ইন্টার ফার্ষ্ট ইয়ার! কলেজ জীবনের শুরু। সব কিছুতেই রোমাঞ্চ।
বড় ভাই দেখলে সালাম দেয়া, সিগারেট চেক দেয়া, এক রিকশায় তিন চার জন বসে শহরময় টহল, বাসায় ভাত না খেয়ে হোটেলে খেয়ে নিজেকে বড়ত্ব প্রমাণ , নতুন নতুন থ্রেট দেয়া প্র্যাকটিস চলছে রিকশাওয়ালার উপর। সব কিছু মিলিয়ে জীবনের রঙ্গিন অধ্যায়ের শুরু।
সবার সব কাজেই ঝামেলা করি, মজা এখানেই। এই ঝামেলার কাজে একটাকে ডেইলি যন্ত্রণা করতাম। চা দোকানের পিচ্ছি কর্মচারী। নাম কী যেন?
ওহ! তার নাম জানা হয়নি। জানার প্রয়োজনও মনে করিনাই। কারন তাকে আরেক নামে ডাকতাম। সে যে দোকানে কাজ করতো সেটার মালিক ছিল শানু নামের এক ধুর্ত টাইপের লোক। তাই ওইটাকে ডাকতাম শানুরপোলা।
সে এই নামে বিরক্ত হতো, এ্যাহ...
শানুকে দেখতে না পারর ঝাল মেটাতাম তার উপর। সেও আমাদের সাথে সমান তালে নানা ঝামেলা করতো। চায়ে চিনি কম দিতো। দুধ না দিয়ে পানসে করে দিতো। আরো কতো হাবিজাবি...
আমরা বিরক্ত হয়ে বলতাম, ওই শানুরপোলা...
তার জবাব, এ্যাহ...
প্রায়-ই থ্রেট দিতাম তোরে আর শানুরে একসাথে বাইন্ধা...
তখন সে বিনয়ী হয়ে যেতো...আমার কী দোষ....
দিনের পর দিন চলে গেছে...বছরের পর বছর....
সময়ে পরিক্রমায় শানু নেতার সেক্রেটারি হয়ে ব্যাস্ত হয়ে গেল। রাস্তাঘাটে কাগজপত্র নিয়ে তার অযথা দৌড়াদৌড়ি মাঝে মাঝে চোখে পড়ে...দোকান ছেড়ে দিয়েছে...হারিয়ে গেছে তার দোকান, আমাদের বসার টুল...আর তার ছেলে উপাধিপ্রাপ্ত সেই বালকও...
আজ অনেকদিন পর একটা রিকশায় ওঠার পর রিকশাওয়ালাকে চেনা চেনা
লাগছিল। জিজ্ঞাসা করলাম, তোরে কই যেন দেখেছি...
সে জবাব দিল, আফনেরে আমি ছিনি...
আমি মুহুর্তেই স্মৃতির যাবতীয় নথিপত্র ঘেটে জিজ্ঞাসা করলাম, তুই শানুর পোলা না?
সে জবাব দিল, এ্যাহ...
ভালো আছস?
হ
আপনে?
আছি।
তরে দেখিনা।
তারপর শুনলাম। সেদিনের সেই বালক তার গ্রামের বাড়ী শেরপুর থেকে স্ত্রীর সাথে ঝগড়া করে এসেছে। অবাক হলাম।
তুই বিয়ে করেছিস?
করছিনা। দুই বছরের একটা মাইয়াও আছে।
কস কী? তুইতো শানুর পোলা বহুত আগাইয়া গেছস...
কথায় কথায় বাড়ীর গেটে এসে একটা মাঝারী মানের নোট দিলাম..যা বাড়ীতে যা...
সে অনিচ্ছা সত্বেও টাকা নিয়ে বলল আমার জন্য দোয়া কইরেন।
আচ্ছা, বলে বিদায় নিয়ে বাড়ীর গেটে ঢুকলাম।
জীবন কতো দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে...মনেই থাকেনা। শানুর পোলা-ও কতো বড় হয়ে গেলো।
হয়তো আরো একবার শানুর পোলার সাথে জীবনে দেখা হতে পারে।
যদি হয় তখন...কত বয়স হবে আমার? এই নয় মাসের ব্লগিংয়ের-ই-বা বয়স তখন কতোতে দাঁড়াবে?
আহ! জীবন...
বড় অদ্ভুত....বড় রহস্যময়...
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে মে, ২০০৯ রাত ১:০১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


