somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নিজে মরে গিয়েও মায়ের জন্য সান্তনার ব্যবস্থা !! একেই বলে বুদ্ধিমান বাদশাহ

১৪ ই মার্চ, ২০১৩ রাত ১:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাদশাহ ইস্কান্দার। মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এসেছে তার। আর কিছুক্ষণ পরেই প্রাণপাখি উড়ে যাবে। বাদশাহ অনুভব করছেন, তার জীবনপ্রদীপ নিভু নিভু করছে। পাশেই বসে আছেন তার মা। মায়ের জন্য তার প্রচন্ড ভালোবাসা। তার মৃত্যুতে মা নিশ্চয়ই কাঁদবেন, বুকখানা তার হু হু করে উঠবে, পুত্রের বিরহে মায়ের আনন্দ হারিয়ে যাবে। বাদশাহ ইস্কান্দার মৃত্যুশয্যায় শুয়ে ভাবছেন তার মায়ের কথা।

তিনি মায়ের দিকে তাকালেন। বললেন, মা, আমার মৃত্যুর পর আপনি খুব স্বাদের খাবার রান্না করে রাখবেন। যারা আমার মৃত্যু সংবাদে আপনাকে সান্তনা দিতে আসবে, তাদেরকে বলে দিবেন, বাদশাহ ইস্কান্দারের শেষ আর্যি ছিল, এ খাবার শুধু তার জন্য যাকে কখনো দুঃখ বেদনা স্পর্শ করেনি। কেবল সে-ই যেন এখান থেকে খায়।’ এসব বলার কিছুক্ষণ পরেই পরপারে চলে গেলেন প্রতাপশালী বাদশাহ ইস্কান্দার। নিথর হয়ে পড়ে থাকলো তার সুঠাম দেহ।

প্রচন্ড শোক বুকে সয়ে মা তার সন্তানের শেষ ইচ্ছা পূরণে খাবার রান্না করলেন। তারপর জানিয়ে দিলেন, যার কখনো দুঃখ আসেনি, সে যেন এখান থেকে খেয়ে যায়।’

মানুষ আসছে। যাচ্ছে। কেউ খাবারের দিকে হাত বাড়াচ্ছে না। খালি মুখে চলে যাচ্ছে সবাই। ইস্কান্দার বাদশাহর মা তাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, কি ব্যাপার, তোমরা কেউ-ই খাচ্ছো না যে!

লোকেরা উত্তর দিল, ‘আমাদের মধ্যে কেউই তো এমন নেই যে দুঃখী নয়। আমাদের কারো মা নেই, কারো বাবা নেই, কারো পুত্র স্বজন নেই- সুতরাং দুঃখছাড়া আমরা কেউ নই।’

বাদশাহ ইস্কান্দারের মা বুঝে ফেললেন ঘটনা। কেন তাকে পুত্র বলেছিল এ খাবার রান্না করতে এবং কেনইবা এমন ঘোষণা দিতে। তিনি চোখ মুছতে মুছতে বললেন, আমার ছেলে মৃত্যুর পরও আমার কথা ভেবে সান্তনার জন্য এ ব্যবস্থা করে গেল। তোমাদের দুঃখ দেখে যেন আমারও দুঃখ হালকা হয়, এটাই ছিল তার উদ্দেশ্য।’

মায়ের দু চোখের কোণায় পুত্রগর্বে আনন্দের ঝিলিকমাখা অশ্র“জল চিকচিক করছে।
১৬টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পিঠে কোদাল, হাতে মোবাইল

লিখেছেন মুনতাসির, ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৮:২৪



শীতের সকাল।
কুয়াশার চাদরে মোড়ানো মাঠ,
পিঠে কোদাল, হাতে সময়—
মাটি আর মানুষের প্রতিদিনের নিরব সংলাপ।

বগুড়া, ২০২৬। ...বাকিটুকু পড়ুন

আওয়ামী লীগের প্রত্যাবর্তন

লিখেছেন কিরকুট, ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৫৪

*** জামাত শিবির এর যারা আছেন তারা দয়ে করে প্রবেশ করবেন না ***


বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ এখন আর কেবল একটি দলের ভাগ্যের প্রশ্ন নয় এটি রাজনৈতিক ভারসাম্য, গণতান্ত্রিক কাঠামো... ...বাকিটুকু পড়ুন

অবশেষে দেশে গণতন্ত্র কায়েম হইলো

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৩

দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে এখন আমাদের আর কোন টেনশন রইলো না। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের বিজয়ী প্রার্থীদের আজ শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমেই মূলত দেশ আবার গণতন্ত্রের ট্রেনে যাত্রা শুরু করলো।... ...বাকিটুকু পড়ুন

রঙিন ডালিম ফলের একটি ব্যতিক্রমি অঙ্গ বিশ্লেষন ( Anatomy of Pomegranate )

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১১


সবুজ পাতার আড়াল ভেঙে
ডালিম ঝুলে লাজুক রঙে
বাইরে রক্তিম খোলস কঠিন
ভিতরে দারুন জীবন রঙিন।
শত দানার গোপন ভুবন
একসাথে বাঁধা মধুর টান
হৃদয়ের হাজার স্বপ্ন যেন
লুকিয়ে থাকা রক্তিম গান।
নীচে দেয়া চিত্রে... ...বাকিটুকু পড়ুন

এনসিপি কি সত্যিই ডঃ ইউনুসকে হত্যার চক্রান্ত করছে?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১০:১৫



এটা সত্যি যে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এনসিপি নেতারা ডঃ ইউনুসকে যাচ্ছেতাই ভাষায় গালিগালাজ করেছেন। কিন্তু, তাই বলে হত্যা কেন করবে!!! ব্লগে আমার এই পোস্টের মাধ্যমে এন,সি,পি নেতৃবৃন্দের দৃষ্টি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×