somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ইনটুইশন কি একেলা হিমুর দখলে? এটা কিছুতেই মানিয়া নেওয়া যায়না....

১৬ ই এপ্রিল, ২০১১ রাত ১:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ইনটুইশন হইতেসে, লজিকাল ভাবে স্টেপ বাই স্টেপ চিন্তা না করিয়া এক লাফে এ থেকে যেড এ যাইবার মত করিয়া কোন বিষয়ে সত্য বা সত্যের কাছাকাছি সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া।

আমার ব্যক্তিগত মত, ইনটুইশন হইল পাচটি সেন্স হইতে আহুত তথ্যের ষষ্ঠ সেন্স, যাহাকে আমি জ্ঞান এবং বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সক্ষমতা বলিব, দ্বারা বিশ্লেষন করিয়া সিদ্ধান্তে উপনীত হইবার ক্ষমতা।

আমাদের অনেকরই এই ক্ষমতা টুকটাক আছে। সবাই হয়ত এক লাফে এ থেকে যেড এ পৌছাইতে পারে না। তবে অনেককেই এক লম্ফে এ থেকে সি বা ডি কিংবা ই তে পৌছাইতে দেখা গেছে দৈনন্দিন জীবনে।

আমরা প্রতিনিয়ত এই সক্ষমতার ব্যবহার করি না বুঝিয়াই। হয়ত কোন বিষয়ে হয়ত না দেখিয়াই বলিয়া দিলাম এইখানে কি হইতে পারে। তাহার পরে বিশ্বয়জনকভাবে তা ঘটিলে আমরা অবাক হইয়া যাই।

বাল্যকালে আমার এক জ্ঞানী বন্ধু একটা তত্ব্য প্রদান করিয়াছিল আমাকে। তার তত্বের মুল কথা হইল, কোন বিষয়ে সাম্ভাব্য সকল তথ্য জানা থাকিলে সেই বিষয়ের ভবিষ্যত গন্তব্য বলা অসম্ভব কিছু না।

এই বিষয়টা বাস্তবিক প্রয়োগ করিয়া থাকেন স্টক মার্কেটের ব্রোকাররা। তাহারা সাম্ভাব্য সকল তথ্য বিশ্লেষন পুর্বক পরের দিনের বা পরের সপ্তাহের বাজার হিসাব করিয়া সেই মতে টাকা বিনিয়োগ করিয়া থাকেন। তবে আমরা দেখিতেই পাই, সবাই কাজটা ঠিকভাবে করিতে পারেন না। অল্প কযেকজনই শেয়ার বাজারের অস্থিতিশীল অবস্থার মধ্যে একটি বা দুটি মৌলিক প্যটার্ন দেখিতে পান এবং এর উপরে নির্ভর করিয়াই তাহারা বাজারের ভবিষ্যত ধারনা করিয়া টাকা বিনিয়োগ করিয়া কোটিপতি হইয়া থাকেন।

সুতরাং তত্ব্য বলে, কেহ যদি একটি দেশের সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং আরও কিছু মৌলিক বিষয়ে সাম্ভাব্য সকল রকম জ্ঞান অর্জন করে এবং সব খবরের তাৎক্ষনিক আপডেট তাহাকে জানাইবার উপায় করিয়া দেয়া যায় এবং সেগলোকে বিশ্লেষন করিবার সময় সে পায়, তাহা হ্ইলে সে পুর্বের তথ্য প্যটার্ন এবং নতুন তথ্য বিশ্লেষন করিয়া সেই দেশের শেয়ার বাজারের উঠানামা সবই প্রেডিক্ট করিতে পারিবে এবং অতি শীঘ্রই সে বিল গেটস হইতেও বড় ধনী ব্যক্তিতে পরিনত হইবে।

বান্তব কথা হইল, আমাদের মস্তিস্ক আমাদের আশেপাশের সবই লক্ষ করে। আমরা যখন কাহারও সাথে কথা বলিতেছি, তখনও আমরা অনেক কিছু লক্ষ করিতেছি। কলেজে পড়িবার সময় যেটুকু মনোবিজ্ঞান পড়িয়াছিলাম এবং যেটুকু নিজের কৌতুহল হইতে শিখিয়াছিলাম, তাহাতে জানি, আমাদের মস্তিস্ক কোন কিছুই ভুলিয়া যায় না। আমাদের মস্তিস্কের প্রাথমিক মেমোরী এবং সেকেন্ডারী মেমোরী তুলনামুলক কম হইবার কারনে অনেক স্মৃতি এবং তথ্য রিমোভেবল মিডিয়াতে ব্যাকআপ দিবার মত করিয়া অনেক গভীরে আর্কাইভ করিয়া রাখা হয়। জরুরী প্রয়োজনে এবং সঠিক প্রনোদনা পাইলে সব স্মৃতিই ফিরিয়া পাওয়া সম্ভব।

তাহা হইলে, আমরা চিন্তা করিতেছিলাম ইনটুইশন নিয়া। আমার ব্যক্তিগত মত ছিল, আমরা পাচটি ইন্দ্রিয় হইতে যে তথ্যলাভ করি, আমাদের জ্ঞান এবং বুদ্ধিমত্তা সক্ষমতা দ্বারা তাহাকে বিশ্লেষন করিয়া কোন যুক্তিগ্রাহ্য কারন ছাড়াই যে সঠিক বা প্রায় সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হই, তাহাই ইনটুইশন।

আরেক অর্থে ইনটুইশন হইল কোন বিষয়ে সাধারনদৃষ্টিতে পর্যাপ্ত তথ্য না জানিয়া সঠিক বা প্রায় সঠিক সিদ্ধান্তে পৌছান।

কে এ থেখে যেড এ পৌছাবে, আর কে এ থেকে ডি কিংবা ই পর্যন্ত পৌছাবে, সেইটা নির্ভর করে তাহার সচেতন চর্চা এবং জন্মগত বৈশিষ্ট এর উপরে। অনেকে কোনরকম চর্চা না করিয়াই অনেক কিছু পারেন। তাহারা ন্যাচারাল প্রতিভা। কেহ দীর্ঘদিনের চর্চার মাধ্যমে এই বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করেন।

ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বলে, সব ঘটনার একটা প্যাটার্ন আছে। সব ঘটনা ছোট ছোট মৌলিক কার্য-কারন এর সমষ্টি। আবার বড় ঘটনা অনেকগুলি ছোট ঘটনার সমষ্টি। একটা প্রবাদ আছে, হিস্টরি রিপিটস ইটসেলফ। সব ঘটনাই বার বার করিয়া ঘটে। এই ঘটনাগুলির মধ্যের মৌলিক নিয়মগুলি পর্যবেক্ষন এর মাধ্যমে আবিস্কার করা গেলে সেই ঘটনাগুলি ঘটিবার পুর্বেই তাহার সাম্ভাব্য প্রেডিকশন করা সম্ভব।

ঠিকমত চর্চা করিলে, ঘটনার মধ্যে প্যটার্ন খুজিবার অভ্যাস করিতে পারিলে অনেক বিষয়ে আগে হইতেই অনুধাবন করা সম্ভব হইতে পারে। প্রত্যেকটি ঘটনার একটি কার্যকারন থাকে। আবার কার্যকারন এর পিছনে আরেকটা ঘটনা থাকে। সুতরাং ছোটবড় ঘটনা এবং তাহাদের কার্যকারন খুজিবার অভ্যাস করিতে পারিলে অতি সত্বর হিমুর মত কান্ড কারখানা সম্পন্য করা যাইতে পারে। একটা কথা না বলিলেই নয়, হিমু কিন্তু ম্যানুফ্যাকচার করা প্রডাক্ট। তাহার বাবার স্কুল হইতে পাস করা। সুতরাং চেষ্টা করিলে তাহার মত কান্ড কারখানা আয়ত্ব করা অসম্ভব নয়।

অনেকে এইবারে বলিবেন, অনেক আশ্চর্যজনক ঘটনার কথা তো শুনা যায়, যেগুলা এই যুক্তি দিয়া বুঝা যায় না, সেগুলার ব্যখ্যা কি?

এইখানে সেই পুরাতন ডায়ালগ ঝাড়িব আমি।

আমরা মানব মস্তিস্কের কতটুকুই বা জানি!!!

তবে এটুকু বলিয়া দেয়া যায় নিঃশঙ্কচে, সচেতন ভাবে চর্চা করিলে এবং চোখকান-দিল খোলা রাখিয়া নিজের অর্ন্তজ্ঞান এর উপরে ভরসা করিয়া চেষ্টা করিরে এই বিষয়ে যথেষ্ট দক্ষতা অর্জন করিবার সম্ভাবনা আছে।

ইনটুইশন কি একলা হিমুর দখলে?

কেউ থাকিবে পাচতলায়
কেউ থাকিবে গাছতলায়...

তাহা তো মানিয়া নেওয়া যায়না।



(এই লেখাটি একটু ফানি ভাবে লেখলেও ব্যপারগুলো আমি বিশ্বাস করি। আপনাদের মতামত জানান।)
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই এপ্রিল, ২০১১ সন্ধ্যা ৭:৪৯
৭টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

লিখেছেন নতুন নকিব, ১১ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০৩

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মানুষের জীবন মূলত অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সমষ্টি। প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি মোড়ে আমাদের কোনো না কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

লিখেছেন আঘাত প্রাপ্ত একজন, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

[সম্ভাবনার ক্রমানুসারে নয়ঃ]

আর্জেন্টিনা: আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ তার ডিফেন্স আর ইনজুরি । ৩৮ বছরের তরুণ(!) সেন্টারব্যাক ওতামেন্দি আর কমপক্ষে এক হালি হাফ-ফিট ফুটবলার নিয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×