অনুসন্ধান:
cannot see bangla? সাধারণ প্রশ্ন উত্তর বাংলা লেখা শিখুন আপনার সমস্যা জানান ব্লগ ব্যাবহারের শর্তাবলী
তোমরা মুসলিম হয়ে আমাকে ধন্য করেছ, তা মনে করো না।
বরং আল্লাহ ঈমানের পথে পরিচালিত করে তোমাদের ধন্য করেছেন। (হুজুরাত:১৭)
আর এস এস ফিড

আমার বিভাগ

আমার প্রিয় পোস্ট

আস সালাম - আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক

রোহিঙ্গা: অবহেলিত, নির্যাতিত তবু অপরাজিত এক জনপদ

০৭ ই এপ্রিল, ২০১০ সকাল ৯:৫০ |

শেয়ারঃ
8 0

[সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকার বেশ কঠোর মনোভাব দেখিয়ে কিছু রোহিঙ্গা শরনার্থীদের মায়ানমার ফেরত পাঠায়। আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে যা আলোচিত এবং সমালোচিত হয়েছে। তার সূত্র ধরে এই লেখাটিতে বিদ্যমান রোহিঙ্গা সমস্যার কিছু দিক ফুটিয়ে তোলা আমার উদ্দেশ্য। ]

রোহিঙ্গা ইস্যু: সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে বাংলাদেশ

প্রথমেই আসুন দেখি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রোহিঙ্গা বিরোধী অভিযান আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে কিভাবে এসেছে। নীচে কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম থেকে অল্প কিছু অংশ দেয়া হল। পুরোটা পড়তে চাইলে সাথের লিংকে ক্লিক করুন।

১। রয়টার্স:

যেসব দেশবিহীন রোহিঙ্গা শরনার্থীরা তাদের নিজের দেশ মায়ানমারের শোষন থেকে মুক্তির জন্য প্রতিবেশী বাংলাদেশে পালিয়ে গিয়েছিল, তাদেরকে পিটিয়ে সেখান থেকে আবার ফেরত পাঠানো হচ্ছে। বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ আশ্রয়কেন্দ্র ভেংগে দিয়েছে এবং জোরপূর্বক বাসিন্দাদের সরিয়ে দিয়েছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের একজন রিসার্চার ডেভিড ম্যাথিসন বলেন, "গত ত্রিশ বছর ধরে রোহিংগারা বাংলাদেশে নানা রকম নির্যাতনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং সরকারের আচরনে এটা স্পষ্ট যে তাদের কাছে রোহিংগারা অনাকাংখিত।" রয়টার্স সংবাদটি প্রকাশ করে "Rohingyas reported beaten, evicted in Bangladesh" ("বাংলাদেশে রোহিংগারা প্রহৃত এবং বহিষ্কৃত") শিরোনামে।
http://www.reuters.com/article/idUSSGE61I066

২। নিউ ইয়র্ক টাইমস:

নিউ ইয়র্ক টাইমস থেকে দুটি আর্টিক্যালের উদ্ধৃতি দিচ্ছি। প্রথমটি ফেব্রুয়ারী ২০ তারিখের এবং দ্বিতীয়টি মার্চের ১৩ তারিখের।

"বার্মিজ রিফিউজিস পারসেকিউটেড ইন বাংলাদেশ" শিরোনামে ফেব্রুয়ারীতে প্রকাশিত লেখায় বাংলাদেশে রোহিংগা শরনার্থীদের উপর নির্যাতনের কিছু চিত্র তুলে ধরা হয়। গত এক মাসে শুধু কক্স বাজারেই শত শত রেজিস্ট্রেশন বিহীন রোহিংগাদের গ্রেপ্তার করে হয় বার্মায় ফেরত পাঠানো হয়, নতুবা ইমিগ্রেশন আইনে জেলে ভরা হয়। রোহিংগাদের উপরে ডাকাতি, হামলা এবং ধর্ষন খুব বেড়ে গিয়েছে। অপুষ্টি এবং মৃত্যুহার সমস্ত সীমা পেরিয়েছে । এই জনবহুল ক্যাম্প রোগের আখড়ায় পরিনত হয়েছে। রোহিংগারা এটা জানে যে, তারা সমাজের সবচেয়ে নীচের স্তরের মানুষ এবং তারা সব জায়গাতেই অনাকাংখিত। সর্বত্রই তারা নিরাপত্তাবিহীন এবং অধিকারহীন বহিরাগত মাত্র। ৬৯ বছরের আবদুল বলেন, "যদি বনের কোন প্রানীকে হত্যা করা হয় তবে তা হয় বেআইনী এবং শাস্তি যোগ্য অপরাধ। কিন্তু মানুষ হয়েও আমরা তার যোগ্য নই। আমরা তো পশুদের চেয়েও নিকৃষ্ট।" Click This Link


দ্বিতীয় লেখাটি "মায়ানমার রিফিউজিস ফেস গ্রিম ফিউচার ইন বাংলাদেশ", প্রকাশকাল ১৩ই মার্চ। যাতে আবারও রাহিংগাদের দুরবস্থার প্রতিধ্বনি করা হয়। কুটুপালং এর দিলদার বেগম স্বামীর গ্রেপ্তারের পর থেকে পাচ সন্তান নিয়ে দুর্বিসহ জীবন যাপন করছেন। "আমার এবং আমার সন্তানদের মৃত্যু হলে ভাল হয়।" - পচিশ বছর বয়েসী এই নারী এভাবেই আক্ষেপ করলেন। মুসলিম হবার কারনে তারা বৌদ্ধ মায়ানমারে অনাকাংখিত। অন্যদিকে বিদেশী হবার কারনে তারা বাংলাদেশে অনাকাংখিত। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বাংলাদেশ রোহিংগাদের উপরে বেশ কঠোর হয়েছে, তাদের গ্রেপ্তার করেছে এবং দেশে ফেরত পাঠিয়েছে। সীমান্তে বসিয়েছে অতিরিক্ত প্রহরা। সাথে সাথে এইড গ্রুপগুলোকে খাদ্য সাহায্য বিতরনে সতর্ক করেছে যাতে রোহিংগারা এদেশে আসতে উৎসাহিত না হয়। খাদ্য সাহায্য কমে যাওয়ায় রোহিংগারা অভূক্ত থাকছে। Click This Link rohingyas&st=cse

৩। ইসলাম অনলাইন:

বাংলাদেশে পুলিশ রোহিংগাদের নদী সাতরে মায়ানমারে ফিরতে বাধ্য করছে বলে ইসলাম অনলাইনের রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়। "রোহিংগা'স টেস্ট বাংলাদেশ এবিউস" লেখাটিতে রোহিংগারা বাংলাদেশে স্থানীয় জনতা ও পুলিশের নির্যাতনের শিকার হচ্ছে বলে দাবী করা হয়। বাংলাদেশে ধুকে ধুকে মরাই যেন তাদের নিয়তি।
Click This Link

৪। আল জাজিরা:

"রোহিংগা ক্রাকডাউন ইন বাংলাদেশ" লেখায় বলা হয়, বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিংগারা প্রচুর সহিংসতার মুখোমুখি হচ্ছে। জাতিসংঘের মতে রোহিংগারা পৃথিবীর সবচাইতে নির্যাতিত সংখ্যালঘু জনপদের একটি। নির্যাতনের ফলে মায়ানমারের উত্তর রাখাইন প্রদেশ থেকে হাজার হাজার রোহিংগা বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে ২২০,০০০ রোহিংগা বাস করছে। Click This Link

৫। টাইম:

"ফর রোহিঙ্গা ইন বাংলাদেশ, নো প্লেস ইস হোম" শিরোনামের রিপোর্টে বলা হয়, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বাংলাদেশে কুটু পালং ক্যাম্পে রোহিংগাদের উপরে নৃশংস ক্রাক ডাউন চলছে। তেইশ বছর বয়েসী জিয়াউর রহমান বলেন, "সীমান্ত রক্ষীরা আমার আংগুল ভেংগে দেয় এবং আমাকে নদীতে ফেলে দেয়। এবং বলে সাতরে ফেরত যেতে।" .....। স্থানীয় বাংলাদেশীদের সাথে রোহিংগাদের সম্পর্ক শীতল। চলছে কাজের প্রতিযোগিতা, যেখানে রোহিংগারা কম মজুরীতে কাজ করতে রাজী। আবার কেউ কেউ আশংকা করছেন জংগী গ্রুপগুলো এই নির্যাতিত এবং নেতাশূন্য জনপদকে চরমপন্থার দিকে ঠেলে দেবে। Click This Link

৬। এএফপি:

"মায়ানমার রিফিউজিস স্টার্ভ টু ডেথ ইন বাংলাদেশ" লেখায় বাংলাদেশে রোহিংগাদের করুন অবস্থা বর্ননা করা হয়। হাইতির বিশাল ভূমিকম্পের পরে যেখানে শিশু অপুষ্টির হার শতকরা ছয় ভাগ, সেখানে রোহিংগা ক্যাম্পে তা ১৮ দশমিক ২ ভাগ। জাতিসংঘ কর্তৃক সবচেয়ে নির্যাতিত হিসেবে চিহ্নিত এই জন গোষ্ঠীর উপরে পুলিশ চড়াও হয়ে জেল বহিষ্কার সহ যেসব ব্যবস্থা নিচ্ছে তা সুষ্পষ্ট মানবাধিকার লংঘন।

(Click This Link )




ডেইলী স্টার ও ব্যাংকক পোস্টের প্রতিক্রিয়া:

আন্তর্জাতিক পত্র পত্রিকায় বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিংগাদের উপরে নির্যাতনের খবর প্রকাশ হবার পরে এ প্রেক্ষিতে ডেইলী স্টার মার্চের ২৮ তারিখে এই বিষয়ের উপরে একটি লেখা ছাপে [১০]। যেখানে রোহিংগাদের জন্য বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বিশ্বে যেসব সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে তার কিছু চিত্র স্থান পায়। সৌদি আরব সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রোহিঙ্গারা কি করে বাংলাদেশের ইমেজ ক্ষুন্ন করছে, তার কিছু বর্ননা সমৃদ্ধ লেখা। লেখাটিতে যদিও রোহিংগাদের উপর নির্যাতনকে স্বীকার করে নেয়া হয়েছে, তবুও তা একপেশে এবং অসম্পূর্ন। রিপোর্টের একটি অংশের সাথেই শুধু একমত হওয়া যায়। তা হল, রোহিংগারা বার্মার সন্তান এবং বার্মাকেই বাধ্য করতে হবে সে দায় নেবার জন্যে। অনেক অংশ, যেমন - রোহিংগারা সৌদি আরবে ক্রাইমের সাথে জড়িত, সে দায় বাংলাদেশ কেন নেবে - সত্য হলেও রোহিংগাদের সামগ্রিক অবস্থা বিবেচনা করে তাদের ঠিক সেভাবে দায়ী করা যায় না। একটি জনগোষ্ঠীর সমস্ত অধিকার অস্বীকার করে তাদের কাছ থেকে দায়িত্বশীলতা আশা করা যায় না। এছাড়া রিফিউজিরা সব দেশেই এরকম সমস্যা তৈরী করে থাকে। বরং সব পক্ষকে আন্তরিকভাবে এগিয়ে এসে সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানানো উচিত ছিল। খাপছাড়া ভাবে সেসব কথা যে আসেনি তা নয়, তবে সামগ্রিক মূল ভাব সেরকমটি ছিলনা। বরং মূল বক্তব্য হচ্ছে দায় কাটানো। রিপোর্টের যে লাইন গুলো সবচেয়ে বিরক্তিকর তা হল:

Ironically, the MSF report on persecution of Rohingyas in Bangladesh was released on the day when the Prothom Alo carried the report on involvement of Rohingyas in criminal activities in Saudi Arabia. The MSF report has also been uploaded onto some websites in a bid to generate sympathy for Rohingya refugees

লেখকের সার কথা হল, আন্তর্জাতিক বিশ্বের এসব রিপোর্ট উদ্দেশ্য মূলক- রোহিংগাদের প্রতি সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা মাত্র। অথচ, ডেইলী স্টারের রিপোর্টের কোথাও উল্লেখ নেই আন্তর্জাতিক মাধ্যমের এসব রিপোর্ট আসলে "মিথ্যা"। তাহলে, ডেইলী স্টার কি আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম গুলোতে রোহিঙ্গা বিষয়ক সত্য প্রকাশ হোক, তা চায় না?

এখানে উল্লেখ্য, রোহিংগা অনুপ্রবেশকারীদের যে শুধু বাংলাদেশেই প্রতিহত করা হচ্ছে, তা নয়। এ বিষয়ে বাংলাদেশের চেয়েও অনেক বেশী নিন্দা ও সমালোচনার মুখোমুখি যে দেশ হয়েছে, তা হল থাইল্যান্ড। থাইল্যান্ডের নয়টি ক্যাম্পে ১১১,০০০ রোহিংগা রিফিউজি বসবাস করছে। থাইল্যান্ডে গত ২০০৮ এর ডিসেম্বরে প্রায় ১০০০ অবৈধ অনুপ্রবেশকারী রোহিংগাদের সীমান্ত রক্ষীরা শারীরীক নির্যাতন করে এবং সাগরে নৌকা দিয়ে ভাসিয়ে দেয়। অপ্রতুল খাবার দিয়ে তাদের নৌকার ইন্জিন কেটে দেয়। যাদের বেশীর ভাগই সাগরে ভেসে যায় এবং বাকীরা ইন্দোনেশিয়র সুমাত্রায় কিংবা ভারতের আন্দামান দ্বীপে উদ্ধার হয়। ধারনা করা হয় পাচটি নৌকার শুধু একটিই বেচে যায়। এই ঘটনা সারা বিশ্বে "থাই বোট এবিউস" নামে পরিচিতি পায়। [৯] বিশ্বের চাপের মুখে থাইল্যান্ড এই ঘটনায় তদন্তের আশ্বাস দেয়। একজন থাই অফিসার ঘটনাটি স্বীকার করে নিয়ে বলেন, "ইন্জিন না কাটলে ওরা আবার ফিরে আসত।" [৮] এ বিষয়ে ব্যাংকক পোস্ট তাদের সম্পাদকীয়তে "থাই বোট এবিউস" নিয়ে সীমান্তরক্ষীদের এহেন অমানবিক আচরনের নিন্দা জানায়। সাথে সাথে এও লিখে:

"অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিষয়ে থাইল্যান্ডের কোন দায়বদ্ধতা নেই। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক আইন রয়েছে এবং ইমিগ্রেশন প্রত্যাশীদের সেসব নীতিমালা অনুসরন করতে হবে। রোহিংগারা দক্ষিনে নিরাপত্তা সমস্যা তৈরী করে থাকে, যেখানে তারা স্থানীয় মুসলিমদের সাথে খুব সহজে মিশে সরকার ও মুসলিমদের মাঝে সম্পর্কের ফাটল তৈরী করে।"

ব্যাংকক পোস্ট রোহিংগাকে আঞ্চলিক সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে সব পক্ষের অংশ গ্রহনে সমাধানের উদ্যোগের প্রতি আহ্বান জানায়। [৭]

বার্মার অন্যান্য প্রতিবেশী দেশের মত রোহিংগারা যে বাংলাদেশের জন্যেও একটি বড় সমস্যা হয়ে দাড়িয়েছে, সে বিষয়ে দ্বিমতের কোন অবকাশ নেই। ভারত, থাইল্যান্ড, পাকিস্তানের মত বাংলাদেশও ১৯৫১ এর শরনার্থী কনভেনশনের স্বাক্ষর করা ১৪৭ টি দেশের একটি নয়। যার ফলে শরনার্থীদের বিষয়ে বাংলাদেশের কোন সুনির্দিষ্ট নীতিমালা নেই। ১৯৯১ সালের পর থেকে তাই ঢাকা একজন রোহিংগাকেও শরনার্থী হিসেবে রেজিস্টার করেনি। [৬] সেজন্যে এসব অনিবন্ধিত রোহিংগারা বাংলাদেশের মানুষের সাথে মিশে যাবার সুযোগ পাচ্ছে। যা খুব স্বাভাবিক ভাবেই বাংলাদেশের জন্য বড় একটি সমস্যা হয়ে দাড়িয়েছে।

রোহিংগাদের উপরে বার্মার নির্যাতনের দীর্ঘ ইতিহাস:

বাংলাদেশ, থাইল্যান্ড সহ বিভিন্ন দেশে এত প্রতিকূলতার সম্মূখীন হলেও রোহিংগারা বার্মায় ফিরে যেতে আগ্রহী নয়। শতকের শতক ধরে চলে আসা নৃশংসতা ও নির্যাতনই এর মূল কারন, যা স্বল্প পরিসরে শেষ হবার নয়। আমি হাজারো ঘটনা থেকে উদাহরন হিসেবে অল্প কয়েকটি ঘটনা ও ইতিহাস তুলে ধরছি।

নবম শতক থেকে আরাকান প্রদেশে (যা এখন রাখাইন নামে পরিচিত) আরব, মোগল, তুর্কী, পর্তুগীজ এবং বাঙ্গালসহ নানান বিদেশী বনিক, সৈন্য প্রমূখ বসতি স্থাপন করে । পনের শতকের দিকে এই বসতি ইসলাম ধর্ম গ্রহন করে এবং নিজস্ব শিল্প-সংস্কৃতি গড়ে তোলে। এরাই রোহিঙ্গা নামে পরিচিত।


ছবি: ষোল শত শতকের আরাকানের মূদ্রা, যা বাংলার সুলতান শামস আল দীনের নামে নামাংকিত। (উইকি থেকে নেয়া)

আরাকানের এই রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর উপরে বার্মার সৈন্যদের আক্রমন ছিল খুবই সাধারন ঘটনা। ১৭৮৫ সালে প্রায় ৩০০০০ বার্মীজ সৈন্য আরাকান আক্রমন করে লাইব্রেরী, মসজিদ এবং বিভিন্ন স্থাপনা ধ্বংস করে। সাথে সাথে ২০০০০ রোহিঙ্গাকে দাসত্বের শৃঙ্খলে আবদ্ধ করে। রোহিঙ্গাদের উপরে এধরনের বহু ধ্বংস লীলা নিয়মিত বিষয় হয়ে দাড়িয়ে যায়। এরকম একটি আক্রমনে জীবন্ত রোহিঙ্গাদের পুড়িয়ে মারার মত অমানবিক ঘটনাও ঘটে।

বার্মীজদের এ নৃশংসতা ভুলে যাবার নয়। তাই ১৮২৫ সালে বৃটিশদের স্বাগত জানায় রোহিঙ্গারা। বৃটিশ শাসনে তাদের অবস্থা অনুকূলে থাকায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে রোহিঙ্গারা বৃটিশদের অনুগত থাকে। যার জন্য তাদের চরম মূল্য দিতে হয়। ১৯৪২ সালে ঘটে যায় সবচেয়ে নৃশংস রোহিঙ্গা গনহত্যা। সেখানকার রাখাইন মগদের দ্বারা প্রায় ৫০০০০ রোহিঙ্গা নিহত হয়। [৫] ২৮শে মার্চে শানবিলি গ্রামে শুরু হয় এই রোহিঙ্গা গনহত্যা। শানবিলির পরে এই ধ্বংস লীলা চলে লমবাইসর, রাইচাউং,পাঙ্খা গ্রামে। ১৯৪২ এর এই গনহত্যা এবং ধ্বংস লীলায় বিলুপ্ত হয় ৩০৭ টি রোহিঙ্গা অধ্যুষিত গ্রাম। কালাদান নদীর পূর্ব তীরে যা ছিল মুসলিম সংখ্যাগুরু এলাকা, তা হয়ে যায় মুসলিম সংখ্যা লঘু এলাকা। পরবর্তী সময়ে বৃটেন আবার দখল করে নেয় বার্মা এবং রোহিঙ্গারা তাদের স্বায়ত্বশাসন ফেরত পায়। কিন্তু তা বেশীদিন টেকেনা, কারন ১৯৪৮ সালে বৃটেন বার্মা ছেড়ে চলে যায়। স্বাধীন বার্মায় রোহিঙ্গাদের নিষিদ্ধ করা হয় সেনাবাহিনী, পুলিশ এবং সরকারী পদে। রোহিঙ্গারা আবারও অস্ত্র হাতে নেয়। কিন্তু এরকম অবস্থার মধ্যেও সংসদে রোহিঙ্গাদের প্রতিনিধি ছিল। ১৯৬২ সালে ক্ষমতায় আসেন জেনারেল নি উইন, যিনি রোহিঙ্গাদের সর্বাংশে গুড়িয়ে দেন। ১৯৭০ এর পর থেকে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব কার্ড প্রদান বন্ধ করে দেয়া হয়। ১৯৭৪ সালে কেড়ে নেয়া হয় ভোটাধিকার। এরপরে ১৯৭৮ সালে শুরু হয় অপারেশন ড্রাগন কিং। যার প্রেক্ষিতে ২৫০০০০ রোহিঙ্গা তাড়া খেয়ে বাংলাদেশে চলে আসে। আন্তর্জাতিক চাপের ফলে এদের বেশীর ভাগকেই তখন আবার বার্মা ফেরত নেয়। কিন্তু এখানে শেষ হয় না। ১৯৯১-৯২ সালে আরো এক সমুদ্র রোহিঙ্গা এসে হাজির হয় বাংলাদেশে। বর্তমানে বার্মার প্রতিবেশী দেশগুলো এই রোহিঙ্গা সমস্যায় কিংকর্তব্যবিমূঢ়।[৪]

রোহিঙ্গা অধ্যুষিত জনপদে সেনা অভিযান নিয়মিত হয়ে দাড়িয়েছে। এমনি এক অভিযানে যখন মংদুতে একটি মসজিদ বন্ধ করে দেয়া হয়, তখন একজন রোহিঙ্গা বলছিল, "মারাকেশ মসজিদ এক বছর আগে বন্ধ করে দেয়া হয়। আমাদের কেউ কেউ চেয়ে চেয়ে দেখছিলো। পুলিশ তাদের পিটিয়ে বের করে দেয়।" আরেকজন শরনার্থী বলেন, "আমার ২০ একর জমি এবং ৭টি গরু ছিল। সব কেড়ে নেয়া হয়েছে।" [৩]


এতকিছুর পরে রোহিঙ্গাদের উপর আরেকটি বড় আঘাত নেমে আসে ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইনের মাধ্যমে। ১৯৪৮ সালের নাগরিকত্ব আইনে সব নাগরিক সমান সুবিধা ভোগ করত, যা ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইনে নেই। ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইন অনুযায়ী বার্মান নাগরিক তিন ধরনের হতে পারে: পূর্ন নাগরিক, সহযোগী নাগরিক এবং ন্যাচারালাইজড নাগরিক। পূর্ন নাগরিক হচ্ছে তারা যারা ১৮২৩ সালে ব্রিটিশ শাসনের পূর্বে বার্মায় অবস্থান করছিল। মোট ১৩৫ টি জাতিসত্ত্বা এই নাগরিকত্বের অনুমোদন পায়, যাদের মধ্যে রোহিঙ্গারা নেই। এই পূর্ন নাগরিকরা রাষ্ট্রের সব ধরনের নাগরিক অধিকার পাবেন। সহযোগী নাগরিক এবং ন্যাচারালাইজড নাগরিকদের অধিকার পূর্ন নাগরিক অধিকারের সমকক্ষ নয়। ১৯৮৯ সালে বিভিন্ন বর্নের নাগরিকত্ব কার্ড সবাইকে দেয়া হলেও রোহিঙ্গাদের কোন রকম কার্ড দেয়া হয় না। রোহিঙ্গারা হারায় নাগরিকত্ব, তারা বার্মা কিংবা অন্য কোন দেশের নাগরিক নয়। বার্মা রোহিঙ্গাদের পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে আসা অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হিসেবে গন্য করে। ভ্রমন, বিয়ে, সন্তান সহ অন্যান্য নানা বিষয়ে তাদের উপরে আরোপ করা হয় কড়াকড়ি। শিক্ষার আলো এবং স্বাস্থ্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হয়। ভ্রমনে কড়াকড়ি থাকায় অসুস্থ কাউকে হাসপাতালে নেয়া একটি বিশাল সমস্যা হয়ে দাড়ায়। [১] ২০০১ থেকে আরাকানের আকিয়াব বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের পড়ার সুযোগ সীমিত করা হয়। ফলে তারা অনেকটা অশিক্ষিত হয়ে বাড়ছে। মেডিসিন স্যান ফ্রন্টিয়ার্সের মতে রোহিঙ্গারা বিলুপ্তির হুমকিতে রয়েছে।[২]

শেষ কথা:

রোহিঙ্গাদের উপর দীর্ঘ নির্যাতনের ইতিহাস সত্ত্বেও তারা ঘুরে দাড়িয়েছে এবং বিশ্ব জনমতকে নিজেদের পক্ষে নিতে পেরেছে। আশা করা যায়, খুব দ্রুত বার্মা তাদের নাগরিকত্ব এবং নাগরিক অধিকার প্রদান করবে। তবে সেরকম সমাধান আসার আগ পর্যন্ত সব পক্ষকে ধৈর্যশীল হয়ে রোহিঙ্গাদের বিষয়টি মানবিক ভাবে বিবেচনা করতে হবে। মনে রাখতে হবে, রোহিঙ্গারা অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হলেও, তাদের কেস অন্য অনুপ্রবেশকারীদের মত নয়। বরং এই রোহিঙ্গাদের এই অনুপ্রবেশকে আমি দেখি বাচার সংগ্রাম হিসেবে, জীবনের প্রতি মমত্ববোধের অংশ হিসেবে। যারা বাচতে চায়, জীবনকে গড়তে চায়।

১। Click This Link
২। Click This Link
৩।http://www.amnesty.org/en/library/asset/ASA16/006/1992/en/30e04c3e-f93d-11dd-92e7-c59f81373cf2/asa160061992en.pdf
৪। Click This Link
৫। http://en.wikipedia.org/wiki/Rohingya_massacre
৬।http://www.weeklyblitz.net/536/rohingya-persecution-in-bangladesh
৭। Click This Link
৮।http://www.bangkokpost.com/news/investigation/136770/rohingya-a-regional-problem

৯। Click This Link
১০। Click This Link

 

সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ৯:৫৬ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 


৬০টি মন্তব্য

১. ০৭ ই এপ্রিল, ২০১০ সকাল ১০:১৮

হিটলারের সাগরেদ বলেছেন: রোহিংগারা মুসলীম বলে আন্তর্জাতিক সমাজে কোন মাথা ব্যথা নেই। যদি হিন্দ, বৌদ্ধ বা খৃষ্টান হত তবে দেখতেন সবাই বলেই বসত টেকনাফ তাদেরকে উৎসর্গ করা হোক।

০৯ ই এপ্রিল, ২০১০ ভোর ৫:০০

লেখক বলেছেন: রোহিঙ্গাদের বিষয়ে আরো বেশী সচেতনতা প্রয়োজন।

২. ০৭ ই এপ্রিল, ২০১০ সকাল ১০:২২

ভুডুল বলেছেন: +

০৭ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ৯:৩০

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

৩. ০৭ ই এপ্রিল, ২০১০ সকাল ১০:৩১

ভুডুল বলেছেন: অনেক কিছু জানলাম। ধন্যবাদ গুরুত্বপূর্ণ এই পোস্টের জন্য।

০৮ ই এপ্রিল, ২০১০ বিকাল ৩:১০

লেখক বলেছেন: পড়ার জন্যে অসংখ্য ধন্যবাদ।

৪. ০৭ ই এপ্রিল, ২০১০ সকাল ১০:৩৮

মানবিক ৩০ বলেছেন: এই সমস্যা টা সরকার আন্তরিক হয়ে দেখা উচিত তবে রোহিঙ্গারা রা বর্তমানে নানা খারাপ কাজে জড়িত হয়ে পড়ছে .........বিদেশে গিয়ে বাংলঅদেশ এর পরিচয়ে অকাম কুকাম করছে

১০ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ১২:৪৯

লেখক বলেছেন: রোহিঙ্গাদের সাথে নিষ্ঠুরতা না করে কি করে সমস্যার সমাধান করা যায় - সেটা নির্ধারনই প্রথম কর্তব্য।

৫. ০৭ ই এপ্রিল, ২০১০ সকাল ১১:৩৮

নাজনীন১ বলেছেন: অনেক কিছু জানলাম। ধন্যবাদ।

বাংলাদেশ সরকারের এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিকভাবে রোহিঙ্গা সমস্যা তুলে ধরে মায়ানমারকে চাপ দিতে হবে, যাতে করে দ্রুত এ সমস্যা সমাধান হয়। জনবহুল এদেশে রোহিঙ্গাদের জন্য আরো ভাল ব্যবস্থা করার অনেক সীমাবদ্ধতা আছে। শরণার্থী মানেই মানবেতর জীবন-যাপন। তবে আমাদের অমানবিক আচরণ করা ঠিক নয়।

আর্থিক সাহায্যের সুবিধা-অসুবিধা দুই-ই আছে। সাহায্য পেলে কেউ আর কাজ করতে চায় না, বসে বসে খেতে চায়। আবার আমাদের নিজেদেরই বেকার সমস্যা আছে, ওদেরকে পর্যাপ্ত কাজ দেয়াও কঠিন, আবার স্থায়ীভাবে কাজ পেলে তারা আরো নিজের দেশে ফেরতও যেতে চাইবে না। সব দিকেই সংকট। আবার আমাদের পাহাড়ীরা অনেকে ভারতে শরণার্থী।

এরপরও তাদের স্বাস্থ্য-পুষ্টির ব্যাপারে বিভিন্ন সাহায্যসংস্থার কাজ করতে দেয়া উচিত।



অফটপিকঃ অক্ষরের পরে shift+6 চাপলে চন্দ্রবিন্দু লেখা যাবে।
যেমন, চঁ = চ+শিফ্‌ট+৬।

০৯ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ৮:০৮

লেখক বলেছেন: আপনাকেও ধন্যবাদ।

সমাধান তো করতেই হবে। সীমান্তে মেরে পিটিয়ে বার্মা ফেরত পাঠানো যে কোন সমাধান নয়, তাই উল্লেখ করার চেষ্টা করছি। বাংলাদেশের রিফিউজি ক্যাম্পে এত বাজে অবস্থায় থাকে, তা সত্ত্বেও তারা বার্মায় ফিরতে চায় না।

তবে এও ঠিক যে, বাংলাদেশের মূল অর্থনৈতিক উৎস যেখানে প্রবাসী জনশক্তি, সেখানে রোহিঙ্গাদের জন্য যদি সে খাত কালিমা লিপ্ত হয় তবে তা বাংলাদেশের জন্য একটি বড় আঘাত। সেজন্যে বাঙ্গালীদের মধ্যে অতি দ্রুত রোহিঙ্গা বিরোধী মনোভাব গড়ে উঠছে।

আন্তর্জাতিক বিশ্বে সমস্যাটি ভালভাবে উপস্থাপন করাতেই সমাধান নিহিত। বাংলাদেশের সেই দিকে যাওয়া প্রয়োজন।

৬. ০৭ ই এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ২:১৫

ডিজিটালভূত বলেছেন: ওদের দুর্ভাগ্য ওরা মুসলিম। ++++++++++++++++++++++++

০৭ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ৯:২০

লেখক বলেছেন: তাতো ঠিকই। ধর্মীয় পরিচয় তাদের উপর নির্যাতনের অন্যতম কারন।

৭. ০৭ ই এপ্রিল, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৩৮

নিউজকাস্টার বলেছেন: প্লাসের বিনিময়ে প্রিয়তে নিলাম। রেফারেন্স হিসেবে কাজে লাগানো যাবে।

০৭ ই এপ্রিল, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৫৩

লেখক বলেছেন: আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

৮. ০৭ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ৮:১০

শাওন বলেছেন: বাপরে কি বড় লেখা । অনেক ঐতিহাসিক ব্যাপার স্যাপার জানলাম । আপু অনেক ধৈর্য নিয়ে পড়েছি । :( এর জন্যে উল্টো আমাকে প্লাস দিবেন আপনি ।

অনেক তথ্যের জন্য আপনাকে +

০৭ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ১০:১৮

লেখক বলেছেন: পড়ার প্লাস রইল। আবার অনেক দিন পরে মন্তব্য করেছো, সেজন্যে আরেকটা প্লাস।

সব মিলিয়ে হাজারো ধন্যবাদ।

৯. ০৭ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ৮:৩৫

দ্বীপবালক বলেছেন: রোহিঙ্গারা বাঙালী, তাই তাদের জন্য বাংলাদেশের রয়েছে অনেক করণীয়। তাদেরকে বাঙালী অভিহিত করেই আরাকান থেকে তাড়িয়ে দিচ্ছে বর্মী জান্তা।

০৯ ই এপ্রিল, ২০১০ সকাল ১০:৩০

লেখক বলেছেন: বার্মা দাবী করছে রোহিঙ্গারা বাঙ্গালী, বাংলাদেশ থেকে বার্মাতে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী। কিন্তু রোহিঙ্গারা আরাকানকেই নিজেদের আবাস ভূমি মনে করে। তারা তাদের নিজস্ব "রোহিঙ্গা" পরিচয়কে তুলে ধরতে আগ্রহী।

বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের জন্য শরনার্থী ক্যাম্প করেছে। দরিদ্র, তার উপরে জনবহুল দেশ বলে বাংলাদেশের পক্ষেও অতিরিক্ত জনসংখ্যার বোঝা ঘাড়ে নেয়া খুব কঠিন। দুঃখ জনক হল, মধ্যপ্রাচ্যের আরব দেশগুলো উল্টো বাংলাদেশকে দায়ী করছে রোহিঙ্গাদের অপরাধের জন্য। যা স্থানীয় বাংলাদেশীদের মাঝে রোহিঙ্গা বিরোধী মনোভাব তৈরী করছে।

প্যালেস্টাইনের ক্ষেত্রে যেমন আরব দেশ গুলো সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছে, তেমনি ভাবে রোহিঙ্গাদের জন্যেও তাদের হাত বাড়ানো প্রয়োজন। আরব দেশগুলোতে রোহিঙ্গাদের সরাসরি কাজে নেয়া হলে "রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশী পাসপোর্ট নিয়ে অপরাধ" করার অপবাদ বাংলাদেশকে সহ্য করতে হবে না।


মন্তব্যের জন্যে ধন্যবাদ। শুভ কামনা রইল। ভাল থাকুন।

১০. ০৭ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ১১:৪৩

অলস ছেলে বলেছেন: স্থানীয়দের সাথে শরণার্থীদের সমস্যার বিষয়টি সাধারণত সারা দুনিয়া জুড়েই ঘটে। কিন্তু গত কয়েকসপ্তাহ আগের আন্তর্জাতিক মিডিয়াগুলোতে একধারসে বাংলাদেশ বিরোধী প্রচারণা দেখে মনে হচ্ছিলো, মায়ানমার যুক্তিসংগত ভাবে এদের তাড়িয়ে দিচ্ছে, আর বাংলাদেশ যেন মহা অপরাধ করে ফেলছে। বিশেষ করে আলজাজিরার ওয়েবসাইটে যখন খবরটা দেখলাম, তখন ভাবছিলাম এ প্রচারণা জোয়ারের উৎস কি। তারপর একে ওকে জিজ্ঞাসা করতে শুরু করলাম, জানতে পারলাম বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা রোহিঙ্গা নেতাদের সাথে মিডিয়ার সখ্যতার গল্প। তাদের বড় ধরণের ফান্ডিং হয় অজানা উৎস থেকে। দেশে থাকতে নিজ চোখে কোটি কোটি টাকার ভাগাভাগি নিয়ে আরএসওর দলাদলি কোন্দল নেতাদের ধান্দাবাজি দেখেছি। সৌদি আরবে দেখেছি এ অমানুষ গুলো কত বড় পশু হতে পারে, বাংলাদেশীদের সমস্যা তো করছেই, নিজেদের নির্যাতিত অংশের উপর এরা আরো বেশি নির্যাতন করছে। প্রচুর সাধ্যসাধনা করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পবিত্র মক্কা শহরে যদি কেউ কোন পতিতাকে খুঁজে বের করতে পারে, দেখা যাবে মেয়েটি রোহিঙ্গা। আর পাসপোর্ট বাংলাদেশ কনসুলেটের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের অবদান। দোষ মেয়েটার না, দোষ ঐ র‌্যাকেট যারা চালায় রোহিঙ্গা নেতা, তাদের। ডেইলি ষ্টার খুব ভুল কিছু লেখেনি এ প্রসঙ্গে। আমি একসময় মনে করতাম পৃথিবীতে ধান্দাবাজি চিকন বুদ্ধি আর শিয়ালের সাথে পাল্লা দেবার মতো জাতি আমরাই আছি। রোহিঙ্গাদের সাথে ভালোভাবে মিশে, কারণ আমার বাড়িও দক্ষিণ চট্টগ্রামে, ঐ ভুল ধারণা ভেঙ্গে গেছে।

১২ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ১২:৪৫

লেখক বলেছেন: আপনার মন্তব্যের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

আপনার কথাগুলো সত্য হবার সম্ভাবনা বেশী। নাগরিকত্ব বিহীন অবস্থায় নির্যাতন আর অবহেলার মাঝে যারা বেড়ে উঠে, প্রতারনার সাথে তারা খুব সহজে অভ্যস্ত হয়ে যায়। যেরকম আচরন মানুষ নিজে পায়, সেরকম আচরন অন্যের সাথে করতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। যেমন, শ্বাশুরীর দ্বারা নির্যাতিত বৌ পরবর্তীতে নিজে শ্বাশুরী হয়ে ছেলের বৌ এর সাথে সেরকম আচরন করে।

১১. ০৮ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ১২:১২

শাওন বলেছেন: থ্যাংক ইউ আপু দুটো প্লাসের জন্যে :)

০৮ ই এপ্রিল, ২০১০ সকাল ৮:৩৭

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। ভালো থেকো।

১২. ০৮ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ১২:৪৪

অণুসন্ধানী বলেছেন: অণুসন্ধানী রিপোর্ট। +++++++++++++++

০৮ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ৩:৫৮

লেখক বলেছেন: অনুসন্ধানটা অবশ্য ভার্চুয়াল, মানে ইন্টারনেট ভিত্তিক। সরে জমিনে নয়।

আপনাকে ধন্যবাদ পড়ার জন্যে।

১৩. ০৮ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ১:৩৫

পারভেজ আলম বলেছেন: গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট। +++++++

০৮ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ৩:১৯

লেখক বলেছেন: পড়ার জন্যে ধন্যবাদ।

১৪. ০৮ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ৩:২৮

দিগন্ত বলেছেন: অবস্থাটা চাকমাদের মত, কিন্তু চাকমাদের পেছনে ইন্ডিয়া ছিল আর এদের পাশে কেউ নেই।

০৮ ই এপ্রিল, ২০১০ ভোর ৪:০১

লেখক বলেছেন: পাহাড়ী বা অন্যান্য জনপদের নাগরিকত্ব অস্বীকার করা হয় নি কখনো। আর বাংলাদেশের জনগনও তাদের পাশে ছিল।

রোহিঙ্গাদের অবস্থা বেশী খারাপ হওয়ার অন্যতম কারন সেখানকার রাখাইনদের সাথে চলে আসা তিক্ততা।

১৫. ০৮ ই এপ্রিল, ২০১০ ভোর ৪:১২

তায়েফ আহমাদ বলেছেন: ধীরে সুস্থে পড়ার জন্য রেখে দিলাম.....

০৮ ই এপ্রিল, ২০১০ ভোর ৬:৫৫

লেখক বলেছেন: পড়ুন এবং বিষয়ের উপর মন্তব্য করুন। আপনার মন্তব্য কাম্য।

ভালো থাকুন।

১৬. ০৮ ই এপ্রিল, ২০১০ ভোর ৪:১৫

ফিউশন ফাইভ বলেছেন: অন্তত চার লাখ রোহিঙ্গা বেআইনিভাবে বাংলাদেশে অবস্থান করছে। তাদের চিহ্নিত করাও কঠিন। একদিকে তাদের বেআইনি উপস্থিতি স্থানীয় সমাজে অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করছে, আবার অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলাজনিত সমস্যাও ঘটছে নিয়মিতই। অর্থনৈতিক চাপ ছাড়াও রোহিঙ্গা সমস্যাটি বাংলাদেশের জন্য সমস্যার বীজ হিসেবে থেকে যাচ্ছে। বিষয়টির মানবিক পরিণতির স্বার্থে এবং বাংলাদেশের এই বিড়ম্বনা থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য যত দ্রুত তাদের স্বদেশে ফেরত পাঠানো যায়, ততই তাদের ও বাংলাদেশের মঙ্গল।

প্রথম আলোর সাম্প্রতিক সংবাদগুলো শুধু দেখে যান একেক করে।

০৮ ই এপ্রিল, ২০১০ ভোর ৫:০৮

লেখক বলেছেন: প্রথমেই স্বীকার করছি, আমার জ্ঞান খুব বেশী নয়। এই ইন্টারনেটই তার একমাত্র উৎস।

ফেরত পাঠানোর মুশকিল হল বার্মা যদি এদের অধিকার প্রদানে গড়িমসি করে তবে এরা বেপরোয়া হয়ে আবার ফেরত আসবে। বার বার ফেরত আসতে থাকবে। যেমনটি থাই সীমান্তে হয়েছে। নিষ্ঠুরতা আন্তর্জাতিক বিশ্ব ভালভাবে নেয় নি। তাই বার্মায় ফেরত পাঠানোর পাশপাশি বার্মাকে নির্যাতন বন্ধে আন্তর্জাতিক চাপ প্রদান করতে হবে।

রোহিঙ্গা শরনার্থী চিহ্নিত করা কঠিন হলেও তো কাজটা করতে হবে। নতুবা যারা ইতিমধ্যে বাংলাদেশে অবস্থান করছে তাদের বার্মায় কি করে ফেরত পাঠানো হবে। রোহিঙ্গাদের নিবন্ধনের দ্বারা হয়ত অন্য কম জনবহুল দেশেও রিফিউজি হিসেবে পাঠানো যেতে পারে। এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বিশ্বের সাহায্য প্রয়োজন।

লিংকের জন্য ধন্যবাদ।

১৭. ০৮ ই এপ্রিল, ২০১০ ভোর ৫:১১

দিগন্ত বলেছেন: পাহাড়ী বা অন্যান্য জনপদের নাগরিকত্ব অস্বীকার করা হয় নি কখনো।

- অবশ্যই করা হয়েছিল, সেজন্যই অসংখ্য চাকমা ভারতে পালিয়ে একইরকম শরণার্থী ক্যাম্পে ছিল।

০৮ ই এপ্রিল, ২০১০ ভোর ৫:৫৮

লেখক বলেছেন: তখন পাহাড়িরা শরনার্থী ক্যাম্পে যায় সেনা অভিযানের কারনে, নাগরিকত্ব বাতিলের জন্য নয়। ৭১ এ বাঙ্গালীরা যেকারনে যায়। পাহাড়ীদের নাগরিকত্ব কবে বাতিল হয়েছিল, তার সুষ্পষ্ট ডকুমেন্ট দিন।

বাংলাদেশীরা পাহাড়ি জনগনের অধিকারে বিশ্বাসী বলেই সমস্যার সমাধান এগোচ্ছে। সেনা অভিযান কখনই কাম্য নয়, তবে অন্য দেশের সহায়তায় বিচ্ছিন্নতাবাদীরা যদি অস্ত্র দিয়ে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে তাহলে কাশ্মীর সহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মত বাংলাদেশে সেনা অভিযান খুবই বাস্তব চিত্র। আপনার আগের মন্তব্যেই সেরকম ইংগিত কিন্তু রয়েছে।

যা হোক, লেখাটা রোহিঙ্গাদের নিয়ে। আমরা বরং সেটাতে ফোকাস করি। বাংলাদেশে পাহাড়িদের অধিকার আদায়ের জন্যে এই ব্লগে প্রতিনিয়ত প্রচুর লেখা আসে। বাংলাদেশীরা এই বিষয়ে যথেষ্ট সচেতনতা দেখিয়েছে এবং ভবিষ্যতেও দেখাবে - এটা মোটামুটি নিশ্চিত।

১৮. ০৮ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ১১:৩২

দিগন্ত বলেছেন: রোহিঙ্গা, কাশ্মীরী বা চাকমাদের অবস্থা আলাদা কিছু নেই, আগেই বলেছি - তফাত এটাই যে রোহিঙ্গাদের পাশে কেউ নেই। সেজন্যই আপনাকে ধন্যবাদ দিলাম লেখার জন্য।

মায়ানমারে জান্তাকে ক্ষমতা থেকে দূর না করতে পারলে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব না।

০৯ ই এপ্রিল, ২০১০ ভোর ৫:৩৩

লেখক বলেছেন: আপনাকেও ধন্যবাদ। হ্যা,বার্মায় যেন গনতন্ত্র আসে, সমস্যার সমাধান যেন আনে - সে আশা করতে চাই।

১৯. ০৮ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ১১:৩৩

তায়েফ আহমাদ বলেছেন: রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে এমন গোছানো লেখা আর চোখে পড়ে নি। অনেক কিছু জানতে পারলাম। রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে শুরু থেকেই সরকারী পর্যায়ে সিদ্ধান্তহীনতা থাকার সুযোগে, এরা আমাদের এই চট্টগ্রাম বেল্টে বেশ অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করেছে। এছাড়া, দূর্নীতির মাধ্যমে বাংলাদেশী পাস্‌পোর্ট নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে গিয়ে বিভিন্ন অপকর্মের মাধ্যমে একটা ইমেজ সঙ্কট তৈরী করছে।
এত কিছুর পরেও, এটা সত্যি যে, মুষ্টীমেয় কিছু ছাড়া বাকী সকল রোহিঙ্গাই নির্যাতিত এবং অবহেলিত। সরকারের উচিৎ, এ ব্যাপারে তড়িৎ পদক্ষেপ নেয়া এবং এদের সপক্ষে বিশ্ব জনমত গড়ে তোলা........

আপনাকে ধন্যবাদ।

০৯ ই এপ্রিল, ২০১০ সকাল ৯:১৪

লেখক বলেছেন: সব মিলিয়ে রোহিঙ্গা সমস্যা একটি জটিল আকার ধারন করেছে। শরনার্থী হিসেবে চিহ্নিতকরন এবং বিশ্ব জনমত রোহিঙ্গাদের পক্ষে আনা - এ দুটো হল প্যাকেজ সমাধান। বার্মাকে চাপ দিয়ে রোহিঙ্গাদের বার্মায় ফেরত পাঠানোটাই একমাত্র ফলপ্রসূ সমাধান নয়। এর পাশাপাশি বার্মায় তাদের দ্রুত পুনর্বাসন এবং অধিকার আদায়ের তৎপরতা জরুরী। রোহিঙ্গা শরনার্থী যেহেতু আঞ্চলিক সমস্যা, তাই এক্ষেত্রে অন্যান্য দেশ যেমন ভারত, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া - এদের সহযোগিতা কাম্য। এই বিষয়টি নিয়ে জোরদার কূটনৈতিক তৎপরতা না চললে সমাধান আসবে না।

আপনাকেও ধন্যবাদ।

২০. ০৯ ই এপ্রিল, ২০১০ সকাল ১১:৩৪

০৯ ই এপ্রিল, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:১১

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। কাজে লাগবে।

২১. ০৯ ই এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ১২:২৫

মাহমুদ রহমান বলেছেন: চমৎকার লেখা।

রোহিঙ্গাদের প্রতি সহনশীল হওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মাধ্যমগুলোর সহায়তায় বার্মাকে চাপ প্রয়োগে বাংলাদেশের এগিয়ে আসা উচিত।

০৯ ই এপ্রিল, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:৪৮

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। অনেক দিন পরে মন্তব্য পাওয়া।

সহমত জানাচ্ছি।

২২. ১১ ই এপ্রিল, ২০১০ ভোর ৪:০৮

ফারজানা মাহবুবা বলেছেন: দারুণ লিখেছেন আপু। অনেকগুলো পয়েন্ট আসলে ভাবার মতো।
রোহিংগারা কী মুসলিম বলেই আন্তর্জাতিক মহলের এই নিরবতা?
রোহিংগাদের প্রতি আমাদের শত্রুতামূলক আচরণ কী রেসিজম না?
রোহিংগাদের ক্রাইম-রিলেটেড পজিশনের জন্যে কি শুধুমাত্র ওরাই দায়ী? পেটে ভাত না দিয়ে পিঠে মার কতক্ষন সহ্য হয়?
সেই সাথে এটাও ভাবা'র বিষয়, রোহিংগা এবং অন্যান্য উপজাতী সমস্যাগুলোর পিছনে ইন্ধনদাতাদের উদ্দেশ্য কী?

১১ ই এপ্রিল, ২০১০ সকাল ৮:২৫

লেখক বলেছেন: আপু, চমৎকার মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

রোহিঙ্গাদের প্রতি আমাদের আচরন রেসিজম না হলেও নিষ্ঠুরতা তো বটেই। যেখানে জানি যে বার্মায় তাদের মেরে ধরে বের করে দেয়া হয়, বাধ্যতামূলক ভাবে তাদের দিয়ে রাখাইন বসতি নির্মান করা হয়, সেখানে কোনরকম ব্যবস্থা গ্রহন ছাড়াই এভাবে ধরে ধরে ফেরত পাঠানো একরকম বিবেকহীনতা।

ক্রাইম তো সবাই করে। আমাদের কি এও বিশ্বাস করতে হবে শুধুমাত্র রোহিঙ্গারাই অপরাধে জড়িত? তবে তারা অন্য দেশের পাসপোর্ট নিয়ে অপরাধ করায় তা যখন নিজেদের উপরে এসে পড়ে তখন তা বাংলাদেশীদের কাছে বিরক্তিকর মনে হয়। সেজন্যে সরাসরি রোহিঙ্গাদের যদি আরব ও অন্যান্য বিভিন্ন দেশ কাজে নিত, তবে এই অপরাধের দায় বাংলাদেশীদের উপরে এসে পড়ত না। রোহিঙ্গাদের পাশে সবার দাড়ানো প্রয়োজন।

বাকী প্রশ্ন গুলো তো আমারো।

ভাল থাকবে।

২৩. ১১ ই এপ্রিল, ২০১০ ভোর ৪:১২

চাষী বলেছেন: আমরা বাংলাদেশীরা আসলে বিবেক হীন জাতি। ৭১ সালে হাজার হাজার বাংগালীকেও অন্য দেশে আশ্রয় নিতে হয়েছিল। সেটা আমরা ভুলে গেছি। আর এখন বিপদে পড়ে আশ্রয় নেয়া রোহিংগাদের সাথে আমরা অমানুষের মত ব্যবহার করছি।

১১ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ১১:৪৯

লেখক বলেছেন: রোহিঙ্গাদের প্রতি বাংলাদেশসহ সবার সহযোগিতামূলক আচরন করা কর্তব্য। আর আন্তর্জাতিক বিশ্বকে এটাও বুঝতে হবে এশিয়ার মত জনবহুল দেশে এভাবে লাগাতার রিফিউজি ক্যাম্প খোলা যায় না। সব পক্ষের সহযোগিতায় একটি গ্রহনযোগ্য সমাধানে পৌছার কোন বিকল্প নেই।

২৪. ১২ ই এপ্রিল, ২০১০ ভোর ৬:০৯

রিসাত বলেছেন: path koro allahr name. Akbar allar pura nam na re amma.

১২ ই এপ্রিল, ২০১০ ভোর ৬:৫০

লেখক বলেছেন: তোমার অন্য অনেক মন্তব্যের মত এটাও আমার মাথার উপর দিয়ে গেল। যা হোক, ভাল থাকার শুভ কামনা রইল।

২৫. ১৮ ই এপ্রিল, ২০১০ বিকাল ৪:৩০

সোহায়লা রিদওয়ান বলেছেন: আম্মু গিয়েছিল রোহিঙ্গাদের ওখানে, অনেক কষ্টের কথা শুনালো আর বললো সেখানে কাজ করতে যেতে। অভাবে কষ্টে স্বভাব নষ্টের ঘটনাও সেখানে স্বাভাবিক। আমাকে আমার ঘর থেকে বের করে দেয়া হবে, তারপর খাদ্য বস্ত্র হীন ভাবে পানিতে ভাসিয়ে দেয়া হবে , আমি কোথাও আশ্রয় পেতে চাইলে সেখানেও লাঞ্ছিত করা হবে, আমার সাথে করা অপরাধের বিচার চাইতে গেলে উলটো আমাকে দোষী সাব্যস্ত করে জরিমানা নেয়া হবে, আমাকে আশ্রয় তো জুওটবেইনা , উলট প্রাণ ভয়ে এখানে সেখানে পালাতে হবে, সেই আমি আবার খুব ভালো মানুষ হয়ে বিনীত ও থাকতে হবে। রা করা যাবেনা......... এই আমি ই হলাম রোহিঙ্গাদের কেউ......
সার্বিক ভাবে এটাই অবস্থা।

ধন্যবাদ উম্মু আপু, তোমার মতই লেখা! :-)

১৮ ই এপ্রিল, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:০৮

লেখক বলেছেন: মানবতার চরম অপমান। অথচ পৃথিবী তা দেখেও না দেখার ভান করছে যুগ যুগ ধরে।

মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ, আপু।

২৬. ১৯ শে এপ্রিল, ২০১০ ভোর ৪:০৮

ওমর নাসিফ বলেছেন: রাজনীতি, সমাজব্যবস্থা, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, ...এই বড় বড় বুলিগুলো এই সব শরণার্থীদের জন্য যে কতটা অর্থহীন এ কথাটা ভাবতে হল আরেকবার আপনার লেখাটা পড়ে আপু..শুধু রোহিঙ্গা কেন..পৃথিবীর সমস্ত শরণার্থীদের জীবনই যেন এদের নিজেদের কাছেই দু:সহ ভারস্বরুপ..এই পৃথিবীতে নিজের মত দাবী করার একটা পরিচয় এদের থেকে কি নিষ্ঠুরভাবেই না কেড়ে নেয়া হয়েছে!
আমার নিজস্ব ভাবনায় মনে হয় একটা International Consortium থাকাটা জরুরী যারা UNCHR এর সাথে সহযোগীতার ভিত্তিতে একটা Alternative Bargaining Force হিসেবে কাজ করবে। UNCHR রাজনৈতিক মারপ্যাচে যে অনর্থক শক্তি ক্ষয় করে সেখান ওই Consortium একটা ভাল ভূমিকা রাখতে পারে। অনেকটা অ্যামনেষ্টির মত (যদিও এ সংস্থাটির ব্যাপারে আমার প্রশ্ন আছে কিন্তু দুর্নীতি নিয়ে কথা বলার ব্যাপারে তারা বিশ্বের দরবারে কিন্তু বেশ ভাল গ্রহণযোগ্যতাই পেয়েছে। এ জন্যই হয়ত দুর্নীতি তে শীর্ষ হলে রিপোর্ট বর্জন আর অবস্থার উন্নতি হলেই রিপোর্ট টা হয়ে যায় রেফারেন্স!) একটা সংস্থা হলেও হত যাদের একমাত্র এবং শুধুমাত্র Concern হবে বিশ্বব্যাপী শরণার্থী সমস্যা। শরণার্থী সমস্যার ব্যাপারে বিশ্বব্যাপী জনমত কে প্রভাবিত করতে পারে শুধু এ ধরনের একটা সংস্থাই, আমার মতে।

বাংলাদেশ সরকারের সাথে মায়ানমার সরকারের দুতিয়ালী সন্ভবত: একটু কঠিনই হয়ে গেল সাম্প্রতিক টানাপড়েনের কারণে। তারপরেও খুব বুদ্ধিমত্তার সাথে কুটনৈতিক প্রচেষ্টাই সম্ভবত: সবচেয়ে ভাল পন্থা।
আপনার লেখা পড়া মানেই অনেক জানা। লেখাগুলো চিন্তার খোরাক যোগায় বলেই হয়ত পাঠক সচেতন ভাবে সে চিন্তার অংশ হয়ে যায়। অক্ষমতা সত্তেও আমি যেমনি হলাম! আপনার প্রচেষ্টা অনেক বিশাল, যথাযথ মর্যাদা দেয়া আমার ক্ষমতার বাইরে। তাই + দিয়ে আপনাকে ছোট করলাম B:-/

১৯ শে এপ্রিল, ২০১০ সকাল ৮:০৮

লেখক বলেছেন: শরনার্থী মানেই তো মানবতার করুন চিত্র। রোহিঙ্গাদের দুর্ভোগ আরো বেড়েছে কেউ তাদের শরনার্থী হিসেবে আর নিতে চাইছে না বলে। কত আর নেবে।

আমার খুব ক্ষুদ্র সামর্থ্য, অলীক আশায় থাকি যদি কোন ক্ষমতাবান মানুষের চোখে এই লেখা পড়ে। কিংবা হলই বা অরন্যে রোদন। তবুও তো সাত্ত্বনা থাকবে একটি বিকেল অন্তত ভেবেছিলেম এদের কথা।

আপনার মন্তব্য খুব সুচিন্তিত। আমি আবার সৃষ্টিশীল মন্তব্য লেখার বিষয়ে বেশ কাচা। তবু আপনাকে ছোট একটা ধন্যবাদ দিয়ে নিজের অক্ষমতা ঢাকতে চাইলাম।

ভাল থাকুন।

২৭. ১৯ শে মে, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:২৯

ওলি বলেছেন: অত্যন্ত ভাল লেখা ।

১৯ শে মে, ২০১০ রাত ৯:৫১

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

২৮. ১৪ ই জুন, ২০১২ সকাল ১১:৪৬

মারুফ রায়হান বলেছেন: লেখাটি তথ্যপূর্ণ। ধন্যবাদ। আপনাকে মেইল পাঠাব। ইেমইল অ্যাড্রেস জানােবন?

http://www.banglamati.net

২৯. ১৬ ই জুন, ২০১২ রাত ২:০১

আগডুম বাগডুম বলেছেন: লাত্থায় বাইর করা হোক, শিবিরের গুষ্টি।

১৭ ই জুন, ২০১২ রাত ১০:৫১

লেখক বলেছেন: বার্মা এবং বাংলাদেশ - এই দুই সরকারই আপনার কথা শুনেছে। যা নীচের মিডিয়া সহ বিভিন্ন মিডিয়ায় এসেছে।

Click This Link

আশা করি খুশী হয়েছেন।

৩০. ১৭ ই জুন, ২০১২ রাত ১১:০৪

আধার রাতের আলো বলেছেন: ++++++

১৮ ই জুন, ২০১২ রাত ১২:০৭

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদের সাথে গৃহীত হল।

৩১. ২৩ শে জুন, ২০১২ রাত ৯:১৫

ভালবাসার দেয়াল বলেছেন: ব্লগ বাংলা সিনেপ্লেক্স আপনার লিখাটি ফেসবুক এই লিংক এ শেয়ার করলাম।

 

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল‍্যাটফমর্। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...

 

© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি | বিজ্ঞাপন