somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কবি-প্রাবন্ধিক-গবেষক আবদুল মান্নান সৈয়দ আর নেই

০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১০ দুপুর ১:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কবি-প্রাবন্ধিক-গবেষক আবদুল মান্নান সৈয়দ আর নেই
চট্টগ্রাম সংস্কৃতি কেন্দ্রের ফেসবুক শোকবই চালু
ঢাকা, সেপ্টেম্বর ০৫


কবি-প্রাবন্ধিক-গবেষক আবদুল মান্নান সৈয়দ আর নেই। রোববার সন্ধ্যায় ইফতারের সময় অসুস্থবোধ করায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

প্রয়াতের জামাতা আসিফ বলেন, ''ইফতারের সময় তিনি মারা যান। বাসায় অসুস্থবোধ করায় দ্রুত তাকে ল্যাবএইড কার্ডিয়াক হসপিটালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।''

দীর্ঘদিন ধরে তিনি হৃদরোগে ভুগছিলেন।

আবদুল মান্নান সৈয়দের বয়স হয়েছিলো ৬৭ বছর। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী সায়রা সৈয়দ ও একমাত্র মেয়ে জিনান শম্পা, আত্বীয়-স্বজন, অসংখ্য গুণগ্রাহী ও শুভাকাঙ্খী রেখে গেছেন।

প্রয়াতের পরিবারের সদস্যরা জানান, সোমবার সকাল ১০টায় গ্রীন রোড মসজিদে আবদুল মান্নান সৈয়দের প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তার মরদেহ দুপুর ১টা পর্যন্ত বাংলা একাডেমী প্রাঙ্গণে রাখা হবে। বাদ জোহর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে দ্বিতীয় নামাজে জানাজা শেষে আজিমপুর কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

ল্যাবএইড থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে প্রয়াত এই সাহিত্যিকের মরদেহ গ্রীনরোড়ের বাসভবনে নিয়ে যাওয়া হয়। রাতেই তার মরদেহ বারডেমের হিমঘরে রাখা হয়েছে।

আবদুল মান্নান সৈয়দের জন্ম ১৯৪৩ সালের ৩ অগাস্ট পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনায়। ঢাকার নবাবপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৫৮ সালে প্রবেশিকা ও ১৯৬০ সালে ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৬৩ সালে বাংলা সাহিত্যে �াতক সম্মান ও '৬৪ সালে �াতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।

কর্মজীবনে তিনি জগন্নাথ কলেজে অধ্যাপনা এবং নজরুল ইন্সটিটিউটে নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

আবদুল মান্নান সৈয়দ বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, চট্টগ্রাম সংস্কৃতি কেন্দ্র প্রবর্তিত ফররুখ স্মৃতি পুরস্কার, নজরুল পদক,কবি তালিম হোসেন পুরস্কার,লেখিকা সংঘ পুরস্কার,অলক্ত সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন।

তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে- জন্মান্ধ কবিতাগুচ্ছ, জ্যোৎ�া রৌদ্রের চিকিৎসা, সংবেদন ও জলতরঙ্গ, নির্বাচিত কবিতা, পরাবাস্তব কবিতা, পার্ক স্ট্রিটে এক রাত্রি, মাছ সিরিজ, আমার সনেট।

আবদুল মান্নান সৈয়দের উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধ-গবেষণা গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে-শুদ্ধতম কবি,জীবনানন্দ দাশের কবিতা,নির্বাচিত প্রবন্ধ, নজরুল ইসলাম: কবি ও কবিতা, করতলে মহাদেশ, দশ দিগন্তে দ্রষ্টা, বেগম রোকেয়া, আমার বিশ্বাস, ছন্দ, সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ , নজরুল ইসলাম কালজ কালোত্তর, সৈয়দ মুর্তাজা আলী, ফররুখ আহমদ ইত্যাদি।

ছোট গল্পের মধ্যে আছে-সত্যের মতো বদমাশ, চলো যাই পরোক্ষে, মৃত্যুর অধিক লাল ক্ষুধা, নেকড়ে হায়েনা আর তিন পরী ইত্যাদি।

তার রচিত কয়েকটি উপন্যাস হলো- পরিপ্রেক্ষিতের দাসদাসী, কলকাতা, পোড়ামাটির কাজ, অ-তে অজগর, হে সংসার হে লতা, ক্ষুধা প্রেম আগুন ইত্যাদি।

বাংলা একাডেমীতে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদন ও দ্বিতীয় নামাজে জানাজ শেষে কবি-প্রাবন্ধিক-গবেষক আবদুল মান্নান সৈয়দের মরদেহ সোমবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে নেওয়া হয়েছে।

প্রয়াতের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, সেখানে বাদ জোহর তৃতীয় নামাজে জানাজা শেষে আজিমপুর কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

আবদুল মান্নান সৈয়দের প্রথম নামাজে জানাজা হয় সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর গ্রিন রোড মসজিদে। জানাজা শেষে বেলা পৌনে ১১টার দিকে তার কফিন বাংলা একাডেমীতে পৌঁছায়। সেখানে একাডেমীর বটতলার মঞ্চে রাখা হয় কফিনটি।

তাকে শ্রদ্ধা জানাতে কবি-সাহিত্যিকসহ সমাজের বিভিন্ন স্তরের লোক বাংলা একাডেমীতে জড়ো হয়। বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকেও ফুল দিয়ে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। এরপর দুপুর ১২টার দিকে সেখানে তার দ্বিতীয় নামাজে জানাজা হয়।

প্রথম নামাজে জানাজা শেষে অ্যাম্বুলেন্সে আবদুল মান্নান সৈয়দের মরদেহ বাংলা একাডেমীতে নেওয়া হয়।

প্রথম জানাজায় নিহতের আত্মীয়-স্বজনের পাশাপাশি শুভাকাক্সক্ষীরা অংশ নেন।

বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়া, তথ্য মন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ, চট্টগ্রাম সংস্কৃতি কেন্দ্র সভাপতি আমীরুল ইসলাম ও সচিব ইকবাল করিম রিপন সহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ পৃথক পৃথক বানীতে আবদুল মান্নান সৈয়দের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তারা মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনা ও শোক সন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১০ দুপুর ২:১৮
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×