রফিকুল ইসলাম :::::: --------
ডিজেল মবিল ও পানি ছাড়াই বিদ্যুৎ উৎপাদনে সাতক্ষীরার দুই 'বিজ্ঞানী'র এক দশকের প্রচেষ্টা অবশেষে সফল হল। সার্কিট, ব্যাটারি, মটর ও জেনারেটর দিয়েই এই বিদ্যুত প্লান্ট আবিস্কার করা হয়েছে। এটি চালাতে একটি টাকাও খরচ হবেনা। ডিজেল মবিল পানি ও জনবল ছাড়াই এই প্লান্ট চালানো যায়। তরুন যুবকদের এই অভাবনীয় এ আবিস্কার প্রমান করতে ইতিমধ্যে পরীক্ষামুলক ভাবে সাড়ে ৫ ঘন্টা মেশিনটি চালিয়ে এলাকায় বিদ্যুত সরবরাহ করে সাধারন মানুষের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। এই আবিস্কারের মুল বিজ্ঞানী হলেন, সাতক্ষীরার সদর উপজেলার মাহমুদপুর গ্রামের সিরাজুল মল্লিকের ছেলে তৌহিদুল ইসলাম বাবু মল্লিক ও তার সহযোগি একই এলাকার শামসুদ্দিন ঢালীর ছেলে মিজানুর রহমান মিজান। এরা পেশায় একজন দোকানদার, অপরজন ইলেকট্রিক মিস্ত্রি।
তৌহিদুল ইসলাম বাবু মল্লিক জানান, এই বিদ্যুত প্লান্ট তৈরি করতে ১টি জেনারেটর, ২টি মটর, ১২ ভোল্টের ১ টি ব্যাটারী, ৪টা সার্কিট, ৩টা পুলি, ২ টা বেল্ট, ১টা ফ্লাইবারসহ আনুষাঙ্গিক অন্যান্য যন্ত্রপাতির প্রয়োজন হয়ে থাকে। তিনি আরও বলেন, এই প্লান্ট হতে ৩ হাজার ৬০০ ওয়াট বিদ্যুত উৎপাদন করা যাবে। এরমধ্যে সরবরাহের সময় ২ হাজার ৮০০ ওয়াট বিদ্যুত সরবরাহ হবে। বাকি ৮০০ ওয়াট বিদ্যুত প্লান্টের ব্যাটারী চার্জ ও সার্কিটগুলো সক্রিয় করে রাখার জন্য ব্যবহৃত হবে। সরবরাহকৃত বিদ্যুতে ১০০ টি ৩০ ওয়াটের এনার্জি সেভিং বাল্ব জ্বালানো সম্ভব হবে। এই বিদ্যুত প্লান্ট ২৪ ঘন্টা ব্যবহার উপযোগী উল্লেখ করে তিনি বলেন, যেখানে বিদ্যুত আছে সেখানে ব্যবহার করা হলে বিদ্যুত চলে যাওয়ার ১৩ সেকেণ্ড এর মধ্যে বিদ্যুত প্লান্টটি অটো স্ট্্রার্ট হয়ে যাবে। এই মেশিনে জ্বালানী হিসেবে কোন প্রকার ডিজেল মবিল পানি ও জনবল প্রয়োজন নেই। এটি প্রস্তুত করতে প্লান্ট প্রতি ১ লাখ ১০ হাজার টাকা খরচ পড়বে। পরীক্ষামুলক ভাবে এই প্লান্টের বিদ্যুত উৎপাদন ক্ষমতা দেখাতে গত ২৩ আগস্ট সন্ধ্যায় সদর উপজেলার আলিপুর ইউনিয়নের মাহমুদপুর বাজারে সাড়ে ৫ ঘন্টা একটানা বিদ্যুত সরবরাহ করে প্রত্যক্ষদর্শী সবাইকে তাক লাগিয়ে দেয় ওই দুই যুবক। আগামীতে তাদের ১০ হাজার ওয়াটের বিদ্যুত প্লান্ট তৈরীর পরিকল্পনা তাদের রয়েছে। একই সাথে যেখানে একেবারেই বিদ্যুত নেই সেখানে সুইচ চাপ দিয়ে এই মেশিন স্ট্্রার্ট করতে হবে। তারা সেটিকে আরও মোডিফিকেশন করে রিমোট কন্ট্রোল দিয়ে কোন প্রকার শব্দ ছাড়াই বিদ্যুত প্লান্টটি কিভাবে স্ট্র্যাট করা যায় তা নিয়ে তারা গবেষনা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের এই প্রচেষ্টা বাস্তবে রুপ নিলে দেশের মানুষ ব্যাপকভাবে উপকৃত হবে বলে আশা করছেন তারা। বর্তমান প্রেক্ষাপটে এ ধরনের আবিস্কারকে আমরা অবশ্যই স্বাগত জানানো উচিত । যদি এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যায় তাহলে তাহলে আমাদের দেশের বিদ্যুত ঘাটতি কমানো যাবে। সরকারের উচ্চ মহলের এক্ষুণি এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্হা গ্রহণ করা উচিত ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



