খুব সম্ভবত সেদিন কোনো এক ক্লিনিকে রাতে বসে আছি। কাকে যেন রক্ত দিতে গিয়েছিলাম। হঠাৎ সেখানকার রিসিপশনে বসে দেখতে থাকা টিভি নীচের স্ক্রলে নিউজ হিসেবে ভেসে এলো দেশে আর্মি নামানোর খবর। আমার এক বন্ধু দেখালো। আমার ভেতরে তখন গাঢ় বিষন্নতা। এতোদিন ধরে ভেতরে লালন করা বাক্য, সামরিক শাসন গনতন্ত্রের জন্য হুমকী। আমি আরো জানি, এটা হুমকী ছেলেদের বড় চুলের জন্যও নাকি। আর্মী ছেলেদের বড় চুল পছন্দ করেনা।
সে সময় আমার চুল বেশ বড়। ছোটবেলায় বাবার যৌবণ সময়ের ছবি দেখে ঠিক করে ছিলাম আমার কোনো এক যৌবণে আমিও চুল বড় রাখবো।
আমার সেদিন সারারাত ঘুম হয়না। বারবার আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে কষ্ট জাগিয়ে তুলি। এই চুলগুলো কাটিয়ে ফেলতে হবে!
পরদিন না দুদিন পর কি এক নিউজে জানলাম, না নামানো হচ্ছেনা।
আহ! কী প্রশান্তি যে পেলাম...
কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি কদিন পরেই, ১০ জানুয়ারী বুহস্পতিবার রাতেই আবার...
এবার সেনা নামানো না সরাসরি জরুরী অবস্থা।
এবার আমায় ঠেকায় কে?
তারপর কি আতঙ্কে যে কাটতো দিন আমার। সবুজ যান দেখলে সরে যাই। মনে হয় এই বুঝি ডাক দিল। এভাবে এড়িয়ে এড়িয়ে একদিন কালো যান থেকে ডাক পড়লোই। কেন আমার চুল বড়? কেটে ফেলতে বলা হলো। তারপর কদিন এই চুল বাঁচানোর জন্য সে কি দৌড়ঝাপ।
মানুষের দেখানো ভয়ে অস্থির আমি। কেটে ফেলো, কেটে ফেলো। ঝামেলা করে কী লাভ।
আমার চরম আতঙ্কের সময়। সেসময় শুধু মনে হতো মঈন-উ-কে দেখে ভাবতাম, ভাই কী দরকার আমাদের এই আতঙ্কে রেখে। তবে এটা ভালো লাগতো ভেবে এখন দেশের বড় বড় লেভেলের সবাই আতঙ্কে আছি।
যাক চুলের কারনে হলেও একটা যাতে ওঠতে পেরেছি।
শেষ পর্যন্ত অবশ্য না কেটেই ছিলাম। বড় চুল নিয়ে ঘুরেছি মঈন-উ-র পুরো শাসনকাল।
এখন আমার চুল তেমন বড় নাই। ক্ষমতা ছেড়েছেন মঈনও।
অনেক কারনে অনেকের কাছে মঈন স্মরণে থাকবেন। একটা তুচ্ছ কারণেও মঈন স্মুতিতে অমলিন থাকবেন আমারও।
এখনো আমার বড় চুল থাকা সময়কালীন সময়ে ছবি দেখে ভয় লাগে কারন সঙ্গে সঙ্গে মনের ভেতর কোথাও একজন মঈন-উ'র ছবিও ভেসে আসে আতঙ্ক হয়ে।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই জুন, ২০০৯ রাত ১:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


