সাঈফ
বই মেলার ভেতরে চক্কর কাটছি।
কোন খচচর (বন্ধুরা) এখনও আসেনি।
বস্তুতঃ আজ এসেছি বইয়ের কাটতি দেখতে, এবারই প্রথম বই বেরুলো তো, নামটাও হয়েছে জোশ, যজ্ঞানলে আত্তাহুতি, (আমার তো মনে হয় কোন কবিই এরকম নাম দিতে পারবেনা)। একটা বই বিক্রীও হয়েছে। গতকাল (মেলার দ্বিতীয় দিন) গুণদা কে এক কপি দিয়েছি। 'নামটা ভালো হয়েছে' বলেই ঝোলায় গেল বইটা। তিলে খচ্চর একটা; মনে মনে বলি। ওদিকে দেখছি আবার বকর স্যার এসেছেন। কলেজের বাংলা শিক্ষক এবং প্রখ্যাত 'বুড়ো কবি'। এগিয়ে গেলাম।
> আসসালাম স্যার!
> ওয়াইলাইকুম ফারুখ! (লোকটা আমাকে সাইফল্লাহে ফারুক নামেই ডাকে। মন ভালো থাকলে ডাকে ফারুখ। কোনটাই সঠিক নয়) কী ব্যাপার বাঁবু কেমন আছো?
> জ্বী স্যার, ভালো স্যার। (শালার তোরে দেখলাম, বুঝস না কেমন আছি!?)
> তোমার বইটা পড়েছি। নামটা তো বেশ দিয়েছো। তবে কী জানো, লেখা পারলেই হয় না, আরো কিছু লাগে। আর সবচেয়ে লক্ষণীয় হলো। ----------(চুপ থাক শালা)। এই এক জ্বালা বুড়ো খোকাদের নিয়ে, উফ বাইচা গেছি মামা। পাপ্পু আসছে।
> স্যার আজ আমি তবে আসি?
> নিশ্চয় নিশ্চয়, তবে লেখা লিখে যাও। কী জানো, ওহ in the year of১৯৪৫, আমি আর মানিক যাচিছলাম ... ...
> স্যার খোদা হাফেজ। প্রায় দৌড় পাপ্পুর কাছে গেলাম। পাপ্পু বললো :
> দোস্ আর বলিসনে, হঠাৎ দেখা হয়ে গেল নাফিসার সাথে (পাপ্পুর হবু)। তারপর হেঃ হেঃ বুঝিস-ই তো!
> ................. (বলার অযোগ্য ) নিয়ে কোথায় ........... (বলার অযোগ্য)।
> দেখ, তুই হচ্ছিস গিয়ে যাকে বলে সাহিত্যিক। তা তোর উচিৎ একটু ভিন্ন কিছু বলা, আর (বলার অযোগ্য), কৃষ্ণ করে তো লীলাখেলা, আমি করি তো ক্যারেক্টর ঢিলা!
> তবে রে আকাশের লাউ..............
> শোন, আজ সম্রাট ভাইয়ের ওখানে আড্ডা হবে। যাবি?
> কেন নয়?
আমরা দু'জনে রওনা হলাম সম্রাট ভাইয়ের হলে। হল মানে একরুমের এক বাড়ি। উত্তরায়। কোন এক প্রসঙ্গ জানি দেখা হয়েছিল আমাদের মধ্যে। এখন অবশ্য প্রায়ই আড্ডা মারি। বিভিন্ন জনেরা মিলে এক হই। অবশ্যই সাথে কিছু চাট-লিকার থাকে। এদিকে পাপ্পু রসিয়ে রসিয়ে বলছে সারাদিন কী করেছে। ইচেছ হচেছ, লাথি মেরে রিকশা থেকে ফেলে দিই। কিন্তু বলতে শুরু করলামঃ জানিস একবার মহর্ষি আরনি শ্বেতকেতুকে বলেছিলেন, ত্বং হোবাচ ... ...।
সম্রাটের ঘরে ঢুকতেই মনে হলো মিলন মেলা। সুমিত, রজনীকান্ত, সিমন, ফুয়াদ, তানিয়া আর শর্মিলী বসে আছে। নতুন কুটুম এসেছে দেখছি, একদম ভেরনের মত দেখতে! চান্দিছিলা, ফ্রেন্চকাট আর হাফপ্যান্ট-স্লিভলেস পরে বসে আছে। একটু পরে দেখলাম তায়েফ আর রেনি আসলো। ওরা আবার ভেরনের সাথে ভালো খাতির জমিয়েছে। আমার সাথে পরিচয় হলো, মেহেদী নাম-কী বিসদৃশ! ওদিকে ফুয়াদ, সম্রাট রজনী কার্ডে বসলো। আমিও বসলাম। কিন্তু আজ ঠিক মন নেই। হঠাৎ দেখলাম সুমিত আর রেনি নেই। দু'জনের জুড়ি ভালোই জমেছে দেকচি! ভেরন গাঁজা টানছে। হঠাৎ সিমনের সঙ্গে দেখি ওর কথা কাটাকাটি হচ্ছে। এদিকে ফুয়াদ শর্মিলীর কোলে মাথা রেখে কি বিড়বিড় করছে; বিসদৃশ্।
> এই ফুয়াদ, এক সাথে কটা সাইকেল চালাচিছস? সিমন হঠাৎ জিজ্ঞেস করলো।
> তাতে তোর কী রে শ্বশুরের পোলা।
> জানিস-ই তো, এক সাথে দু‘টো চালাতে গেলে পা ভাঙ্গে।
হঠাৎ তানিয়া ফোঁস করে উঠলো, এতো জেলাস্ হোস নে, পরে তো ঠিকই পাবি।
> তোদের পেলেই বা নেয় কে? সবাই হাসলো। ফুয়াদ উঠে বসেই একটা লাথি দিলো সিমনকে। বেচারার পাটা বোধ হয় মচকেই গেলো। তখনই সম্রাট বললো:
> শো।
আমি একটু অবাক, চার তাশেই শো? আমি তাশ ওল্টালাম-টেক্কার পেয়ার, সম্রাটের কিছুই না, স্রেফ বিবি টপ।
> তুমি বস্! কী হইলো?
> ও কিছু না, হঠাৎ হঠাৎ এরকম হয়। আজ আর খেলতে ইচ্ছে হচ্ছে না। পাপ্পু, তুই আর তায়েফ মেয়ে দু'টোকে বাসায় দিয়ে আয়। তার পর শুরু হবে আজকের রাত।
রাত প্রায় সাড়ে তিনটা
পাপ্পু গান গাচ্ছে। নদীর ঠিক মাঝখানে নৌকায় আমরা। চারদিকে অর্ধচন্দ্রের ঝাপসা আলো। সম্রাট গীটার বাজাচেছ, সিমন, ফুয়াদ, তায়েফ আর সুমিত বসে বসে তাল দিচেছ। সিমনটা একটু বেশীই টাল মনে হয়। তারপরও অদ্ভুত লাগছে, অদ্ভুত সুন্দর, অসাধারন! হঠাৎই ফুয়াদ পানিতে পড়ে গেল। সবাই হই হই করে তুলতে লাগলো ওকে, আমি আধ খাওয়া চাদের আলো দেখতে থাকলাম। হঠাৎ একফোটা পানি চোখ বেয়ে পড়লো।
> পৃথিবীটা সত্যিই খাসা; অস্ফুট গলায় বললাম।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



