হিমু তার মানিব্যাগটা বের করে রিকশাওয়ালার দিকে তাকালো।
২.
রিকশাওয়ালার গালি দিয়ে চলে গেল, ভাড়া থাকেনা রিকশায় ওঠেন কেন?
হিমুর নিজেকে বেশ অপমানিত লাগছে। যদিও হিমুদের অপমান থাকতে নেই।
৩.
হিমুকে দেখেই রূপা ওঠে যেতে শুরু করলো, ও তুমি এসছো? তোমার আসার সময় হয়েছে। এই তোমার পাঁচটা? ঠিক আছে পার্কটাকে দেখে রাখো। আমি যাই। অনেকক্ষণতো আমাকে দিয়ে পাহারা দেয়ালে।
রূপার চলে যাওয়ায় হিমুর খুব একটা অনুতাপ লক্ষ্য করা গেলো না। কারণ, এ সম্পর্কে তার বাবা তাকে বলেছিল, কাউকে সময় দিয়ে সময় রাখাটা মহাপুরুষের লক্ষণ না। কারণ, মহাপুরুষরা অপেক্ষা করেনা। তারা অপেক্ষায় রাখায়।
যুগে যুগে মহাপুরুষদের জন্য অপেক্ষায় থাকে মানুষ।
৪.
তবে অস্বীকার করার উপায় নেই হিমুর বেশ মন কারাপ হলো।
হিমু এরপর দু'তিনদিন রূপাদের বাসার চারপাশে ঘুরেছে।
৫.
হিমু মিসির আলী নামের এই ভদ্রলোকের ঠিকানা পেয়েছে এক লেখকের কাছ থেকে।
খুবই জনপ্রিয় টাইপের এক লেখক। হ ুমায়ূন আহমেদ নাম। বুড়ো বয়সে আবার বিয়ে করেছেন। তিনি হিমুকে পরামর্শ দিলেন, আপনার এখন যে প্রোবলেম চলছে তার জন্য মিসির আলী সাহেবের সাথে কথা বলতে পারেন।
হিমু লেখকের বাড়ী থেকে বেরিয়ে এলো। বাবার পরামর্শ অনুযায়ী এই জাতীয় লেখকদরে বেশি দাম দিতে নেই। তার উপর যেখানে নিজেরই মানসিক ডাক্তার দেখানো দরকার তার পরামর্মকে গুরুত্ব দিয়েও লাভ নেই। হিমুর ইচ্ছে করছে, লেখককে গিয়ে কথাটা বলে আসতে।
৬.
লেখক বললো, আমাকে কিছু বলবেন?
হিমু বললো জ্বি।
বলুন
আপনারই তো মানসিক ডাক্তার দেখানো দরকার। এই বুড়ো বয়সে বিয়ে করেছেন।
নিশ্চয় আপনার বইয়ের কোথাও না কোথাও আপনার মতো কোনো চরিত্র আছে। নিশ্চয় আপনি সেখানে সেটাকে ভীমরতি বলে পাঠককে আনন্দ দিয়েছেন। যদিও আপনার বই আমার পড়া হয়নি। তবে মনে হচ্ছে, থাকলেও থাকতে পারে। মহাপুরুষদের যা মনে হয় সেটা অধিকাংশ ক্ষেত্রে ঘটে।
৭.
হিমু গভীর মনোযোগে মিসির আলীর কথা শুনলো।
মিসির আলী বেশ চিন্তিত মুখে নানা ধরণের পরামর্শ দিল। কতা শেষে জিজ্ঞাসা করলো আমার কথা শুনে আপনার কী মনে হলো?
আমার তেমন কিছু মনে হয়নি, শুধু মনে হয়েছে আপানর নিজেরও মানসিক ডাক্তার দেখানো উচিত।
মিসির আলী খুব বেশি বিব্রত হননি জীবনে।
এই কথা শুনে তিনি জীবনে তৃতীয়বারের মতো বিব্রত হলেন।
৮.
হিমু আজ তার বাবার কাছ থেকে বেশ গালাগালি শুনেছে। সামান্য প্রেমিকার মন রক্ষায় ব্যার্থ হয়ে সে কেন মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়ছে?
বাবার এমন প্রশ্নের জবাবে সে কিছু বলতে পারেনী।
প্রেমই কী জীবনে সব? তার উপর কেন হিমু মহাপুরুষ হয়ে মিসির আলী টাইপের লোকদের কাছে যাবে? এই সব মিসির আলীদের শেষ বয়সে কোনো কাজ নেই। সাইকোয়েট্রিষ্ট সেজে দুচার পয়সা কামনোর ধান্ধা করে এটা হিমুর বোঝা উচিত।
হিমু বাবার এমন কঠিন কথারও কোনো জবার দিতে পারলো না।
হিমুকে তার বাবা জিজ্ঞাসা করলেন, তোর কি মনে হয়না মিসির আলীকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠানো উচিত?
হিমু হ্যা সূচক মাথা নাড়লো।
হিমু বাবাকে জিজ্ঞাসা করলো, বাবা আমি রূপাকে ধরে রাখতে পারিনা কেন?
না পারার তো কিছু নেই। রূপার হাতের ওজন কী খুব বেশি নাকি?
হিমুর কিছুটা রাগ হলো। সে বাবাকে বললো, সিরিয়াস একটা বিষয়ে তুমি রসিকতা করছো কেন?
হিমুর বাবা বললেন, তুইতো সাধারণের কাতারে নেমে যাচ্ছিস রে হিমু? এতো অধঃপতন! প্রেমকে জীবনের সব ধরে এগুচ্ছিস। অথচ মহাপুরুষদের কিন্তু প্রেমে পড়ার কোনো রেফারেন্স নেই।
হিমু বললো, সেটা আমি জানি।
তাহলে?
তাহলে বাবা তুমিই তো বিষয়টাই বুঝতেছো না।
কি বুঝবো?
কি বুঝবা মানে? এই যে, এই গল্পের লেখক, ইশতিয়াক আহমেদ একটা গল্প লিখছে। আমরা যার গল্পে চরিত্র হয়ে এসেছি। তার কথা আমাদের ভাবতে হবে না?
কেমন?
কেমন মানে কী? ইশতিয়াক সাহেব এটাকে উপন্যাস নাম দিয়ে লেখা শুরু করেছেন। নিশ্চয় তার এই পোষ্টে এখন ব্লগাররা ঢুকবেন। পড়ার চেষ্টা করবে। উপন্যাসে যদি প্রেমই না থাকে তাহলে ব্লগাররা কি মনে করবে?
ভালো বলবে? বলবে না।
এমন কী প্লাসও দেবেনা।
বাবা তুমি নিশ্চয় ব্লগ সম্পর্কে তেমন কিছু জাননা। কারণ, তোমার উপদেশমারায় ব্লগ নিয়ে কোনো উপদেশ নেই। যা হোক, বাবা তুমি ব্লগ সম্পর্কে উপদেশ না দাও। প্রেম সম্পর্কে একটা গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ দাও। লেখাটার যতটুক ক্ষতি করেছ তা পুষিয়ে দাও।
হিমুর বাবা চুপ করে রইলেন। তার চেহারা দেখে মনে হচ্ছে সে যারপর নাই লজ্জিত। তার চেহারা দেখে মনে হচ্ছে একটা গল্প নষ্ট করার মতো অপরাধ পৃথিবীতে আর একটাও নাই। তিনি বেশ কিছুক্ষণ পর বিড়বিড় করে বললেন, বাবা হিমু, আমাদের এই ঘাষময় জীবনে প্রেমিকারা এক আশ্চর্য গরুর পাল।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে নভেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:০৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


