আমার মাউসটা ব্যাপক লজ্জাবতী হয়ে গেছে। একদিকে নির্দেশনা দিলে আরেকদিকে দৌড় দেয়। অনেক কষ্টে খুঁজে নিয়ে আসতে হয়। হঠাৎ হঠাৎ স্ক্রীন থেকে মাউস হাওয়া হয়ে যায়।
কয়েকবার মাউস ধরে 'পাক' দিলে স্ক্রীনে দেখা যায়।
প্রথমদিকে লজ্জাবতী চিন্তা করলেও এখন শুনলাম এটার টাইম শেষ। কর্মজীবনের শেষপ্রান্তে। সার্ভিস দিতে দিতে এখন রিটায়ার্ড হবার অপেক্ষায়।
এই মাউস-ই এখন আমাদের জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিনত হয়ে যাচ্ছে। এই মাউসের লেজ ধরে আমরা ঘন্টায় সারা পৃথিবী দু-তিনবার চক্কর দিয়ে আসতে পারি।
এই মাউস আমাদের যেমন করে মুহুর্তেই নিয়ে যেতে পারে ওবামার ওয়াশিংটন ডিসিতে, তেমনি চাইলে নিয়ে যেতে না করেনা আমাদের গ্রামের বাড়ীর ওঠান পর্যন্তও।
কে জানতো উত্তররাধুনিক এই সময় মানুষ 'হর্সপাওয়ার' থেকে 'মাউসপাওয়ার' নিয়ে বেশি চিন্তিত থাকবে।
ঘোড়ার যদি এই অপমানের খবর জানতো। তার দাঁড়িয়ে ঘুমানোও বন্ধ হয়ে যেতো। গোটা তিনেক ঘুমের ট্যাবলেট তার খাদ্য তালিকায় থাকতোই। মাষ্ট।
এই মাউস যেমন ব্লগে নিয়ে এসে মনের ভাব প্রকাশে কাজ করে। তেমনি ভুলেনা ফেসবুকে বন্ধুত্ব নিমার্ণের জায়গায় ইশারা করে নিয়ে যেতে। না বল্লেই নয়, এই মাউস নিয়ে যায় বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপনের জায়গাতেও। বিভিন্ন 'বিবাহিত সাইটে'(!)। পালন করে ঘটকের ভুমিকা।
মাউস মোটামুটি পুরাতন চেরাগের আধুনিক দৈত্যের রোলে ব্যাপক নিষ্ঠার কাজ করে যাচ্ছে বিরামহীন।
আপনি যেখানে যেতে চান। ওঠে পড়ুন মাউসের পিঠে। অথবা শক্ত করে ধরে থাকুন লেজ ধরে।
আপনি যাবেন-ই। যেমন চলে এলেন আমার ব্লগে। ধন্য করে গেলেন, মাউস ধুলি দিয়ে।
পুনশ্চ : আমাদের ঘরের ইতিহাসে এরকম না থাকলেও হঠাৎ আজ একটা 'বাঙলা মাউস' দেখলাম। দৌড়াদৌড়ি করছে। কেন করছে কে জানে?
নাকি আমার এই মাউস বন্দনাকে সে নিজের মনে করে সে খুশিতে আহলাদিত হয়ে এই কাজ করছে?
সে কি জানেনা ওই মাউসের জন্য না হলেও তাদের মতো বাঙলা মাউসদের জন্য পথে ঘাটে...ইদুর মরে তেইল্লাচোরা মরে। খাইতে খাইতে মরে, লাফাইয়া লাফাইয়া মরে, বাড়ীর বাইরে গিয়া মরে ...
- বলে বলে প্রচুর লোক বিষ বিক্রি করে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

