলা জাতীয় বক্তব্য - এসবই জাবেরের চরিত্রকে প্রকাশ করে। ইতিহাস এভাবেই রচিত হয়। জাবেরকে নিয়ে ইতিহাস রচনায় মূলত অমুসলিমরাই আগ্রহী। এটা তার অবদানের কারনে।

চাদের একটি ক্রেটারের নামও হয়েছে বিজ্ঞানী জাবেরের নামে।

২. ১৯ শে নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ৯:৫৮
ফিরোজ-২ বলেছেন: শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ।+
২০ শে নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ৮:৩২

লেখক বলেছেন: আপনাকেও ধন্যবাদ।

২০ শে নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ৮:৩২

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

৪. ১৯ শে নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ১০:৩১
নোঙ্গর ছেঁড়া বলেছেন: দারুণ লেখা! অভিনন্দন, বন্ধু।
২০ শে নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ৮:৩২

লেখক বলেছেন: আপনাকে ধন্যবাদ।

৫. ১৯ শে নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ১০:৩৪
ম্যাভেরিক বলেছেন: সুন্দর লেখা।

"আরবী এবং "কিমিয়া" এসেছে "কেম" থেকে, যার অর্থ "কালো মাটি"। মিশরের নীল নদের তীরের মাটি কালো হওয়ায় এ নাম, কেননা "আল কেমী"র ব্যপক চর্চা মূলত হয়েছে মিশরে। তবে এ নিয়ে বিভিন্ন মত রয়েছে। কেউ কেউ বলেন, গ্রীক "কায়মা" থেকেও "কেমী" শব্দটি আসতে পারে।"---আমি প্রথম মতটিকে এগিয়ে রাখি, কারণ নীলনদের কৃষ্ণ মৃত্তিকার মিশরীয় প্রতিশব্দ অনুসারে, মিশরের প্রাচীন নামই ছিল "কেমেত/খেমেত"; আবার মরুভূমির লোহিত মৃত্তিকা অনুসারে মিশরকে কেউ কেউ "দেশরেত"ও বলত। সুতরাং রসায়নের প্রাচীন ইতিহাস পর্যালোচনা করলে কেমেতের সাথে কেমিস্ট্রির সম্পর্ক সুস্পষ্ট। গ্রিক কায়মা থেকেও যদি হয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে কায়মা এই কেমেত থেকেই আসার সম্ভাবনা বেশি।

"জাবেরকে কেন প্রাচীন রসায়নের জনক বলা হবে, সেটাই তাদের কাছে বিষ্ময়।"--এখানে মনে হচ্ছে আপনি প্রাচীন নয়, আধুনিক রসায়ন, মানে কেমিস্ট্রি, বুঝাতে চাচ্ছেন। কারণ জাবেরকে প্রাচীন রসায়নের জনক বলা যায় না, বরং আলকেমির কুসংস্কারাচ্ছন্ন অংশ দূর করে তিনি একে কেমিস্ট্রির দিকে উত্তরণ ঘটান। তাই অনেকে তাকে আধুনিক রসায়নের জনক বলেন, যে সম্মানটুকু অনেকে রবার্ট বয়েলকেও দিয়ে থাকেন।
১৯ শে নভেম্বর, ২০০৯ রাত ৮:২৭

লেখক বলেছেন: রসায়ন শাস্ত্রের জনক "জাবের", কারন তিনিই প্রথম এর সাইন্টিফিক এক্সপেরিমেন্টেশন প্রতিষ্ঠিত করে যান। তবে পরবর্তীতে ল্যাভয়সিয়ে অনেক অবদান রাখেন। যার ফলে ল্যাভয়েসিয়েকে (সাথে সাথে বয়েল এবং আরো ক'জনকে) আধুনিক রসায়নের জনক বলা হয়েছে।

আমি আসলে রেফারেন্স গুলো অনুসরন করেছি। "কাকে রসায়নের জনক বলা হবে?" সেই এক প্রশ্ন। তো, যেটার বিষয়ে অধিকাংশ মানুষ সম্মত হয়েছে, আমি সেটাই অনুসরন করেছি।

২০ শে নভেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:১৮

লেখক বলেছেন: ম্যাভেরিক ভাই, আপনার মন্তব্য অত্যন্ত সুন্দর।

এমনিতে আমি জীবনী লেখার সময় সবচেয়ে জোরালো রেফারেন্স এবং ডকুমেন্টস নিয়ে থাকি। আমার রেফারেন্স গুলোর অধিকাংশই আমেরিকান পাবলিশার্স থেকে প্রকাশিত বই। তাই তাদের দৃষ্টিভংগি আমার লেখায় চলে আসা বিচিত্র কিছু নয়।

"রসায়নের জনক" বিষয়টি নিয়ে ইন্টারনেটে ব্যপক আলোচনা দেখলাম। ল্যাভয়সিয়ে কিছুটা এগিয়ে। ল্যাভয়সিয়ে ৩ ভোট পেলে, জাবের হয়ত ১ ভোট পান। তাই উইকির ক্লাসিফিকেশনটাই আমার উপযুক্ত মনে হল। জাবের প্রাচীন রসায়নের জনক, ল্যাভয়সিয়ে আধুনিক রসায়নের জনক।

একটা কথা না জানালেই নয়। জাবের নিয়ে এই লেখাটা লেখার সময়ে আপনার কথা মনে হয়েছিল। যখন "জাবির" থেকে "জিবারিশ" শব্দের উদ্ভবের কথাটা লিখি। আপনার "শব্দ রাজ্যে অভিযানের" কথা মাথায় উকি দিয়ে যায়।

৬. ১৯ শে নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ১০:৪০
নাজনীন১ বলেছেন: জাবের বিজ্ঞানী, রসায়নবিদ -- এটাই তো যথেষ্ট পরিচয়। তিনি কি মুসলিম ছিলেন, কুরআন থেকে কি কোন রসায়নের সূত্র আবিষ্কার করেছেন কিনা, উনার ব্যক্তিগত ধর্মীয় বিশ্বাস -আচার কেমন ছিল, এগুলো নিয়ে গবেষণার আদৌ কি কোন দরকার আছে। মুসলিম বিজ্ঞানী, অমুসলিম বিজ্ঞানী --- এধরণের বিভক্তির কি কোন প্রয়োজন আছে?? একজন বিজ্ঞানী মুসলিম হোক, খ্রিস্টান হোক, হিন্দু হোক, নাস্তিক হোক, তাতে বিজ্ঞানের কি যায় আসে? কি তত্ত্ব আবিষ্কার হলো, সেটা কতটা দরকারী সেটাই তো মূল ব্যাপার।

জাবের যেহেতু মুসলিম ছিলেন, তাই উনার বিশ্বাস-আচার মুসলিমদের মতো হবে সেটাই স্বাভাবিক। আবার একজন অমুসলিম বিজ্ঞানীর আচার-বিশ্বাস তার ধর্ম অনুযায়ী হবে, তাতে কি তার দ্বারা আবিষ্কৃত বিজ্ঞান কি মুসলিমদের কোন উপকারে আসবে না? তা নিশ্চয়ই নয়।

তাই বিজ্ঞানীদের এই বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী, মুসলিম, হিন্দু, খ্রিস্টান এ ধরণের ভাগের দরকার নেই।

তবে সারাবিশ্বে বর্তমানে মুসলিম জ্ঞান-বিজ্ঞানীর সংখ্যা অনেক কম বলেই হয়তো আগেকার মুসলিম বিজ্ঞানীদের কথা বেশী বেশী প্রচার করে মুসলিমদেরকে এক ধরণের উৎসাহ দেয়া হচ্ছে। এটা হয়তো বর্তমান সময়ের প্রেক্ষিতে প্রয়োজন। কিন্তু এতে করে যেন কোন বিভাজন টেনে আনা না হয়। একজন ইহুদী বিজ্ঞানীও যদি মানবকল্যাণে কোন কিছু আবিষ্কার করে, তাকেও যথাযথ স্বীকৃতি আমাদের দিতে হবে।

তবে আরবের বিজ্ঞানীরাই মনে হয় প্রথম এক্সপেরিমেন্টালী বিজ্ঞানচর্চা শুরু করে, যেটা এরিস্টটোলদের যুগে ছিল হাইপোথেটিক্যাল। কিন্তু হাইপোথেটিক্যাল চিন্তারও কিন্তু অবদান কম না, বরঞ্চ বেশীই, কারণ হাইপোথিসিস থেকেই আইডিয়া তৈরী হয়।
২০ শে নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১০:৫২

লেখক বলেছেন: বিজ্ঞানীদের অবদানের পাশাপাশি তার জীবন, সময়কাল সবকিছুই স্টাডি করা হয়। যেমন, জাবেরের জীবনে আব্বাসীয় রাজবংশের প্রভাব কিংবা ইমাম জাফর সাদিকের প্রভাব - এই সবই ইতিহাসে এসেছে। ইতিহাস বেত্তারা যেসব পদ্ধতি অনুসরন করেন, তাতে একজনের জীবনের সবকিছুই তারা গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। "জাবের কি ইমাম জাফর সাদিকের শিষ্য ছিলেন কিনা" তা নিয়ে ব্যপক বিতর্কের পরে প্রমান হয়েছে যে তিনি শিষ্য ছিলেন। ইতিহাসবেত্তারা এটা গুরুত্ব দিয়ে করেছেন। "জাবের কার শিষ্য ছিল, তা জানা অপ্রয়োজনীয়, সুতরাং এ বিষয়ে গবেষনা করব না" - সে মনোভাব ইতিহাসবিদেরা দেখান নি। আমার কাছেও ইতিহাসবিদদের এরকম ইতিহাস আহরন গুরুত্ববহ মনে হয়েছে। তবে ফেইথ ফ্রিডম যেভাবে হাস্যকর উপায়ে জাবেরকে ধর্ম দিয়ে বিচার করেছে, সেটা বিরক্তিকর।

মুসলিম বিজ্ঞানীদের কথা আলাদা করে প্রচার হচ্ছে - এরকমটি ভাবা ঠিক নয়। ইতিহাস রচনা হয় পুরোনোকে কেন্দ্র করে। অন্য সবার মত মুসলিম বিজ্ঞানীদের নিয়েও ইতিহাস রচনা হচ্ছে। ম্যাভেরিক ভাই ব্লগে প্রাচীন সিন্ধু সভ্যতার আপডেট দিয়েছিলেন। সবাইকে নিয়ে ইতিহাস রচনা হবে, কিন্তু মুসলিমদের নিয়ে হবে না - সেটা বেমানান।

গ্রীক বিজ্ঞানীদের মানব সভ্যতার উপর ব্যপক অবদান রয়েছে। আরব মুসলিম বিজ্ঞানীদের উপর তাই তার প্রভাব খুব বেশী।

৭. ১৯ শে নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ১০:৪৯
শূন্য আরণ্যক বলেছেন: পোষ্ট ভালো লাগলো -- নাজনীন১ এর মন্তব্যও ।
২০ শে নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১০:৫৩

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে। জবাব উপরে দিলাম।

৮. ১৯ শে নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ১১:৩৪
হোরাস্‌ বলেছেন: যার দ্বারা মানুষ "এলিক্সির" নামে এমন একটি যাদুকরী বস্তু তৈরী করতে পারবে। সে এলিক্সিরের ছোয়ায় লোহা হয়ে যাবে সোনা, তামা হয়ে যাবে রূপা, আর মানুষের আয়ু যাবে বহুগুন বেড়ে!!

মুসলিম হিসাবে বোল্ড করা লেখাটা কি বিশ্বাস করার কথা? আয়ু কি আল্লাহর হাতে না? তাইলে "এলিক্সির" ব্যবহার করে আয়ু বাড়ানো সম্ভব এটা বিশ্বাস করা সম্ভব কিভাবে?

মুতাজিলাদের (সংশয়বাদীদের) ৮ম-৯ম শতাব্দিতে আসারাইটরাই (অসংশয়বাদীরা) কাফের ঘোষণা দিছে। পরবর্তিতে যেটা আরও শক্তভাবে ইম্প্লিমেন্ট করেন ইমাম গাজ্জালি। যার মধ্যে আবু রুশদ, ইবনে সিনা এবং আল কিন্দির মত বিশিষ্ট বিজ্ঞানীরা ছিল।

এতবছর পরে এইসব বিজ্ঞানীদের ধর্ম নিয়া টানাটানি করে ফায়দাটা কি?
২০ শে নভেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:৪৮

লেখক বলেছেন: আল কেমী একটি গুপ্ত বিদ্যা। মুসলিমরা ঠিক কিসের কারনে আল কেমীর চর্চা করতো তা বলা যায় না। শুধু আয়ু বাড়ানোই তো আর আল কেমি বিদ্যার উদ্দেশ্য ছিল না। আর আয়ু বাড়া বা কমা আল্লাহর হাতে, তবে এটা তো আর অসম্ভব নয়। আমার সীমিত ইসলামের জ্ঞান তো সেরকমটিই বলে।

কাফের ঘোষনার বিষয়টি পাল্টাপাল্টি। খারেজীরাও অন্যদের মুসলিম ভাবত না। তবে ইমাম আবু হানিফা সহ মূলধারার ইমামরা এ জাতীয় ফতোয়া দেন নি। সবচেয়ে বড় কথা জাবেরকে কেউ এ জাতীয় ফতোয়া দিয়েছেন বলে কোন ইতিহাসও নেই। বরং জাবের তার বইগুলোতে "আল কেমি" অধ্যয়নের জন্য আল্লাহভীরু হওয়াকে আবশ্যিক সাব্যস্ত করেছেন।

মুসলিম বিজ্ঞানীরা একদিক দিয়ে সৌভাগ্যবান, কারন তাদের প্রায় সবারই স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে হতভাগা বিজ্ঞানী ল্যাভয়সিয়ে ফরাসী বিপ্লবের পরে বিপ্লবীদের দ্বারা গিলোটিনের মত জঘন্য উপায়ে নিহত হন। ল্যাভয়সিয়ের মত এত বড় বিজ্ঞানীর এরকম পরিনতি বড় দুঃখজনক।

বিজ্ঞানীদের ধর্ম নিয়ে টানাটানি করে লাভ যে নেই, সেটা যদি ফেইথ ফ্রিডম বুঝত তবে তো ভালই হত।

২০ শে নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ৯:২২

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

১০. ২০ শে নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:১৩
নাজনীন১ বলেছেন: বিজ্ঞানীদের ক্ষেত্রে আলোচনা গ্রীক বিজ্ঞানী, আরব বিজ্ঞানী, মার্কিন বিজ্ঞানী, জাপানী বিজ্ঞানী --- এরকমটা হতে পারে, কিন্তু হিন্দু বিজ্ঞানী, মুসলিম বিজ্ঞানী, ইহুদী বিজ্ঞানী.........এটা কেন যেন ভাবতে পারি না। আমরা যখন এরিস্টোটল, প্লেটো,.........,নিউটন, আইন্সটাইনদের থিওরী পড়ি, তখন কে কোন ধর্মের , এটা চিন্তায় আনি না।

প্রাচীন সভ্যতার ক্ষেত্রেও মেসপটেমিয়া, মিশরীয়, চৈনিক, মায়া, সিন্ধু ......... এভাবেই বলা হয়।

আবার ধর্মীয়ভাবে আলাদা হয় -- মুসলিম সাম্রাজ্য, খ্রিস্টান সাম্রাজ্য......। যেখানে যেটা হাইলাইট করা দরকার, সেখানে সেটা করা ভাল। আজ ইন্টারনেট ব্যবহার করছি, কে সেটা আবিষ্কার করেছে, তার ধর্ম কি, জীবনাচরণ কি , এটা নিয়ে ইতিহাসবিদদের আগ্রহ থাকতে পারে, কিন্তু ব্যবহারকারীদের সেটা না জানলেও ক্ষতি নেই খুব একটা, জানলেও খুব বেশী লাভ নেই। বরং কিভাবে সে ইন্টারনেটকে আরো কার্যকরী করা যায়, সেটাই ব্যবহারকারীদের বেশী জানা দরকার।
২১ শে নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:১০

লেখক বলেছেন: ব্যবহারকারীদের এটা না জানলেও চলে যে, কে আবিষ্কার করেছে, কিই বা তার জীবনী - এর সাথে একমত। জাবেরের ডিস্টিলেশন আমরা ব্যবহার করছি। "ডিস্টিলেশন" পদ্ধতিটাই আমাদের জানা প্রয়োজন, এর পেছনের আবিষ্কারকের জীবন প্রনালী না জানলেও তো চলে যায়।

তারপরেও কেউ কেউ হয়ত জানতে চায়। সেজন্যই ইতিহাসবিদদের নিরন্তর গবেষনারত দেখা যায়। আমিও সেটাতে আগ্রহ পাই বলে ব্লগে তুলে দেই। তবে বেশীর ভাগ মানুষ পায় না জেনেও (এসব লেখায় হিট খুব একটা থাকে না।)



আপনার মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

ভাল থাকুন।

১১. ২১ শে নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১:৪০
হোরাস্‌ বলেছেন: "মুসলিম বিজ্ঞানীরা একদিক দিয়ে সৌভাগ্যবান, কারন তাদের প্রায় সবারই স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। "

কারণ এরা কেউই ধর্মের বিরুদ্ধে যায় এমন কোন কথা প্রকাশ্যে বলেনি বা লেখেনি তাই। আর যাদের উদাহরণ দিলেন তাদের ক্ষেত্রে ঘটনাটা ঠিক উল্টো। পঁচা শামুকে পারা না দেয়া পর্যন্ত তো আর পা কাটা সম্ভব না।
২১ শে নভেম্বর, ২০০৯ রাত ২:১০

লেখক বলেছেন: মুসলিম বংশোদ্ভূত দার্শনিকরা যদি ইসলামের প্রতি সম্মান পোষন করে থাকেন, তবে তা আমাদের মতন সাধারন মুসলিমের কাছে প্রশস্তির।

অন্তত পক্ষে অন্যদের মত বিজ্ঞানী হত্যার দৃষ্টান্ত মুসলিমরা দেখায় নি - সেটাও প্রশস্তিদায়ক। তার পেছনের কারন যাই হোক না কেন।

১২. ২১ শে নভেম্বর, ২০০৯ রাত ২:২৫
রাগিব বলেছেন: "অমুকে মুসলমান হইলেও খারাপ নহে, কারণ সে নন-প্র্যাকটিসিং মুসলিম, তাই ব্যাটা সন্ত্রাসী নহে" -- এই টাইপের জিনিষ পশ্চিমা মিডিয়াতে ব্যাপকভাবে ফলাও করে বলা হয়। রীতিমত একটা নিয়ম হয়ে গেছে এটা। জিনেদিন (জয়নুদ্দিন) জিদানকে নিয়ে যখন হইহই চলছে, তখন খুব গুরুত্বদিয়ে সব বিদেশী পত্রিকায় এইটাই দেখেছি, জিদান জন্মসূত্রে মুসলিম হলেও "নন-প্র্যাকটিসিং" কাজেই নিরাপদ। অথচ অন্য অনেকের ক্ষেত্রে "অমুকে খুব devout খ্রিস্টান, নিয়মিত চার্চে যায়, চার্চের অমুক অ্যাক্টিভিটির মেম্বার" ইত্যাদি জোর দিয়ে বলে।

---

তবে বিজ্ঞানীদের "মুসলিম", "খ্রিস্টান", "ইহুদি", "হিন্দু" এই টাইপের ট্যাগিং করাটা হাস্যকর। নিদেনপক্ষে জাবেরকে আরব বিজ্ঞানী বলা যেতে পারে। একথা তো অনস্বীকার্য যে, ইউরোপের অন্ধকার যুগে পুরো বিশ্বে প্রাচীন গ্রিস ও প্রাচীন ভারতের জ্ঞানকে ধরে রাখা, এগিয়ে নেয়া, ও লিপিবদ্ধ করে রাখার কাজটা আরব বিজ্ঞানীরাই করেছে। অনেক বইই গ্রিক থেকে আরবি আর সেখান থেকে পরে ল্যাটিনে এসেছে।

ভারতের হিন্দুত্ববাদীরাও আবার "হিন্দু বিজ্ঞানী"দের কৃতিত্ব নিয়ে গলা ফাটিয়ে চলে সারাক্ষণ।

---

"অন্তত পক্ষে অন্যদের মত বিজ্ঞানী হত্যার দৃষ্টান্ত মুসলিমরা দেখায় নি - সেটাও প্রশস্তিদায়ক। তার পেছনের কারন যাই হোক না কেন।"

বিজ্ঞানী হত্যার কাজটা যতটুকু মনে পড়ে কেবলমাত্র ইউরোপেই হয়েছে মধ্যযুগে। তার সাথে ধর্মের চাইতে পলিটিক্যাল ব্যাপারস্যাপার অনেক বেশি জড়িত ছিলো (পোপদের ক্ষমতা বহাল রাখার অপচেষ্টা)। অন্য কোনো ধর্মে (ইসলাম, হিন্দু, বৌদ্ধ,ইহুদি) বিজ্ঞানী হত্যার নজির নাই বলেই জানি।
২১ শে নভেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:০০

লেখক বলেছেন: ফরাসী বিপ্লবের পরে অনেক দার্শনিক, বিজ্ঞানীদের হত্যা করা হয়। রাজার পৃষ্ঠপোষক হবার কারনে।

মুসলিম বিজ্ঞানীরা তেমন একটা না পেলেও মুসলিম দার্শনিকরা টিপিক্যাল উপায়ে রক্ষনশীলদের কাছ থেকে যথেষ্ট বিরোধিতা পেয়েছেন।

তবে শুধুমাত্র বিজ্ঞান চর্চার জন্যে নির্যাতনের মুখোমুখি হওয়াটা (যেমনটি গ্যালিলিও হয়েছিলেন) সম্ভবত মধ্যযুগীয় ইউরোপিয়ান স্টাইল।

এ বিষয়ে ভালমত জানার জন্য খুব চেষ্টা করছি।

ধন্যবাদ।

২১ শে নভেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:৪১

লেখক বলেছেন: বিজ্ঞানীদের ট্যাগিং এর বিষয়টি হাস্যকর কিনা এটা অনেকটা প্রকাশ ভংগির উপর নির্ভর করে। তাই কলম্বাসকে যখন "নিবেদিত প্রান ক্যাথলিক" বলে উল্লেখ করা হয় আমেরিকার টেক্সট বইতে, কিংবা খাওয়ারিজমী যখন "হিন্দু আর্ট অব রেকনিং" লিখেন, তখন তা আসলে বাস্তবতা ও ইতিহাসকে তুলে ধরে।

আরব বিজ্ঞানী নিয়ে বিতর্ক হওয়াটা অসম্ভব কিছু না। ইরানের মানুষজন নিজেদেরকে আরব ভাবতে মাঝে মাঝে অপছন্দ করে। এদিকে বিজ্ঞানীদের একটা বড় অংশ পারস্যবাসী।

ধন্যবাদ।

১৩. ২১ শে নভেম্বর, ২০০৯ রাত ২:২৮
রাগিব বলেছেন: দুঃখজনক হলো, আরব বিজ্ঞানীরা ১০০০ বছর আগে যেভাবে বিজ্ঞান চর্চা করতেন, বর্তমানে ইসলামী মৌলবাদীদের চাপে পড়ে এবং কাটমোল্লা জাতীয় ফতোয়ার প্রকোপে বিজ্ঞান চর্চা লাটে উঠেছে। এই ব্লগেই দেখা চলে, বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে ধর্মীয় দুইটি জিনিষ প্রয়োগ করা হয়

১) বিজ্ঞানের অমুক জিনিষটি আগে থেকেই আল-কুরআনে বলা আছে।

২) বিজ্ঞানের তমুক জিনিষটি আমি মানি না, কারণ এইটা ইসলাম ধর্ম বিরোধী।

এই দুই অদ্ভুত উটের পিঠে চলতে থাকা সমাজ তাই বিজ্ঞান চর্চায় জাবিরদের উলটো দিকেই চলছে ... আফসোস এখানেই।
২১ শে নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ৯:৪২

লেখক বলেছেন: বিজ্ঞান চর্চায় এখনকার মুসলিমরা পিছিয়ে পড়েছে।

একটা কারন হতে পারে স্পন্সরশীপের অভাব। ধনী মুসলিম দেশগুলো সেভাবে জ্ঞান বিজ্ঞানে মনোনিবেশ করছে না। আর গরীবগুলোর তো সমস্যার অন্ত নেই। বাংলাদেশ তার সীমিত সামর্থ নিয়ে শিক্ষার বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে বেশ কিছু মানসম্পন্ন বিশ্ববিদ্যালয় তৈরী করেছে - যা অবশ্যই প্রশংসনীয়।

বিজ্ঞানের সব বিষয় ধর্ম নিয়ে ব্যখা করতে চাওয়াটা বিরক্তিকর। তবে এটা যতক্ষন জ্ঞান বিজ্ঞানের চর্চাকে বাধাগ্রস্ত না করে, ততক্ষন এটার বিরোধিতা করি না। তারাও তো এক ধরনের গবেষনা করছে। হারুন ইয়াহিয়ার এ জাতীয় বইগুলো পড়তে ভালই লাগে।

আপনার মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।


১৪. ২১ শে নভেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:৩৬
এস. এম. রায়হান বলেছেন: "ফেইথ ফ্রিডম সাইটের কথা আপনারা শুনেছেন কিনা জানিনা। ইসলামের উপর তিতা বিরক্ত হয়ে যারা ইসলাম পরিত্যাগ করেছেন, তাদের মিলন মেলা হল এই সাইট।"

তাদের সাইটে এই কথা বলা হলেও সেখানে বেশীরভাগ লেখক ও পাঠক অন্যান্য ধর্মের উগ্র বর্ণবাদী ও সাম্প্রদায়িক।
২১ শে নভেম্বর, ২০০৯ ভোর ৬:৫৭

লেখক বলেছেন: এক নজর চোখ বুলিয়ে আমারও সেরকমটিই মনে হল। বিশেষত জাবের প্রসংগে তারা যা লিখেছে তাতে বোঝা যায়।

ধন্যবাদ।

১৫. ২১ শে নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ৯:৪৪
মদনদেব বলেছেন: পোস্টের জন্য সহস্র +
পোস্ট সরাসরি প্রিয়তে ।
২১ শে নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ১০:০৭

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে।

১৬. ২৩ শে নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১:০২
পারভেজ রবিন বলেছেন: মুসলমানদের অভিযুক্ত করা হয় তারা বিজ্ঞান চর্চা করে না, তারা বিজ্ঞান হতে বহু দুরে। কিন্তু মুসলমানদের বিজ্ঞান চর্চার ইতিহাস তুলে ধরা হয় তখনই কথা উঠে বিজ্ঞানীদের ধর্মীয় ট্যাগিং করাটা হাস্যকর। কিন্তু এমন কথা উঠেনা সন্ত্রাসীদের বেলায়। যখন কোন খ্রীস্টন জাতি বিছিন্নতাবাদী সসস্ত্র আন্দোলন করে (যেমন বাস্ক) তখন বলা হয় না খ্রীস্টান সন্ত্রাসী। কিন্তু মুসলমান হলে তাদের ধর্মীয় ট্যাগিঙ করা হয়। কিন্তু এই ধারায় যখন বিজ্ঞানীদের ট্যাগিং করা হয় তখন রব উঠে গেল গেল গেল...
সন্ত্রাসীগুলো আমার আর বিজ্ঞানীগলো তোমার। মানুষের ডাবল স্ট্যান্ডার্ড দেখলে বিস্ময় লাগে।
২৩ শে নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১:২৬

লেখক বলেছেন: মুসলিমদের এক সময়কার বিজ্ঞান চর্চার ইতিহাস অত্যন্ত গৌরবময়। মুসলিম সাম্রাজ্যের সার্বিক পৃষ্ঠপোষকতা এর একটি কারন। এটাকে তাই ট্যাগিং বলে গুরুত্বহীন করা যায় না।

১৭. ২৫ শে নভেম্বর, ২০০৯ ভোর ৬:০০
ফজলে এলাহি বলেছেন: আপনার এ প্রচেষ্টা সত্যিই অনেক প্রশংসনীয়। বাংলাভাষাভাষীদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ নেট জগতে। আশা করবো এ সিরিজ দীর্ঘ করবেন।
২৫ শে নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ৮:৪২

লেখক বলেছেন: চেষ্টা থাকবে। আপনার মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

১৮. ২৭ শে নভেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:১৮
মাসুদুল হক বলেছেন: ঐতিহাসিক এসব ব্যক্তিবর্গ কতটা ধার্মিক ছিলেন কিংবা সঠিক ধর্মীয় পথে ছিলেন তা নির্ণয় করা মোটেও সহজসাধ্য কোন কাজ নয়...মুসলমানরা তাদের অবদানকে নিজেদের অবদান বলার প্রেক্ষিত হল এসব মুসলিম শাসনামলে সংঘটিত..তাদের এসব কাজের পেছনে মুসলিম পৃষ্ঠপোষকতা ছিল..এ কারনই যথেষ্ট তা মুসলমানদের অবদান হিসেবে উল্লেখ করার জন্য। চার্চের মত মুসলিম শাসকরাতো কখনো বিজ্ঞানের চর্চায় প্রতিবন্ধক হয়ে উঠেনি..কেননা ইসলামী নিদের্শনায় জ্ঞানচর্চা, ধর্মচর্চারই অঙ্গ।

আর ফেইথ ফ্রিডমের ভন্ডামী নতুন কিছু নয়...
পোষ্টের জন্য ধন্যবাদ।
২৭ শে নভেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:৪৪

লেখক বলেছেন: আপনাকে ধন্যবাদ।

বিজ্ঞানীদের ব্যক্তি জীবনের ধর্মাচরনের খুটিনাটি না জানা গেলেও তাদের বই পুস্তক থেকে এটা প্রমান হয় যে তারা নানাভাবে ধর্ম দিয়ে প্রভাবান্বিত ছিলেন। ধর্মের যে ব্যাখাই তারা দিন না কেন, ধর্মকে উপেক্ষা তারা করেন নি।

আর সার্বিকভাবে মুসলিম সাম্রাজ্য ছিল জ্ঞানচর্চার পৃষ্ঠপোষক।

১৯. ২২ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:২৭
বিবেক সত্যি বলেছেন: সময় নিয়ে পুরোটা পড়লাম । অনেক কিছু জানা হলো...
২২ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:২৩

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। কতদিন পরে দেখা।

২০. ৩০ শে জানুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:৫১
তায়েফ আহমাদ বলেছেন: ভাল লেখা। মিস হয়েছিল, কিভাবে কে জানে!
৩০ শে জানুয়ারি, ২০১০ রাত ৯:১০

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

০৫ ই মার্চ, ২০১০ সকাল ৮:১৮

লেখক বলেছেন: আপনাকেও ধন্যবাদ।

২২. ১৪ ই মার্চ, ২০১০ ভোর ৪:১৫
জাতি জানতে চায় বলেছেন: অনেকে এধরনের প্রবন্ধকে বিজ্ঞানীদের ধর্ম দিয়ে ট্যাগিং করা বুঝায়!! কিন্তু আমার কাছে মনে হয়েছে ইসলাম বিজ্ঞানীদের কাজে বাধা দেয় না!! বরং সামাজিক স্থিতাবস্থায় জ্ঞান-বিজ্ঞানের উৎকর্ষে পরোক্ষ সহায়তাও করে!! এটা তারই প্রমাণ!
১৪ ই মার্চ, ২০১০ ভোর ৬:৩৪

লেখক বলেছেন: আমি এখানে ট্যাগিং এর বিষয়টি বুঝতেই পারিনি। ফেইথ ফ্রিডমের যুক্তির অসারতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছি মাত্র। আর বাকীটা রেফারেন্স বইতে যেভাবে লেখা হয়েছে অনেকটা সেভাবেই তোলা।

আমার মনে হয় কি জানেন? জাবের যে ইমাম জাফর সাদিকের শিষ্য ছিল, এটাই অনেকের কাছে ভাল লাগছে না।

 

মোট সময় লেগেছে ১.০৮৯৮ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
তোমরা মুসলিম হয়ে আমাকে ধন্য করেছ, তা মনে করো না।
বরং আল্লাহ ঈমানের পথে পরিচালিত করে তোমাদের ধন্য করেছেন। (হুজুরাত:১৭)
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ