somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মেঘলা আকাশ, বন্ধু অথবা ভেতর বাইরে বৃষ্টির গল্প ...

২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৩:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আকাশে মেঘ করলেই সবাই একটু ঝিমিয়ে যায়, কেবল আমরাই জেগে উঠি। ভুল। জেগে উঠতাম। দশ মিনিট আগে যেখানে একা একা বাসায়, দশ মিনিট পর চরম উন্মাদনা। সবাই হাজির। বৃষ্টিতে ভিজব। হয় ফুটবল, নয় এমনিতে রাস্তায় ঘোরাঘুরি। বৃষ্টি আমাদের অঘোষিত উৎসবের নাম। সবাই হাজির, চেনা মুখগুলো সবাই। বছরের পর বছর ধরে সেই মুখগুলোই ঘুরে ফিরে আসে চোখের সামনে। বারবার আসে। প্রতিদিন আসে।
২.
বৃষ্টির এ সময়টা খুবই আনন্দেও। এখন আমরা এক বিশাল মাঠে। ফুটবল খেলার প্রস্তুতি চলছে। একজন এখানে বেশ চেঁচাচ্ছে। সে সব সময়ই চেঁচায়। এটাই তার মূল কাজ। এই কাজটা আমাদের যেমন সবচেয়ে বিরক্তি লাগে আবার এই চেঁচানো ছেলেটা স্যরি, বন্ধুটা না থাকলেও কেমন জানি খালি খালি লাগে সব। সবই ফাঁকা মনে হয়। এখনো চেঁচাচ্ছে। সব সময়ই সে এমন করে। খুব ভালোভাবে আমরা প্রতিদিন খেলতে আসি। অমীমাংসিতভাবে খেলা শেষ হয়। শুধু তার জন্য। ঝামেলা পাকাতে সে মহাওস্তাদ।
৩.
অর্ধেক খেলা শেষ করে ফিরে আসতে হচ্ছে আমাদের। আবারো সেই একই সমস্যা। সেই একজনই দায়ী। তার চেঁচামেচি আর ঝামেলা। ফলাফল খেলা ভন্ডুল। আর আসব না খেলতে, এমন প্রতিজ্ঞা করে চলে আসি সবাই। কিন্তু কথা ঠিক রাখতে পারিনা কেউই। আবার বৃষ্টি হয়। আবারো ফিরে যাই।
৪.
সব কিছুতেই ঐ চেঁচামেচি বন্ধুর ঝামেলা। হঠাৎ কাউকে ঢিল মারা, রাস্তা থেকে তুলে ময়লা ছোড়া, এমনকি বলা নেই কওয়া নেই দোকান থেকে নিয়ে মাথায় ডিম ভাঙতেও কোনো কার্পণ্য নেই তার। কখন কী করে কোনো কিছুরই ঠিক নেই।
৫.
এভাবে বছরের পর বছর আকাশে মেঘ করে। বৃষ্টি হয়। আমরা ভিজি। সবাই ঝিমিয়ে পড়ে। আমরা জেগে উঠি। সেই রাস্তা। সেই মাঠ। সেই ফুটবল। সেই চেঁচামেচি আর সেই অর্ধেক খেলা। ফিরে যাই ঘরে। জীবনটায় যতটা উচ্ছাস চেয়েছিলাম তার চেয়ে বেশি পেয়ে গেছি। বই পুস্তকে পড়া সেই সব স্বপ্নের জীবন যাপনে এখন আমরা চরমভাবে অভ্যস্ত। আকাশে মেঘ করে, বৃষ্টি হয়, বন্ধুরা আসে। আসে সেই চেঁচামেচি করা বন্ধুও।
৬.
আনন্দের বিষয় কদিন যাবৎ আবার আকাশে মেঘ করেছে। তুমুল গর্জনে কেঁপে উঠছে পৃথিবী। বৃষ্টিও হচ্ছে। চিরচেনা বৃষ্টি। আমাদের ভেজার জন্য বৃষ্টি। চেঁচামেচি, চিৎকার করার জন্য বৃষ্টি। খেলতে গিয়ে অর্ধেক খেলে ফিরে আসার জন্য বৃষ্টি। কিন্তু অবাক করা বিষয় আমরা কেউ জেগে উঠছি না। ফুটবল খেলার প্রস্তুতি নিচ্ছিনা। চেঁচামেচি করছিনা। ভূল। চেঁচামেচি করতে পারছিনা। কারন এই কাজটা যে করে, এই কাজটা যার করার কথা সে করছে না। অবশ্য চেচামেচি করার কথাও না। তার যাবতীয় চেঁচামেচি শোনা বা করা থেকে সে অনেক দূরে। সে আর কখনোই চেঁচামেচি করবে না। আমাদেরও আর শোনা হবে না সেই বিরক্তিকর অথচ ভালোলাগার চেঁচামেচি। আজও বন্ধুরা আসে। আজও বন্ধুরা এক হয়। সে আসেনা। তার জায়গাটা ফাঁকা। আকৃতিতে লম্বা, সেই চিরচেনা বন্ধুর ঝামেলায় আমরা হাপিয়ে উঠতাম। আজ আর সে ঝামেলা করে না। আমরা এখন অতিষ্ট হতে চাই কিন্তু তার খোঁজ নেই। অসমাপ্ত জীবনের অবাক করা সমাপ্তি টেনে দিয়েছে সে হঠাৎ-ই। আমি অনেকগুলো বিষয়ে এখন আর কথা বলতে পারিনা। শুধু পারি দীর্ঘশ্বাস ফেলতে। যেসব বিষয়গুলোতে সে বন্ধুর নাম জড়িয়ে থাকে, আমি সেখানে চলতে চলতে থেমে যাই। আমি নড়তে পারিনা। আমি আর মেঘ করা আকাশের কথা শুনতে পারিনা। তুমুল ঝড়ে বিরান হয়ে যায় ভেতর আমার। আজ সেই বন্ধু নেই। তারপরও আকাশে মেঘ করে। বৃষ্টিও হয় প্রচন্ড। পার্থক্য একটাই, আগে আকাশে মেঘ করে শুধু বাইরে বৃষ্টি হতো। আর এখন যতটা বৃষ্টি বাইরে তারচে বেশি বৃষ্টি বুকের ভেতরে হয়।
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

লিখেছেন নতুন নকিব, ১১ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০৩

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মানুষের জীবন মূলত অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সমষ্টি। প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি মোড়ে আমাদের কোনো না কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

লিখেছেন আঘাত প্রাপ্ত একজন, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

[সম্ভাবনার ক্রমানুসারে নয়ঃ]

আর্জেন্টিনা: আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ তার ডিফেন্স আর ইনজুরি । ৩৮ বছরের তরুণ(!) সেন্টারব্যাক ওতামেন্দি আর কমপক্ষে এক হালি হাফ-ফিট ফুটবলার নিয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×