somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কাকতালীয় 'কেকে' দর্শন এবং সনি এরিকসন মোবাইলে নকিয়ার কনসার্ট

২৭ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

'কেকে' নামের একজন শিল্পী আসছে বাংলাদেশে। নকিয়ার ব্যানারে গান করবে। সাথে থাকবে বাংলাদেশের এলআরবি এবং আর্টসেল।
দেশের ব্যান্ড শিল্পীদের কনসার্টের দেখার আমি এক রিটায়ার্ড দর্শক-শ্রোতা। সেই এসএসসি পরীক্ষার পর থেকে ন্যাশনাল স্টেডিয়াম, আর্মি স্টেডিয়াম, মিরপুর স্টেডিয়াম, সুলতানা কামাল মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্স...
কোথায় যাইনি? সে মাঠগুলোর ঘাস আর মাটি হয়তো এখনো দেখা হলে আমাকে চিনবে। দেশী ব্যান্ডগুলোর কনসার্ট বেশ কিছুদিন হলো ছেড়ে দিয়েছি। অনেক দেখেছি, ভাবখানা এমন বয়স হয়ে গেছে।
বিদেশীদের কনসার্টও বেশ কিছু দেখেছি। সুমন, অমিত সানা, রাহুল সাক্সেনাদের কনসার্টও বেশ ঝামেলায় টিকেট সংগ্রহ করে দেখেছি।
কেকে'র কনসার্টে যাওয়া নিয়ে মন এমনিতেই সিদ্ধান্তহীনতায় ছিল। যাবো না যাবো না? তাই টিকেটও সংগ্রহ করিনি। কিনিওনি। চাইলে অফিস থেকেও একটা ম্যানেজ করা যেতো।
যেহেতু যাওয়া নিশ্চিত না, তাই ঝামেলায় যাইনি। কোথায় বিক্রি হয় সেই খোঁজও করিনি। সকালে অফিসে গিয়ে দুপুরের দিকে বের হয়ে ধানমন্ডিতে গেলাম এক কাজে সাথে এক ছোটো ভাই। ধানমন্ডির কাজ সেরে ওই ছোট ভাই বলল, চলেন একজনের বাসায় যাই। দুপুরে খেয়ে আসি। যার কাছে যাবো তার নাম ইকবাল, বাসা মোহাম্মদপুর ইকবাল রোডে। যা নিয়ে তার বাহাদুরির অন্ত নেই। প্রায়ই বলে, আমি মানুষের নামের রোডে থাকি না। তো সেই বাহাদুর ইকবালকে আমার সাথে থাকা ছোটো ভাই রাসেল বেশ বাহাদুর ভঙ্গিতে ফোন দিল, আপনার বাসায় আমরা দুপুরে আমরা দাওয়াত গ্রহণ করলাম। বলেই ফোন কেটে দিল।
আমরাও যথাসময়ে গিয়ে হাজির। তার বাসায় খেয়ে দেয়ে বের হচ্ছি হঠাৎ ব্যাপক গানের সাউন্ড আর লাইটিং। মনের ভেতরে ব্যাপক কাপুনি শুরু হলো।
প্রথমে শীতের মনে হলেও, পরে বুঝলাম কনসার্টের শব্দ শুনে এই অবস্থা। একটা রিকশায় করে তাজমহল রোড যাচ্ছিলাম। রিকশাওয়ালা বলল, কলেজের মাঠে ভারত থেইকা এক মহিলা শিল্পী আনছে। অনেক বীড়। ওই দিক দিয়েই যামু দেইখ্যেন কি অবস্থা!
আমরা গেলাম। রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজের এলাকায় গিয়ে আর রিকশায়েকেন জানি বসে থাকতে পারলাম না। কোনো দিকপাশ চিন্তা না করে রাসেলকে বললাম কী আছে চলেন যাই। যদিও তখনও নিশ্চিত না কতটুকু হয়েছে। দুই তিনজন টিকেট বিক্রী করছে। মোটামুটি নিশ্চিত হয়ে ঢুকে গেলাম। গিয়ে দেখি না আর্টসেল চলে গেছে। বাচ্চু ঝড় চলেছে। বাচ্চুর গিটারের জাদু যারা কনসার্টে দেখেছে তারা জানে বাচ্চু কি জিনিস। বেম কিছুক্ষণ বাচ্চুর ঝড় দেখলাম। শুনলাম তার কনসার্ট মাতানো গানও।
তারপর মঞ্চে কেকে। কৃষ্ণ কুমার কুন্নাথ। আমার অসম্ভব প্রিয় এক শিল্পী। ভারতের হালের ফিল্মে প্রতি বছরই যার হিট গান অনেক। যার কনসার্ট দেখতে যাচ্ছি না, এমন একটা কষ্টের অনুভূতি নিয়ে থেকে কাকতালীয় ঘটনায় তাকেই এতো সামনে মঞ্চে দেখার অনুভূতি অন্যরকম। তবে প্রথমে দাঁড়াতে হলো একেবারে পেছনে।
উল্লেখ্য, কনসার্টে ভাব-এর একটা দাম একটা আছে। ভাব নিতে পারলে অনেক কিছুই করা যায়। হঠাৎ ছোট ভাই রাসেল পরামর্শ দিল, ভাই আপনার পকেটে প্রেসকার্ড থাকতে এতো পেছনে দাঁড়াইয়া কনসার্ট দেখমু কেন?
আমারও মনে হলো আসলেই তো! চলেন একটা ভাব নেই। অতঃপর বাবের দুনিয়ার সকলই কাত। ভলান্টিয়ারদের কাত করে আমরাও ঢুকে গেলাম ভিআইপিতে, সংরক্ষিত আসনে। খুব কাছ থেকে কেকে'র মোটামুটি পুরো কনসার্টই দেখা হলো। প্রায় বিশটি হালের জনপ্রিয় গান করে ঢাকার প্রতি ভালোবাসা জানিয়ে বিদায় নেন প্রথমবারের মতো আসা এই শিল্পী। তিনি যেমন ঢাকার দর্শককে মুগ্ধ করেছেন, ঢাকার দর্শকের ব্যাপক উপস্থিতি এবং উচ্ছাস তিনিও ছিলেন ব্যাপক মুগ্ধ। যা বারবার বলেছেন গানের ফাঁকে ফাঁকে। তবে ব্যাপক প্রশংসার দাবী রাখে নকিয়া। এতো সুন্দর স্টেজ-এর জন্য।
উল্লেখ্য নকিয়াতে এই প্রথম মুগ্ধ হলাম। আমি কখনোই নকিয়াতে মুগ্ধ না। নকিয়া ব্যাবহার করিনা। আমি সনি এরিকসনের নিয়মিত কাষ্টমার ।

কনসার্ট শেষে ভালোলাগা তো ছিলও ছিল অন্যরকম এক রোমাঞ্চ। ছিলাম কই? কেন-ই বা হঠাৎ করে গেলাম ধানমন্ডিতে কাজে, কেন-ই বা দুপুরে ভাতের রিজিক টেনে নিয়ে গেলো মোহাম্মদপুর, তাও একবোরে রেসিডেন্সিয়াল মডের কলেজের কাছে, কেনই বা আসাদ গেট দিয়ে বের না হয়ে তাজমহর রোডের দিকে গেলাম?
আসলে কনসার্টই টেনে নিয়ে গেছে তার কাছে।
শেষে বাচ্চুর গানের মতো-ই হলো, আমরা তো কনসার্টকে টানিনি। কনসার্ট-ই আমাদের টেনে নিয়েছে। তাও একবারে মতিঝিল থেকে মোহাম্মদপুর।

অবশেষে নকিয়ার কনসার্টের দুয়েকটি ছবি সনি এরকিসন মোবাইলের ক্যামেরায় তুলে রওয়ানা দিলাম বাড়ীর দিকে।
১২টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×