সামহোয়ারে লেখা দূরে থাক, পড়তে আসাও আজকাল হয় না। শৌখিন লেখকদের এই এক দুরবস্থা, যখন ভাল লাগার মত অন্য কোন বিষয়ের অভাব পড়ে যায়, কি বোর্ডে হাত শুধু তখনই চলে।
সামহোয়ারের কি বোর্ডে আজ কতদিন পরে হাত দেয়া। আজকাল সামহোয়ারকে নিতান্ত পানসে মনে হয়। পরিচিত ব্লগারদের টিকি তো নেইই, অন্যদিকে মাইনাস বাটনের অভাব বোধ করছি ষোল আনা। লেখা দিলে যদি "মাইনাস"ই না পেলাম - সে লেখা যে মানুষকে আলোড়িত করল কিনা তা কি করে বুঝব। বিশেষত আমার মত অপছন্দের ব্লগারদের তো আর কেউ প্লাস দিয়ে ধন্য করবে না। বরং মাইনাসটা থাকলে বোঝা যায় লেখার কতটুকু ধার।
আজকের এ লেখা অবশ্য উদ্দেশ্য মূলক। নিজের সীমাবদ্ধতা প্রকাশই এ লেখার উদ্দেশ্য। মানুষ যে শুধু শরীরে সীমাবদ্ধ তাই নয়, মন মানসিকতাতেও সে বন্দী। এই আমি, যে কিনা ড:ইউনুসের চরম ভক্ত একজন, সেও বিরক্ত হয়ে গিয়েছি ড:ইউনুসের গ্রামীন প্রীতি দেখে। করজোড়ে অনুরোধ করছি: ড:ইউনুস আপনি নিজের সম্মান বজায় রাখুন। সরকারের সাথে দর কষাকষিতে যাবেন না। ছেড়ে দিন গ্রামীন।
সুদ একটি বিধ্বংসী ব্যবস্থা। চক্রবৃদ্ধি সুদের কারনে দরিদ্র হয় আরো দরিদ্র, সর্বস্বান্ত। জুয়ায় মানুষ সবকিছু হারায় একেবারে, আর সুদে হারায় ধীরে ধীরে। এসব কারো অজানা নয়। তারপেরও পৃথিবীর ব্যাংক বীমা সব চলে সুদের ভিত্তিতে। কারো জন্য যা টাকা আশীর্বাদ, অন্যের জন্য সে টাকা রক্তচোষা।
পৃথিবী যেখানে চলে সুদে, সেখানে একজন ব্যক্তিকে সুদের কাঠগড়ায় আমি দাড় করাতে চাই না। তাই প্রধানমন্ত্রী যখন "রক্তচোষা" বলে বিদ্রুপ করেন ড:ইউনুসকে তখন বিরক্তিবোধে তা উড়িয়ে দিতে হয়। বলতে ইচ্ছে হয়, "তো গ্রামীনের এই ব্যবসা রক্তচোষা হলে সরকারের কেন অংশীদারীত্ব সেখানে রয়েছে।"
আমি গ্রামীনের সুদ নিয়ে আপাতত কিছু বলছি না। আওয়ামী লীগ নেতারা যতই বলুক, ড:ইউনুসের প্রতি তাদের শত্রুতার উৎস সুদী কারবার নয়। আদর্শও নয়, কারন ড:ইউমুস আপাদমস্তক একজন ধর্ম নিরপেক্ষ ব্যক্তি। এই দ্বন্দ্ব স্বার্থের।
ড:ইউনুসকে আমি শ্রদ্ধা করি। তিনি নোবেল পেয়ে দেশের সম্মান বাড়িয়েছেন - এটা একটি দিক। অন্য দিকটি হল তার মানুষের প্রতি তার ভালবাসা। তার লেখা একটি ইংরেজী বই আমার কর্তা পড়ছিলেন এবং আমাকে দুই পাতা পড়ে শুনিয়েছিলেন। আমি মুগ্ধ হয়েছিলাম, মানুষের প্রতি, বিশেষত নারীদের প্রতি তার সহমর্মিতা ও ভালবাসায়। আমি মনে প্রানে বিশ্বাস করি এ ভালাবাসা পুরোপুরি খাদমুক্ত।
এই সরকার ড:ইউনুসকে আদালতে পর্যন্ত তলব করেছে। কি কারন? হাস্যকর সব কারন। তিনি নাকি রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে বলেছেন। অথচ রাজনীতিবিদেরা সংসদ কক্ষে যেসব ভাষা প্রয়োগ করে তাতে কোন দোষ হয় না। এইসব দেখে সাধারন মানুষের কিছু করার নেই: যেন কানে দিয়েছি তুলো, পিঠে বেধেছি কুলো।
সরকারের কাছ থেকে এরকম আচরনে আমরা অভ্যস্ত। কিন্তু কষ্ট পাই যখন দেখি ড:ইউনুসের পক্ষ নিয়ে বিদেশী কূটনীতিবিদেরা এমন সব মন্তব্য করে যাতে দেশের সার্বভৌমত্ব নিয়েই টানাটানি পড়ে যায়। ড:ইউনুসের জীবনে পাওয়ার কোন সীমা নেই, তিনি সর্বোচ্চ যে সম্মানসূচক পুরষ্কার তা পেয়েছেন। তিনি পেয়েছেন আপামর জনগনের ভালবাসা। এর পরেও এক গ্রামীনের পদ ধরে রাখার জন্য যে দর কষাকষি চলছে তা রীতিমত বিরক্তিকর। এতে করে ড:ইউনুস কি নিজেকে সরকারের চেলা চামুন্ডাদের পর্যায়ে নিজেকে নামিয়ে আনছেন না?
ড:ইউনুস, প্লীজ আপনি স্বেচ্ছায় সরে দাড়ান। আপনার জীবনে অনেক অর্জন রয়েছে, গ্রামীন সে তুলনায় নস্যিমাত্র।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে মার্চ, ২০১১ রাত ৯:২৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



