হাসানকে মেরে ফেলব?
না। এত নিষ্ঠুর হওয়া ঠিক হবে না।
তাহলে অপহরণ করা যেতে পারে?
না। তাতে আবার পুলিশি ঝামেলা আছে।
তাহলে কী করা যায়?
দেখ। তুমি ঠিক করো।
তুমি বলো না।
আমি বলতে পারব না। মৃত্যু আর অপহরণ তো প্রায় একই হবে। যাকে অপহরণ করা হবে পরবর্তীতে তার ঝামেলা থেকে বাঁচতে তো মেরেই ফেলার পথটাই বেছে নিতে হবে। ঠিক না?
তা ঠিক।
আর কোনো মৃত্যুই আমার কাছে ভালো লাগে না। তাছাড়া হাসানের ছোট ছেলেটার কী হবে? সে কীভাবে বেড়ে উঠবে?
কোথাও থেকে তার জন্য লাখখানেক টাকার ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করে দেব। তাকে নিয়ে যাতে খুব বেশি ঝামেলা না থাকে।
না, আমার কাছে ভালো লাগছে না এটা। একটা ছোট ছেলে বাবা ডাকতে পারবে না। এটা আমি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না।
তাহলে কী করব? আরে তুমি একটু বিষয়টা ঠাণ্ডা মাথায় ভেবে দেখার চেষ্টা করো। হাসান এখন যে জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে তার এমন একটা কিছুর অবশ্যই দরকার। না হলে মানুষ আমার ক্ষমতা নিয়ে হাসাহাসি করবে? এতদূর টেনে আনা আমার সকল আয়োজনও শেষ হয়ে যাবে।
তাহলে তুমি-ই ভেবে দেখো তুমি কী করবে? আমাকে জিজ্ঞেস করছ কেন? আমি তোমাকে কোনো ডিসিশন জানাতে পারব না। আমার যেকোনো বিষয়ে মন খারাপ হয়ে যায়। ভালো কথা, হাসানের বউয়ের কী হবে?
তাহলে তুমি তো ঘটনাটাই বুঝলে না। ওই মেয়ের জন্যই তো এতসব ঝামেলা। এত ভজঘট। ওই সুন্দরীকে নিয়ে তো এই টানাপোড়েন।
না থাক। আমি আর এসব মাথায় নিতে পারছি না। আমার আর এসব নিয়ে ভাবতে ভালো লাগছে না। তোমার যা ইচ্ছে করো। আমি ঘুমাই।
আচ্ছা ঠিক আছে, তুমি ঘুমাও। কিন্তু একটা কথা বলো হাসানকে মেরে ফেললে কী খুব খারাপ হবে?
জানি না। আমি জানি না। প্লিজ, আমাকে আর এসব ঝামেলায় নিয়ে যেও না। প্রতিদিন এসব শুনে শুনে আমি অসুস্থ হয়ে গেলাম। মানুষকে মেরে ফেলা ছাড়া কী আর তুমি কোনো কিছু ভাবতে পার না? নিষ্ঠুর মানুষ কোথাকার? আর প্রতিদিন এই যন্ত্রণা আমার ভালো লাগে না। বাবা যে কার সাথে আমার বিয়ে দিল! এই শোনো, আর একবারও আমার সাথে এসব নিয়ে কথা বলবে না। সাবধান!
কথাগুলো শুনে অধ্যাপক মিজানুর রহমান খাতা কলম বন্ধ করে টেবিল থেকে বিছানায় চলে আসেন। তিনি লেখক মানুষ অল্পতেই হতাশ হয়ে যান। তিনি লেখার সময় গল্প সাজানোর কাজটা স্ত্রীর সাথে মিলেমিশে করতে চান। তা আর তার হয়ে ওঠে না।
তার মন অসম্ভব খারাপ হয়।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


