![]()
'রিপলিস বিলিভ ইট অর নট' কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে, এটা নিঃসন্দেহে এমন একটি বিষয়, যা তাদের নতুন সংস্করণের জন্য বিবেচনা করা যায়। একইভাবে বিষয়টি নিয়ে খোঁজ-খবর করছে গিনেস বুক অব রেকর্ডস কর্তৃপক্ষ। এত্ত কিছু পাঁচ বছর বয়সী বাংলাদেশি শিশু রূপকথাকে নিয়ে! বিস্ময় বালক রূপকথার কম্পিউটারে অসাধারণ দক্ষতার গল্প যেন রূপকথাকেও হার মানায়।
ছেলেটির নাম রূপকথা। বয়স মোটে পাঁচ। এই বয়সে সে যেসব কেরামতি দেখাচ্ছে তাতে অন্যদের চোখ কপালে উঠে যাচ্ছে। কম্পোজ তো ওর কাছে ডালভাত। ইন্টারনেট থেকে নিজেই নামিয়ে নেয় গেইমিং সফটওয়্যার, ইনস্টলও করে। এ বয়সে সে প্রোগ্রামিংও শিখে গেছে বললে বিশ্বাস করতে কষ্ট হলেও সত্য কম্পিউটারে ভালো জানাশোনা আছে_ এমন অনেকেই হার মানবেন রূপকথার কাছে। রূপকথারা ঢাকার গুলশানে থাকে। তাদের বাসায় গিয়ে দেখি কম্পিউটারে কম্পোজ করছে। কিবোর্ডে আঙুল চালাচ্ছে একদম পেশাদার কম্পোজিটরের মতো। একটু পরই সে ব্যস্ত হয়ে পড়ল গেমসে। ওয়াসিক ফারহান রূপকথার মা জানালেন, ঘুম থেকে উঠেই তাঁর ছেলে বসে পড়ে কম্পিউটারের সামনে। মধ্যরাত পর্যন্ত চলতে থাকে কম্পিউটার নিয়ে খেলা। রূপকথা ইতিমধ্যে ৭০০-এরও বেশি গেমস খেলে ফেলেছে বলে জানালেন তিনি! প্রিন্স অব পার্সিয়া, টার্মিনেটর থ্রি, হারকিউলিস, এয়ার কনফ্লিক্টস, এজ অব মিথলজি, লক অন, মিগ ২৯, সুপার মারিও ৬৪, স্টার ডিফেন্ডার, এজ অব এম্পায়ারসহ অনেক জটিল গেমসে সে দক্ষ।
মা-বাবা সিনথিয়া ফারহিন রিশা ও ওয়াসিম ফারহানের ঘর আলো করে রূপকথার জন্ম ২০০৬ সালের ২৭ জানুয়ারি। জন্মের মাত্র কয়েক মাস থেকেই কম্পিউটারের প্রতি তার বিশেষ কৌতূহল। কম্পিউটারের সামনে বেশিক্ষণ থাকলে চোখের ক্ষতি হবে ভেবে মা-বাবা সরিয়ে নিতে চাইলে রূপকথা হল্লাবিল্লা করত। খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে দিত। কী আর করা! মা-বাবা বাধ্য হয়েই ওকে ছেড়ে দিয়েছেন। এখন তার দিনের ১২-১৩ ঘণ্টাই কাটে কম্পিউটারের সঙ্গে!
রূপকথার বাবা ওয়াসিম ফারহান জানালেন, ওর বয়স যখন মাত্র কয়েক দিন তখনই অপলক তাকিয়ে থাকত কম্পিউটারের মনিটরের দিকে। কম্পিউটার চালু না করলে খেতেই চাইত না। কম্পিউটার গেম খেলা শুরু করে সাত মাস বয়সে। দুই বছর বয়সে শেখে ওয়ার্ডে লেখালেখির কাজ। দিনের বেশির ভাগ সময়ই রূপকথা কাটিয়ে দেয় কম্পিউটারের সঙ্গে। খাবারও খায় কম্পিউটারের সামনে বসেই। ছোটবেলা থেকেই তাকে খাওয়ানো হতো কম্পিউটারে অ্যানিমেশন ছবি দেখিয়ে। না হলে খেতে চাইত না।
একবার চট্টগ্রামের মিরেরসরাইয়ে গিয়ে কী বিপদেই না পড়েছিলেন মা-বাবা! তখন রূপকথার বয়স মাত্র ছয় মাস। পথিমধ্যে ল্যাপটপের ব্যাটারির ব্যাকআপ শেষ। রূপকথাকে কিছুতেই খাওয়ানো যাচ্ছে না। রাস্তার পাশে গাড়ি দাঁড় করিয়ে ল্যাপটপে চার্জ দেওয়া হলো। কম্পিউটারে অ্যানিমেশন ছবি চালু করার পরই কেবল রূপকথা খাবারে মুখ রাখল। এমন কাণ্ড কত যে করেছে!
রূপকথা একা একাই ইন্টারনেট সংযোগ চালু করতে পারে। সাত মাস বয়সে মায়ের কোলে বসে থেকে ইন্টারনেট সংযোগ চালু করতে কানেক্ট বোতামে ক্লিক করে করে কম্পিউটারে হাতেখড়ি তার। ই-মেইল চালাচালি শিখেছে অনেক আগেই। ঠিকানা জানলে যেকোনো ওয়েবসাইটেই ঢুকে পড়তে পারে। সার্চ ইঞ্জিন দিয়ে তথ্য খুঁজতে পারে নিজে নিজেই। ওয়ার্ড, পাওয়ার পয়েন্ট, এঙ্লে, ফটোশপে আছে বেশ দখল। কম্পিউটার চালু-বন্ধ করা তো রূপকথার কাছে পানির মতো সহজ। কম্পিউটার গেমস খেলে সে নিজের মতো করে, একটি গেমসের চরিত্র আরেকটি গেমসে ঢুকিয়ে দেয় অবলীলায়। এখন সে প্রোগ্রামিং, প্রজেক্ট টুল তৈরি, খুব দ্রুত কম্পিউটার পরিচালনা, সিস্টেম অ্যাডমিনিস্ট্রেটরের মতো অনেক জটিল কাজেও হাত লাগায়। প্রোগ্রামিংয়ের ভাষা সি এবং সি++ও পারে সে।
রিশা নিজেই দিলেন ছেলের কম্পিউটার দক্ষতার ফিরিস্তি।
দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস, হেরাল্ড ট্রিবিউন, ক্যালিফোর্নিয়া অবজারভার, ওয়ার্ল্ড সাইন্টিস্ট, চিলড্রেনস পোস্টসহ বিশ্বের নামিদামি অনেক সংবাদমাধ্যমে বিস্ময় বালক রূপকথাকে নিয়ে প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে, অনেক গণমাধ্যমে মডেলও হয়েছে। রিশা জানালেন, দেশের চেয়ে বিদেশের সংবাদমাধ্যমে রূপকথাকে নিয়ে লেখালেখি হয়েছে অনেক বেশি। পাঁচ বছর পুরো হওয়ার আগেই ওয়ার্ল্ড নিউজ এজেন্সি রূপকথাকে আখ্যায়িত করেছে বিশ্বের সবচেয়ে কমবয়সী প্রোগ্রামার হিসেবে। কম্পিউটারে যে দক্ষতা অর্জন করেছে রূপকথা, তা এক কথায় অসাধারণ। রূপকথা নামের এ অসাধারণ ছেলেটির কাজ যে কারোরই অনেকক্ষণ ধরে দেখতে ইচ্ছে করবে। সরাসরি দেখার সাধ ঘোলে মেটাতে অতি উৎসাহীরা ইন্টারনেটে ঢুঁ মারতে পারেন। রূপকথার দেখা মিলবে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ভিডিও শেয়ারিং সাইট ইউটিউবে। ব্যবসায়ী বাবা ওয়াসিম ও মা রিশা স্বপ্ন দেখেন, ভবিষ্যতে ছেলে অনেক বড় প্রোগ্রামার হবে, সাইবার বিশ্বে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।
'গিনেস বুক অব রেকর্ডস' ও 'রিপলি'স বিলিভ ইট অর নট'-এ নাম ওঠানোর জন্য আবেদন করেছেন রূপকথার মা রিশা। গিনেস বুক কর্তৃপক্ষ আবেদনটি গুরুত্বের সঙ্গেই বিবেচনা করছে। রিপলি'স বিলিভ ইট অর নট-এর সিনিয়র রিসার্চার জেমস প্রাউড ই-মেইলে জানিয়েছেন, এটা নিঃসন্দেহে এমন একটি বিষয়, যা তাঁদের বইয়ের নতুন সংস্করণের জন্য বিবেচনা করা যায়। রিপলিসের নতুন বই আসছে ২০১২ সালের সেপ্টেম্বর, তাতে উঠেও যেতে পারে রূপকথার গল্পকথা!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



