somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

খেলা (গল্প)

১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ২:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



বিরামহীনভাবে একটার পর একটা এসএমএস এসেই যাচ্ছে।

-রাগ করেছো?
-অনেক রাগ? অনেক অনেক রাগ? অনেক অনেক অনেক রাগ?
-রিপ্লাই দেবে না?
-কথা বলবে না?
-একটুও না?
-যদি আদর করি?
-যদি অনেক অনেক অনেক আদর করি?

ধুরো! ন্যাকামির একশেষ। মেয়েগুলো বোঝেও না যে এসব আর আমার গায়ে লাগে না। নিত্যদিন কত কত মেয়ের কাছ থেকে এই জাতীয় কথা শুনি। শুনতে হয়। চাইলেও, না চাইলেও। এইসব মড়াকান্নার কে এত বেইল দেয় বাবা!

না, তাদের বক্তব্য হচ্ছে তেনারা আমাকে সত্যি ভালোবাসেন। এবং তাও অল্পস্বল্প নয়, খুবই বেশি পরিমাণে। (এদের দরকার ছিলো ভালোবাসার ছাল ছাড়িয়ে ডুগডুগি বানানো।)

-ট্রাস্ট মি, দিস ইজ রিয়াল লাভ!
-তোমাকে ছাড়া আর কাউকে নিয়ে এভাবে ভাবিনি কখনও।
-আর কেউ পারে না তোমার মত এত পাগল করতে।

সোনামণি, আমি কি তোমাকে আর কাউকে নিয়ে না ভাবার জন্য পায়ে ধরে সেধেছিলাম? আর কেউ তোমাকে আমার মত করে পাগল করতে পারে না সেটা আসলে কার সমস্যা? আমার, না তোমার? না অন্য আর দশটা ছেলের?

তোমরা যেমন এসেছো তেমনি আগেও আরো অনেকে এসেছিলো। তোমরা দু'দিন পরে ভেগে যাবে যেমন তারাও ভেগে গিয়েছিলো। কেউ নিজে ভেগেছে, আর কাউকে আমিই ভাগিয়েছি। দি আউটকাম ইজ দ্য সেম, ইউ গট মা পয়েন্ট???

ওসব ভালোবাসা ফালোবাসা এককালে ম্যালা দেখেছি। নিজেই তো ভুক্তভোগী। তোমরা এখন আমার মুখের একটা কথা একটু হাসির জন্য যেমন কাঙালপনা করো, ওরকম আমিও করতাম তার জন্য। লাভের লাভ কি হলো বাপু! সেই তো যে লাউ সেই কদু।

এরকম ছিলাম না আমি। এখন তোমরা আমাকে যেমন দেখছো। এরকম ছিলো সে। মানুষ বোধহয় কাপড়ও এভাবে পাল্টায় না যেভাবে সে প্রেমিক পাল্টাতো। কে জানতো অমন দিঘীর মত শান্ত চোখের আড়ালে এত ভয়াবহ লালসা লুকিয়ে ছিলো! কে জানতো অমন অদ্ভুত সরল হাসির পেছনে এত নোংরামি ঘাপটি মেরে ছিলো?

বুঝতে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিলো সেটা।

বোঝা শেষ হতে না হতেই দেখি আমিও হয়ে গেছি ওরকম। হাতে একসাথে চার পাঁচটা মেয়ে না থাকলে ভালোই লাগে না। অবশ্য যারা আমার হাতে থাকে তারাও যে সবাই আমার মতই তাও না। ভালো মেয়েরাও আছে সেখানে। তবে তাদের হ্যান্ডেল করা মহা ঝামেলার কাজ। দিন নেই রাত নেই শুধু ফ্যাঁচফ্যাঁচ। আরে বেটি এত সিরিয়াস হওয়ার কি আছে! বাকি মেয়েগুলোর দিকে একটু চেয়েই দ্যাখ! আমি যেমন তাদের লেজে খেলাই, তারাও আমাকে তেমনি আঙুলের ডগায় রাখে। তাদেরও প্রত্যেকের এরকম চার-পাঁচ-দশ-বিশ জন আছে। এই মেয়েগুলোকে নিয়ে সুবিধা হলো তাদের চোখের দিকে তাকিয়ে পঞ্চাশবার আই লাভ ইউ বললে তারাও ওই পঞ্চাশবারই উত্তর দেবে কিন্তু একবারও সিরিয়াস হবে না। আজ তোমার ভালো লাগছে, ভালো। কাল তোমার ভালো না লাগলে তাদের রাস্তা মাপার ফিতে ধরিয়ে দাও, তাতেও ভালো! কোথাও কোনও ঝঞ্ঝাট নেই। আরে এটাই তো চাই আমি। এটাই তো মজা! দিস ইজ জাস্ট আ পার্ট অভ দ্য গেম, রাইট?

তোমরা কেন এসেছো আমার কাছে? ডেকেছিলাম তোমাদেরকে আমি? কক্ষনো না! আমি সাধ করে ডাকি না কাউকে। যার আসার সে আসবে, যার যাবার সে যাবে! সর্বত্র আমার অবারিত দ্বার। বাসার ঠিকানা মেইল আইডি ফোন নাম্বার কিচ্ছু আমার লুকানোর নেই। চাইলেই নিতে পারো। চাইলেই দু'চারদিন ফষ্টিনষ্টি করতে পারো। তোমাদের খুব শখ ভালো রেস্তোঁরায় খাওয়ার, দামি ড্রেস কিংবা অর্নামেন্টস গিফট পাওয়ার, আর তা না হলেও আমার কোমর জড়িয়ে বাইকের পেছনে চড়ে নগর প্রদক্ষিণ করার। পয়সার অভাব আমার ছিলো না কখনোই, এসবে আপত্তি তো আরোই নয়। তো হোক! আরে মিয়া বিবি রাজি তো কেয়া করেগা কাজি?

চাইলে এরচেয়েও বেশি এগোতে পারো। অনেক অনেক বেশি। চাইলে সবটুকু। হারানোর কিচ্ছু নেই আমার! আসে তো অনেকেই। আমি জোর করি না কাউকে। আরে বাবা দোষ তো মনের, শরীরের তো দোষ হয় না কোনো! এখন মনের দোষকে কোনও ধর্তব্যের মধ্যে না নিলেই তো হলো, নাকি? ওসব ভালোবাসা টালোবাসা এখন বস্তাপচা পুরান মাল। ওগুলোর এখন মিউজিয়ামে দেখা মেলে। পুরনো জিনিস আঁকড়ে রাখার তো কোনও কারণ দেখি না। ইটস জাস্ট আ পাসটাইম নাও। দেবদাস হওয়ার কোনও ঠ্যাকা পড়েনি আমার!

কাঁদলে তুমি বোকামি করবে ময়নাপাখি। তোমার চোখে পানি দেখে গলে যাবো তেমন ভোদাই আমি আর নেই এখন। হাহা!

শালার মানুষের সময়জ্ঞান বলেও কিছু নেই। তোমাদের এখন এতদিন পর আসার কি দরকার ছিলো? প্রেমের পোঁটলা বেঁধে তোমরা তখন কোথায় ছিলে যখন আমি রাতের পর রাত ড্রাগের নেশায় কাটিয়েছি? সুইসাইড করার চেষ্টা করেছি কত হাজারবার। শরীরে এখনও দগদগে হয়ে আছে কত অজস্র চিহ্ন। লোকে বলে ব্যাটাছেলের নাকি কাঁদতে নেই। আরে কান্না পেলে ঠেকায় এরকম সাধ্যি আছে নাকি কারও, সে যত বড় ব্যাটাছেলেই হোক? হাজারবার চেয়েছি কেউ আসুক, আমার মাথাটা বুকে আঁকড়ে চোখের জল মুছিয়ে দিয়ে বলুক, "তোমার জন্য আমি তো আছি", সত্যিকারের ভালোবেসে! আমার কপালের চুলগুলো সরিয়ে দিক আলতো করে... কিংবা কামড়ে দিক আমার নাকটা। আবার আমার ভেতরে ভালোবাসার মাতামাতি হোক তাকে ঘিরে! কেউ তো একজন জয় করে নিক আমাকে! কেউ তো বুঝুক আমার বুকের ভেতরের সীমাহীন যন্ত্রণাটা। হতে কি পারে না এমন? কেউ কি নেই এমন? একজনও না? কোথাও না?

ইয়ার দোস্তরা হিংসে করে আমাকে। আমার এমন কি আছে যা ওদের নেই? ওরা কেন পারে না এভাবে দশজনকে নাকে দড়ি দিয়ে ঘোরাতে? আব্বে পারা না পারার প্রশ্ন আসছে কোথা থেকে? ওসব পুতুপুতু প্রেমের ডায়ালগ শুনে মরি না আর। আমি নির্বাসনে যাবো না, মাথাভরা জটাচুলে মুনিঋষি হবো না! অ্যাজ সিম্পল অ্যাজ দ্যাট! দু'চারটা ভ্যালেন্টাইনস ডে তে ওরকমই আরো দু'চারটা সুন্দরীকে বক্ষলগ্ন করে হাওয়া খাওয়া এমন কোনও বিগ ডিল না আমার জন্য। এরকম কত এলো গেলো, আরো কত আসবে যাবে!

কি দায় পড়েছে কারও মুখের দিকে চেয়ে থাকার?

কাজেই, খেলতে পারলে খেলো, না পারলে ফুটো!

সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই নভেম্বর, ২০১০ রাত ৮:৩৮
১২৬টি মন্তব্য ১২৫টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×