লেখার বিষয়বস্তু, কোনো এক সন্মানিত ব্লগার মাকসুদের কন্ঠে রবীন্দ্র সংগীত শুনে তাকে চটকনা মারতে চেয়েছেন।
ভালো। কারো যদি ইচ্ছে হয় মারবে। মারতেই পারে। প্রিয় ব্লগার ব্যাতিক্রমী, আপনার জন্য আমার দুঃখ হয় কেন আপনি এসব বোঝানোর দ্বায়িত্ব নিজের ঘাড়ে নিচ্ছেন?
ভাই, এই দেশে প্রতিক্রীয়াশীল মৌলবাদীতার ভয়ংকরতা কতটুকু?
তারচে প্রগতিশীল মৌলবাদীতা কম ভংয়কর না। মাকসুদ ভাইকে নিষিদ্ধ করার পর বুঝেছি। বহু লোক তাকে গালাগাল করেছে সে সময়। প্রগতিশীলতার আবরন গায়ে লাগানোর সে চেষ্টায় একশ্রেনীর মানুষের চরম বৈষম্যের শিকার ছিলেন মাকসুদ। আপনি জানেন কিনা জানিনা, সে সময় যারা তাকে গালাগালি করেছে অনেককেই তিনি জিজ্ঞাসা করেছিলেন আপনি তো আমার গাওয়া রবীন্দ্রসংগীত নিয়ে কথা বলতে এসেছেন, তার আগে আগে আমি এই গানে কি কি কর্ড ইউজ করেছি একটা কাগজে লিখে দেন।
তখন তারা হাওয়া।
তাদের বিষয়টা অনেকটা এরকম ছিল, শুনেছি আপনি একটা খারাপ কাজ করেছেন তাই গালি দিতে এলাম।
নচিকেতা একটা গান করলেন। একই রকম। ওপারের টিভিতে অনেক বুদ্ধিজীবী শিল্পিদের প্রশংসা সূচক কমেন্ট নিয়ে তারপর চ্যানেলে সেই গান প্রচার হতে দেখেছি।
সে সময় এপারের ভাইদের মুখে কুলুপ আটা ছিল। কারন আর যাই হোক দাদাদের রাগানো যাবেনা।
তখন হয়তো এইসব তথাকথিত রবীন্দ্র মৌলবাদীদের উপলদ্ধি এসেছিল, ওপারের দাদারা যখন করেছে তাহলে হয়তো ঠিক আছে।
একটা গল্প মনে পড়ে গেল, এক খরগোশ কাঁদছে দেখে নেকড়ে জিজ্ঞাসা করলো কিরে কাঁদছিস কেন? বল কে মেরেছে? এক্ষুনি একটা ঘুষিতে দাত ভেঙে দিয়ে আসি।
খরগোশ জবাব দিল, সিংহ।
নেকড়ে তখন ঢোক গিলে আমতা আমতা করে বলল, সিংহ মশাই যখন মেরেছে তখন হয়তো ঠিকই আছে।
মাকসুদ যে বছর নিষিদ্ধ হয় সে বছর সৌভাগ্যক্রমে তার একটা ইন্টারভিউ করার সুযোগ এসেছিল। তাকে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করেছিলাম। বলেছিলেন, 'এদেশ আগে রবীন্দ্রনাথকে বুঝুক তারপর তর্ক করবো। এদেশে এখনো রবীন্দ্র সংগীত মানেই হারমোনিয়াম ধরে প্যা প্যা...অথচ অবাক বিষয় শান্তিনিকেতনে হারমনিয়াম ঢুকতে পারেনা।'
মাকসুদ রবীন্দ্রসংগীতের ফিউশন করেছিলেন, যার নাম দিয়েছে বিকৃতি। অথচ রবীন্দ্রনাথ নিজেই ছিলেন বাংলা ভাষার ফিউশন আর্টিষ্ট। তিনি আইরিশ এবং স্কটিশ ঘরানার উপাদান তার নিজের গানে ব্যবাহার করেছিলেন। উদাহরন'পুরোনো সেই দিনের কথা'। গানটির মূল গানের নাম 'suld lange syne' । একটি নববর্ষের গান।
এমনকি আমাদের জাতীয় সংগীতের সুর, গগন হরকরার 'আমি কোথায় পাবো তারে' গানটি থেকে নেয়া।
অতএব?
প্রিয় ব্যাতিক্রমী, সময়ের সাথে সাথে এসব অনেক কিছু হয়ই। বর্তমানতো কোনো বিচারের ক্ষমতা রাখেনা, বিচার করে ভবিষ্যৎ। তাই একটু আকটু সহ্য করেন কেন শুধু শুধু এসব নিয়ে লিখে কষ্ট করেন?
কারন একজন মাকসুদ এদেশের তারূণ্যে যা দিয়েছে তা বুঝে ওঠার ক্ষমতা অনেক প্রগতিশীল মৌলবাদীদের নেই।
একজন মাকসুদুল হককে চিনতেই অনেক ক্ষমতাসম্পন্ন হতে হয়।
আর তাকে চটকনা মারা?
ভাই মুখ আছে বলতে সমস্যা কি?
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই মার্চ, ২০০৯ রাত ৩:১১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



