ছোটবেলায় দেশের বাইরে একটা দেশই চিনতাম, বিদেশ। বড় হয়ে বিদেশের বিস্তৃত অর্থ জানলেও ছোটবেলার জানা সেই বিদেশের চেয়ে রোমাঞ্চকর লাগে না। সে সময় বিদেশ শুনলেই মনে হতো অ্যারোপেনে যাওয়া যায় এমন কোন অজানা দেশ সেটা। বহুদিন জানতেও পারিনি বাসে করেও বিদেশে যাওয়া যায়। বিদেশ সম্পর্কে আরেকটা তীব্র ধারণা ছিল, বিদেশীরা সব সাদা। কালোরাও যে বিদেশী হতে পারে সে ধারণা করার মতো চিন্তার মতা তখন ছিল না।
নানা কারণে আমাদের কাছে বিদেশ খুবই গুরুত্বপূর্ন। বিদেশে আত্মীয়স্বজন থাকার সূত্রে। বিদেশে দেশের ভাবমূর্তির ক্ষেত্রে। অথবা দেশের ওপর বিদেশীদের নাক গলানোর জন্যও। যেহেতু লেখাটা সাধারণ আম-লেখা টাইপ লেখা তাই বিদেশে দেশের ভাবমূর্তি বা বিদেশীদের নাকগলানোর বিষয়টি বাদ দেয়াই যুক্তিযুক্ত।
আমরা বরং বিদেশের আত্মীয়স্বজন পাড়া প্রতিবেশি নিয়ে কথা বলি। বিদেশে আত্মীয়স্বজন সবকিছুতেই একটা গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে থাকে। দেশে থাকতে যার হাজার হাজার কথার মাঝে দুয়েকটা কথা কেউ গুরুত্ব দিতনা, সে বিদেশ থেকে এক রাউন্ড দিয়ে এলেই তার সূচক হতো ঊর্ধ্বমুখী। সেই শেষ সিদ্ধান্তদাতা হয়ে আবির্ভূত হয়ে যায়।
যার অবস্থা বিদেশে যাওয়ার আগে এমন ছিল-
চাচা : ভাবছি আমাদের উত্তর দিকের জমিটা বিক্রি করে দেব।
ভাতিজা : না চাচা এটা এখন বিক্রি না করে আর দুয়েকবছর সময় নেয়া উচিত। আমার ধারণা জায়গার দাম দ্বিগুণ হবে।
চাচা : তোমাকে মাতব্বরী ফলাতে হবে না। কী করতে হবে আমরা ভালোই বুঝি।
বিদেশ থেকে ফেরার পর-
চাচা : ভাবছি আমাদের উত্তর দিকের জমিটা বিক্রি করে দেব।
ভাতিজা : না চাচা এটা এখন বিক্রি না করে আরও দুয়েকবছর সময় নেয়া উচিত।
চাচা : ভাতিজা তুমিতো একটা লাখ টাকার কথা কইছো। এমন কইরা আসলে ভাইবা দেখি নাই। কথাটা কিন্তু আসলেও ঠিক। দেশে যে হারে জামিজমার দাম বাড়ছে দ্বিগুণ হতে কতণ? আসলে তোমার মতো করে ভাবতে পারি নাই।
বিদেশ থাকা মানুষের কথার দাম যেমন বেশি, মানুষটার দামও কিন্তু কম না। যদি সে অবিবাহিত হয় তাহলে তো কথাই নেই। বিদেশ ফেরত পাত্ররা ভরি হিসেবে বিবেচনা করলেও স্বর্ণের দামের থেকে দেড় দুইগুণ হবে। যে কারণে মেয়ের বাড়ি থেকে সেসব পুষিয়ে নিতে হয় পাল্টা স্বর্ণ গহনা দিয়ে।
বিদেশ ফেরত নিজের আত্মীয়স্বজন যতই মধুর হোক না কেন, বিদেশ ফেরত পাড়া প্রতিবেশি ব্যাপক পেইন। একবছর পর দেশে আসলেও এমন একটাভাব নেয় যে পনের বিশ বছর পর দেশে এসেছে তারা। যা কিছু দেখে বলে ওঠে, এটা তো দেখিনি কবে করল? যাওয়ার আগে এলাকায় মাঠ দেখে গেলেও এসে ভাব নেবে, ওওও! এইখানে না পুকুর ছিল? এইখানে না জঙ্গল দেখে গেছি।
আর মানুষের সঙ্গে দেখা হলে প্রথম কাজ হিসেবে যা করবে তা হলো, অবশ্যই তার নাম ভুল করবে। আরে আপনে রনি ভাই না?
দেখা গেল আসলে তার নাম রবিন।
আর ছোটদের দেখলেই ব্যাপক স্নেহাশিষভাব নিয়ে গালে ধরে নাড়াচাড়া দিয়ে বলবে, ওরে বড় হয়ে গেছো? কত ছোট দেখে গেছি।
আসলে আগের মতই আছে। একবছরে বাচ্চাকাচ্চা আর কত বড় হয়!
বিদেশ ফেরতদের নিয়ে আমাদের অনেক কষ্ট স্বীকার করতে হয়। সম্প্রতি আমার এক বিদেশ ফেরত বোন এসেছে। তার ছেলেকে নিয়ে চলছে মহাযন্ত্রনাকর পরিস্থিতি। দুই বছরের সে ছেলে হাঁটলে তার পেছনে থাকতে হয় তিনজন। একঘর থেকে আরেক ঘরে গেলে তার মা চেচিয়ে ওঠে। বাবুটা হারিয়ে গেল নাকি!
ঘুমালে সার্বণিক একজনকে পাশে থাকতে হয়। ভাবখানা এমন সে যাতে ঘুমের ঘোরে কোন ধরনের দুঃস্বপ্ন না দেখতে পারে। একটু নড়ে ওঠলেই টেনশনে থাকতে হয়, কি হল মশা কামড়ালো নাকি?
অথচ দেশী পোলাপানরে বাঘে কামড়ালেও এত টেনশন হয় তো করত না কেউ।
এ এক মহাযন্ত্রণা। ফিল্টারের পানিকে ফুটিয়ে খাওয়াতে হয়। ঝকঝকে ভাত, ননফ্যাট তরকারি আর বলতে গেলে মিনারেল ডালের আয়োজন রাখতে হয় খাওয়াতে। না হলে সহ্য করতে হয় কঠিন কথা, দেশের কোন কিছুই হল না সবকিছুতেই ভেজাল। অথচ 'মেরিকাতে এমন হলে...।
যাই হোক, বিদেশীদের নিয়ে কথা কম বলি। নূন্যতম কৃতজ্ঞতাবোধ থাকলে তাদের সম্পর্কে কিছু বলা উচিত নয়। কারণ বিদেশ থেকে কেউ আসলে আর কিছু না হোক একটা 'ডব' সাবান পাওয়া যায়।
আলোচিত ব্লগ
পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন
“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন
বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার
বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?
কর্মসংস্থান? না।
বিনিয়োগ? না।
ডলার সংকট? না।
গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।
ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।
সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন
আমাদের গ্রামের গল্প!

আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন
পণ্ডশ্রম

এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,
চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।
কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,
আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।
দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।