আকাশে মেঘ করলে কালীদাস, রবীন্দ্রনাথ এমনকি গঙ্গানগর, শরীয়তপুরের কবি, ছড়াকার অথবা লেখক হওয়ার পথে যে তরুণ সেই শিশিরাদ্র মানিকও তার ক্রিয়েটিভিটি উজার করে বসে যায়। আসন্ন সৃষ্টির সাধণায়। তুলে আনে, যে যার মেধার সমান সৃষ্টি। কিন্তু তার বিপরীতে আমি আর রবি ভাই তখন লেখা বন্ধ করে ওঠে দাড়াই। দুজনের মাথায় তখন একই প্লট (লেখার না, খাওয়ার) ঘুরতে থাকে, ঘরোয়ায় যাবো। নিজেদের সৃষ্টির বাসনার চেয়ে তখন তীব্রতর আকর্ষণ হয়ে দেখা দেয় ঘরোয়ার বাবুর্চির আজ কী সৃষ্টি করলো? আজ খিচুড়ি কী জমে গেছে? না আজ খিচুড়িটা ঝরঝরে হয়েছে?
অতঃপর সেদিক পানে আমাদের উন্মুখ যাত্রা। তবে প্রতিটি যাত্রার আগে রবি ভাইয়ের সে কি আকুতি, সে কি প্রেম, সে কি আবেগ। আজ এমনও বরষায় ঘরোয়ার সামনে অফিস থাকা সত্ত্বেও যারা খিচুড়ি খেলো না, তারা পৃথিবী চিনল না।
একটা সময় তৃপ্তির ঢেকুর তুলে তুলে যেই অফিসে ফেরা। তখন রবি ভাইয়ের অন্য চেহারা। দুর, আর খাওয়া যাবে না। কেমন অস্থির অস্থির লাগছে না? এতো তেল চর্বির জিনিস খেতে ভালোও লাগে না।
আবার কদিন পর। আবার বৃষ্টি। কালিদাস, রবীন্দ্রনাথ, মানিকেরা তাদের সৃষ্টির সন্ধানে আর আমরা ঘরোয়ার বাবুর্চির সৃষ্টির দিকে।
আবারো খাওয়া শেষে সেই অন্য রবি ভাই। দুর ...।
এভাবেই বৃষ্টির দিন কাটে। এই বৃষ্টি, এই খিচুড়ির আলোচনার একটা মহাত্ম আছে। এই বৃষ্টির দিনে ঘরোয়া পরিবেশে খিচুড়ি রাশি নিয়েই জন্মেছিলেন রবি ভাই।
২.
রবি ভাইয়ের অনেকগুণ। এর অন্যতম একটি আমাকে অবিশ্বাস। যে অবিশ্বাসের কারনে তার প্রশংসাও করা যায় না। তিনি একটা লেখা লিখে মিনিমাম এগারোবার জিজ্ঞাসা করেন লেখাটা কেমন হলো? আমি বলি ভালো। রবি ভাইয়ের হয়তো বিশ্বাস হয় না। আবার বিশ পঁচিশ মিনিট পর একই প্রশ্ন, আইচ্ছা বলো না লেখাটা কেমন হলো? আমি সেই একই এক্সপ্রেশনে ভালো। রবি ভাইয়েরও একই এক্সপ্রেশন। আমি প্রস্তুতি নিই আবার বিশ পঁচিশ মিনিট পর একই প্রশ্ন শোনার জন্য।
তাই আজ সুযোগ পেয়ে বলি, রবি ভাই আপনার সামনে আর কতবার বলি বাইরে এর চেয়ে কয়েকগুন বেশি বলি মানুষের কাছে। এই সময়ের অনেক হাম্বরা লেখকের চেয়ে আপনার মতা অনেক বেশি। এবং অত্যন্ত আমার কথা এই মতা নিয়ে রবি ভাই লেখার চেয়ে ঘুমাতেই ভালোবাসেন। রবি ভাই, আপনার ঘুম ভাঙ্গুক।
৩.
রবি ভাইয়ের বয়স বেড়ে যাচ্ছে। আজ ২১ আগস্ট তার বত্রিশ হলো। চরম বেদনা, হতাশায় ছেয়ে যায় ভেতর। একসময় আমরা থাকবো না। অথচ সেদিনও বৃষ্টি হবে। ঘরোয়ায় তৈরি হবে খিচুড়ি। পৃথিবী কত নির্মম! ভাবলেই কষ্ট উথলে ওঠে। খিচুড়িও বিস্বাদ লাগে।
ছবি: নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে সাধারণত এই জাতীয় পাতাল রেলপথে ছবি তোলার ক্ষেত্রে প্রচন্ড নিষেধাজ্ঞা থাকে যে কোনো দেশের সরকারের। ভারতের এমনি একটি পাতাল রেলপথে সবার অলক্ষেই তোলা আশীফ এন্তাজ রবি'র একটি ছবি।
যতটুকু জানা যায় ছবিটি তুলেছেন ইশতিয়াক নামের কোনো খ্যাতিমান ফটোগ্রাফার।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে আগস্ট, ২০০৯ রাত ১২:৩৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


