somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একজোন পরোপোকারী মানুষের নাম : জাহিদুল

১৬ ই জুন, ২০১১ সকাল ১০:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :





বছরের পর বছর গ্রামে গ্রামে ঘুরে বেড়াচ্ছেন তিনি। জনদুর্ভোগ খুঁজে বের করে আর ১০ জনের সহায়তায় ঝাঁপিয়ে পড়ছেন সমাধানে। বগুড়ার জাহিদুল ইসলাম নিজ উদ্যোগে বানিয়েছেন সাঁকো, ঈদগাহ, লাগিয়েছেন ৩০ হাজার ফলদ বৃক্ষ ।

বাড়ির পাশেই দিগদাইড় বিল। বিল পেরিয়ে ওপাশে গঞ্জের বাজারে প্রতিদিন নানা কাজে যাতায়াত করতে হয় শত শত মানুষকে। ঘাটের ছোট্ট ডিঙি নৌকাটির খোঁজ থাকে না অনেক সময়ই। সারা বছর গ্রামবাসী দুর্ভোগ পোহালেও মাথা ঘামায় না কেউ। এ অবস্থায় এগিয়ে এলেন জাহিদুল ইসলাম। নিজের ঝাঁড় এবং আশপাশের মানুষের কাছ থেকে চেয়ে নিলেন বাঁশ। ছোট ভাই জুয়েলকে সঙ্গে নিয়ে তৈরি করলেন প্রায় ২৫ ফুট লম্বা সাঁকো। স্বস্তির নিঃশ্ব্বাস ফেলল উভয় পারের মানুষ।

কিছুদিন পর গ্রামের যুবকদের নিয়ে হাড়ভাঙা শ্রমে পাশের পাঠানপাড়া গ্রামে বিল পারাপারে বানিয়ে ফেললেন প্রায় ৬০ ফুট লম্বা আরেকটি বাঁশের সাঁকো। আশপাশের মানুষের চোখমুখে কৃতজ্ঞতার ছাপ দেখে জাহিদুলকে পেয়ে বসল উপকারের নেশায়।

বগুড়া শহর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরের সোনাতলা উপজেলার নিভৃতপল্লী দিগদাইড় গ্রামে তাঁর বাস। ৪৫ বছর বয়সী জাহিদুল ইসলাম পেশায় মসজিদের ইমাম। তিন দশক ধরে তিনি ঘুরে বেড়াচ্ছেন গ্রাম থেকে গ্রামে। গ্রামে ঢুকে প্রথমেই বের করছেন জনদুর্ভোগের কারণ। তারপর সে সমস্যা সমাধানে সংঘবদ্ধ করছেন মানুষকে। যমুনাপারের সোনাতলা, সারিয়াকান্দি আর গাবতলীর অবহেলিত গ্রামগুলোতে নিজ উদ্যোগে, স্বেচ্ছাশ্রমে তৈরি করেছেন প্রায় ৫০০ সাঁকো। সম্প্রতি গাবতলী উপজেলার কাঁকড়া বিলের ওপর প্রায় ৭০০ ফুট লম্বা বাঁশের সাঁকো তৈরি করেছেন। তিন মাস ধরে চলেছে নির্মাণকাজ। সংগ্রহ করা হয়েছে ১৭ হাজার বাঁশ ও ১২ মণ লোহার পেরেক। সাঁকোটি বানানো শেষ হলে বগুড়ার নেপালতলী ইউনিয়নের শেখহাটি, জাতহলিদা, নারচী, বাঁশগাড়ি, পাড়কাঁকড়া, কুড়িপাড়া, ময়নাতলা, নিচকাঁকড়া, কাজলাপাড়া, ধলিরচর, চকরাধিকা, কদমতলী, সুখানপুকুরের লাখো মানুষের দুঃখ লাঘব হবে।

কেবল সাঁকো বানানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই জাহিদুলের কার্যক্রম। দিগদাইড় গ্রামের পাশেই পাঠানপাড়ায় ৩০ ফুট গভীর গর্ত পূরণ করে তৈরি করেছেন ঈদগাহ। বাড়ির টিউবওয়েল থেকে পানি এনে ভিজিয়ে দেন রাস্তা। কাদায় পিচ্ছিল হয়ে বিপজ্জনক হয়ে পড়ে চলাচল। যেখানেই এসব চোখে পড়েছে সেখানেই পাইপ লাগিয়ে পানি সরে যাওয়ার ব্যবস্থা করেছেন। সুখানপুকুর সৈয়দ আহম্মদ কলেজ থেকে পাঠানপাড়া পর্যন্ত সাত কিলোমিটার জুড়ে লাগিয়েছেন প্রায় ৩০ হাজার বনজ-ফলদ বৃক্ষ। স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সংগ্রহ করেছেন তালের আঁটি। তাদের নিয়েই সেসব আঁটি লাগিয়েছেন রাস্তার ধারে। পরিকল্পনা করছেন শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা থেকে সারিয়াকান্দি পর্যন্ত প্রায় ৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ রাস্তায় তালগাছ লাগানোর।

কেন এই নিজের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো_প্রশ্নের জবাবে শান্ত, সাদাসিধে মানুষটির মুখে একচিলতে হাসি ফুটে উঠল_'মানুষকে ভালোবাসার এসব দৃষ্টান্ত পরবর্তী প্রজন্মকে সুন্দর বাংলাদেশ তৈরিতে উদ্বুব্ধ করবে।' ভবিষ্যৎ স্বপ্নের কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, 'যদি আরো কিছুদিন বাঁচি আর আমাকে গ্রামের মানুষ সাহায্য-সহযোগিতা করেন, তাহলে এলাকায় পাবলিক লাইব্রেরি, এতিমখানা, গণকবরস্থান প্রতিষ্ঠা করব।' তাঁর সম্পর্কে বলতে গিয়ে সুখানপুকুর এমআরএম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক আহসান উল্লাহ বলেন, 'আমরা আগে তাঁকে চিনতাম না। কিন্তু এত এত ভালো কাজ করায় জাহিদুল এখন শুধু আমাদেরই নন, আশপাশের গ্রামগুলোরও আপনজনে পরিণত হয়েছেন।' ছেলের এ ধরনের কাজের ব্যাপারে মা জোহুরা জানালেন, 'আমার ছেলেটা কাজপাগল। তার এমন সেবামূলক কাজে গর্বে আমার বুক ভরে যায়।

' স্ত্রী শাহিন স্বামীর কাজকে শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, 'গরিব বলে আমাদের কোনো দুঃখ নেই। তবে দুঃখ পাই যেদিন কোনো মানুষের উপকার করতে না পারি।'












সুত্র : কালের কন্ঠ
১০টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×