somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সমাজ সভ্যতা ধর্ম পরিবার , একটি তুচ্ছ ঘটনা ভেঙে দিল মোর দশ বছরের সংসার।

২৪ শে নভেম্বর, ২০১০ সকাল ১০:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

হিম কুহেলির আগমনে অতিথী পাখি ডানা মেলে উড়ছে যখন নীল আকাশে,
বসন্ত বরণ হবে কি আমার রজনীগন্ধার ঘ্রানে, ভরে উঠা বাতাসে।
সাইমুম ঝড়ে গিরীখাদ ভরাট হল স্নিগ্ধ রোদের ছোঁয়ায়,
কোথা হতে কাল বৈশাখী এসে মরণ ছোবল দিল মোর আঙিনায়।

বাবা তুমি আমায় নিয়ে চল তোমার জীর্ণ কুটিরে। কি রে ”মা” আসনা, কয়দিন বেড়ীয়ে যা..
তুমিতো জান না বাবা , আমি চিরদিনের জন্য আসছি , আর তোমায় ছেড়ে যাবনা ।

আমি কি জানতাম? একটি তুচ্ছ ঘটনা ভেঙে দিবে মোর দশ বছরের সংসার,
বন্ধন রক্ষায় বাধা হয়ে দাড়াল না সমাজ, সভ্যতা , ধর্ম , পরিবার।
তিনটি শব্দের উচ্চারণ কাল হয়ে দাড়াল সেদিনের মেহেদী রাঙানো হাত,
প্রথম প্রীয় দর্শিনী গোলাপ দিয়ে সাজানো তোমার স্মৃতির বাসর রাত।
আমি সাজবো নতুন সাজে , তাই মন খুশীতে নাচে, প্রীয় এ আমার গান,
আর বুঝি বাজবে না সানাইয়ের সুরে , দিবে না কেউ স্মৃতির প্রতিদান।

একটি তুচ্ছ ঘটনা সামান্য হাঁস নিয়ে ঝগড়া করে দুটি অবুঝ শিশুর সামনে ছাড়াছাড়ী হয়ে গেল দুজনের , এর পূর্বেও দুবার তাদের জোড়া তালি দিয়ে রক্ষা করা হয়েছে , এবার পরিসমাপ্তি ঘটলো শেষ দৃশ্যের।
বিদায় বেলায় দু পরিবার আর গ্রাম্য শালীসের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত হল কিভাবে একটি মেয়ের দশ বছর সংসার জীবনের মূল্য নির্ধারন করা যায়। ইতিমধ্যে ছেলেকে জিজ্ঞেস? আমি তিন কথা বলেছি, মেয়েকে জিজ্ঞেস? আমি তিন কথা শুনেছি ।
ছেলের মাকে জিজ্ঞেস? উনিও শুনেছেন , বাড়ীর লোকও শুনেছেন। গ্রাম্য শালীস ছেলেকে জিজ্ঞেস করল তোমার কি কোন কথা আছে ?
আর এভাবে সম্ভব নয় আপনারা একটা ফয়সালা করে দেন। তার পরও আমরা জানতে চাই কি এমন হল , এ কঠিন সিদ্ধান্ত নেয়ার কারন কি ? অনেক কথার মাঝে ঝগড়াঝাটিই মূল কারন।
ছেলে বলছে স্ত্রী পর্দা করে না , মেয়ে বলছে স্বামি জুয়া খেলে , রাত করে বাড়ী ফেরে, অন্য মেয়ের সাথে সম্পর্ক আছে, তার আবার পর্দা!!!!

এবার শুর“ হল মূল্য নির্ধারনের পালা, ষাট হাজার টাকা যৌতুক সহ মেয়ের মোট পাওনা একলক্ষ সত্তর হাজার টাকা ।
শালীস
টাকা দাও? আমার সে অবস্থা নেই। শালীস কয়েক জনের সমন্নয়ে নির্জনে সিদ্ধান্ত নিল একলক্ষ বিশ হাজার টাকা।
(প্রকাশ: মামলা মোকদ্দমা হলে দীর্ঘ দিনের বিষয় ,কিস্তি করে দেয়া , পালিয়ে যাওয়া ইত্যাদি ।)
চার পাঁচ বছরের বাচ্চা দুটো বাপের কাছে থাকবে। বাচ্চা দুটো বাপের কোলে কাঁদছে..

জীবন সিনেমার শেষ দৃশ্য..

মেয়ে বাড়ীর সকল মহিলার কাছ থেকে বিদায় নিচ্ছে আর ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাদছে , পুরো বাড়ী কান্নার বাড়ীতে পরিনত হয়েছে। মেয়েটি একটি সুটকেস হাতে তার হাতের গড়া ঘরখানির দিকে তাকিয়ে কখনো পেছনে কখনো সামনে ।

আশায় এসেছি এবাড়ী আমার , আলতা রাংঙা পায়
বাবার স্মৃতি ভুলে গিয়েছি, আপন করেছি তোমায়।
কতদিন আমি নাখেয়ে ছিলাম তুমি এলে বলে
বাতায়ন আমার খোলা ছিল গো, চেরাগ বাতি জ্বলে।
ঘুম আসে না ঘুম ঘুম করে গভীর রাতের ভীতি
জোনাকী পোকার কিচিরমিচির স্বপ্ন রাংঙা স্মৃতি।
প্রসংশা ছিল দীঘল কেশের আলতো পরাগ ছোয়া
রজনীগন্ধার লোভ দেখিয়ে কচুরি ফুল আর মোয়া।
আমার খোপায় হাত বুলিয়ে তিলক দিতে ভালে
খোপার বেনীর হুল ফুটিয়ে চিমটি কাটা গালে।
স্নানের পরে একটু দাড়াও আবার তোমায় দেখি
মন ময়ুরী দেখতে কেমন, এই দাড়ীয়ে সে কি!
বালিকা বধুর বালিকা প্রেমে বিভোর ছিলে যেদিন
কি করে গো ভুলে গেলে আজ, শিউলী গাথা সেদিন।

ছেলে বাচ্চা দুটো কোলে অন্য দিকে মুখ করে দাড়িয়ে আছে , বাচ্চাদুটো মা মা বলে চিৎকার করে কাঁদছে , মেয়েটি বাচ্চা দুটোকে ধরার জন্য বার বার এগুতে চাচ্ছে , এ পর্যায়ে তিনশব্দ পেয়ালার কাটা অন্তরায় হয়ে দেখা দিয়েছে।
সমাজ, সভ্যতা, প্রথা ,পরিবার, ধর্ম নীরব দর্শক যেন, মহিলার চোঁখের পানি, সন্তানের ভবিষ্যৎ, কালের সাক্ষী।
এমন সময় কয়েকজন বলে উঠলো , মহিলার না হয় টাকা, অনাগত ভবিষ্যত বুড়ো স্বামীর ঘর, তুই পাবি যৌতুক আর নিত্যনতুন বউ।
কিন্তু এ দুটো বাচ্চার কি হবে , তাদের ভবিষ্যত কি , কে হবে তাদের মা বাবা ?

এপর্যায়ে মহিলার বিলাপ সুরের কান্না জড়ানো গান...........

বাবা আমার সোনামনি কোথায় গেলি তুই
বিদ্যালয়ের সময় গেল, খাতা পত্র কই।
আমার শেখার শেষ হয়েছে তোর শেখার শুরু
যে শেখাতে ঘর ভেঙেছে তোরে না শেখায় গুরু।
ভাবিছনে বাপ দেখা হবে, যাচ্ছি বাপের বাড়ী
যাবার বেলায় শেষ উপহার পুরনো দিনের শাড়ী।
শেষ বিদায়ে কাদিস না বাপ, দে না আমায় ছেড়ে
তাড়ীয়ে দিতে দেখিস না বাপ, সব রয়েছে ঘিরে।
আমার কথা মনে হলে দুয়ার ধরে কাদিছ
নতুন মায়ের বেত্রাঘাতে অন্য ঘরে থাকিছ।
তোর বিয়েতে লোকজনেতে প্রশ্ন­ যদি করে
কি পাপেতে তোর মা এখন অন্য স্বামীর ঘরে।
পারিস যদি ক্ষমা করিছ রইল দাবী পেটের
দোষটো আমার একা নয় রে অংশ আছে বাপের।
যে মুখেতে খই ফুটেছে ঝর্ণাধারার মত
কি করে কই ভাগ্যলিপি দোষতো শত শত।
ঝগড়াঝাটির কেমন গতি আমার দিকে দেখ
ঐ শব্দ বলতে মানা এই খানেতে শেখ।
এমন শব্দ কোথায় পেলে হাজার শব্দ মাঝে
যে শব্দ ঘর ভেঙে দেয়, ধর্ম অনুরাগে।
আজ হতে বাপ পণ করে নে, নতুন দিনের গীতি
সভ্য সমাজ ক্ষমা করে দাও, বদলে ফেল নীতি।
চৈত্র বেলায় ঝরা পাতার কান্না যখন শুনি
যেন যাই ভুলে যাই জীবণে মোর ছিল যে ফাল্গুনী।

পরিশেষে চারটি প্রশ্ন..
১.সভ্যতা কি বলে?
২.পরিবারের দায়ীত্ব কি?
৩.সমাজ এখানে নীরব কেন?
৪.ধর্মের সঠিক ব্যাখ্যা কি?



















সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে নভেম্বর, ২০১০ রাত ৯:২১
৪২টি মন্তব্য ৪২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×