মানুষের জীবনে কখনো কখনো এমন সময় আসে যখন প্রয়োজন হয় নির্ভরতার। ইদানিং মানুষের নির্ভরতার জায়গায় ব্যাপকভাবে হয়তো ওঠে এসেছে হারবাল প্রতিষ্ঠানগুলো। এখন পথেঘাটে হারবাল প্রতিষ্ঠানগুলোর দৌরাত্ম দেখলে এমন আশংকাই জানান দেয়।
ঢাকাসহ অনেক বড় শহরগুলোর রাস্তাঘাটে চলতে ইদানিং হারবাল প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রচারনা নাকে, মুখে বাড়ি খায়, সিটের পাশে এসে বসে থাকে।
হঠাৎ হঠাৎ কোত্থেকে সেই প্রতিষ্ঠানগুলোর লিফলেট উড়ে আসে। খুঁজে দেখলে পাওয়া যায়, একদল নারীকর্মী নিবেদিতভাবে লিফলেট ছুঁড়ে মানুষের গোপন নানা সমস্যার সমাধানে পথ প্রদর্শন করছেন।
ইন্ডিয়ান হারবাল, কলকাতা হারবাল, মাদ্রাজ হারবাল, র্জামান হারবাল, প্যারিস হারবালসহ নানা হারবাল প্রতিষ্ঠানের লিফলেট, পোষ্টার সাইনবোর্ডে এখন আমাদের চারপাশ কম বেশি ছেয়ে গেছে।
হারবাল প্রতিষ্ঠানের এই ব্যাপক প্রচার দেখে ধরনা করতেই হয় মানুষ হয়তো এই হারবাল প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে উপকার পাচ্ছেন এবং সেদিকেই ঝুকছেন। যে কারনে হারবাল প্রতিষ্ঠানগুলোও বিশাল বিনিয়োগ করছে তাদের প্রচারে।
তাহেল কী মানুষের গোপন অসুখ বেড়ে যাচ্ছে- এই ভাবনা ভাবতে আমি যখন আশংঙ্কায় পড়ে যাচ্ছিলাম, তখন উপলিদ্ধ বাড়লো শুধু মানুষ-ই না, এই মানুষের দেশও এখন অনেক গোপন অসুখে জর্জরিত।
এই দেশ এমনিতে অসুস্থ সেটা অনেক আগে জেনেছিলাম হুমায়ূন আজাদের অসামান্য কবিতা 'শামসুর রাহমানকে দেখে ফিরে ফিরে' কবিতায়। যেখানে হুমায়ূন আজাদ জানিয়েছিলেন,
শামসুর রাহমান, আপনি যখন হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে আসবেন
তখন ঢুকবেন এক বিশাল হাসপাতালে, দেখবেন দূরারোগ্য
ব্ক্ষ্যব্যাধীতে আক্রান্ত সমগ্র বাঙলা, তার মাটি, নদী ও আকাশ।
কিন্তু আজ শুধু প্রকাশ্য এবং দৃশ্যমান ব্ক্ষ্যব্যাধী নয়, অন্যন্য নানা গোপন অসুখেও জর্জরিত দেশ। যে গোপন অসুখের বিষয় এতোদিন ধারণায় ধারণায় থাকলেও ইদানিং তা বের হয়ে আসছে। আমরা জানতে পারছি, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির জন্য কোনো সিন্ডিকেটের সাথে দ্রব্যমূল্যের হাত থেকে রক্ষাকারী মন্ত্রী বা তার লোকজনও জড়িত থাকে। তাদের মাধ্যমই আমরা জানতে পারছি, আসলেই কোনো কোনো ভবণে কোনো বিশেষ রাজপুত্রের নামে ব্যবসা হতো। হতো চাঁদাবাজী। আমরা জানতে পারছি, সমঝতায়, সাজানো নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসাও হচ্ছে।
গোপন অসুখের এই ভয়াবহতা শিওরে ওঠার মতো। তাহলে কোথায় আমাদের বাস?
গোপন অসুখ যেমন কাউকে জানানো যায় না, তেমনি দেশের এই গোপন সম্পর্কে বলারও নেই বিশ্বের অন্য কোথাও। নিজেরাই পুড়ছি নিজেদের আগুনে।
এ থেকে মুক্তির কী কোনো পথ আছে? ভালো কোনো হারবাল প্রতিষ্ঠানের শরনাপন্ন হলে কী এ থেকে পরিত্রাণ সম্ভব?
কিন্তু কোথায় সে হারবাল প্রতিষ্ঠান?
ওই মহিলাগুলো কী জানে অথবা এমন কোনো লিফলেট কী বিলি হয়?
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১:২৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


