শ্রোতার জন্য শিল্পী খোঁজা হচ্ছে। কিন্তু ভালো শ্রোতাও যে প্রয়োজন তা কেউ মনে করছে না। কারন শ্রোতা ভালো না থাকলে ভালো গান অসম্ভব।
আমার মামার একটা টু-ইন-ওয়ান ছিল। সেই টু-ইন-ওয়ানের ভেতর থেকে আমি কখনো পঙ্কজ উদাস ছাড়া আর কাউকে গান ডেলিভারী দিকে দেখিনী। পঙ্কজ উদাসের দরাজ গলায় সে কী গান। একের পর এক লোকটা গেয়ে যাচ্ছে। আমার মামার তাতেও মন ভরেন। বারবার শোনেন।
পঙ্কজ উদাস গান গেয়ে আর কতটা উদাস হন। তার চে বেশি উদাস মামা। প্রিয় গান একাধিকবার টেনে টেনে শোনেন। এক গান বারাবার শোনার ফলে পঙ্কজ উদাসের কিছু না হলেও ক্যাসেটরে ফিতা'র অবস্থা টাইট। কিছুক্ষণ পরপর যেন পঙ্কজ উদাস রেগে যান। রেগে, চেউমেউ করে কি সব যেন বলে ওঠেন।
পঙ্কজ উদাস রাগতেই মামা জলদি টু-ইন-ওয়ান বন্ধ করেন। তারপর ধীরে ধীরে টু-ইন-ওয়ানের হেড এর চিপাচাপা থেকে সচেতনভাবে ফিতা কুরে আনেন। তারপর কলম দিয়ে সেগুলো পুর্বাবস্থায় নিয়ে আসেন।
মাঝে আবার অবাক হতাম, পঙ্কজ উদাসের বদলে এ আবার কার গান শেনেন মামা? এতো মোটা কন্ঠ! কিন্তু একই গান।
পরে বুঝতাম বিদ্যুতের ভোল্টেজ ডাউন! তাই বেচারা পঙ্কজ উদাস এতো কষ্টে গান করছেন।
আহা কী কষ্ট করেই না আমার মামা গান শুনতেন!!!
আমার এক বন্ধু এক ডেক সেট নিয়ে এসেছিল তার নানান বাড়ী থেকে। তার নানার বাড়ীতে থাকতেই মোটামুটি ক্লিনিক্যালি ডেড ওই সেটটাকে কত চেষ্টায় যে সে বাঁচিয়ে রেখেছিল। তা না দেখলে বিশ্বাস করা যাবে না। কারন যত কষ্টই হোক গান তাকে শুনতেই হবে। একদিন তার ওই সেটে গান শুনবো, কিন্তু সেটা চালু হয় না। অনেক গুতোগুতি, ধাক্কাধাক্কির পর বন্ধু বিরক্ত হয়ে ধুপ করে সেটের উপরে বাড়ি মারতেই ধেখলাম দুটো ইদুর পড়ে দৌড়।
বন্ধুর সঙ্গীত প্রেম দেখে সেদিন অবাক না হয়ে পারিনি। এতো কস্ট করে এমন প্রাচীন জিনিসটাকে বাঁচিয়ে রেখেছে যা অলরেডি ইদুর নিবাস হয়ে গেছে।
এখন না চাইতেই হাজারো পঙ্কজ উদাস গরা ওপেন করে বসে থাকে। এক সাতে শ'খানেক পঙ্কজ উদাস ভরে রাখা যায়, এমপিথ্রি নামক যন্ত্রে। মামার সেই টু-ইন-ওয়ান-এর মতো কষ্ট সাপেক্ষ বহন জটিলতাও নেই।
নেই বন্ধুর মতো এতো কষ্ট করে ডেকসেট বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টাও।
হয়তো এই কারনে সেই নিবেদিত সঙ্গীত শ্রোতাও নেই, নেই সেই হৃদয়ে শক্ত আসন নেয়া গানগুলোও।
এখন কোন গান যে কার পছন্দ বোঝা মুশকিল। এবং কেন পছন্দ তাও বোঝা মুশকিল।
বেশিক্ষণ প্রিয় তালিকায় থাকে না কেউ। বাণিজ্যিক চার্টের মতো মনের চার্টেও উত্থান পতন প্রকট।
দিন দিন সেসব হারিয়ে যাচ্ছে।
কোথায় সেই নিবিষ্ট শ্রোতা, যাদের জন্য ভালো হবে!
এক লোকের কথা শুনেছিলাম। মহা সঙ্গীত ভক্ত। বাসায় শিল্পী এনে জলসা করেন। একবার এমন-ই এক মুগ্ধ অবস্থায় তিনি গান শুনছ্নে। তার স্ত্রী তার অলক্ষ্যে এসে সামনে চা রেখে গেলেন। তিনি লক্ষ্য না করে, চোখ বন্ধ করে গানেই বুদ হয়ে রইলেন। হঠাৎ হাতের ধাক্কায় চায়ের কাপ পড়ে চা ভেসে তার পায়ের কাছে লাগতেই তিনি চোখ বন্ধ করে গান শুনতে শুনতে স্ত্রীকে বললেন, বাবুর মা বাবুর প্যান্টটা পাল্টে দাও। বাবু ইয়ে করে দিয়েছে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

