শুরুটা ভাল হল না মোটেই ।
এমনিতেই মন-টন ভাল নেই । তার উপর গত কয়েক দিনের শ্রম টা বোধ হয় একটু বেশিই হয়ে গেছিল । মরার উপর খাড়ার ঘাঁ এর মত বৃষ্টিতে ভিজে দাঁড় কাক হয়ে ক্লাশ করেছি সারাদিন । এরপর আবার আছে জাগো'র ডাক । আর কি ভালো লাগে ! সোজা বলে দিলাম, আমি যাব না , তোদের এতো শখ , যা তোরা ।
কিন্তু, মানুষ ভাবে এক, আর হয় আর এক । শেষ পর্যন্ত, চলেই গেলাম… কেন গেলাম, তার কারন খুঁজতে যাব না । আমার ভাই কোন কারন-টারন লাগে না । যখন যেটা মনে হয় করব, তা করে ফেলি ।
সে যাই হোক, আমি , জামিল আর তন্ময় যখন রিকশা করে রওনা হলাম, তখন থেকেই বুঝতে পারলাম, বৃথা যাবে না সময়টা । আর কিছু হোক না হোক, তিন জনে আড্ডা তো দেওয়া যাবে !
আরেকটু ভেঙ্গে বলি । বিশ্ব শিশু দিবস বলে একটা দিবস আছে । আর আছে জাগো নামে একটা শিশু প্রতিষ্ঠান । বিশ্ব শিশু দিবসে পথ শিশুদের নিয়ে যাবে Wonderland এ । খুব ভাল । কিন্তু সমস্যা হল, সেদিন তো ওদের কাজ বন্ধ । সেজন্য ওদের জায়গাতে কাজ করতে হবে অন্য কাওকে । সেই অন্য কেউ হতে, সোজা ভাষাতে , proxy দিতে , আমাদের জাগো তে যাওয়া ।
গেলাম না হয় । একটা দিন ই তো । গিয়ে Registration করলাম । আমাদের spot ছিল কারওয়ান বাজারের মোড় । ভেবেছিলাম, বসুন্ধরার সামনে গোলাপ বিক্রি করব, মানে বুঝতেই ত পারছেন , ভাব আছে একটা । আর কোন ভাবে ‘বুয়েট’ বলে দিলে তো আর কথাই নাই, ইলেক্ট্রিকাল না হয় না ই বললাম ।
শুরু হল দিন । গোলাপ বিক্রি ভালই চলছে । চামে গোলাপ তো দেওয়া হল !
আমি আর জিম ছিলাম এক সাথে । বেচারা জিম ! ওর হাতে ছিল বেলুন আর লেবু । ও ‘কাস্টমার’ ধরে আর আমার পপকর্ণ বিক্রি হয় । চামে আমি লাল
আমরা প্রথমে শুধু প্রাইভেট কার আর সি.এন.জি. আটোরিকশা গুলোকে ধরছিলাম । বাসগুলো যে জ্যামপ্যকড্ থাকে ! সাহস করে উঠে পরলাম একটাতে…আর দিনের সবচেয়ে বড় ভুল টা করলাম।
বাসে বিশাল গোলমাল । মোবাইল হারিয়েছে কেউ , যাত্রীরা ক্ষিপ্ত…পাবলিক বাস মব হয়ে ওঠার অভিজ্ঞতা যাদের আছে, তারা ভাল বুঝবেন । মাঝে আমারা দুই ক্যানভাসার …
বাসের ড্রাইভারের গালি খেয়ে বাস থেকে নামলাম । [পুরোটা এখানে বলতে চাই না ] । আমার কান ঝাঁ ঝাঁ করছে…জিম আর আমি একজন আরেক জনের দিকে তাকাই না…জীবনে এত অপমান কখনো হই নি, কল্পনাও করিনি । শুধু ‘জাগো’র দুর্নাম হবে বলে…নইলে ঐ সিগনালে আমরা সতের – আঠার জন ছিলাম…
এরপর জেদ চেপে গেল…বাসেই বিক্রি করব। পরের বাসে মোটামুটি বিক্রি হল । সময়ের সাথে অপমানের বোঝা টা একটু হাল্কা হয়ে এল । বাকি সময় টা অবশ্য ভালই কাটল । হোটেল থেকে বার বার objection দেওয়াতে আমদের পান্থপথের মোড়ে সরে আস্তে হয় । সময়টা আমার ঠিক মনে নেই , তবে আসরের নামাজের পর আমরা প্যাক আপ করি ।
দিন শেষে যখন আমি আর জামিল রিকশা নিয়ে ফিরে আসছি … তখন প্রথম অনুভব করলাম, আজকের দিনটা কতটা অসাধারণ ছিল । আমি ব্যক্তিগত ভাবে যদিও কখনো পথশিশুদের সাথে খারাপ ব্যবহার করি না , কিন্তু রাস্তায় যখন ওরা কিছু বিক্রি করতে আসে তখন যেভাবে উপেক্ষার শিকার হয় ওরা…আমার চোখে এত দিন মনে হত এটাই তো স্বাভাবিক । কিন্তু তখন বুঝলাম, সারাদিন ওই উপেক্ষা গুলো আমাকে যেমন আহত করেছিল , তেমনি ওদের কেউ করে, আমরা হয় তা বুঝিনা অথবা বুঝতে চাই না ।
একদিন রাস্তায় ওদের জায়গাতে কাজ করে হয়ত আমরা কোন পার্থক্য গড়ে দিতে পারি নি । কিন্তু ওদের জন্যে কিছু একটা করার জন্য আকাংখাটা শত গুণে বৃদ্ধি পেয়েছে তা নিঃসন্দেহে বলতি পারি । আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি আমার মত করেই অনুভব করেছে সেদিন সবাই । আমার মনে হয় , এই উদ্যোগের সফলতা এখানেই ।
_i@7

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


