somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গান শুনতে শুনতে মনে পড়ে গেল গান'অলাকে দেখা আমলাতান্ত্রিক জটিলতা সম্পন্ন এক কনসার্টের কথা - শেষ পর্ব (লিংকসহ অখন্ড)

১১ ই মে, ২০০৯ বিকাল ৪:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রথম অংশ:
Click This Link
দ্বিতীয় অংশ:
Click This Link
৫.
গান শেষ করে সুমন ঢুকে গেলেন গ্রীনরুমে। আমরা সেদিকে রওয়ানা হলাম। অল্পদুর যেতেই পথ আগলে দাঁড়ালেন আয়োজকদের একজন, না ভাই যাওয়া যাবেনা। অনেক চেষ্টা করে বোঝাতে ব্যার্থ হলাম। শরনাপন্ন হলাম অনুষ্ঠান কাভার করতে আসা একটি বেসরকারী চ্যানেলের প্রডিউসর , বড় ভাই রনি ভাইয়ের। রনি ভাই নিয়ে গেলেন গ্রীনরুম পর্যন্ত। আমরা সেখানে গিয়ে আমাদের পথ আগলে দাঁড়ানো লোকটির দিকে ব্যাপক তাচ্ছিল্যের সাথে তাকালাম। দৃষ্টি দিয়ে প্রমাণ করার চেষ্টা করলাম, আটকে তো রাখতে পারলা না।
হঠাৎ রনি ভাইয়ের কি এক কাজের ব্যাস্ততায় চলে যেতে হলো। আমরা সুমনকে দেখার যতটুকু আলো দেখেছিলাম সব অন্ধকারে ডুবে গেলো। আবার সেই লোকের দিকে অসহায় দৃষ্টিতে তাকালাম। সে এবার উল্টো ভাব নিল। এদিকে আমাদের মতো অনেক সুমন ভক্ত নানা সিষ্টেমে এসে হাজির। সকলেরই লক্ষ্য সুমনকে সামনে থেকে একবার দেখা। সবাই ইতিমধ্যে সে লক্ষ্যেই চেষ্টা তদবীর চালাতে লাগলো। আয়োজকদের বরাবর। কারন গ্রীনরুমের দরজা বন্ধ। একবার ভেতরে যাবার জন্য সবাই প্রমাণ করার চেষ্টা চালাচ্ছে, কে সুমনের কত বড় ভক্ত। একজনের বর্ণনায় জানলাম, সুমনের গান না শুনলে তার ঘুম আসেনা। আরেকজন জানালো, সে ঘুম থেকে জেগে আগে সুমনের গান শোনে তারপর অন্য কাজ করে। আরো অনেকের অনেক কথা। কিন্তু আয়োজকদের এক কথা, না। ঢুকতে দেয়া যাবেনা। অনেকন চেষ্টা কদবীর করে সেখানে ডিউটি দিতে আসা পুলিশের বদান্যতায় ঢুকলাম। তবে যা বুঝলাম, তিনি আমাদের ভালোবাস দেখে এ ব্যবস্থা করেননী। তিনি এজন্য করেছেন যে সুমন যতক্ষণ এখানে আটকা থাকবে ততক্ষণ তার ডিউটি চলবে।
তাই নিজের জন্যই আমাদের এই সুবিধা প্রদান কার্যক্রম।
৬.
গ্রীণরুমে ঢুকেই সিরিয়ালে দাঁড়ালাম। এক এক করে সুমন ভক্তরা হাত মেলাতে ব্যাস্ত। কেউ তার দিকে তাকিয়ে অযথাই হাসছে। কেউ জড়িয়ে ধরে ছবি তোলার চেষ্টা করছে। এর মাঝে এক অতি উৎসাহি স্মার্ট যুবক 'তোমাকে চাই' গানটি কাকে নিয়ে লেখা হয়েছে জানতে চেয়ে সুমনকে বিব্রত করে দিল এবং নিজেকেও বিব্রত পরিস্থিতিতে পড়তে হলো। সুমন বললো, সেটা তোমাকে কেন বলবো, বাবা?
বোকা সেই তরুণের দিকে হতাশ দৃষ্টিতে তাকালাম, ব্যাটা বলদ এখানে সাবিনা আছে বোঝা উচিত ছিল।
একসময় আমারও সিরিয়াল আসলো। এগিয়ে গেলাম। হাত বাড়ালাম । গান'অলাও বাড়িয়ে দিল তার হাত। কাধে হাত রেখে একটা ছবিও তুললাম। শখ পুরণ হলেও কেউ যেতে চাচ্ছেনা। এদিকে পুলিশ কর্মকর্তার তাড়া, ভাই চলে যান, চলে যান।
বের হবার আগে আবার একবার সুমনের দিকে তাকালাম। মনে হলো এ সুমন নয়। জীবনমুখী বাংলা গানের একটি প্রবাহমান নদী। যে নদীর বয়স ষাটের কাছাকাছি এবং যা তিরিশ চল্লিশ বছরেরও অধিক সময় ধরে বাংলার গান পাগল মানুষের পিপাষা মিটিয়ে চলছে অবিরাম।
কারন, সে সুমন চট্টোপাধ্যায়ই হোক অথবা কবীর সুমন, এই বাংলায় গান'অলা একজনই।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাখি মন

লিখেছেন সামিয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:১০



রাত গভীর হলে পাখিটা বারান্দায় এসে বসে। দূরের আকাশে তখনও কিছু আলো জ্বলজ্বল করে, কিন্তু পৃথিবীর কোলাহল ধীরে ধীরে স্তব্ধ হয়ে আসে। সেই নীরবতার মধ্যে বসে পাখিটার মনে হয়, মানুষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×