somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

'জাগো'র সাথে একদিন

১০ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ৯:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১৮ নভেম্বর ,২০০৯

শুরুটা ভাল হল না মোটেই ।

এমনিতেই মন-টন ভাল নেই । তার উপর গত কয়েক দিনের শ্রম টা বোধ হয় একটু বেশিই হয়ে গেছিল । মরার উপর খাড়ার ঘাঁ এর মত বৃষ্টিতে ভিজে দাঁড় কাক হয়ে ক্লাশ করেছি সারাদিন । এরপর আবার আছে জাগো'র ডাক । আর কি ভালো লাগে ! সোজা বলে দিলাম, আমি যাব না , তোদের এতো শখ , যা তোরা ।

কিন্তু, মানুষ ভাবে এক, আর হয় আর এক । শেষ পর্যন্ত, চলেই গেলাম… কেন গেলাম, তার কারন খুঁজতে যাব না । আমার ভাই কোন কারন-টারন লাগে না । যখন যেটা মনে হয় করব, তা করে ফেলি ।

সে যাই হোক, আমি , জামিল আর তন্ময় যখন রিকশা করে রওনা হলাম, তখন থেকেই বুঝতে পারলাম, বৃথা যাবে না সময়টা । আর কিছু হোক না হোক, তিন জনে আড্ডা তো দেওয়া যাবে !

আরেকটু ভেঙ্গে বলি । বিশ্ব শিশু দিবস বলে একটা দিবস আছে । আর আছে জাগো নামে একটা শিশু প্রতিষ্ঠান । বিশ্ব শিশু দিবসে পথ শিশুদের নিয়ে যাবে Wonderland এ । খুব ভাল । কিন্তু সমস্যা হল, সেদিন তো ওদের কাজ বন্ধ । সেজন্য ওদের জায়গাতে কাজ করতে হবে অন্য কাওকে । সেই অন্য কেউ হতে, সোজা ভাষাতে , proxy দিতে , আমাদের জাগো তে যাওয়া ।

গেলাম না হয় । একটা দিন ই তো । গিয়ে Registration করলাম । আমাদের spot ছিল কারওয়ান বাজারের মোড় । ভেবেছিলাম, বসুন্ধরার সামনে গোলাপ বিক্রি করব, মানে বুঝতেই ত পারছেন , ভাব আছে একটা । আর কোন ভাবে ‘বুয়েট’ বলে দিলে তো আর কথাই নাই, ইলেক্ট্রিকাল না হয় না ই বললাম ।

শুরু হল দিন । গোলাপ বিক্রি ভালই চলছে । চামে গোলাপ তো দেওয়া হল ! ;) কিন্তু এই সুখ বেশিক্ষন সইল না পোড়া কপালে । রাস্তায় দেখা গেল কিছু শিশু গোলাপ বিক্রি করছে [পরে জানলাম, রাস্তায় এই বাচ্চা গুলোর থাকার কথা ছিল না…জানেন তো ভাল সহ্য হয় না বাঙ্গালির…] । তো আমরা গোলাপ বিক্রি বন্ধ করে দিলাম । হাতে তুলে নিলাম পপকর্ণের ‘বস্তা’ । :P
আমি আর জিম ছিলাম এক সাথে । বেচারা জিম ! ওর হাতে ছিল বেলুন আর লেবু । ও ‘কাস্টমার’ ধরে আর আমার পপকর্ণ বিক্রি হয় । চামে আমি লাল:P

আমরা প্রথমে শুধু প্রাইভেট কার আর সি.এন.জি. আটোরিকশা গুলোকে ধরছিলাম । বাসগুলো যে জ্যামপ্যকড্ থাকে ! সাহস করে উঠে পরলাম একটাতে…আর দিনের সবচেয়ে বড় ভুল টা করলাম।

বাসে বিশাল গোলমাল । মোবাইল হারিয়েছে কেউ , যাত্রীরা ক্ষিপ্ত…পাবলিক বাস মব হয়ে ওঠার অভিজ্ঞতা যাদের আছে, তারা ভাল বুঝবেন । মাঝে আমারা দুই ক্যানভাসার …
বাসের ড্রাইভারের গালি খেয়ে বাস থেকে নামলাম । [পুরোটা এখানে বলতে চাই না ] । আমার কান ঝাঁ ঝাঁ করছে…জিম আর আমি একজন আরেক জনের দিকে তাকাই না…জীবনে এত অপমান কখনো হই নি, কল্পনাও করিনি । শুধু ‘জাগো’র দুর্নাম হবে বলে…নইলে ঐ সিগনালে আমরা সতের – আঠার জন ছিলাম…

এরপর জেদ চেপে গেল…বাসেই বিক্রি করব। পরের বাসে মোটামুটি বিক্রি হল । সময়ের সাথে অপমানের বোঝা টা একটু হাল্কা হয়ে এল । বাকি সময় টা অবশ্য ভালই কাটল । হোটেল থেকে বার বার objection দেওয়াতে আমদের পান্থপথের মোড়ে সরে আস্তে হয় । সময়টা আমার ঠিক মনে নেই , তবে আসরের নামাজের পর আমরা প্যাক আপ করি ।

দিন শেষে যখন আমি আর জামিল রিকশা নিয়ে ফিরে আসছি … তখন প্রথম অনুভব করলাম, আজকের দিনটা কতটা অসাধারণ ছিল । আমি ব্যক্তিগত ভাবে যদিও কখনো পথশিশুদের সাথে খারাপ ব্যবহার করি না , কিন্তু রাস্তায় যখন ওরা কিছু বিক্রি করতে আসে তখন যেভাবে উপেক্ষার শিকার হয় ওরা…আমার চোখে এত দিন মনে হত এটাই তো স্বাভাবিক । কিন্তু তখন বুঝলাম, সারাদিন ওই উপেক্ষা গুলো আমাকে যেমন আহত করেছিল , তেমনি ওদের কেউ করে, আমরা হয় তা বুঝিনা অথবা বুঝতে চাই না ।

একদিন রাস্তায় ওদের জায়গাতে কাজ করে হয়ত আমরা কোন পার্থক্য গড়ে দিতে পারি নি । কিন্তু ওদের জন্যে কিছু একটা করার জন্য আকাংখাটা শত গুণে বৃদ্ধি পেয়েছে তা নিঃসন্দেহে বলতি পারি । আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি আমার মত করেই অনুভব করেছে সেদিন সবাই । আমার মনে হয় , এই উদ্যোগের সফলতা এখানেই ।


_i@7
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×