somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মধ্যরাতে ঘুমাতে দেয়না মাকসুদ ভাই, এখনো তার ভাগ্যে বরাদ্দ হয় চটকনা...

১৬ ই মার্চ, ২০০৯ রাত ৩:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এখন প্রায় মধ্যরাত। ঘুমানোর চিন্তা-ভাবনা করছিলাম। হঠাৎ করে একটি পোষ্ট দেখে ঘুমটা এক নিমিষে চলে গেল। শিরোনাম, শিল্পী মাকসুদের রবীন্দ্রসংগীত অ্যাডাপটেশন ও ব্লগার মনজুরুল হকের চটকনা থেরাপি। লেখক, ব্যাতিক্রমী।
লেখার বিষয়বস্তু, কোনো এক সন্মানিত ব্লগার মাকসুদের কন্ঠে রবীন্দ্র সংগীত শুনে তাকে চটকনা মারতে চেয়েছেন।
ভালো। কারো যদি ইচ্ছে হয় মারবে। মারতেই পারে। প্রিয় ব্লগার ব্যাতিক্রমী, আপনার জন্য আমার দুঃখ হয় কেন আপনি এসব বোঝানোর দ্বায়িত্ব নিজের ঘাড়ে নিচ্ছেন?
ভাই, এই দেশে প্রতিক্রীয়াশীল মৌলবাদীতার ভয়ংকরতা কতটুকু?
তারচে প্রগতিশীল মৌলবাদীতা কম ভংয়কর না। মাকসুদ ভাইকে নিষিদ্ধ করার পর বুঝেছি। বহু লোক তাকে গালাগাল করেছে সে সময়। প্রগতিশীলতার আবরন গায়ে লাগানোর সে চেষ্টায় একশ্রেনীর মানুষের চরম বৈষম্যের শিকার ছিলেন মাকসুদ। আপনি জানেন কিনা জানিনা, সে সময় যারা তাকে গালাগালি করেছে অনেককেই তিনি জিজ্ঞাসা করেছিলেন আপনি তো আমার গাওয়া রবীন্দ্রসংগীত নিয়ে কথা বলতে এসেছেন, তার আগে আগে আমি এই গানে কি কি কর্ড ইউজ করেছি একটা কাগজে লিখে দেন।
তখন তারা হাওয়া।
তাদের বিষয়টা অনেকটা এরকম ছিল, শুনেছি আপনি একটা খারাপ কাজ করেছেন তাই গালি দিতে এলাম।

নচিকেতা একটা গান করলেন। একই রকম। ওপারের টিভিতে অনেক বুদ্ধিজীবী শিল্পিদের প্রশংসা সূচক কমেন্ট নিয়ে তারপর চ্যানেলে সেই গান প্রচার হতে দেখেছি।
সে সময় এপারের ভাইদের মুখে কুলুপ আটা ছিল। কারন আর যাই হোক দাদাদের রাগানো যাবেনা।
তখন হয়তো এইসব তথাকথিত রবীন্দ্র মৌলবাদীদের উপলদ্ধি এসেছিল, ওপারের দাদারা যখন করেছে তাহলে হয়তো ঠিক আছে।
একটা গল্প মনে পড়ে গেল, এক খরগোশ কাঁদছে দেখে নেকড়ে জিজ্ঞাসা করলো কিরে কাঁদছিস কেন? বল কে মেরেছে? এক্ষুনি একটা ঘুষিতে দাত ভেঙে দিয়ে আসি।
খরগোশ জবাব দিল, সিংহ।
নেকড়ে তখন ঢোক গিলে আমতা আমতা করে বলল, সিংহ মশাই যখন মেরেছে তখন হয়তো ঠিকই আছে।

মাকসুদ যে বছর নিষিদ্ধ হয় সে বছর সৌভাগ্যক্রমে তার একটা ইন্টারভিউ করার সুযোগ এসেছিল। তাকে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করেছিলাম। বলেছিলেন, ‌'এদেশ আগে রবীন্দ্রনাথকে বুঝুক তারপর তর্ক করবো। এদেশে এখনো রবীন্দ্র সংগীত মানেই হারমোনিয়াম ধরে প্যা প্যা...অথচ অবাক বিষয় শান্তিনিকেতনে হারমনিয়াম ঢুকতে পারেনা।'

মাকসুদ রবীন্দ্রসংগীতের ফিউশন করেছিলেন, যার নাম দিয়েছে বিকৃতি। অথচ রবীন্দ্রনাথ নিজেই ছিলেন বাংলা ভাষার ফিউশন আর্টিষ্ট। তিনি আইরিশ এবং স্কটিশ ঘরানার উপাদান তার নিজের গানে ব্যবাহার করেছিলেন। উদাহরন'পুরোনো সেই দিনের কথা'। গানটির মূল গানের নাম 'suld lange syne' । একটি নববর্ষের গান।
এমনকি আমাদের জাতীয় সংগীতের সুর, গগন হরকরার 'আমি কোথায় পাবো তারে' গানটি থেকে নেয়া।
অতএব?

প্রিয় ব্যাতিক্রমী, সময়ের সাথে সাথে এসব অনেক কিছু হয়ই। বর্তমানতো কোনো বিচারের ক্ষমতা রাখেনা, বিচার করে ভবিষ্যৎ। তাই একটু আকটু সহ্য করেন কেন শুধু শুধু এসব নিয়ে লিখে কষ্ট করেন?
কারন একজন মাকসুদ এদেশের তারূণ্যে যা দিয়েছে তা বুঝে ওঠার ক্ষমতা অনেক প্রগতিশীল মৌলবাদীদের নেই।
একজন মাকসুদুল হককে চিনতেই অনেক ক্ষমতাসম্পন্ন হতে হয়।
আর তাকে চটকনা মারা?
ভাই মুখ আছে বলতে সমস্যা কি?
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই মার্চ, ২০০৯ রাত ৩:১১
৩২টি মন্তব্য ১৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কবিতাঃ সুবহানার বীরত্ব

লিখেছেন ইসিয়াক, ১৪ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:১০




সুবহানা খুব ছোট্ট হলেও, দারুণ মিষ্টি দেখতে,
চটপটে, বেজায় সাহসী , কেউ পারে না রুখতে।

স্কুল থেকে ফেরার পথে একদিন দুপুরবেলা
অনাথ দুটি শিশু বসে করছিল কি এক খেলা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

গঙ্গা-বুড়িগঙ্গার স্রোত অনেক বদলে গেছে...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৪ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:৩৩

গঙ্গা-বুড়িগঙ্গার স্রোত অনেক বদলে গেছে...

একসময় ভারতীয় কূটনীতিক, রাজনীতিবিদ কিংবা বাংলাদেশের কিছু ক্ষমতাসীন নেতা এমন ভাষায় কথা বলতেন, যেন বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র নয়; বরং কোনো ছোট ভাই, আদরের বোন বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অন্তর্দিগন্ত

লিখেছেন মুনতাসির রাসেল, ১৪ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:০৯



যে নদী সাগরকে ছোঁয়নি, সে-ই গায় সবচেয়ে নির্মল সঙ্গীত।
যে বৃক্ষের শাখা ফলের ভারে নত হয়নি, সে-ই আকাশকে বেশি বোঝে, বাতাসকে বেশি শোনে।

পৃথিবীর প্রাচীনতম ভ্রমগুলোর একটি এই,
মানুষ ভেবেছে প্রাপ্তিই পরিত্রাণ।

তাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

Laptop Stand কেন দরকার?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১৪ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৯

Laptop Stand কেন দরকার? | Digital Fast IT থেকে স্মার্ট সমাধান



দীর্ঘ সময় ল্যাপটপ ব্যবহার করলে অনেকেরই একটি সাধারণ সমস্যা দেখা দেয়—ল্যাপটপের নিচের অংশ অতিরিক্ত গরম হয়ে যায়। অতিরিক্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইমিগ্রেশনেই ধরা খেল বিএনপির কূটনীতি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৫ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪০


ধরুন আপনার পাশের বাড়ির সাথে সম্পর্ক ভালো না। দীর্ঘদিনের পুরনো ঝামেলা, কথা বলাবলি বন্ধ, একে অপরকে দেখলে মুখ ঘুরিয়ে নেওয়ার অভ্যাস হয়ে গেছে। এই অবস্থায় পাশের বাড়িতে একটা বৈঠক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×