somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মানুষ আর মাদক

১৪ ই জুলাই, ২০০৮ দুপুর ১:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



প্রথমআলোর এই খবরটা পড়ে Click This Link অনেক খারাপ লাগছিলো, অনেক। দু’টা অবুঝ বাচ্চার বাজে ধরনের মৃত্যু, কি নিদারুন কষ্ট পেয়েছে ওরা। কথাপ্রসঙ্গে ঐ এলাকার কাছে থাকা একজন জানালো পত্রিকায় যা এসেছে তার চেয়ে আরো আরো বিভৎষ ছিলো ওদের লাশ। তিলে তিলে কষ্ট দিয়ে মেরেও মৃতদেহগুলোকেও আশ্চর্য প্রতিহিংসার শিকার করে কেটেকুটে একসার করেছিলো হত্যাকারী মানুষদু’জন। কথাটা যে জানিয়েছে সে নিজে দেখেনি শোনা কথা, কানকথা। কানকথায় যে কখনোই বিশ্বাস করিনি তা নয়, কিন্তু এই কানকথাটা সত্যি হলেও বিশ্বাস করতে চাই না। বিশ্বাস করতে চাই না, যে শুধুমাত্র বিকৃত আনন্দের জন্যেই অবুঝ শিশুদু’টি বলি হলো।

মন আর হুশ’এর অধিকারী মানুষ, তার আনন্দ কেন বিকৃত হবে? আর বিকৃত কোন কিছুই আনন্দের বিষয়বস্তু হওয়ার যোগ্য? যখন হয়, তাতে মন আর হুশ কিছুর’ই উপস্হিতি থাকেনা।

কেউ কেউ বলছে - “আরে, কশাই বলেই পেরেছে ওমন জঘন্যভাবে কাজ করতে”। কিন্তু সব কশাই কি ওমন জঘন্য মানসিকতার? অবশ্যই না। লক্ষনীয় বিষয় এটাই যে হত্যাকারী লোকগুলি মাদকসক্ত ছিলো, ঘটনারকাল ছিলো তাদের মাদক নেবার সময়।

মাদক যা মানুষের স্বত্তাটাকেই বিনষ্ট করে দেয়। কোথাকার মানুষকে কোথায় নামায়। আমরা জানি, পাপকে ঘৃনা করুন পাপী নয়। তেমনি বলা হচ্ছে মাদককে দূরে রাখুন, মাদকাসক্তকে সারিয়ে তুলুন ভালবাসা দিয়ে, পরিচর্যা দিয়ে। বলা সহজ কিন্তু যারা তেমন কারো সাথে প্রতিনিয়ত থাকছে ওমন কারো অবস্হা আমরা বুঝবো না। শারীরিক কষ্ট কি ভীষন তুচ্ছ হয়ে মানসিক আতংকটাই প্রকট হয়ে উঠে তাদের কাছে।

৪/৫ বছর আগে ভালোবেসে মাদকাসক্ত জেনেও বাড়ির অমতে বিয়ে করেছিলো ছেলেটিকে। মেয়েটা ভেবেছিলো, ওদের গানের প্রতি, একের প্রতি অপরের ভালোবাসা সব ঠিক করে ফেলবে, নেশার অতল আহবানের আর কিইবা জোর। সময় গড়ায়, লেখাপড়া শেষ হতে মেয়েটা নামলো চাকরির পথে আর ছেলেটা নামলো মাদকাসক্তির আরো আরো গভীরে। ব্যান্ডের যে ক্যারিয়ার ছিলো তাও নেশার টানে নষ্টের পথের, পূর্নবাসন কেন্দ্রে যায় কিছুদিন ভালো থাকে, তবে আবার যেই কে সেই। ফ্যামিলি থেকে দূরে, করো সাহায্য ছাড়াই ছেলেটাকে ভালো করে তোলার চেষ্টায় পথচলা মেয়েটার। মেয়েরা টাকা জমায় শখের জিনিষ কেনার জন্য আর ও জমায় স্বামীকে আরো উন্নত কোন পূর্নবাসনকেন্দ্রে পাঠানোর ইচ্ছাপূরনের জন্যে।
কিন্তু আর পারছেনা ও। শারীরিক কষ্টগুলো নিজের নিয়তি মেনেছে ও, ওকে কষ্ট দেবার সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি ছেলেটার নির্বিকারভাবে ব্লেড দিয়ে নিজের গা ফালাফালা করে ফেলা আর এসব মোকাবেলা করার মতো মন কিবা সার্মথ্য দু’টোই হারিয়েছে মেয়েটা। গতমাসে আলমারির কাপড়ের ভাজেঁ লুকানো চেকবইটার ৩টা পাতা খোয়া যাওয়া দেখেই বুকটা ছ্যাতঁ করে উঠেছে ওর। ব্যাংকে খোজঁ নিতেই জানলো, ও কপর্দকশূন্য। কয়েকধাপে তোলা হয়েছে টাকাগুলো। ব্যাগে থাকা ক’টা টাকা আর এমাসের আসন্ন বেতন ওর সম্বল।


সব মানুষের পরম শান্তির আধার মা। সেই “মা”শব্দটা দিয়ে শুরু হওয়া মাদকই হয়ে উঠে মারনাস্ত্র মানুষের জন্য।

সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই জুলাই, ২০০৮ দুপুর ১:৩৯
১৬টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×