আমার প্রিয় পোস্ট

ইরতেজা আলী এর আন্তর্জাল খেরোখাতা . http://twitter.com/irteja

মা

০৮ ই জুন, ২০০৭ রাত ১২:০১

শেয়ারঃ
0 0 0

এ ঘরের দেয়াল রঙ বদলায়,
শুধু তার দিনলিপিটা একঘেঁয়ে রয়ে যায়।
রান্না ঘর থেকে সদর দরজা পর্যন্ত,
আমার মায়ের পৃথিবী।
অনেকটা ফ্রেমে বাঁধানো,
যেন যত্নে আঁকা কোন শিল্পীর ছবি।
এই ফ্রেমের বাইরে মাত্র ক’বার,
হাসপাতালের বিছানায় শোয়া
এক টুকরো পাকানো দড়ির মতো।
এ সংসার
প্রতিদিন সাজে নানান ব্যস্ততায়,
মায়ের মুখখানা জীর্ণতায় ঢেকে যায়।
স্কলারশিপের টাকা থেকে একবার
সস্তা একটা শাড়ি এনে দিয়েছিলাম,
আলমারির তাকে এখনো যত্নে রাখা,
সাদা ন্যাপথলিন মুক্তোর মতো বুকে লুকিয়ে থাকে।
সারাটা দিন রান্না ঘরে কাটে।
কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম,
আটপৌরে শাড়ির আঁচলে মা মুখ মুছে,
খাবার সাজিয়ে অপেক্ষায় থাকে।
ভরপেট খাবারের পর ভাতঘুম,
রান্না ঘরে ক্লান্ত বিকেল জেগে থাকে নির্ঘুম
গোধূলির অপেক্ষায়।
ধুপকাঠির গন্ধে বিকেলের মৃত্যু শেষে
গোধূলি আসে,
ঠাকুর ঘরে ঘন্টা বাজে-
প্রতিদিন প্রার্থণার সময় ঘুমিয়ে থাকিস।
আমি বিরক্ত হই-
কি হয় এতো প্রার্থণা করে?
সন্ধ্যাপ্রদীপ জ্বালতে জ্বালতে মা বলে-
যা হয় সবই ভালোর জন্যে...।
তাই বুঝি সারা বছর অসুস্থ থাকো?
মা উত্তর দেয় না,
হাতের সন্ধ্যা প্রদীপ
নিশ্চুপ আলো ছড়িয়ে যায়
এক টুকরো দীর্ঘশ্বাসের মতোন।
প্রার্থণা শেষে
ম্লান গোধূলি চায়ের কাপে বাষ্পীভূত হয়,
আসবাবপত্রের গায়ে ধূসরতা মাখে।
মা,এবার একটু বিশ্রাম নাও।
দেখিস না,সব কিছুর উপর কেমন ধুলো জমেছে?
চা গাছের প্রাণহীন শিকড়ের উপর বেলজিয়াম গ্লাস
মায়ের মুখখানা স্পষ্ট করে আঁকে একসময়।
রান্না ঘরের খুঁটখাট শব্দে
অপেক্ষায় থাকে ডাইনিং টেবিল।
আর রাত দশটার গরম সংবাদ
রান্নাঘরে আলোর প্রহর আরেকটু দীর্ঘায়িত করে।
এ শহর এখন
রাক্ষসের মতো গ্রাস করে আমার অবসর।
সেই চেনা শহরে,
মরচে পড়া লোহার গেটে একটু কর্কশ শব্দের অপেক্ষায়
মা বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকে, মধ্যরাত পর্যন্ত।
আর আমি ঘুমের অপেক্ষায় থাকি,
মা কল্পনায় হাত বুলিয়ে যায়।
আমি ঘুমিয়ে গেলেও
মা ঘুমায় না,জেগে থাকে...
আর স্বপ্নে আমার বিষন্নতা ঢাকে।
......... ০৫.০৬.০৭

কবিতাটি লিখেছে আমার ছোট ভাই বিপ্র রঞ্জন ধর। বিপ্র বুয়েটের ছাত্র

 

সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে নভেম্বর, -০০০১ রাত ১২:০০ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ০৮ ই জুন, ২০০৭ ভোর ৪:৩৬
মুশফিক বলেছেন: পড়লাম অনেকটা সময় নিয়ে। ভাল বেশ বেশ
৩. ১০ ই জুন, ২০০৭ রাত ১২:২২
রক্তিম বলেছেন: আমার সবথেকে দূর্বলতম শব্দ ।
৪. ১০ ই জুন, ২০০৭ রাত ১২:৩৯
সুমি বলেছেন: কবিতাটি অন্য কোথাও পড়েছি-- ভাইয়া ভুল হলে ক্ষমা চাইছি
৫. ১০ ই জুন, ২০০৭ রাত ৮:৩৪
ইরতেজা বলেছেন: কবিতার লেখক বিপ্র জানতে চেয়েছে আপনি কবিতাটি কোথায় পরেছেন। সুমি একটু কষ্ট করে বলবেন প্লিজ।

৬. ১০ ই জুন, ২০০৭ রাত ৮:৪৯
গোপাল ভাঁড় বলেছেন: অসাম.. সাধারণত কবিতা সবসময় ব্যাকফুট ডিফেন্স কারার মত করে পড়তাম.. এইটা খুবি ভাল লাগলো...
৭. ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ রাত ৮:১৯
মানচুমাহারা বলেছেন: কবিতাটি যে বিপ্ররই লেখা এবিষয়ে কোন সন্দেহ নাই। তবে সুমি অন্য কোথাও যদি এটা পড়ে থাকেন তাহলে হয়তো সেটা বিপ্র বা বিপ্রতীপেরই লেখা।

ওর সব কবিতার ভেতর এটা সবচেয়ে ভালো লেগেছে আমার।

 

মোট সময় লেগেছে ০.৯৭৭৮ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
ছেঁড়া ছেঁড়া ভালবাসা, দুই চোখ ভরা সীমাহিন স্বপ্ন, অদ্ভুত সব স্মতি, একরাশ বেদনা, কঠিন বাস্তবতা, নিদারুণ অলসতা, আড্ডাবাজি, সত থাকার...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ