সমকাল --২১/০৪/২০১১ )------
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বুধবার তার কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করেন জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের নির্বাহী কমিটির সদস্যরা পিএমওসমকাল প্রতিবেদক
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইসলামের অপব্যাখ্যা করে শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্ট করার প্রচেষ্টায় লিপ্ত স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার জন্য দেশের পীর-মাশায়েখ, আলেম-ওলামা, মসজিদের ইমাম ও খতিবদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ওলামা-মাশায়েখরা সরকারের পাশে থাকলে ধর্মের নামে অপপ্রচারকারীরা কোনোদিনই সফল হতে পারবে না।
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, কোরআন-সুন্নাহ অনুসরণ করেই নারীনীতি প্রণয়ন করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ ও বর্তমান সরকার কোরআন-সুন্নাহ তথা ইসলামী শরিয়াহবিরোধী কোনো আইন অতীতে করেনি, ভবিষ্যতেও করবে না।
প্রধানমন্ত্রী গতকাল বুধবার তার কার্যালয়ের 'করবী' মিলনায়তনে বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীন কেন্দ্রীয় কমিটির সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, সরকার মাদ্রাসা শিক্ষাকে যুগোপযোগী করতে দেশের ইতিহাসের প্রথম এফিলিয়েটিং ক্ষমতাসম্পন্ন একটি ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করবে। এবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষকদের বেতন পর্যায়ক্রমে বৃদ্ধি, পৃথক মাদ্রাসা শিক্ষা
অধিদফতর গঠন এবং একাধিক মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড গঠনেরও উদ্যোগ নেবে।
নারীনীতি প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ১৯৯৮ সালে জাতিসংঘের সিডও সনদে কোরআন-সুন্নাহবিরোধী যেসব বিষয় ছিল সেগুলোতে আপত্তি জানিয়েই আমরা ওই সনদে স্বাক্ষর করেছি। দাবি করেছি, কোরআন-সুন্নাহবিরোধী এসব বিষয় বাদ দিতে হবে। আমাদের পক্ষে এসব গ্রহণ করা সম্ভব নয়। বিএনপি-জামায়াত জোট পাঁচ বছর ক্ষমতায় ছিল। যারা নারীনীতির বিরোধিতা করে হরতাল করলেন, তারাও তো সেই সরকারে ছিলেন। আমার প্রশ্ন, ক্ষমতায় থাকার সময় তারা সিডও সনদ বাতিল করেননি কেন?
সারাদেশ থেকে আসা অরাজনৈতিক সংগঠন জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের বিপুলসংখ্যক ওলামা-মাশায়েখ ও পীর-আলেমের উপস্থিতিতে মতবিনিময় সভাস্থল ছিল পরিপূর্ণ। এতে প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সভাপতি দৈনিক ইনকিলাবের সম্পাদক এএমএম বাহাউদ্দীন ও মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা সাবি্বর আহমেদ মোমতাজী। সভার শুরুতে সংগঠনের পক্ষ থেকে পবিত্র কোরআন শরিফসহ বিভিন্ন ধর্মীয় গ্রন্থ উপহার দেওয়া হয় প্রধানমন্ত্রীকে।
এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এম আলাউদ্দিন, বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এমএ করিম, প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোমলমতি ও নিরীহ মাদ্রাসা ছাত্রদের ভুল বুঝিয়ে তাদের হাতে পবিত্র কোরআন শরিফ ও লাঠি তুলে হরতালের নামে রাস্তায় নামানো হলো। অনেক জায়গায় ছাত্রদের তিনদিন না খেতে দেওয়ার হুমকি দিয়ে জোর করে রাস্তায় নামানোর অভিযোগও পাওয়া গেছে। এটা কি ঠিক হয়েছে? কোনো খাঁটি মুসলমান কি পবিত্র কোরআন শরিফের এ ধরনের অবমাননা করতে পারেন? কারও এভাবে পবিত্র কোরআন শরিফ অবমাননার অধিকার নেই।
তিনি বলেন, এ ঘটনায় সুস্পষ্ট হয়ে গেছে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যেই একটি গোষ্ঠী নারীনীতির বিরোধিতার নামে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। এখানে ধর্মের কোনো বিষয় নেই।
তিনি বলেন, নারীনীতিতে সম্পদ, কর্মসংস্থান, বাজার ও ব্যবসায় নারীকে সমান সুযোগ এবং অংশীদারিত্ব দেওয়া হয়েছে। ইসলাম গ্রহণকারী প্রথম নারী বিবি খাদিজারও ব্যবসা-বাণিজ্য করে অর্জিত সম্পদের ওপর অধিকার ও নিয়ন্ত্রণ ছিল। তাহলে আজ নারীদের এ অধিকার থাকবে না কেন; যেখানে ইসলাম ধর্মেই নারীসমাজের সমঅধিকার নিশ্চিত করা আছে।
শেখ হাসিনা বলেন, ধর্মীয় শিক্ষা ছাড়া শিক্ষাব্যবস্থা পূর্ণাঙ্গ হতে পারে না। এ কারণেই সরকার জাতীয় শিক্ষানীতিতে ধর্মীয় শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করেছে। এ নীতিতে মাদ্রাসা শিক্ষাকে জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। অথচ কেউ কেউ এ শিক্ষানীতিরও বিরোধিতা করেন। যারা এটা করেন তারা কি চান না মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের ভালো হোক, তারা উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে স্বাবলম্বী হোক।
তিনি বলেন, আমরা যতই ধর্ম পালন করি না কেন, একটি শ্রেণী 'ইসলাম গেল' 'ইসলাম গেল' বলে অপপ্রচার চালাতেই থাকে; কিন্তু আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় গেছে তখনই ইসলামের প্রচার ও প্রসারে কাজ করেছে।
বাংলাদেশকে শান্তির দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠার দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, পবিত্র শান্তির ধর্ম ইসলামের স্বার্থে জঙ্গিবাদ ও বোমাবাজি বন্ধ করুন। ধর্মের নামে ইসলাম ধর্মের বদনাম করবেন না। ব্যক্তিগত কোনো চাওয়া-পাওয়ার জন্য আমি রাজনীতি করি না। দেশ ও জনগণের জন্য কতটুকু করতে পারলাম সেটাই আমার কাছে সবচেয়ে বড় কথা।
ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের সভাপতি এএমএম বাহাউদ্দীন বলেন, ইসলামের নামে একটি গোষ্ঠী জনগণকে বিভ্রান্ত করতে লিপ্ত রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে। তিনি বলেন, আমার দেখা দেশের শীর্ষ পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই সবচেয়ে ধর্মপ্রাণ মানুষ। ব্যক্তিজীবনে তিনি সবচেয়ে বেশি ধর্মচর্চা করেন। যা মন থেকে বিশ্বাস করেন, তা-ই বলেন তিনি।
তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী হাজার হাজার কোটি টাকা এবং শত শত প্রতিষ্ঠান বানিয়েছে। তারা এখন সেই সম্পদ রক্ষায় ব্যস্ত।
মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা সাবি্বর আহমেদ মোমতাজী বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মাওলানা তর্কবাগীশের মতো একজন ইসলামী চিন্তাবিদকে চেয়ারম্যান করে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড গঠন করেছিলেন। জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের সঙ্গে জড়িত আড়াই লাখ শিক্ষক ও ৭০ লাখ শিক্ষার্থী বর্তমান সরকারের সঙ্গে আছেন, থাকবেন। নতুন ৩০০ মাদ্রাসাকে স্বীকৃতি এবং ২৯০টি মাদ্রাসার শিক্ষককে এমপিওভুক্ত করায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



