somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

খেলা (সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার)

১০ ই এপ্রিল, ২০১৬ দুপুর ২:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মনের তেতো স্বাদটা মুখে লেগে আছে। অনেকদিনই তো হল! কিচ্ছু যায় আসে না। শরীরের রোগ সারাতে হয়, মনের রোগ না। অজান্তেই কুঁচকে ফেললাম শ্রীমুখখানা। বাতাবীলেবুর মত চিপে যেন তিক্ততা বের করে দিতে চাইছি। হল না। হাসতে হবে। মুখের নিচের অংশ ইদের চাঁদের মত বাঁকিয়ে ফেললাম, চোখ করলাম ছোট ছোট, এটাই হাসি! অদ্ভুত একটা মানবীয় প্রক্রিয়া। নিরাপত্তা আর অভ্যর্থনার প্রাথমিক প্রতিশ্রুতি।


সুরাইয়া হেঁটে হেঁটে আসছে। আমি তার ভালোবাসার মানুষ। তিনমাস ধরে হাত ধরাধরি করছি আমরা। সুরাইয়া দেখতে বড়ই সুন্দরী। গায়ের রঙ কিছুটা ফ্যাকাসে, মনে হয় যেন রোদ থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছে বহুদিন। আসলে তো তা না। আমার সাথেই রোদে রোদে ঘুরে কতদিন! আসলে কিছু কিছু মানুষ এরকমই। সুরাইয়া সারাদিন রোদে ঘুরেও পুড়ে না, যেমন আমার স্কুলের বন্ধু রাশেদ অনেক খেয়েও প্যাঁকাটি মার্কা চেহারাটার উন্নতি করতে পারে নি।
আজকে সুরাইয়ার সাথে আমার সম্পর্কের শেষদিন। সিদ্ধান্তটা আমিই নিচ্ছি। ঝামেলা বাড়িয়ে কাজ নেই। আরো কয়দিন গেলে মায়া আরো বাড়বে, তাতে মজাটাই মাটি! তিনটা মাস ধরে জাল গুটিয়ে আনছি, শেষ মুহুর্তে ভালবাসা-টাসার মত জটিল ঝামেলায় পড়ে সবটাই পণ্ড হবে। তার চেয়ে আজই সব চুকেবুকে যাক, আমিও হাঁপ ছেড়ে বাঁচি।


মেয়েতো কম পাইনি জীবনে। ওই ছিল নুসরাত, আদাবরে বাসা। মেয়েটার গালদুটো ছিল আপেলের মত টসটসে লাল। সারাক্ষণ মন খারাপ করত সে নাকী মোটা। আরে ওর গোলাটে দেহটাই তো ছিল মূল আকর্ষন! এখনো মাঝে মাঝে ওর কথা মাথায় টোকা খায়, খারাপ লাগে। মজার প্রস্তুতি নিতে হয় এতদিন ধরে, দুই-তিন ঘন্টাতেই মজা শেষ।
তারপর তানিমা। এই মেয়েটা বয়সে আমার সমানই ছিল বলা যায়। আমাকে বলেছিল আমি নাকি তার বন্ধু। খারাপ ছিল না মেয়েটা। খালি দোষের মধ্যে একটু বেশীই সিগারেট খেত। কথায় কথায় ফস করে সিগারেট ধরাত। তামাকের গন্ধ সয়না আমার। নাড়ি ভুড়ি উল্টে আস্তে চাইত। ওর সাথে খেলা শেষ হওয়াতে হাঁপ ছেড়েই বেঁচেছি বরং।


লিস্টে কতজনই আছে, ইসু, রাইনা, মোনা এখানে বলার কোন মানে হয় না। সুরাইয়া এদের সবার চেয়ে আলাদা। কেমন যেন ঠান্ডা মেরে থাকে। মাঝেমাঝে টের পাই, আমার দিকে তাকিয়ে আছে। চোখে কোন কাম নেই, বরং কেমন যেন মুগ্ধতা। প্রথম প্রথম ভড়কে গিয়েছিলাম। কারণ তার দিকে আমিও এভাবেই তাকাই। মেয়েটার সমস্যাটা কী? আমি যখন কথা বলি খুব মনোযোগ দিয়ে শুনে। সবসময় হাতের তালু দিয়ে আমার কনুই আলতোভাবে ছুঁয়ে যায়। আমার ভালো লাগে তাকে। কেন যেন মনে হয়, আমরা জমজ ভাইবোন হলে ভালই হত। এতসব ঝামেলায় কেন আসলাম?
আজকে ওকে নিয়ে গাজীপুর যাব। সারাদিন ঘুরব। খাব। হাত ধরাধরি করে হাঁটব। স্বপ্নের কথা বলব, ভবিষ্যতের ছবি আঁকবো তাকে নিয়ে। এসব করতে করতে সন্ধ্যা হয়ে যাবে। আজ ওকে চুমু খাব। আমাদের প্রথম চুমু। গাড়ীটা রাস্তা থেকে একটু সরিয়ে নিয়ে যাবো। গাজীপুর জায়গাটা ভালো। গাছপালা বেশী, রাস্তা থেকে সরে গেলে কেউ দেখতে পাবে না।
তারপর আঃ! আসল মজাটা হবে। তিনটা মাস ধরে অপেক্ষা করছি। ওর সাথে প্রথম সাক্ষাত হওয়ার পর থেকেই। আজ সব হবে। গাড়ীর ডিকিতেই রেখেছি সেটটা। বেশ দামী জিনিষ। তিন ধরণের চাপাতি আছে। একটা বড় রামদাও আছে। সব নতুন। ইম্পোর্টের মাল। পুরো চক চক করছে। সুরাইয়া আমার জন্য স্পেশাল। ওকে তো আর বাকি সবার মত বাংলা জিনিষ দিয়ে কোপাব না ।






তারেককে দেখে হাসি হাসি হয়ে গেলো সুরাইয়ার মুখ। ভ্যানিটি ব্যাগে অজান্তেই হাত চলে তার। ছোট চাইনিজ আটফলার ছুরিটা এক অদ্ভুত আরাম দিচ্ছে তাকে। আজ সব হবে! তিনটা মাস ধরে খেলেছে সে। আজ শেষ দিন!
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই এপ্রিল, ২০১৬ বিকাল ৩:৫৪
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আগুন জ্বলে কেন: শিশুবুদ্ধি, পুরাণ এবং আমাদের শিক্ষা

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২০ শে জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪


বার্ট্রান্ড রাসেল লিখেছিলেন: "ধর্মের ভিত্তি ভয়। অজানার ভয়, পরাজয়ের ভয়, মৃত্যুর ভয়। ভয় থেকে নিষ্ঠুরতা জন্মে। তাই নিষ্ঠুরতা আর ধর্ম পাশাপাশি চলে।" রাসেলের সৌভাগ্য যে তিনি এ সময়ের বাংলাদেশে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=হা হুতাশে লাভ নেই, সময় সে যাবেই=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২০ শে জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:১৯

এত হা হুতাশ করে লাভ নেই । ব্লগ আগের মত নাই। তাতে কী হয়েছে। যে যাবার সে যাবেই, যে আসবে তাকে সাদরে গ্রহণ করতে হবে। অনেকেই কয়েক মাস যাবত, পোস্ট... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিতীয় তলার মানুষ

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২০ শে জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৩

আমাকে সবাই সম্রাট বলে ডাকে।
নামটা আমি নিজে রাখিনি।
নাম মানুষকে দেওয়া হয়—যাদের কেউ মনে রাখে।

সম্রাট শাসন করে।
আমি শুধু অধিকার করে নিয়েছিলাম—
কারও না থাকা জায়গাগুলো।

আমি ভবঘুরে—এই শব্দটা মানুষ ব্যবহার করে
নিজেদের অপরাধবোধ ঢাকতে।
কারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভৌতিক নয় গোয়েন্দা কাহিনী বলা যেতে পারে

লিখেছেন রাজীব নুর, ২০ শে জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:০৬



আমি গভীর ঘুমে। ঘুম আসে ক্লান্তি থেকে।
সাধারনত অপরিচিত জায়গায় আমার একেবারেই ঘুম আসে না। অথচ এই জঙ্গলের মধ্যে পুরোনো বাড়িতে কি সুন্দর ঘুমিয়ে গেলাম। পাহাড় ঘেষে ঠান্ডা... ...বাকিটুকু পড়ুন

জোকস্ অফ দ্যা-ন্যাশান!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২০ শে জানুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০২

ঢাকা থেকে কুয়াকাটা যেতে এখন পদ্মা সেতু, পায়রা সেতুসহ ৯–১০টা সেতু পার হতে হয়। ভয়ংকর ব্যাপার! একের পর এক সেতু! মানুষ আর ফেরিতে কষ্ট পায় না, ২৪ ঘণ্টা নষ্ট করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×