আমি একটি জাতীয় দৈনিকে কাজ করি। আমার অফিসে বহু মানুষের যাতায়াত দিনভর। নানা শ্রেণীর মানুষ সেখানে নানা কাজে আসে। তবে সে মানুষদের তালিকায় লেখক,শিল্পী,বুদ্ধিজীবিদের আনাগোনা-ই তুলনামূলক বেশী। প্রতিদিন কোন না কোন নতুন মুখের সাথে পরিচয় ঘটে।
এমনি একদিন অফিসে রবি ভাই (আশীফ এন্তাজ রবি)এক কার্টুনিষ্টের সাথে পরিচয় করিয়ে দিলেন। বললেন,উনি নিয়মিত আমাদের পাতায় আঁকবেন। কার্টুনিষ্ট তার এক পাতা কার্টুন দিলেন। কার্টুনের উপরে লেখা তার নাম,প্রতিবেশী সরকার। আমিও প্রথম দিকে সে নাম-ই জানতাম। কয়েক সপ্তাহ তার আসা যাওয়া নিয়মিত ছিল। তারপর অনেকদিন খোঁজ নেই।
হঠাত একদিন হাজির হলেন। এসেই তার একটা সংবাদ দিলেন। জানালেন,এতদিন না আসার কারন। হাসপাতালে,ডাক্তারের কাছে দৌড়াদৌড়ি করেছেন। তার ক্যন্সার ধরা পড়েছে। কণ্ঠনালীতে।
শুনে বেশ কিছুণ তাকিয়ে রইলাম।
তারপর অনেকক্ষণ কথা হলো। জানলাম,তার সম্পর্কে অনেক কিছুই। আসল নাম, নজরুল ইসলাম দুলাল। মূলত চিত্রশিল্পী। তাই কার্টূনে ছদ্মনাম ব্যবহার করেন।
কবিতায়ও দখল কম না। চার পাঁচটি কাব্যগ্রন্থও আছে। হয়েছে আঁকা ছবির প্রদর্শনীয়। বইয়ের প্রচ্ছদও করেছেন প্রচুর।
সব কিছু মিলিয়েই নজরুল ইসলাম দুলাল একজন শিল্পী। আমাদের সমাজ ও জাতিকে যারা তাদের মেধার রঙে রাঙিয়ে দিয়ে যান তিনি তাদেরই দলে।
দীর্ঘ সময় তিনি তার মেধায়,তুলিতে বা শব্দের রঙে রাঙিয়ে গেছেন। আমাদেরই কেউ না কেউ তাকে হয়তো উতসাহ দিয়ে গেছি,আপনি এগিয়ে যান। আমরা সাথে আছি। যে কারনে নজরুল ইসলাম দুলালও তার জীবন খরচ করে গেছেন সৃজনশীলতায়।
কিন্তু আজ দুলাল ভাই কিছুটা থেমে গেছেন। তার সামনে এখন কবিতা লেখার খাতা নেই। আছে,ওষুধের নাম লেখা ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন। নেই রং,তুলি আর আঁকাআকির যন্ত্রপাতি। আছে হাসপাতালের চিকিতসার সরঞ্জাম।
বলতে গেলে,নেই আমরাও। যারা তাকে,সাথে থাকার কথা দিয়েছিলাম। দেশের সবগুলো জাতীয় দৈনিকে এই সংবাদ প্রচার হবার পরও আমাদের তেমন সাড়া মেলেনি।
কিছুক্ষণ আগে তার সাথে কথা বলে তেমন আভাস-ই পাওয়া গেলো। আগামীকালও আছে তার কেমোথেরাপীর ডেট।
বিষন্ন নজরুল ইসলাম দুলাল জানালেন,তিনি ভালো নেই। অনেক টাকার দরকার।
সারাজীবন রঙ নিয়ে চলা মানুষটি এখন জীবনের বিবর্ণতা দেখছেন। তার ভালো না থাকারই কথা।
যে ভালো না থাকার কথা এই ব্লগের মাধ্যমে আপনাদেরও জানিয়ে দিলাম আমি। আমি জানিনা কতটুকু লাভ হবে?
কতটুকু সহায়ক হবে,একজন নজরুল ইসলাম দুলালকে তার আপন রঙে ফিরিয়ে আনতে?
আসুন না চেষ্টা করে দেখি। চেষ্টা করে দেখি,জীবনের পথে তাকে ফিরিয়ে নিয়ে আসতে ।
আসুন আমরা চেষ্টা করি,একজন দুলালের স্মরণ সভায় না,আমরা যেন যেতে পারি একজন নজরুল ইসলাম দুলালের চিত্র প্রদর্শনীতে অথবা তার নতুন কোন কবিতার বইয়ের প্রকাশনা উতসবে।
আপনাদের জন্য:
নজরুল ইসলাম দুলাল
সঞ্চয়ী হিসাব নং : ১২১০০০০৮৮৫১
মার্কেন্টাইল ব্যাংক লিমিটেড
প্রধান শাখা
দিলখুশা,ঢাকা।
মোবাইল: ০১৯১৫২৩৪৩১১
কে আছেন হাতে তুলি নিয়ে, ফিরিয়ে দিতে একজন শিল্পীর জীবনের রঙ?
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
পাখি মন

রাত গভীর হলে পাখিটা বারান্দায় এসে বসে। দূরের আকাশে তখনও কিছু আলো জ্বলজ্বল করে, কিন্তু পৃথিবীর কোলাহল ধীরে ধীরে স্তব্ধ হয়ে আসে। সেই নীরবতার মধ্যে বসে পাখিটার মনে হয়, মানুষ... ...বাকিটুকু পড়ুন
শৃঙ্খল মুক্তি আমার
শৃঙ্খল মুক্তি আমার

ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন
=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন
রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।