somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আট হাজার কর্মী চাকরি ফেরত চানড. ইউনূসের বিরুদ্ধে ১৯ অভিযোগ -----নিজস্ব প্রতিবেদক ( কালের কন্ঠ---০৫/০৩/১১ )

০৬ ই মার্চ, ২০১১ বিকাল ৫:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


গ্রামীণ ব্যাংক থেকে বিভিন্ন সময়ে চাকরিচ্যুত প্রায় আট হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কাজে পুনর্বহালসহ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের 'দুর্নীতি-অনিয়ম'-এর তদন্তের দাবি জানিয়েছে 'নির্যাতিত গ্রামীণ কর্মী পরিষদ' নামের একটি সংগঠন। গতকাল শুক্রবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির পক্ষ থেকে ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে ১৯টি অভিযোগ আনা হয়।
সংগঠনটির দাবি, ড. ইউনূস ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিভিন্ন সময়ে গ্রামীণ ব্যাংকের অন্তত আট হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছেন। এ ছাড়া পরিচালনা পর্ষদে সদস্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে যে নিয়ম রয়েছে, তা কখনো মানা হয় না। ড. ইউনূস যাতে আজীবন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) পদে থাকতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে গোপনে পরিচালনা পর্ষদের সদস্য মনোনয়ন দেওয়া হয়। তাঁকে অব্যাহতি দেওয়ার ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে সংগঠনটি।
'১৯৯৯ সাল থেকে ১২ বছর ধরে উনি (ড. ইউনূস) অবৈধভাবে এমডি ছিলেন। গ্রামীণ ব্যাংকের সার্ভিস রুল
অনুযায়ী তাঁকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত যুক্তিযুক্ত,' বললেন পরিষদের আহ্বায়ক মাসুম সরকার।
কালের কণ্ঠকে মাসুম সরকার বলেন, 'চাকরির বিধি অনুযায়ী গ্রামীণ ব্যাংকের পিয়ন থেকে এমডি পর্যন্ত সবার বয়সসীমা ৬০ বছর। বর্তমান চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হকও ৬০ বছর পূর্তির পর গ্রামীণ ব্যাংক থেকে অবসর নেন। জামাল উদ্দীন বিশ্বাসও একই কারণে ব্যাংক ছেড়েছেন। কিন্তু বয়সসীমা পার হওয়ার ১২ বছর পরও উনি যান না। যে বোর্ড তাঁকে আজীবন বা কেয়ামত পর্যন্ত এমডি থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে দাবি করা হয়, ওই বোর্ডের ৯ জন মহিলা পরিচালকই গ্রাম থেকে আসা। এত বড় প্রতিষ্ঠান বা এর নিয়মকানুন সম্পর্কে এসব স্বল্প শিক্ষিত নারীর কোনো ধারণাই নেই। এ বোর্ডে কখনো নির্বাচন হয় না। তাই গ্রামীণ ব্যাংকের শিক্ষিত নারী সদস্যরা বোর্ডের পরিচালক হওয়ার সুযোগ পান না।'
সংবাদ সম্মেলনে ড. ইউসূসের বিরুদ্ধে ১৯টি সুনির্দিষ্ট অনিয়মের অভিযোগ তোলা হয়। এর মধ্যে আছে অতি গোপনে সামান্য অক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন ৯ জন নারীকে গ্রামীণ ব্যাংকের সর্বোচ্চ পরিচালনা পর্ষদের সদস্য মনোনীত করে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) পদ ধরে রাখা এবং নোবেল কমিটির চেয়ারম্যানের বাংলাদেশে আগমন উপলক্ষে অপব্যয়। লিখিত বক্তব্যে ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ উপস্থাপন করেন সংগঠনটির আহ্বায়ক ও গ্রামীণ ব্যাংকের সাবেক সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) মাসুম সরকার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন গ্রামীণ ব্যাংকের সাবেক প্রিন্সিপাল অফিসার মো. ফরিদুজ্জামান, সাবেক সহকারী প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, গ্রামীণ ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী সমিতির চেয়ারম্যান কে এম শহীদুল হক প্রমুখ।
মাসুম সরকার কালের কণ্ঠকে জানান, তিনি গ্রামীণ ব্যাংকের এজিএম হিসেবে নীলফামারীতে কর্মরত ছিলেন। একটা সম্মেলনে যোগ দিতে ঢাকায় প্রধান কার্যালয়ে এলে তাঁকে বর্তমান উপব্যবস্থাপনা পরিচালকের কক্ষে ডেকে এনে অবসরে যাওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়। তাঁকে বলা হয়, 'আপনি খুব ভালো কাজ করছেন, তবে আপনাকে আমরা পছন্দ করছি না। আপনাকে অবসরে যেতে হবে।'
মাসুম সরকার দুঃখ করে বলেন, 'আমার ২৬ বছরের চাকরিজীবনে কোনো কারণ দর্শানোর নোটিশ পাইনি। তবু ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মানসিক চাপে গত বছরের ৪ এপ্রিল আমি অবসরের আবেদনপত্র জমা দিতে বাধ্য হই।'
গ্রামীণ ব্যাংকের সাবেক এই কর্মকর্তা আরো বলেন, মূলত ড. ইউনূস এবং তাঁর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ একটি মহলের অপছন্দের কারণেই নির্বাহী পদের ৫০ থেকে ৬০ জন কর্মকর্তাকে আগাম অবসরে যেতে হয়। একই কারণে সাবেক উপব্যবস্থাপনা পরিচালক দীপাল চন্দ্র বড়ুয়াকে চাকরির মেয়াদ আরো পাঁচ বছর থাকতেই গ্রামীণ ব্যাংক ছাড়তে হয়। শুধু তাই নয়, তাঁর বাসার পানি-বিদ্যুতের লাইনের সংযোগ কেটে দিয়ে তাঁকে গ্রামীণ ব্যাংকের কোয়ার্টার ছাড়তে বাধ্য করা হয়। আবার পছন্দের তালিকায় থাকা একজন ব্যক্তিকে একই সঙ্গে সাতটি প্রতিষ্ঠানের এমডির দায়িত্বে রাখা হয়। গ্রামীণ কমিউনিকেশন্সের এক কোটি টাকা ক্ষতি করার জন্য দায়ী এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলা থাকা সত্ত্বেও তাঁকে চাকরিতে বহাল রাখা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে উপস্থাপিত অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে, গ্রামীণ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচনের ক্ষেত্রে কারচুপি, অবৈধভাবে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ দীর্ঘদিন ধরে আটকে রাখা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো, শেয়ার কেনাবেচায় অনিয়ম, ইউনূস সেন্টারে অফিসের ভাড়া মওকুফ করে রাজস্ব ফাঁকি, অবৈধভাবে সোশ্যাল বিজনেসের নামে ২৭টি প্রতিষ্ঠান থেকে তহবিল নেওয়া, সদস্যদের ছেলেমেয়ের পরিবর্তে নিজের সংবাদ প্রকাশ করার চুক্তি, ইউনূস ফাউন্ডেশনের জন্য নামমাত্র মূল্যে অফিসের জায়গা ভাড়া, স্থায়ী পিয়ন-গার্ডদের ছাঁটাই করে দৈনিক ভিত্তিতে লোক নিয়োগ, সোশ্যাল বিজনেস ফান্ড গঠন, পৈতৃক প্রতিষ্ঠান প্যাকেজেস করপোরেশনকে ঋণ দিয়ে পরে মওকুফ করে দেওয়া, সব সহযোগী প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যানের পদ গ্রহণ এবং নিজের পছন্দের লোককে একাধিক পদের দায়িত্ব দেওয়া ইত্যাদি।
মাসুম সরকার বলেন, ১০ বছর চাকরি করার পর যেকোনো কর্মী স্বেচ্ছায় অবসরে যেতে পারেন_চাকরিবিধির এ ধারাকে চাকরিচ্যুতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে গ্রামীণ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। তিনি আরো বলেন, 'আমার মতো অনেকেই এখন চাকরি হারিয়ে অসহায় জীবন যাপন করছেন। অনেকেই পথে বসেছেন, কারো কারো শুধু ভিক্ষা করাটাই বাকি আছে। এসব নিয়ে অনেক মামলাও হয়েছে।'
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×