somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটি নয়া তরিকার হুমায়ূনীয় ঈদ অপন্যাস : আমি তার হাত ধরে রাখতে পারিনা কেন, তার হাতের ওজন কি খুব বেশি?

২৭ শে নভেম্বর, ২০০৯ রাত ৮:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

হিমু তার মানিব্যাগটা বের করে রিকশাওয়ালার দিকে তাকালো।
২.
রিকশাওয়ালার গালি দিয়ে চলে গেল, ভাড়া থাকেনা রিকশায় ওঠেন কেন?
হিমুর নিজেকে বেশ অপমানিত লাগছে। যদিও হিমুদের অপমান থাকতে নেই।
৩.
হিমুকে দেখেই রূপা ওঠে যেতে শুরু করলো, ও তুমি এসছো? তোমার আসার সময় হয়েছে। এই তোমার পাঁচটা? ঠিক আছে পার্কটাকে দেখে রাখো। আমি যাই। অনেকক্ষণতো আমাকে দিয়ে পাহারা দেয়ালে।
রূপার চলে যাওয়ায় হিমুর খুব একটা অনুতাপ লক্ষ্য করা গেলো না। কারণ, এ সম্পর্কে তার বাবা তাকে বলেছিল, কাউকে সময় দিয়ে সময় রাখাটা মহাপুরুষের লক্ষণ না। কারণ, মহাপুরুষরা অপেক্ষা করেনা। তারা অপেক্ষায় রাখায়।
যুগে যুগে মহাপুরুষদের জন্য অপেক্ষায় থাকে মানুষ।
৪.
তবে অস্বীকার করার উপায় নেই হিমুর বেশ মন কারাপ হলো।
হিমু এরপর দু'তিনদিন রূপাদের বাসার চারপাশে ঘুরেছে।
৫.
হিমু মিসির আলী নামের এই ভদ্রলোকের ঠিকানা পেয়েছে এক লেখকের কাছ থেকে।
খুবই জনপ্রিয় টাইপের এক লেখক। হ ুমায়ূন আহমেদ নাম। বুড়ো বয়সে আবার বিয়ে করেছেন। তিনি হিমুকে পরামর্শ দিলেন, আপনার এখন যে প্রোবলেম চলছে তার জন্য মিসির আলী সাহেবের সাথে কথা বলতে পারেন।
হিমু লেখকের বাড়ী থেকে বেরিয়ে এলো। বাবার পরামর্শ অনুযায়ী এই জাতীয় লেখকদরে বেশি দাম দিতে নেই। তার উপর যেখানে নিজেরই মানসিক ডাক্তার দেখানো দরকার তার পরামর্মকে গুরুত্ব দিয়েও লাভ নেই। হিমুর ইচ্ছে করছে, লেখককে গিয়ে কথাটা বলে আসতে।
৬.
লেখক বললো, আমাকে কিছু বলবেন?
হিমু বললো জ্বি।
বলুন
আপনারই তো মানসিক ডাক্তার দেখানো দরকার। এই বুড়ো বয়সে বিয়ে করেছেন।
নিশ্চয় আপনার বইয়ের কোথাও না কোথাও আপনার মতো কোনো চরিত্র আছে। নিশ্চয় আপনি সেখানে সেটাকে ভীমরতি বলে পাঠককে আনন্দ দিয়েছেন। যদিও আপনার বই আমার পড়া হয়নি। তবে মনে হচ্ছে, থাকলেও থাকতে পারে। মহাপুরুষদের যা মনে হয় সেটা অধিকাংশ ক্ষেত্রে ঘটে।
৭.
হিমু গভীর মনোযোগে মিসির আলীর কথা শুনলো।
মিসির আলী বেশ চিন্তিত মুখে নানা ধরণের পরামর্শ দিল। কতা শেষে জিজ্ঞাসা করলো আমার কথা শুনে আপনার কী মনে হলো?
আমার তেমন কিছু মনে হয়নি, শুধু মনে হয়েছে আপানর নিজেরও মানসিক ডাক্তার দেখানো উচিত।
মিসির আলী খুব বেশি বিব্রত হননি জীবনে।
এই কথা শুনে তিনি জীবনে তৃতীয়বারের মতো বিব্রত হলেন।
৮.
হিমু আজ তার বাবার কাছ থেকে বেশ গালাগালি শুনেছে। সামান্য প্রেমিকার মন রক্ষায় ব্যার্থ হয়ে সে কেন মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়ছে?
বাবার এমন প্রশ্নের জবাবে সে কিছু বলতে পারেনী।
প্রেমই কী জীবনে সব? তার উপর কেন হিমু মহাপুরুষ হয়ে মিসির আলী টাইপের লোকদের কাছে যাবে? এই সব মিসির আলীদের শেষ বয়সে কোনো কাজ নেই। সাইকোয়েট্রিষ্ট সেজে দুচার পয়সা কামনোর ধান্ধা করে এটা হিমুর বোঝা উচিত।
হিমু বাবার এমন কঠিন কথারও কোনো জবার দিতে পারলো না।
হিমুকে তার বাবা জিজ্ঞাসা করলেন, তোর কি মনে হয়না মিসির আলীকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠানো উচিত?
হিমু হ্যা সূচক মাথা নাড়লো।
হিমু বাবাকে জিজ্ঞাসা করলো, বাবা আমি রূপাকে ধরে রাখতে পারিনা কেন?
না পারার তো কিছু নেই। রূপার হাতের ওজন কী খুব বেশি নাকি?
হিমুর কিছুটা রাগ হলো। সে বাবাকে বললো, সিরিয়াস একটা বিষয়ে তুমি রসিকতা করছো কেন?
হিমুর বাবা বললেন, তুইতো সাধারণের কাতারে নেমে যাচ্ছিস রে হিমু? এতো অধঃপতন! প্রেমকে জীবনের সব ধরে এগুচ্ছিস। অথচ মহাপুরুষদের কিন্তু প্রেমে পড়ার কোনো রেফারেন্স নেই।
হিমু বললো, সেটা আমি জানি।
তাহলে?
তাহলে বাবা তুমিই তো বিষয়টাই বুঝতেছো না।
কি বুঝবো?
কি বুঝবা মানে? এই যে, এই গল্পের লেখক, ইশতিয়াক আহমেদ একটা গল্প লিখছে। আমরা যার গল্পে চরিত্র হয়ে এসেছি। তার কথা আমাদের ভাবতে হবে না?
কেমন?
কেমন মানে কী? ইশতিয়াক সাহেব এটাকে উপন্যাস নাম দিয়ে লেখা শুরু করেছেন। নিশ্চয় তার এই পোষ্টে এখন ব্লগাররা ঢুকবেন। পড়ার চেষ্টা করবে। উপন্যাসে যদি প্রেমই না থাকে তাহলে ব্লগাররা কি মনে করবে?
ভালো বলবে? বলবে না।
এমন কী প্লাসও দেবেনা।
বাবা তুমি নিশ্চয় ব্লগ সম্পর্কে তেমন কিছু জাননা। কারণ, তোমার উপদেশমারায় ব্লগ নিয়ে কোনো উপদেশ নেই। যা হোক, বাবা তুমি ব্লগ সম্পর্কে উপদেশ না দাও। প্রেম সম্পর্কে একটা গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ দাও। লেখাটার যতটুক ক্ষতি করেছ তা পুষিয়ে দাও।
হিমুর বাবা চুপ করে রইলেন। তার চেহারা দেখে মনে হচ্ছে সে যারপর নাই লজ্জিত। তার চেহারা দেখে মনে হচ্ছে একটা গল্প নষ্ট করার মতো অপরাধ পৃথিবীতে আর একটাও নাই। তিনি বেশ কিছুক্ষণ পর বিড়বিড় করে বললেন, বাবা হিমু, আমাদের এই ঘাষময় জীবনে প্রেমিকারা এক আশ্চর্য গরুর পাল।




সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে নভেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:০৬
২৫টি মন্তব্য ২৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×