somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মাত্তামশাই, কুমীল!!!...=p~

০৩ রা ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এক মাস্টারমশাইয়ের এক ছাত্র ছিল। এটা কোনও গল্প নয়। অগন্য মাস্টারমশাইয়ের অগন্য ছাত্র থাকে। কিন্তু এই ছাত্রের বিশেষত্ব ছিল এই যে এ কোনও সাব্জেক্টেই পাঁচের বেশি নাম্বার পেতনা। মাস্টারমশাইয়ের লজ্জার শেষ নাই। ব্যাবসাদার বাবা। তিনিও ভাবেন, মাস্টারমশাইয়ের পেছন এত টাকা খরচ হচ্ছে আর রেজাল্টের বেলায় এই। অল ডেবিট, নো ক্রেডিট।

একদিন তিনি ডেকে পাঠালেন মাস্টারমশাইকে। ভিতর থেকে বড় ডিশে করে ভালমন্দ খাবার-দাবারও এল। ছেলের বাবা বললেন ব্যাপারটা কি? মাস্টারমশাই বললেন, ব্যাপার আর কিছুই নয়, কুমীর।
কুমীর?
সে কি কথা !
হ্যাঁ স্যার। কুমীর। আপনি স্বকর্নেই শুনুন। শেখাইতো আমি সবই কিন্তু আপনার ছেলের কুমীরের জন্য সাধ্য কি যে স্কুলের মাস্টারেরা আপনার ছেলেকে নম্বর দেন।
তা কি করে হয়? কুমীর নাহয় এক বিষয়ের নম্বর খেল। সব বিষয়ের নম্বর কিকরে খায় তা তো আমার সাধারন বুদ্ধির বাইরে।
শুধু আপনার না স্যার, ব্যাপারটা যা দাঁড়িয়েছে তা সব মাস্টারমশাইদের অসাধারন বুদ্ধিরও বাইরে।
শুনি, দেখি ছেলেকে কি পড়িয়েছেন? আপনি প্রশ্ন করুন আর ও আমার সামনেই জবাব দিক। ওর কুমীর মেরে তার চামড়া দিয়ে আমি গিন্নিকে একটা ব্যাগ বানিয়ে দিব।
বলতো খোকন। আচ্ছা প্রথমে কঠিন প্রশ্ন নয়। প্রথমেই গরুর উপরে মুখে মুখে একটা রচনা বল।
বাচ্চা ছেলেটি বললো, গলু? মাত্তারমশাই?
হ্যাঁ বাবা গলু।
ছাত্র গড়্গড় করে বলতে শুরু করলো, গলু একটি উপকালি জন্তু। গলুর দুধ আমলা থকলে কাই। গলুর দুধ দিয়ে থানা হয়, থন্দেত হয়, দই হয়। গলুর তামলা দিয়ে দুতো হয়, গলুর থিং দিয়ে কত্বো কিতু হয়। কিন্তু মাত্তামতাই।
কি? বলো বলো।
মাস্টারমশাই বললেন।
থামলে কেন?
বাবা বললেন, বলো খোকন, কি হল?
একদিন না গলুতা বিতেল বেলায় বেলাতে বেলাতে একতা নদীল ধালে যেই না গিয়ে পৌছেছে, আর মাত্তামথাই...।
চোখ ছানাবড়া করে বলল খোকন।
আঃ বলই না...
মাস্টারমশাই বিরক্ত হয়ে বললেন।
মাত্তামথাই একতা কুমীল এথে না গলুতার পা কামলে ধলে এক্কেলে দলের তলায়...ও মাত্তামথাই ! গলু থেথ !
মাস্টারমশাই বললেন দেখলেনতো স্যার। গরু আরম্ভ হতে না হতেই শেষ হয়ে গেল। যাকে নিয়ে নিবন্ধ তাকেই যদি কুমীর দিয়ে খাইয়ে দেয় গোড়াতেই তো মাস্টারমশাইরা কত নম্বর দিতে পারে বলুন?
এটা কোন কথা নয়। এ অবিশ্বাস্য ব্যাপার। সব বিষয়েই কুমীর আমার ছেলেকে খাচ্ছে...?

আসলে স্কুল্গুলো সব গোল্লায় গেছে মশাই...পড়াশোনাই হয়না। নইলে একি মামদোবাজী পেয়েছেন? কুমীরের দোহাই পাড়ছেন সব সাব্জেক্টে আমার ছেলে ফেইল করার জন্য?
আহা আমিতো প্রাইভেট। স্কুলেরতো নই। আমার উপর রাগ করেন কেন?
তাহলে রাগ করব কার উপরে?
কি বলেন স্যার আপনি? কুমীর আপনার ছেলেকে খাচ্ছে? না না, আপনার ছেলেকে কুমীর খাবে কেন, কুমীরতো...
ঐ হল ! নেট ইফেক্টতো তাইই...প্রতি সাব্জেক্টে যদি ৩ ৪ করে পায় তো ঐ কুমীরেইতো খেল নাকি ছেলেকে?
একটু থেমে মাস্টারমশাইকে বললেন, আচ্ছা রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে আমার ছেলে কিছু জানে? বাঙ্গালীর ছেলেকে রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে কিছু শেখাননি?
আমার বিদ্যেবুদ্ধি অনুযায়ী যতটুকু জানি শিখিয়েছি স্যার। বলেই বললেন, বলতো বাবা রবি ঠাকুর সমন্ধে তুমি কি জান?
লবি থাকুল মাত্তামথাই? ও, লবি থাকুল বকুব বালো কবি ছিলেন। টিনি গীতাঞ্জলী বলে একতা বই লিকে নোবেল প্লাইজ পেয়েছিলেন। উনি অনেক গানও লিকেথিলেন। থে গানের নাম লবীন্দথংগিত। কিন্তু মাত্তামথাই।
একদিন না তিনি বেলাতে বেলাতে থিলাইদহর পদ্মার পাথে গেথেন, আল মাত্তামথাই!
কি?
আল কি! এত্তা কুমীল এথে তাঁর ঠ্যাং দলে তেনে নিয়ে তলে গেল - মাত্তামথাই।
আকি জ্বালারে বাবা!
ছেলের বাবা রীতিমত বিরক্ত হয়ে বললেন। সাহেব কবি-টবি সম্বন্ধে পড়িয়েছেন কিছু? এই কুমীরকে যদি সাহেব দিয়ে জব্দ করা যায়।
হ্যাঁ। আপনি নিজেই জিজ্ঞেস করুন না এইবার।
বল তো খোকন, উইলিয়াম শেক্সপিয়ার কে ছিলেন?
খোকন সঙ্গে সঙ্গে বলল : ' থেকথপিয়ার ইংল্যান্দের মহাকবি থিলেন। তিনি অনেক বই লিখেথিলেন, নাতোক, কবিতা আলো কত কি! তিনি জন্মেথিলেন ত্যাথফোর্ড অন আভোন এ। কিন্তু মাত্তামথাই !
কি?
ওকদিন না তিনি তাল বালি থেকে বেলিয়ে আভোনের পাথা বেলাতে বেলাতে যেই গেছেন, সেই নদীতে অনেক হাঁথ ও ভাসথিল কিন্তু মাত্তামথাই একতা কুমীল, কি পাজি কুমীল, এত্যো বলো বলো ল্যাজ, হাঁথগুলোকে না ধলে থেকথপিয়ারের পা কামলে দলে আভোন নদীল মদ্দে
এক্কেবালে মাত্তামথাই...
ছেলের বাবা এবার অত্যন্ত চিন্তান্বিত গলায় বললেন, আরে। সত্যইতো তো মাস্টারমশাই। একে একি কুমীরের ব্যামোয় পেল বলুনতো দেখি ! জ্যোতিবাবুর ভাষায় এযে দেখছি 'গভীর চক্রান্ত'।
কি আর বলব আমি ? শুধুই দেখি। মাস্টারমশাই অসহায় গলায় বললেন আচ্ছা, এবারে একটা ইতিহাসের প্রশ্ন করুনতো। দেখি কুমীর কিকরে ঢুকে হিস্ট্রীতে। প্রেজেন্ট টেন্সে ঠিক আছে পাস্ট টেন্সেতো ট্যাঁ-ফোঁ করবেনা।
মাস্টারমশাই একটিপ নস্যি নিয়ে বললেন, ঢুকবে তাও ঢুকবে দেখবেন। অসীম ক্ষমতা আপনার ছেলের। এর কুমীর বেহুলা লক্ষীন্দরের বাসরঘরে ঢোকা সাপেরই মত। বড় সূক্ষ শরীর সে সর্বনাশার। তাকে আটকায় সে সাধ্য কারোর নেই।
বাবাই বললেন এবারে, আচ্ছা বলতো খোকন তুমি শাজাহান সম্পর্কে কিছু জানো ?
হ্যাঁ। জানি বাবা।
কি জানো ? বল।
থাদাহান খুব বলো নবাব থিলেন। দিল্লির নবাব। তাঁল বউএর নাম থিল মমতাহমহল। তিনি তাজমহল বানিয়েছিলেন
একদিন...মাত্তামথাই...।
কি ? কি হল ?
একদিন থাদাহান দমুনা নদীল পাথে দালিয়ে দালিয়ে দমুনাল দলে তাল তলোয়াল পলিস্কাল কত্তিলেন আর অমনি...মাত্তামথাই ! ওমনি একতা কুমীল এথে থাদাহানের পা ধলে দলের নিচে...মাত্তামথাই।
ছেলের বাবা exasperated হয়ে এবারে মাথায় হাত দিয়ে মাস্টারমশাইকে বললেন, মাটির উপরে তুলে দেখেছেন কখনও ?...মানে শুন্যে ? সেখানেও কি কুমীর ?
হ্যাঁ স্যার তাও দেখেছি। সব জায়গায় কুমীর।
সেকি ? না না। এ আপনার বাড়াবাড়ি। দাঁড়ান। আমিই প্রশ্ন করি। আচ্ছা খোকন, এরোপ্লেন সম্পর্কে তুমি কি জান বল। এরোপ্লেন দেখেছতো ?
হ্যাঁ জানি।
বলব ?
হ্যাঁ খোকন বলতো।
এলোপ্লেন আকাশের দাহাদ। আকাথে তলে। উলে উলে তলে। তার দুতো দানা আতে। অনেক মাল আর মানুথ তাল পেতের মধ্যে বথে থাতে। এলোপ্লেন দিনে ও লাতেও উলতে পারে।
বাবা বললে, এইতো কেমন ফ্লুয়েন্টলি বলে যাচ্ছে, আপনারা না...
হ্যাঁ খোকন বলো, তারপর ?
একদিন এলোপ্লেনটা একতা নদীল উপল দিয়ে যেতে যেতে কালাপ হয়ে গিয়ে...মাত্তামথাই...
নদীর নাম কি ?
কঙ্গো নদী মাত্তামথাই। কুমীলে ভলা !
মাস্টারমশাই একটিপ নস্যি নিয়ে বললেন, ঐ দেখুন ! এরোপ্লেনও কি বাঁচবে ?
মাত্তামথাই। এলোপ্লেনতা দেই দলে এসে পললো একতা কুমীল দুতো কুমীল অনেক কুমীল এসে আগে পাইলটদের আগে তাপ্পর...মাত্তামথাই...!

----------------------------------------------------------------------------------
[বুদ্ধদেব গুহ আমার তেমন পছন্দের লেখক নন...উনার খুব বেশি বই আমি পড়িওনি...কিন্তু উনার বইয়ে সব প্রেমের সম্পর্ক শারীরিক সম্পর্কের দিকে চলে যাবেই...{এটা স্বতঃসিদ্ধ...}...তাই আমার পড়তে বেশি ভাল লাগত না...তবে এত খুতখুতানির ভিতরেও উনার একটা বই আমার ব্যাপক পছন্দ...নাম হল 'সবিনয় নিবেদন'...বইটা হল চিঠি ভরা...মানে পুরা বইটাই {শেষ কয়েক পাতা ছাড়া}...চিঠিতে প্রেম...সেই চিঠি আবার 'তুমি কেমন আছ, আমি ভাল আছি, আমি করল্লা দিয়ে ভাত খাচ্ছি...' এই ধরনের আবজাব কথাভরা চিঠি না...ব্যাপক জ্ঞ্যানের চিঠি...;) ...শেষে উনার ট্রেডমার্ক 'টিংকুর'{=p~} ব্যাপারটা অবশ্য আছেই...তবে খুব পরিশীলিত...
আমার খুব প্রিয় বই...তাই এর ভিতরের একটা মজার গল্প শেয়ার না করা পারলামনা...:)]
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:০৯
৩৪টি মন্তব্য ৩৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×