দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের রিপোর্ট করায় রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম আকাশের নামে রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ঠিকাদার মাহফুজুল আলম লোটনের দায়ের করা মামলার ওপর জরুরি ক্ষমতা বিধিমালার প্রয়োগ আরও তিন মাসের জন্য স্থগিত হয়েছে। হাইকোর্টের বিচারপতি মো. ইমান আলী ও বিচারপতি এ এফ এম আবদুর রহমান সমন্বয়ে গঠিত একটি বেঞ্চ গত ৬ এপ্রিল, ২০০৮ এ আদেশ দেন। সাংবাদিক আকাশের পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসেন।
গত ২০ জুন রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) এর বোয়ালিয়া মডেল থানায় একটি অভিযোগ দেন। অভিযোগটি পুলিশ জিডি হিসেবে এন্ট্রি করে (জিডি নং-১১৬০, তারিখ-২০/৬/২০০৭)। পরবর্তীতে জিডির হুবহু বক্তব্য নতুন করে টাইপ করে ৬ সেপ্টেম্বর একই অভিযোগ দাখিল করা হয় বোয়ালিয়া থানাতেই। যে অভিযোগটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করে পুলিশ (মামলা নং-২, তারিখ-২/১০/২০০৭, ধারা-৩৮৫/৩৮৬ দ.বি.)। ১৬ অক্টোবর সাংবাদিক আকাশ হাইকোর্টের বিচারপতি এ এফ এম আবদুর রহমান এর সমন্বয়ে গঠিত অবকাশকালীন একক বেঞ্চে জামিনের আবেদন জানান। এরই প্রেক্ষিতে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ আকাশকে অন্তবর্তীকালীন আগাম জামিন মঞ্জুর করেন। ২৩ অক্টোবর দিবাগত রাতে আকাশকে তার বাসা থেকে গ্রেফতার করে নির্যাতন চালায় র্যাব-৫ এর কতিপয় সদস্য। ২৪ অক্টোবর সন্ধ্যায় তাকে জরুরি ক্ষমতা বিধিমালার ১৬(২) ধারায় আদালতে চালান দেয়া হয়। আদালত আকাশকে জেলহাজতে পাঠায়। ১৯ নভেম্বর আকাশ জামিনে মুক্তি লাভ করেন। ২৫ নভেম্বর, ২০০৭ এ মামলাটিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় জনগুরুত্বপূর্ণ মামলা হিসেবে জরুরি ক্ষমতা বিধিমালায় অন্তর্ভুক্ত করে। মন্ত্রনালয়ের এ সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে সাংবাদিক আকাশ হাইকোর্টে রিট করেন। বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক ও বিচারপতি এম এ আউয়াল সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বেঞ্চ গত ২ জানুয়ারি জরুরি ক্ষমতা বিধিমালার প্রয়োগকে তিন মাসের জন্য স্থগিত এবং একইসঙ্গে সরকারের প্রতি রুলনিশি জারী করা হয়। এই আদেশের পর অ্যাডভোকেটের সনদপত্র দাখিল করা হয় রাজশাহী জেলা ও দায়রা জজ আদালতে। ৭ জানুয়ারি জেলা ও দায়রা জজ এ আর মাছউদ আকাশের জামিন বাতিল করে দিয়ে তার নামে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করেন। ১৪ জানুয়ারি হাইকোর্টের আদেশের জাবেদা নকল কপি আদালতে দাখিল করা হলে জেলা ও দায়রা জজ মামলাটির কার্যক্রম আগামী ১২ এপ্রিল পর্যন্ত স্থগিত করেন। তবে গ্রেফতারী পরোয়ানা রিকল করেননি। পরবর্তীতে সাংবাদিক আকাশ বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা ও বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বেঞ্চে জামিনের আবেদন জানান। এরই প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ তিন মাসের জন্য জামিন মঞ্জুর করেন। গত ৩১ মার্চ বিচারপতি শরিফউদ্দিন চাকলাদারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বেঞ্চে জরুরি বিধিমালা প্রয়োগের স্থগিতাদেশ আগামী গতকাল ৬ এপ্রিল পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়। গত ৬ এপ্রিল বিচারপতি মো. ইমান আলী ও বিচারপতি এ এফ এম আবদুর রহমান সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ এ মামলায় জরুরি ক্ষমতা বিধিমালার প্রয়োগের ওপর আরও তিন মাসের জন্য অর্থাৎ আগামী ৬ জুলাই পর্যন্ত স্থগিতাদেশ বর্ধিত করেন। হাইকোর্টের বিচারপতি মো. ইমান আলী ও মো. এমদাদুল হক সমন্বয়ে গঠিত একটি বেঞ্চ গত ১ জুলাই, ২০০৮ তারিখে সাংবাদিক আকাশের বিরুদ্ধে করা লোটনের মামলায় জরুরি বিধিমালা প্রয়োগের ওপর স্থগিতাদেশ এর মেয়াদ আগামি ৬ আগষ্ট পর্যন্ত বর্ধিত করেন। একই সময় পর্যন্ত সাংবাদিক আকাশের জামিনও মঞ্জুর করে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ।
উল্লেখ্য, সন্ত্রাস, দুর্নীতি, হত্যাকান্ড, নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে দৈনিক সংবাদ, সিএসবি নিউজ ও রেডিও জার্মান ডয়েচেভেলেতে রিপোর্ট করায় হত্যা-জালিয়াতি-দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির অভিযোগে অভিযুক্ত তিন ব্যক্তি সাংবাদিক আকাশের নামে চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে তিনটি মামলা করেন। সব’কটি মামলায় সাংবাদিক আকাশ জামিনে আছেন।
দ্বিতীয় মামলা :
সাংবাদিক আকাশের নামে ২০০৭ সালের ২৩ অক্টোবর রাতে পুঠিয়া থানায় এই চাঁদাবাজির মামলা করেন অভিযুক্ত ধর্ষকের পিতা ও ধর্ষণ ভিকটিমের পিতাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করার অভিযোগে অভিযুক্ত বিএনপি সমর্থক আবদুল জলিল। পুঠিয়া থানার মামলা নং ১৩, তারিখ-২৩/১০/২০০৭, ধারা-৩৮৫/৩৮৭/৫০৬ দ.বি., জিআর নং-২৫১/২০০৭ (পুঠিয়া)। এ মামলায় আকাশ ১৮ নভেম্বর, ২০০৭ তারিখে জামিন পান। পরদিন ১৯ নভেম্বর আকাশ দীর্ঘ ২৮ দিন কারাভোগের পর রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি লাভ করেন। এই মামলার চার্জ গঠনের দিন ধার্য্য রয়েছে আগামি ১২ মে, ২০০৮। ১২ মে চার্জ গঠনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। তবে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হক ২৫ মে, ২০০৮ তারিখে আদেশ প্রদান করার জন্য দিন ধার্য্য করেন। ওইদিন তা পুননির্ধারণ করে তিনি আদেশ প্রদানের পরবর্তী দিন ধার্য্য করেন ৮ জুলাই, ২০০৮ তারিখে।
তৃতীয় মামলা :
সাংবাদিক আকাশের নামে এই মামলাটি করেন পুঠিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও পুঠিয়া পৌরসভার সাবেক প্রশাসক আবদুল লতিফ বিশ্বাস। পুঠিয়া থানার মামলা নং-২৮, তারিখ-২৫/১১/২০০৭, ধারা-৩৮৫/৫০৬ দ.বি.। এই মামলায় পুলিশ চূড়ান্ত রিপোর্ট (এফআরটি) দেয়। যা আদালত গত ৮ জানুয়ারি, ২০০৮ গ্রহণ করে। কিন্তু পরবর্তীতে ৩ ফেব্র“য়ারি, ২০০৮ ও ১৯ মার্চ, ২০০৮ এই দুটি তারিখ অতিক্রান্ত হলেও আদালত এফআরটি গ্রহণ কিংবা বর্জন কোনটাই করেনি। পরবর্তী তারিখ ধার্য্য করা হয়েছে ১৯ জুন, ২০০৮। ১৯ জুন, ২০০৮ রাজশাহীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হক এই মামলার অভিযোগ থেকে সাংবাদিক আকাশকে অব্যাহতি দেন। তবে মিথ্যা অভিযোগে দায়েরকারী মামলার বাদির বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের জন্য পুলিশের আবেদন না-মঞ্জর করেন তিনি।
এর আগে জরুরি ক্ষমতা বিধিমালার ১৬ (২) ধারার মামলা থেকে আকাশ অব্যাহতি পান গত বছরের ৮ নভেম্বর।
জাহাঙ্গীর আলম আকাশ
সি-৩৬১ শিরইল
রাজশাহী –৬১০০
০১৭২০০৮৪৯৪৪।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই জুলাই, ২০০৮ সকাল ১১:৫৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




