ফাঁকে ফাঁকে টিভিতে ঈদ অনুষ্ঠান দেখার সেই আবাল্য অভ্যাস যায়নি বলে এখনো টিভির সামনে গিয়ে বসি।
বেশ কয়েকটি নাটক দেখলাম মিনিট পাঁচেক, বড়জোড় দশেক করে। এর বেশি বসার ধৈর্য্য আমার সৃষ্টিকর্তা আমকে দেননি।
কয়েকটি প্রায় পুরো দেখার চেষ্টা করলাম। কাল রাতে পুরোর তালিকায় প্রিয় হ ুমায়ূন আহমেদ -এর নাটক দেখলাম এবং অনেক কষ্টে হতাশ না হতে চাওয়ার প্রবল চেষ্টা করেও হতাশ না হয়ে পারলাম না।
হ ুমায়ূন আহমেদ -এর নাটক হ ুমায়ূন আহমেদ পরিচালনা না করলে কোনো মজা নেই। কয়েক বছর সেটা শাওন করেছে। তার পরিচালনা কারাপ লাগেনী। কিন্ত এবারে সেকানে যোগ করলেন 'মাযহার' নামে নতুন এক পরিচালককে। যদি আমার ভুল না হয় তিনি অন্যদিনের সেই মাযহার-ই হবেন হয়তো। জমাতে পারেননী।
কাকতালীয়ভাবে বৈশাখীতে 'বোধিদ্রুম' নাটকটির মেকিং দেখে ভালো লাগায় দেখলাম। ভালোই। শেষ পর্যন্ত কাহিনী না জমলেও উৎরে গেছে। ভালো লেগেছে ইফতেকার আহমেদ ফাহমীর 'অ্যা জার্নি বাই লাভ'। সবদিক দিয়ে ভালো। এমনকি পার্থ বড়ুয়াকে দিয়ে অসাধারণ অভিনয় করিয়ে নেবার কৃতিত্বও তাকে না দিলে নয়।
দেখলাম জাফর ইকবালের রচনায় আবদুল্লাহ রানার পরিচালনায়
'উপন্যাসের নাম অবয়ব'। যা দেখালেন। আমি কোথাও দেখিনি কোনো ঈদ সংখ্যা নিয়ে রাস্তায় এতো আয়োজন। মানুষ রাস্তায় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ঈদ সংখ্যা পড়ছে। কলেজ ভার্সিটিতে ঈদ সংখ্য নিয়ে কাড়াকাড়ি চলছে। একজন নতুন লেখক হিট হবার পর তাকে দেখা মাত্রই এক ঝাক তরুণ তরুণী দৌড়ে এস অটোগ্রাফ নিচ্ছে।
হাস্যকর।
অল্প দেখার তালিকায় অনেকগুলোর নাম মনে করতে পারলাম না। এর মধ্যে একটা নাটকে একটু দেখলাম এক নায়িকা সুমাইয়া শিমু রাস্তায় ক্যাব চালকের সাথে ঝগড়া করছেন।ভাড়া এবং মিটার নিয়ে। এর মধ্যে একই ষ্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে থাকা আরেক ক্যাবচালক নাটকের নায়ক অপূর্ব এসে তাকে মিষ্টি হাসিয়ে দিয়ে উঠিয়ে নিয়ে গেলেন।
আমার প্রশ্ন, বাস্তবাতার সাথে কোনো সম্পর্ক নেই হয়তো এইসব পরিচালকদের। কোনো ক্যাবষ্ট্যান্ডে এমন ঘটনা অসম্ভব। একজন যা চাইবে অন্য ড্রাইভার বড় জোড় পঞ্চাশ টাকা কম বেশি চাইবে। নায়ক বলেই এই অসাধ্য সাধন। এই মহানুভবতা।
ভাবতে হাসি আসে এ দেশে এখনো নায়ককে নায়ক হিসেবেই দেখাতে হয়। সে কোন চরিত্রে অভিনয় করছে, সেটা অর্থহীন।
দেখলাম, হানিফ সংকেতের 'তোষামোদে খোশ আমদে' না কী যেন একটা নাটক। ইত্যাদির ছোটো কিপিংগুলোর বড় ভার্সন এবং যথারীতি নিজেকে আধুনিক ঈশপ বানানোর চেষ্টা। নাটকের মাধম্যে জ্ঞান বিতরনের সেই প্রাগোতিহাসিক আয়োজন।
আর কতো?
দেখলাম, ভুবণ মোহিনী ইভা রহমানকে। টিভিতে কোনো গান শুনতে বসলে মনে হয় এতো দ্রুত শেষ হয় কেন গান? কিন্তু এই ম্যাডামের গান একবার শুরু হলে আর শেষ হয় না। তাই বাধ্য হয়ে নিজেকেই মুক্তি দিতে হয়।
আজ দেখার চেষ্টা করছিলাম প্রিয় সরয়ার ফারুকীর 'মা-য়া' নামের ভিডিও ফিকশন, কিন্তু অ্যাড-এর যন্ত্রণায় ওঠে এলাম দশ মিনিট পর পর অ্যাড। পরে সিডি এনে দেখবো নিজেকে এই স্বাত্বনা দিয়ে উঠে গেলাম।
তখনো কোনো কোনো টিভি চ্যানেলে চলছিল দর্শককে তাদের সঙ্গে রাখার তীব্র আকুতি।
দুই কানে আঙ্গুল চেপে ধরে নিজের ঘরে চলে এলাম, যা ভাগ...
সব মিলিয়ে যা দেখলাম নাটকের চেয়ে এসব দেখতে গিয়ে নিজেরই
বেহাল অবস্খা... আর আমি নিশ্চিত, জড় বস্তুর প্রাণ থাকলে জানা যেত রিমোটের রক্তক্ষরণ হচ্ছে আর টিভি সাহেব ভুগছে উচ্চরক্ত চাপে ...
পুনশ্চ: পোষ্টটি বিকেলে কিছু সময়ের জন্য দিয়ে মুছে ফেলেছিলাম। রাতে যদি ভালো কিছু চোখে পড়ে। কিন্তু লাউ আর কদু'র চিরায়ত হিসেব পাল্টেনী। তবে আবারো ধন্যবাদ ফাহমীকে অসুখের মতো একটা সুন্দর নাটক উপহার দেবার জন্য, এবং তিরস্কার ভ্যানেটি ব্যাগের মতো ফালতু নাটক বানানোর জন্য।
তবে এন টিভিতে কিচুক্ষণ 'চিরকালীন ভাড়' আবদুর কাদেরের উপস্থাপনায় রস...সংযুক্ত কী এক নামের অনুষ্ঠান দেখে অসুস্থ হবার যোগাড়। সঙ্গে শম্পা রেজা টাইপের মহিলাদের এনে তা বিরক্তির ষোল কলা পূর্ন করার জন্যও। এই অনুষ্ঠান ব্লগে পোষ্ট কররে মাইনাসরে বন্যা বয়ে যেতো একথা আমি চাইলে লাখ টাকা বাজী ধরে বলতে পারি।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১:০১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



