আমার প্রিয় পোস্ট

ইরতেজা আলী এর আন্তর্জাল খেরোখাতা http://www.petitiononline.com/1971war/petition.html

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে জাফর ইকবাল স্যারের একটি অসাধারন লেখা

২৬ শে মার্চ, ২০০৮ রাত ৩:৪৫

শেয়ার করুন:                   Facebook


এবারের স্বাধীনতা দিবসে যদি কাউকে জিজ্ঞেস করা হয় এই দিনটিতে কি আলাদা করে কারও মনে কিছু আছে? আমি লিখে দিতে পারি সবাই সমস্বরে একটা কথাই বলবে, সেটি হচ্ছে, ‘অবশ্যই আছে, আমরা স্বাধীনতাবিরোধীদের বিচার চাই। আমরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই।’

এই দেশের মানুষের বুকের ভেতর বহুদিন থেকে এই ক্ষতটি রক্তক্ষরণ করছে, এই যন্ত্রণাটি বহুদিন থেকে মাথা কুটছে। যারা একাত্তরকে নিজের চোখে দেখেছে, শুধু তারাই জানে সেই সময়টিতে এই দেশে কী ভয়ঙ্কর আর কী পৈশাচিক ঘটনা ঘটেছিল। একাত্তরে মানুষের সংখ্যা ছিল সাত কোটির মতো, তার মধ্যে প্রায় এক কোটি মানুষকে নিজের দেশ, নিজের ঘরবাড়ি ছেড়ে চলে যেতে হয়েছিল−এটা কি বিশ্বাস করার কথা? যদি তারা দেশ ছেড়ে না যেত, তাহলে যে প্রত্যেকটি মানুষকে এই দেশে হত্যা করা হতো, সেটা কি আমরা নতুন প্রজন্নকে বিশ্বাস করাতে পারব? একাত্তরে এই দেশে কি একটি পরিবারও ছিল যে তার কোনো একজন প্রিয়জনকে হারায়নি? যে পাকিস্তান সেনাবাহিনী এই দেশে সেই পৈশাচিক হত্যাকান্ড চালিয়েছে, তাদের ওপর জন্ন নেওয়া অসহনীয় ক্রোধের উত্তাপ কি নতুন প্রজন্ন অনুভব করতে পারবে? এই দেশের যে বিশ্বাসঘাতক পদলেহী সম্প্রদায় সেই পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পাশাপাশি দাঁড়িয়ে এই হত্যাকান্ড আর পৈশাচিক নির্যাতনে অংশ নিয়েছে, তাদের ওপর কী ভয়ঙ্কর ঘৃণার জন্ন নেয় সেটা কি আর কেউ কোনো দিন বুঝতে পারবে?

আমাদের দেশের বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযুদ্ধের সেনানায়ক বীর সেক্টর কমান্ডারদের প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতার শেষ নেই যে তাঁরা আমাদের সেই ঘৃণার হাত থেকে মুক্তি দেওয়ার একটা উদ্যোগ নিয়েছেন। তাঁদের নিরলস পরিশ্রমের কারণে স্বাধীনতাবিরোধী আর যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিষয়টি এখন আর আনুষ্ঠানিক দাবি নয়, এখন এটি এই দেশের মানুষের একেবারে প্রাণের দাবি হয়ে গেছে। রাজনৈতিক দলাদলি, বিরোধ-বিভেদ, বিভাজনের মধ্যে সেক্টর কমান্ডারদের এই নেতৃত্বটি আমাদের জীবনে আনন্দের একটা ফল্গুধারা বয়ে এনেছে। আমরা কেমন করে কার কাছে এই দাবিটি করব বুঝতে পারছিলাম না, তাঁরা আমাদের পথ দেখিয়েছেন। তাঁদের কন্ঠে কন্ঠ মিলিয়ে আমরা সবাই বলতে চাই, আমাদের আর পিছিয়ে যাওয়ার পথ নেই−যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করে আমরা এই দেশটিকে গ্লানিমুক্ত করব। নতুন প্রজন্নকে বলব, একাত্তরে একবার এই দেশটিকে স্বাধীন করা হয়েছিল, তিন যুগ পর তার ভেতর থেকে যত পূজ-ক্লেদ সরিয়ে দেশটিকে আবার পূতপবিত্র করে তোমাদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে, তোমরা এই দেশটিকে গড়ে তোলো।

২১ মার্চের সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের কনভেনশনটি এই দেশের জন্য একটি বড় মাইলফলক হয়ে থাকবে। আমরা শুধু এর বাইরের সাফল্যটুকু দেখেছি−যাঁরা এটি আয়োজন করেছেন, তাঁদের পরিশ্রমটুকু কি আমরা অনুভব করতে পারি? তাঁদের জন্য পুরো জাতির পক্ষ থেকে আমাদের কৃতজ্ঞতার শেষ নেই।



আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডাররা বেশ কিছুদিন থেকে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কথা বলার জন্য দেশের আনাচে-কানাচে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে এ রকম একটা ব্যাপার ঘটতে পারে বলে আমার মনে হয় না, এটি সম্ভব শুধু আমাদের দেশে। পৃথিবীর অন্য যেকোনো দেশ হলে তাঁদের এখন রাষ্ট্রীয় সম্মান উপভোগ করে, স্নৃতি রোমন্থন করে, লেখালেখি করে, কখনো কখনো সভা-সমিতিতে প্রধান অতিথি হয়ে দু-চারটি উদ্দীপনমূলক কথা বলে সময় কাটানোর কথা ছিল। কিন্তু বাংলাদেশ বলে তাঁদের সেসব মুলতবি করে আক্ষরিক অর্থে পথে নামতে হয়েছে। যুদ্ধে যাদের পরাজিত করে দেশটাকে স্বাধীন করেছেন, সেই পরাজিত শত্রু আর তাদের পদলেহী অনুচরদের যুদ্ধাপরাধের বিচার করার জন্য তাঁদের সভা-সমিতি করে ছুটোছুটি করতে হচ্ছে, তাঁদের মধ্যে এক ধরনের বেদনা আছে। কিন্তু বেদনার থেকে অনেক বেশি আছে আশা ও উদ্দীপনা। যে ক্ষোভ আর ক্রোধ এই দেশের সব মানুষের বুকের ভেতর জমা হয়েছিল, সেটি বের হওয়ার একটি সত্যিকারের সুযোগ এসেছে−জাতি তাই তাঁদের কাছে কৃতজ্ঞ। মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করার জন্য তাঁদের প্রতি আমাদের প্রথম কৃতজ্ঞতা, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিটুকু সব মানুষের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য তাঁদের প্রতি আমাদের দ্বিতীয় কৃতজ্ঞতা।


মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডাররা অনেক দিন থেকেই মতবিনিময় আর সভা করে আসছেন কিন্তু আমার খুব দুঃখ, আমি এখন পর্যন্ত তাঁর কোনোটাতেই উপস্িথত থাকতে পারিনি। কীভাবে কীভাবে জানি প্রতিবারই সেই সুযোগটা হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে। এ মাসের ১৫ তারিখে সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের জাতীয় কনভেনশনে আমার সেই দুঃখ উপশম হওয়ার একটা সুযোগ এসেছিল কিন্তু আমি আক্ষরিক অর্থে একেবারে হতবাক হয়ে গেলাম যখন দেখতে পেলাম একেবারে শেষ মুহুর্তে সেই কনভেনশন করার অনুমতি দেওয়া হলো না। যাঁরা যুদ্ধ করে এই দেশটা স্বাধীন না করলে অনুমতি দেওয়ার কর্মকর্তারা এখনো তাঁদের পাকিস্তানি প্রভুদের পদসেবা করতেন, তাঁদের দুঃসাহসের সীমা দেখে আমি স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিলাম। খবরের কাগজে দেখেছি, সেক্টর কমান্ডাররা উপদেষ্টাদের সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করেছেন কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ উপদেষ্টারা তাঁদের সঙ্গে দেখা করার সৌজন্য দেখানোর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেননি। অন্যেরা ব্যাপারটা কীভাবে নিয়েছেন জানি না, আমার কাছে মনে হয়েছে ডাল মে কুছ কালা হ্যায়। সেক্টর কমান্ডারদের কনভেনশন করার অনুমতি না দেওয়াটা হচ্ছে আইসবার্গের ভেসে থাকা অংশটুকু। কেন অনুমতি দেওয়া হয়নি সেটা সম্ভবত আইসবার্গের আসল অংশ, বিশাল এবং চোখের আড়ালে থাকা ভয়াবহ একটা ব্যাপার।


প্রথমত, যাঁরা অনুমতি দেননি তাঁরা কারা আমি এখনো জানি না। অনুমতি না দিয়ে যাঁরা কাগজটিতে স্বাক্ষর করেছেন তাঁরা সম্ভব পুলিশ কমিশনার এবং তাঁদের চেপে ধরলে নিশ্চিতভাবেই তাঁরা মাথা চুলকে বলবেন, ‘উপরের নির্দেশ’। যে কারণটা দেখিয়ে তাঁরা দেশের সবচেয়ে সম্মানী মানুষদের কনভেনশনটি বন্ধ করে দিলেন, সেটি এক ধরনের ফিচেলমি। তাঁরা নাকি অনুমতির জন্য আবেদনপত্রে আলোচনা সভা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের কথা বলেছিলেন কিন্তু আমন্ত্রণপত্রে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের কথা নেই। এই গুরুতর অপরাধের জন্য কনভেনশনটি বন্ধ করে দেওয়া হলো−নিজের চোখে দেখে, নিজের কানে শুনেও কি কথাগুলো বিশ্বাস হতে চায়? জোট সরকারের আমলে আমরা নিয়মিতভাবে এ ধরনের ফিচেল বুদ্ধি দিয়ে নানা রকম ষড়যন্ত্র হতে দেখেছি−এখনো এই একই ধরনের ফিচেল বুদ্ধি দেখে পরিষ্ককার বোঝা যায়, জোট সরকারের প্রেতাত্মা এই সরকারের মধ্যে খুব ভালোভাবে রয়ে গেছে! (আমার অনেক দিনের শখ যে ধুরন্ধর মানুষগুলো তাঁদের ফিচেল বুদ্ধি দিয়ে ষড়যন্ত্র করে দেশের সর্বনাশ করে বেড়াচ্ছেন, একটা ওয়েবসাইট খুলে ছবিসহ তাঁদের সেই কীর্তিগুলো সেখানে তুলে রাখা। সেই তালিকার এক নম্বরে থাকবে সেই মানুষগুলোর কথা, যাঁরা দেশের তথ্য বাইরে পাচার হয়ে যাবে সেই যুক্তি দিয়ে আজ থেকে দুই যুগ আগে সাবমেরিন কেব্লের সঙ্গে আমাদের দেশকে যুক্ত হতে দেননি।)


কনভেনশনটি ২১ তারিখে খুব ভালোভাবে শেষ হয়েছে কিন্তু ১৫ তারিখে না করতে পারার কারণে উদ্যোগটি নিশ্চিতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঈদে মিলাদুন্নবীর জন্য পরের দিন কোনো খবরের কাগজ বের হয়নি, তাই দেশের মানুষ কনভেনশনের খুঁটিনাটি খবর পেয়েছে একদিন পর। ১৫ তারিখের কনভেনশনে সারা দেশ থেকে অনেকের আসার কথা ছিল। কেউ কেউ হয়তো ঢাকায় চলেও গিয়েছিলেন; শেষ মুহুর্তে জানতে পেরেছেন এর অনুমতি দেওয়া হয়নি। দ্বিতীয় তারিখটিও প্রথমে ছিল অনিশ্চিত, যখন নিশ্চিত করা হয়েছে তখন অনেকের পক্ষে ঢাকায় যাওয়া সম্ভব হয়নি−আমি সেই আশাহত মানুষদের একজন−আমার মতো নিশ্চয়ই আরও অনেকেই আছেন।

যাঁরা কনভেনশনটি ১৫ তারিখে করতে দেননি, তাঁরা কিন্তু শুধু খানিকটা যন্ত্রণা দেওয়ার জন্য সেটি বন্ধ করেছিলেন বলে মনে হয় না, তাঁদের ফিচেল বুদ্ধি সুদুরপ্রসারী। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের গ্রেপ্তার করে জেলে আটকে রাখার কথা মনে আছে? সেই ঘটনার সঙ্গে এ ঘটনার একটা মিল আছে। দেশের মানুষের চাপে শিক্ষকদের যখন মুক্তি দিতেই হবে, তখন ঠিক করা হলো আগে তাঁদের খানিকটা অপমান করে নেওয়া যাক। অপরাধের জন্য শাস্তি দিয়ে তারপর কোনো একজনকে দিয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করিয়ে তাঁদের ক্ষমা করে দেওয়া হলো, অপরাধীর সিলটি কিন্তু তাঁদের গায়ে ঠিকই দিয়ে দেওয়া হলো। এখানেও তাই দেশের স্বাধীনতা-যুদ্ধের এত বড় বীরসেনানি, তাঁদের তুচ্ছ করে উড়িয়ে দিয়ে শেষে দয়া করে অনুমতি দিয়ে মনে করিয়ে দেওয়া−তোমরা যে যুদ্ধাপরাধীর বিচার চাইছ, তাদের প্রাণের বন্ধুরা সরকারের রন্ধ্রে রন্ধ্রে বসে আছে, পদে পদে তোমাদের থামিয়ে দেওয়া হবে!


৩.
গত জোট সরকারের আমলে আমাদের দেশের অনেক বড় ক্ষতি হয়েছে, সেই ক্ষতিপূরণ কীভাবে হবে আমরা কেউ ভালো করে জানি না। আর্থিক দুর্নীতিটা সবচেয়ে স্পষ্টভাবে এসেছে আর সেটা নিয়েই হইচই হয়েছে সবচেয়ে বেশি। যারা আর্থিক দুর্নীতি করেছে, তাদের সবাইকে যে ধরা হয়েছে সেটাও সত্যি নয়। তারেক রহমানকে আটক করা হয়েছে কিন্তু মামা-ভাগ্নে জুটির মামা সাঈদ এস্কান্দারকে স্পর্শ করা হয়নি, কারণ তাঁর সঙ্গে সামরিক বাহিনীর যোগাযোগ আছে−এই সহজ সত্যটা কেউ কি অস্বীকার করতে পারবে? এ রকম উদাহরণ কয়টি প্রয়োজন?

যা-ই হোক আর্থিক দুর্নীতি থেকেও ভয়ঙ্কর দুর্নীতিটি হচ্ছে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় দলীয় মানুষ বসিয়ে দেওয়ার দুর্নীতি। জোট সরকারের আমলে সেটা একটা শিল্পের পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল। এই জঞ্জাল কত দিনে পরিষ্ককার হবে কে জানে। যে যেখানে আছে সেখানে এটা ঘটতে দেখেছে। আমি সেটা বিশ্ববিদ্যালয়ে দেখেছি। জোট সরকারের আমলে নিয়োগ দেওয়া ভাইস চ্যান্সেলররা ঘোষণা দিয়ে আগে থেকে বলে দেন, তাঁদের দলের স্বার্থের বাইরে যাবে সে রকম কিছু তাঁরা করতে পারবেন না। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছুদিন আগে একটা সমাবর্তন হয়েছে, সেই সমাবর্তনে সিলেটের মুক্তবুদ্ধির কোনো বুদ্ধিজীবীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। কিন্তু জামায়াতে ইসলামীর আমিরকে আমন্ত্রণ দিয়ে সমাবর্তনে নিয়ে আসা হয়েছে। গতকাল (২২ মার্চ) খবরের কাগজে দেখেছি, এখন থেকে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ভাইস চ্যান্সেলরের নিয়োগ দেওয়া হবে। দেশে চাকরি-বাকরির খুব অভাব। এই খবরটি পড়ে দেশের বেকার সম্প্রদায় নিশ্চয়ই চাকরির জন্য আবেদন করার আরও একটি সুযোগ উন্নুক্ত হতে দেখে আনন্দে উৎফুল্ল হয়ে বগল বাজাচ্ছেন। আমি তাঁদের আগে থেকে সতর্ক করে দিই। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলরের চাকরির চেয়ে খারাপ চাকরি এই দেশে আর কিছু হতে পারে না। সরকার এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ধ্বংস করার জন্য পরিকল্পনা পাকাপাকি করে ফেলেছে বলে মনে হয়। কোনো রকম সাহায্য করতে রাজি নয়, তাই যাঁরা এই চাকরি করতে আসবেন, তাঁরা পুরো সময়টা কখনো কর্মচারী, কখনো কর্মকর্তা, কখনো শিক্ষক এবং বেশির ভাগ সময় ছাত্রদের দিয়ে ঘেরাও হয়ে থাকবেন। যদি তাঁদের চামড়া যথেষ্ট মোটা হয়, তাঁরা সময়টা পার করে নামের শেষে প্রাক্তন উপাচার্য লিখে রাষ্ট্রদুত হওয়ার জন্য ওপরের মহলে ঘোরাঘুরি করতে পারবেন।


খবরের কাগজে ভাইস চ্যান্সেলরদের নিয়ে আরও একটা খবর দেখেছি, আপাতত নতুন কোনো ভিসি নিয়োগ হচ্ছে না−যার অর্থ এখন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে যে দলীয় ভাইস চ্যান্সেলররা আছেন, তাঁরাই মহানন্দে সেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তাঁদের দলীয় কাজকর্ম চালিয়ে যেতে পারবেন। আগে সেটা করার আগে তাঁদের খানিকটা ইতস্তত করতে হতো, এখন আর ইতস্তত করতে হবে না, সরকার তাঁদের আনুষ্ঠানিক ইনডেমনিটি দিয়ে দিয়েছে!


৪.
আজ থেকে অনেক বছর পর যখন বাংলাদেশের মানুষ এই দেশের ইতিহাস পড়বে, তখন যে চরিত্রটিকে তাদের কাছে সবচেয়ে বিচিত্র মনে হবে সেটি হচ্ছে রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ। জোট সরকারের সময় শেষ হওয়ার পর যখন নির্বাচন দিয়ে নতুন একটি সরকার গঠন করার কথা, তখন এই পুরো প্রক্রিয়াটিকে কলুষিত করেছিলেন এই মানুষটি। সেনাবাহিনী ১/১১ এর পরিবর্তনটি করিয়ে এই মানুষটির মুখ দিয়েই পরিবর্তনের সেই কথাগুলো উচ্চারণ করিয়েছে। সেই সময়ে যারা অন্যায় করেছে, তাদের (প্রায়) সবাই জেলে−কিন্তু সবকিছুর মূলে থেকেও রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ এখনো রাষ্ট্রপতি! তিনি একই সঙ্গে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর, যে মানুষটি নানা ফন্দিফিকির করে সংবিধানের বিধানের অপপ্রয়োগ করে অবলীলায় একটা দেশকে সর্বনাশের শেষ সীমায় নিয়ে যেতে পারেন, সেই মানুষটি আমাদের ছাত্রদের সুনাগরিক হওয়ার জন্য উপদেশ দেবেন, সেই দৃশ্যটি আমার নিজের চোখে দেখা সম্ভব নয় বলে আমি সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ছিলাম না!
এই স্বাধীনতা দিবসে আমাদের সেই রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ যুদ্ধাপরাধীদের বঙ্গভবনে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। ক্ষুব্ধ হয়ে অন্য সবাই তাঁর আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেছেন। কাজেই এই স্বাধীনতা দিবসটি নিশ্চিতভাবেই একটি অন্য রকম স্বাধীনতা দিবস। বঙ্গভবনে থাকবেন রাষ্ট্রপতি এবং যুদ্ধাপরাধীরা। বাইরে থাকবেন মুক্তিযোদ্ধারা!
বাংলাদেশের ইতিহাসে এ রকম ব্যাপার আগে ঘটেছে বলে আমার জানা নেই। সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করি, ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনা আর কখনো না ঘটে।


৫.
বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধারা বলেছেন, মৃত্যুর পর তাঁরা রাষ্ট্রীয় সম্মান চান না, মৃত্যুর আগে তাঁরা শুধু একটি জিনিস দেখে যেতে চান, সেটি হচ্ছে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার।
এই দেশে আমরা মুক্তিযোদ্ধাদের কিছু দিতে পারিনি। তাঁদের এই শেষ ইচ্ছাটা পূরণ করার জন্য আমরা কি একবার শেষ চেষ্টা করে দেখব না? এই স্বাধীনতা দিবসে সেটাই কি আমাদের শেষকথা হতে পারে না?




লিখেছেন মুহম্মদ জাফর ইকবাল
প্রথম আলো থেকে নেওয়া

 

প্রকাশ করা হয়েছে: মুক্তিযুদ্ধ  বিভাগে ।

 

  • ২৮ টি মন্তব্য
  • ৩৭৮ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ১৮ জনের ভাল লেগেছে, ৬ জনের ভাল লাগেনি
১. ২৬ শে মার্চ, ২০০৮ রাত ৩:৫০
comment by: ইরতেজা বলেছেন:
প্রথম আলো থেকে নেওয়া
২. ২৬ শে মার্চ, ২০০৮ রাত ৩:৫১
comment by: আরিফুর রহমান বলেছেন: পরথম পেলাস আমার
৩. ২৬ শে মার্চ, ২০০৮ ভোর ৪:১৮
comment by: জল রঙ বলেছেন: মইন কুত্তার বাচ্চা এড়িয়ে গেছে গতকাল । ফাকউদ্দিন কুত্তার বাচ্চা খালি নির্বাচন নির্বাচন করে মুখে ফেনা তুলছে । কিন্তু কোন কুত্তার বাচ্চা বিচারের কথা কয় না (উপদেষ্টা) ।

লেখাটা পড়ে মেজাজটা বিলা হয়ে গেছে । তাই গালি দিলাম । কিছু মনে করবেন না ।
৪. ২৬ শে মার্চ, ২০০৮ ভোর ৪:২৮
comment by: রাতমজুর বলেছেন: ভাই ইরতেজা, একটুর জন্য বেচে গেলাম গালাগাল খাবার হাত থেকে, নতুন সিষ্টেমের কারনে পোষ্ট আসছেনা প্রথম পাতায়, একই লেখাটা আমিও দিতে চেয়েছিলাম, তৈরী করাও শেষ, হঠাৎ "সাম্প্রতিক মন্তব্য" কলামে দেখি এটা আপনি পোষ্ট করে ফেলেছেন।

যাইহোক, ভালো উদ্যোগ। ৫+
৫. ২৬ শে মার্চ, ২০০৮ ভোর ৫:৩৭
comment by: পুতুল বলেছেন: বঙ্গভবনে থাকবেন রাষ্ট্রপতি এবং যুদ্ধাপরাধীরা। বাইরে থাকবেন মুক্তিযোদ্ধারা!

হায়রে সোনার বাংলা!
২৬ শে মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৫:২১

লেখক বলেছেন: হায়রে সোনার বাংলা!

৬. ২৬ শে মার্চ, ২০০৮ ভোর ৫:৫০
comment by: শফিউল আলম ইমন বলেছেন: +++++++++++
৭. ২৬ শে মার্চ, ২০০৮ ভোর ৫:৫৫
comment by: অমি রহমান পিয়াল বলেছেন: বুঝতে হবে, তারা এমনি এমনি খেপা না
৮. ২৬ শে মার্চ, ২০০৮ ভোর ৬:৩৯
comment by: রাশেদ বলেছেন: +++++
৯. ২৬ শে মার্চ, ২০০৮ ভোর ৬:৪৪
comment by: কাজ করে খাই বলেছেন: +
১০. ২৬ শে মার্চ, ২০০৮ সকাল ৭:৫১
comment by: জ্বিনের বাদশা বলেছেন: আবারও একদম জায়গামতো পয়েন্ট করে দেখাইয়া দিলেন জাফর ইকবাল...
বঙ্গভবনে থাকবেন রাষ্ট্রপতি এবং যুদ্ধাপরাধীরা। বাইরে থাকবেন মুক্তিযোদ্ধারা! ... আমাদের কাছে এই বঙ্গভবন এই রাষ্ট্রপতির কোন মূল্য নেই

+++++
১১. ২৬ শে মার্চ, ২০০৮ সকাল ৯:০১
comment by: পান্জেরী বলেছেন: শুনলাম ড: ইকবালের নানা রাজাকার ছিলেন, আর ড: ইকবাল বা হূমায়ুন আহমেদ কেউই মুক্তিযুদ্ধ করেন নি। তবে আজ কেন এসব!

আর দেশের মানুষ কি চায়? ভাত খেতে চাই নাকি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চায়? একবার বুকে হাত দিয়ে বলুন তো।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার আমরাও চাই। তবে এজন্য বরাবরের মতো রাজনীতি না করাই ভাল। আজকের প্রথমআলো দেখুন। দেখবেন বঙ্গবন্ধু কিভাবে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সম্পর্কের কারণে যুদ্ধাপরাধীদের ছেড়ে দিয়েছেন, অর্থ সাহায্য দিয়েছেন, গাড়ি কিনে দিয়েছেন।

তাই এনিয়ে রাজনীতি আর কত!
১২. ২৬ শে মার্চ, ২০০৮ সকাল ৯:২২
comment by: নতুন বলেছেন: ২৬ শে মার্চ, ২০০৮ সকাল ৯:০১ পান্জেরী বলেছেন:

>>>>

আর দেশের মানুষ কি চায়? ভাত খেতে চাই নাকি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চায়? একবার বুকে হাত দিয়ে বলুন তো।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার আমরাও চাই। তবে এজন্য বরাবরের মতো রাজনীতি না করাই ভাল।>>>


-- সবাই চাচ্ছে.. যুদ্ধাপরাধীদের বিচার.... তাতে আপনি নারাজ হইতাছেন কেন??? আপনার নাম তো নাই ..তবে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে সমস্যা কি???

.. আপনি কি রকম বিচার চান তা আমাদের সাথে সেয়ার করবেন কি???

১৩. ২৬ শে মার্চ, ২০০৮ দুপুর ১২:১৩
comment by: সাগর নীল বলেছেন: জাফর ইকবাল জাতির বিবেক (!) হয়ে ও জাতিকে বিভ্রান্ত করার চেস্টা করতেছেন। রাজাকারদের বিচার অলরেডি হয়ে গেছে। আমার পোস্টগুলি দেখুন।
১৪. ২৬ শে মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৫:৩১
comment by: হ্যারি সেলডন বলেছেন: ছাঘল নীল, রাজাকার পান্জ্ঞেরী, তোমাদের জ্বলতাছে কেন? বাপ গোলাম আজম ধরা খাবে তাই?
১৫. ২৬ শে মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৫:৪৫
comment by: নতুন বলেছেন: ২৬ শে মার্চ, ২০০৮ দুপুর ১২:১৩ সাগর নীল বলেছেন: জাফর ইকবাল জাতির বিবেক (!) হয়ে ও জাতিকে বিভ্রান্ত করার চেস্টা করতেছেন। রাজাকারদের বিচার অলরেডি হয়ে গেছে। আমার পোস্টগুলি দেখুন।


---- জামাত নেতাদের বিচারেরে পরে... ছাঘল নীল, রাজাকার পান্জ্ঞেরী
এদের বিচার করা হবে
১৬. ২৬ শে মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৫:৫৩
comment by: ভাস্কর চৌধুরী বলেছেন: +

সবুজ জমিনে
লালের বারতা
চেতনায় জাগে
প্রিয় স্বাধীনতা....

১৭. ২৬ শে মার্চ, ২০০৮ রাত ৯:১৬
comment by: রাতিফ বলেছেন: ভাইয়া অনেক informative একটা পোস্ট........আপনার কষ্ট স্বার্থক।


+++++++।
১৮. ২৬ শে মার্চ, ২০০৮ রাত ৯:৩০
comment by: তীরন্দাজ বলেছেন: অবশ্যই +++++। আর ধন্যবাদ আপনাকে।
১৯. ২৬ শে মার্চ, ২০০৮ রাত ১০:০০
comment by: সাইফুর বলেছেন: প্লাস
২০. ২৬ শে মার্চ, ২০০৮ রাত ১০:০৪
comment by: বড় হুজুর বলেছেন: +
২১. ২৬ শে মার্চ, ২০০৮ রাত ১০:০৬
comment by: কেএসআমীন বলেছেন: হুম... পড়েছি।
২২. ২৬ শে মার্চ, ২০০৮ রাত ১০:১০
comment by: সাইফুর বলেছেন: প্রিয় পোষ্টে নিলাম
২৭ শে মার্চ, ২০০৮ রাত ১১:১০

লেখক বলেছেন: সাইফুর ধন্যবাদ

২৩. ২৬ শে মার্চ, ২০০৮ রাত ১০:৫১
comment by: আর খান বলেছেন: মাইনাস। জাফর সাহেব চেতনার ব্যবসায়ীদের পক্ষে কথা বলছেন। বাংলাদেশে সেই ১৯৫ জন ছাড়া এখনও কেউ যুদ্ধাপরাধী হিসেবে চিহ্ণিত হয়নি।
২৪. ১৫ ই এপ্রিল, ২০০৮ ভোর ৫:১৫
comment by: রাশেদ বলেছেন: শুভ নববর্ষ!
২৫. ১৯ শে নভেম্বর, ২০০৮ দুপুর ২:৫২
comment by: পাভেল রহমান বলেছেন: আসুন আমরা রাজাকারদের সংবর্ধনার আয়োজন করি।
তাহলেই এক মন্চে সব রাজাকারকে পাওয়া যাবে।
তারপর সময় সুযোগমতো শুধু একটা বোম.................................................................
২৬. ১৯ শে নভেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৩:২৬
comment by: গাইতে ভালো লাগে বলেছেন: বাংলাদেশ আর্মি পাক আর্মি থেইকা ডিরাইভড হইছে...এদের মধ্যে ভুত রয়ে গেছে...দেশ চালনায় এদের ভুমিকা অনেক খানি যা বাইরে থেকে বুঝা যায়না।

 

 


ছেঁড়া ছেঁড়া ভালবাসা, দুই চোখ ভরা সীমাহিন স্বপ্ন, অদ্ভুত সব স্মতি, একরাশ বেদনা, কঠিন বাস্তবতা, নিদারুণ অলসতা, আড্ডাবাজি, সত থাকার...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

সর্বমোট হিট

 ৩১১৪৯